খুঁজুন
                               
, ,
           

কঠোর বাজার মনিটরিং করছে সরকার; তদারকিতে মাঠে বিশেষ টিম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মার্চ, ২০২৪, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
কঠোর বাজার মনিটরিং করছে সরকার; তদারকিতে মাঠে বিশেষ টিম

কালের আলো রিপোর্ট :

আসন্ন রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোর বাজার মনিটরিং করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রবিবার (১০ মার্চ) দুপুরে মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে বাজার পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। জানিয়েছেন, রবিবার (১০ মার্চ) রাত থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তদারকির জন্য নামবে বিশেষ টিম। বাজার তদারকির জন্য নিয়মিত টিমের পাশাপাশি কাজ করবে আলাদা টিম। বাজারে পণ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও কোন সঙ্কট নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

জানা যায়, দ্রব্যমূল্যকে সহনীয় করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নতুন সরকারে অতি স্পর্শকাতর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পরিচ্ছন্ন নতুন মুখ নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই আহসানুল ইসলাম টিটু বাজার ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিতই বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছেন। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি ও উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বসেছেন। আন্ত:মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্সের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কথা ভেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুত ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে প্রতি লিটারে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ১০ টাকা। বাজারে কোন প্রকার নৈরাজ্য মেনে না নেওয়ার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিগগির ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ বাড়াবে।

রবিবার (১০ মার্চ) বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম জানিয়েছেন, দায়িত্বভার নিয়েই তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ে বাজার ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে কাজ শুরু করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একাধিক মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করে যাচ্ছে। রমজানের শুরুতে পণ্যের চাপ বেশি। ভোক্তা অধিদপ্তরের বিশেষ দল বাজার তদারকিতে কাজ করবে। সরকারের সকল উদ্যোগের সুবিধা যেনো সাধারণ মানুষ পায়।’

সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে থাকবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা বাজারে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। রোজার সময় বাজার অশান্ত করতে নিত্যপণ্যের সরবরাহে বাধা সৃষ্টি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অনৈতিক মুনাফা অর্জনসহ ভেজাল বিক্রিসহ নানা ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার।

জানা গেছে, বাজারে কারসাজি বন্ধে পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজার তদারকি করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিম টিম। বাজারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টিসিবির মাধ্যমে সুলভমূল্যে বিপণন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। দেশের এক কোটি পরিবারের কাছে কার্ডের মাধ্যমে রমজানের নিত্যপণ্য পৌঁছে দেবে টিসিবি। এর মধ্য দিয়ে কমপক্ষে দেশের পাঁচ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন।

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে বাজার পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি বলেছেন, ‘টিসিবি সারাদেশে ১ কোটি মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মাধ্যমে বাজারে চাপ কমবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সাধারণ মানুষকে যৌক্তিক দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য কাজ করছে সরকার।’ সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান দেশের প্রতিটি বাজার কমিটিকে বাজার মনিটরিং করার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাজার কমিটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অধিদপ্তর এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। মহাপরিচালক ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পাকা রশিদ সংরক্ষণের কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য সরকরি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। রমজান সংশ্লিষ্ট পণ্য যেমন: লেবু, শসা, বেগুন ইত্যাদির পণ্যের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি রোধে অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

একটি হিসাব বলছে, প্রতি অর্থবছরে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২১ লাখ টন যার ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। কেবল রোজার মাসে ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে ৪ লাখ টনের মতো। সারা বছরের জন্য প্রয়োজন হয় ১৮ লাখ টন চিনি, এরমধ্যে ৩ লাখ টনের চাহিদা থাকে কেবল রোজার সময়। সারা বছর যেখানে ৫ লাখ টন মসুর ডাল লাগে, সেখানে শুধু রোজায় চাহিদা থাকে ৮০ হাজার টনের মতো। ফলে ডালের চাহিদা মেটাতে ৫০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। বছরে ৮০ হাজার টন ছোলার প্রয়োজন হয় দেশে, যার ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় রোজার মাসে। এ সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পেঁয়াজের। ২৫ লাখ টন বার্ষিক চাহিদার ৫ লাখ টনই ব্যয় হয় রোজার সময়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করলেও সেভাবে প্রভাব পড়ছে না- এ বিষয়ে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যারা রোজার অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি ও উৎপাদন করেন তাদের সঙ্গে বসেছি। আমদানি এবং উৎপাদন পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে, এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। বাজারে রমজান উপলক্ষ্যে এ মুহূর্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। গত দেড় মাসে চালের বাজারে একটা অস্থিরতা ছিল। সেটা আল্লাহর অশেষ রহমতে স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। চালের দাম নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তেলের দাম আমরা নির্ধারণ করে দিয়েছি।‌’

পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে দাম বেঁধে দিতে চান প্রতিমন্ত্রী
রোববার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে কৃষিপণ্য সরবরাহে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘প্রোডিনটর্গ’ এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, আগামীতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে দাম বেঁধে দেওয়া হবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেখলাম ১৮টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের রাষ্ট্রীয় সার্কুলার দিয়ে দিয়েছে, এই পণ্যগুলোর দাম কেউ এ মাসে (রমজান) বাড়াতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এবার হয়তো পারি নাই। ইনশাআল্লাহ আমাদের সাপ্লাই চেইন ইম্প্রুভ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ নিশ্চিত করে আগামীতে কেবিনেটের অনুমোদন নিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের একটা কমপ্লিট লিস্ট তৈরি করবো। সেই অনুযায়ী সাপ্লাই বাড়ানো এবং পণ্যের নির্ধারিত দাম আমরা যাতে ঠিক করতে পারি।’

কালের আলো/এমএএএমকে

উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বের সব দেশের অঙ্গীকার, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’ গ্রহণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার

বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, উন্নয়ন একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বাংলাদেশের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নারী ও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন দেখে, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

তিনি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে পূর্বানুমেয়তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং উন্নয়নের অধিকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো উন্নয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের জলবায়ুজনিত ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে মির্জাপুরের মানুষ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে মির্জাপুরের মানুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় দুই বছর আগে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। অনেকে বাধ্য হয়ে পাশের খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের মধ্যে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও রেলিংয়ের কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

ভূমি জটিলতায় আটকে সংযোগ সড়ক

সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের জুনে কাজ শুরু হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ১৫ মাসেও কাজ অর্ধেক শেষ হয়নি। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সেতুর উত্তর পাশে কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিন কাজ হলে পরবর্তী কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকে। দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫০ ফুট আঁকাবাঁকা ও ঢালু পথের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সেটি দিয়েই স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা

কামারপাড়া গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি চালু হলে মির্জাপুরের সঙ্গে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

স্থানীয় মজিবর রহমান বলেন, তাঁর বয়স প্রায় ৭০ বছর। সেতুর কাজ যেভাবে এগোচ্ছে, জীবদ্দশায় সেতু দিয়ে হেঁটে বাজারে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েই তিনি শঙ্কিত।

দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাস

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অংশীদার মো. ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ কিছুটা জটিল। জায়গা নিয়ে সমস্যাও ছিল। পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত কাজ শেষ করার সময় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুর নির্মাণে অনেক সময় লেগেছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। পরে স্থানীয়দের ও ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এখন কাজ চলছে, তবে কাজের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি মির্জাপুরে নতুন যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর বিষয়ে নজর দিয়েছেন। কামারপাড়া সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা নিরসন হয়েছে। দ্রুত কাজটি শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি