খুঁজুন
                               
, ,
           

জনপ্রতিনিধিদের একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯:০১ অপরাহ্ণ
জনপ্রতিনিধিদের একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট :

স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ঠিক রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখতে বলেছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করতে উদ্ধুদ্ধ করেছেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে সমাজ রক্ষায় বিশেষ যত্নবান হতে সুপরামর্শ দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের চোখে বুনে দিয়েছেন সাবলম্বী স্থানীয় সরকারের স্বপ্ন। সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিদের দায় এড়ানোর উপায় নেই। শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গড়ে তুলতে নিজ নেতৃত্বাধীন সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রজ্ঞাবান প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই প্রেরণাদায়ী উচ্চারণে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও নানা কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের চিত্রপট উপস্থাপন করেন। তিনি বলেছেন, ‘শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে স্থানীয় সরকারকে। কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নে বরাদ্দ দেবে, কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সাবলম্বী হতে হবে।’ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সকলকে আমি বলব ২০০৯ সাল থেকে আমরা সরকারে আছি। আজকে বাংলাদেশের একটি ধাপ উত্তরণ ঘটেছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এটা যেন পিছিয়ে না যায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব এবং জনসেবা আপনারা করে যাবেন। আমরা যেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

মানুষ এখন সব সেবা পান গ্রামে বসেই
প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। রাস্তাঘাট অনেক হয়েছে। ডিজিটাল সেন্টার হয়েছে দেশব্যাপী। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। মানুষ এখন সব সেবা পান গ্রামে বসেই। মানুষের আয় বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে যথাযথ মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমির কার্যকর ব্যবহার করতে হবে। সার্বজনীন পেনশন স্কিমে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত হলে উপকৃত হবে সবাই।

জনপ্রতিনিধিদের তো দায় এড়ানোর উপায় নেই
শেখ হাসিনা বলেন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ঠিক রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখতে হবে। পানি দূষিত হলে দোষ হয় সরকারের। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাকুরে। তাদের তো জবাবদিহিতা নেই। কিন্তু আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, তাদের তো দায় এড়ানোর উপায় নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয়দের খোঁজখবর রাখবেন। কারণ তাদের আস্থা-বিশ্বাসই আপনাকে প্রতিনিধি বানায়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করবেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বুদ্ধি শুনে অযথা বা যেনোতেনো প্রকল্প নেবেন না। কারণ আপনার এলাকার প্রয়োজন আপনাকেই ভালো করে জানতে হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে সমাজ রক্ষায় বিশেষ যত্নবান হয়ে কাজ করতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের।

‘গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দিতে হবে। অহেতুক প্রকল্প নেবেন না। সুপেয় পানির পুকুরের পাশে কেন বর্জ্য ফেলার জায়গা বানাতে হবে? তাহলে তো প্রকল্প কাজে আসবে না। জলাধার ভরাট করে ভবন যাতে নির্মাণ না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শক্তিশালী করতে হবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে

সরকার প্রধান বলেন, আমি মনে করি আগামী দিনে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। একটা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় সরকার। কাজেই স্থানীয় সরকার হবে সবচেয়ে শক্তিশালী। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আমরা ব্যবস্থা করে দেব কিন্তু স্থানীয় সরকার স্থানীয়ভাবেই দেশের উন্নয়ন করবে এবং জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করব। জাতির পিতা যে স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন সেখান থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারো কাছে মাথা নিচু করে নয় মাথা উঁচু করে আমরা চলবো। আমরা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলবো। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি, প্রতিটি স্কুলের উন্নয়ন, জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। বিভাগগুলোতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করছি, বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করে শিক্ষার মান আমরা উন্নয়ন করে দিচ্ছি।

২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এই স্বাধীনতার সুফল প্রতি মানুষের ঘরে পৌঁছাব এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেটা আমরা করতে পারব তখনই যদি সক্রিয় ভাবে আপনারা  কাজ করেন  এবং মানুষের সেবা করেন, তখনই এটা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আমাদের ফ্রিল্যান্সার আছে অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে বাণিজ্য চলছে, রাস্তাঘাটের উন্নতি করে দিয়েছি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে সবদিক থেকেই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। আর যে কাজগুলো করে দিই সেটা রক্ষণাবেক্ষণ এবং যত্ন আপনাদেরই করতে হবে।

গোপালগঞ্জে পতিত জমিতে মণে মণে মাছ
গোপালগঞ্জে অযথা পড়ে থাকা জমিতে চাষ করে মণে মণে মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর লাভের টাকা জমির মালিক, চাষী সবাই পাবেন বলেও জানান সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জে পতিত জায়গায় মাছ চাষ করা হয়েছে। কিছু দিন আগে পেলাম ১৪ মণ। আর গত পরশু সেখানে মাছ ধরা হয়েছে প্রায় ৮৮ মণ। প্রতিমণ বিক্রি করা হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ টাকায়। জমির মালিক, চাষী সবাই এই লাভের টাকার ভাগ পাবেন। অথচ এই জমিগুলো অযথা পড়ে থাকতো।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ, শরীয়তপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেদুর রহমান খোকা শিকদার, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন আহমেদ লাবলু, পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাবলুও স্থানীয় সরকার সংস্থার বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের সরকারি নথি সত্যায়নে জটিলতা নিরসনে রুল জারি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নে বিদ্যমান জটিলতা ও ভোগান্তি নিরসনে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটগুলোতে নথি সত্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ডাবল লেজিসলেশন’ বা বারবার সত্যায়নের প্রক্রিয়া কেন বেআইনি হবে না, একইসঙ্গে ‘হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন’(উদ্দেশ্য নথি সত্যায়নের জটিলতা দূর করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি) অনুযায়ী কেন একটি অভিন্ন নীতিমালা জারি করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূরে আলম জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।

রুলের জবাব দিতে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

শুনানিতে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ‘সাধারণত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে জন্মসনদ, বিবাহ সনদ বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মতো নথিগুলো আইন অনুযায়ী নোটারাইজড ও অ্যাপোস্টিল করার পরও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পুনরায় অথেন্টিকেশন বা সত্যায়ন করতে বাধ্য করে। এর ফলে একই নথি নিয়ে মানুষকে একাধিক দফতর ও মিশনে ঘুরতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসস্থান থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে। সেখানে যাতায়াত, আবাসন ব্যয় এবং কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার ফলে প্রবাসীরা চরম আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা পার হয়ে যায় এবং চাকরিতে যোগদান বিলম্বিত হয়।’

আদালতে জানানো হয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আগেই প্রজ্ঞাপন বা সার্কুলার জারি করা হলেও দূতাবাসগুলো তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। একেক দূতাবাসে একেক নিয়ম চালু থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।

শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে- বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে অভিন্ন নির্দেশনা না দিয়ে পাবলিক ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে পুনরায় লেজিসলেশন বা সত্যায়ন করার চলমান নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী একটি অভিন্ন নীতিমালা কেন জারি করা হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন প্রতিটি মিশনকে একই নিয়মের আওতায় আনতে নির্দেশনা দেবে না এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের এসআরওগুলোর ইমপ্লিমেন্টেশন বা বাস্তবায়ন কেন নিশ্চিত করা হবে না।

একইসঙ্গে দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইট, ম্যানুয়াল এবং পাবলিক নোটিশগুলো হালনাগাদ করে সঠিক তথ্য প্রচারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো নথি একবার অ্যাপোস্টিল করা হলে তা ওই কনভেনশনভুক্ত দেশগুলোতে পুনরায় সত্যায়ন ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপ নিলেও মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে বিদেশের মিশনগুলোতে এর সুফল মিলছে না- এমন অভিযোগে রিটটি করা হয়েছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিককে নতুন মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৪ আগস্ট সশরীরে তাদের হাজির করতে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ ইস্যু করেছেন আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত টকশো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আরও জানান, এ ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে এরই মধ্যে তদন্ত সংস্থা এই তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রয়োজনে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আবশ্যক। এজন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়েছিলাম।

শুনানি শেষে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং কারাবন্দি এই তিন সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।

গত জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।

ওই সময়ে ঘটা হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় করা একাধিক মামলায় তাদের নাম আসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের ধারাবাহিকতায় এবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ