খুঁজুন
                               
, ,
           

জনপ্রতিনিধিদের একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯:০১ অপরাহ্ণ
জনপ্রতিনিধিদের একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট :

স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ঠিক রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখতে বলেছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করতে উদ্ধুদ্ধ করেছেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে সমাজ রক্ষায় বিশেষ যত্নবান হতে সুপরামর্শ দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের চোখে বুনে দিয়েছেন সাবলম্বী স্থানীয় সরকারের স্বপ্ন। সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিদের দায় এড়ানোর উপায় নেই। শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গড়ে তুলতে নিজ নেতৃত্বাধীন সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রজ্ঞাবান প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই প্রেরণাদায়ী উচ্চারণে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও নানা কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের চিত্রপট উপস্থাপন করেন। তিনি বলেছেন, ‘শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে স্থানীয় সরকারকে। কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নে বরাদ্দ দেবে, কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সাবলম্বী হতে হবে।’ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সকলকে আমি বলব ২০০৯ সাল থেকে আমরা সরকারে আছি। আজকে বাংলাদেশের একটি ধাপ উত্তরণ ঘটেছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এটা যেন পিছিয়ে না যায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব এবং জনসেবা আপনারা করে যাবেন। আমরা যেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

মানুষ এখন সব সেবা পান গ্রামে বসেই
প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। রাস্তাঘাট অনেক হয়েছে। ডিজিটাল সেন্টার হয়েছে দেশব্যাপী। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। মানুষ এখন সব সেবা পান গ্রামে বসেই। মানুষের আয় বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে যথাযথ মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমির কার্যকর ব্যবহার করতে হবে। সার্বজনীন পেনশন স্কিমে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত হলে উপকৃত হবে সবাই।

জনপ্রতিনিধিদের তো দায় এড়ানোর উপায় নেই
শেখ হাসিনা বলেন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ঠিক রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখতে হবে। পানি দূষিত হলে দোষ হয় সরকারের। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাকুরে। তাদের তো জবাবদিহিতা নেই। কিন্তু আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, তাদের তো দায় এড়ানোর উপায় নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয়দের খোঁজখবর রাখবেন। কারণ তাদের আস্থা-বিশ্বাসই আপনাকে প্রতিনিধি বানায়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করবেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বুদ্ধি শুনে অযথা বা যেনোতেনো প্রকল্প নেবেন না। কারণ আপনার এলাকার প্রয়োজন আপনাকেই ভালো করে জানতে হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে সমাজ রক্ষায় বিশেষ যত্নবান হয়ে কাজ করতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের।

‘গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দিতে হবে। অহেতুক প্রকল্প নেবেন না। সুপেয় পানির পুকুরের পাশে কেন বর্জ্য ফেলার জায়গা বানাতে হবে? তাহলে তো প্রকল্প কাজে আসবে না। জলাধার ভরাট করে ভবন যাতে নির্মাণ না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শক্তিশালী করতে হবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে

সরকার প্রধান বলেন, আমি মনে করি আগামী দিনে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। একটা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় সরকার। কাজেই স্থানীয় সরকার হবে সবচেয়ে শক্তিশালী। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আমরা ব্যবস্থা করে দেব কিন্তু স্থানীয় সরকার স্থানীয়ভাবেই দেশের উন্নয়ন করবে এবং জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করব। জাতির পিতা যে স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন সেখান থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারো কাছে মাথা নিচু করে নয় মাথা উঁচু করে আমরা চলবো। আমরা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলবো। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি, প্রতিটি স্কুলের উন্নয়ন, জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। বিভাগগুলোতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করছি, বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করে শিক্ষার মান আমরা উন্নয়ন করে দিচ্ছি।

২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এই স্বাধীনতার সুফল প্রতি মানুষের ঘরে পৌঁছাব এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেটা আমরা করতে পারব তখনই যদি সক্রিয় ভাবে আপনারা  কাজ করেন  এবং মানুষের সেবা করেন, তখনই এটা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আমাদের ফ্রিল্যান্সার আছে অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে বাণিজ্য চলছে, রাস্তাঘাটের উন্নতি করে দিয়েছি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে সবদিক থেকেই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। আর যে কাজগুলো করে দিই সেটা রক্ষণাবেক্ষণ এবং যত্ন আপনাদেরই করতে হবে।

গোপালগঞ্জে পতিত জমিতে মণে মণে মাছ
গোপালগঞ্জে অযথা পড়ে থাকা জমিতে চাষ করে মণে মণে মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর লাভের টাকা জমির মালিক, চাষী সবাই পাবেন বলেও জানান সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জে পতিত জায়গায় মাছ চাষ করা হয়েছে। কিছু দিন আগে পেলাম ১৪ মণ। আর গত পরশু সেখানে মাছ ধরা হয়েছে প্রায় ৮৮ মণ। প্রতিমণ বিক্রি করা হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ টাকায়। জমির মালিক, চাষী সবাই এই লাভের টাকার ভাগ পাবেন। অথচ এই জমিগুলো অযথা পড়ে থাকতো।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ, শরীয়তপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেদুর রহমান খোকা শিকদার, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন আহমেদ লাবলু, পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাবলুও স্থানীয় সরকার সংস্থার বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বের সব দেশের অঙ্গীকার, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’ গ্রহণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার

বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, উন্নয়ন একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বাংলাদেশের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নারী ও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন দেখে, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

তিনি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে পূর্বানুমেয়তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং উন্নয়নের অধিকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো উন্নয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের জলবায়ুজনিত ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে মির্জাপুরের মানুষ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে মির্জাপুরের মানুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় দুই বছর আগে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। অনেকে বাধ্য হয়ে পাশের খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের মধ্যে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও রেলিংয়ের কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

ভূমি জটিলতায় আটকে সংযোগ সড়ক

সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের জুনে কাজ শুরু হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ১৫ মাসেও কাজ অর্ধেক শেষ হয়নি। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সেতুর উত্তর পাশে কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিন কাজ হলে পরবর্তী কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকে। দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫০ ফুট আঁকাবাঁকা ও ঢালু পথের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সেটি দিয়েই স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা

কামারপাড়া গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি চালু হলে মির্জাপুরের সঙ্গে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

স্থানীয় মজিবর রহমান বলেন, তাঁর বয়স প্রায় ৭০ বছর। সেতুর কাজ যেভাবে এগোচ্ছে, জীবদ্দশায় সেতু দিয়ে হেঁটে বাজারে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েই তিনি শঙ্কিত।

দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাস

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অংশীদার মো. ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ কিছুটা জটিল। জায়গা নিয়ে সমস্যাও ছিল। পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত কাজ শেষ করার সময় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুর নির্মাণে অনেক সময় লেগেছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। পরে স্থানীয়দের ও ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এখন কাজ চলছে, তবে কাজের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি মির্জাপুরে নতুন যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর বিষয়ে নজর দিয়েছেন। কামারপাড়া সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা নিরসন হয়েছে। দ্রুত কাজটি শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি