খুঁজুন
                               
, ,
           

এক যুগ পর সেনাকুঞ্জে হাস্যেজ্জ্বল খালেদা জিয়া, নতুন ইতিহাসের যাত্রাপথে গর্বিত ড.ইউনূস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
এক যুগ পর সেনাকুঞ্জে হাস্যেজ্জ্বল খালেদা জিয়া, নতুন ইতিহাসের যাত্রাপথে গর্বিত ড.ইউনূস

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো, সেনাকুঞ্জ থেকে : 

প্রায় ১৪ বছর আগে শহীদ মইনুল রোডের বাসভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে। এরপর আর কখনও ক্যান্টনমেন্টের দিকে পা বাড়াননি দলটির শীর্ষ এই নেতা। অবশেষে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! নিজের চিরচেনা ক্যান্টনমেন্টে আবারও উপস্থিত বিএনপি চেয়ারপার্সন। এই উপস্থিতি চলতি বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সবশেষ ২০১২ সালে সেনাকুঞ্জে গিয়েছিলেন তিনি। মাঝখান থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় এক যুগ।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বিকেল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে ছুটলো সেনাকুঞ্জের অভিমুখে। ৩টা ৫০ মিনিটে গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে করে ল্যাভেন্ডার রঙের শাড়ি পরিহিত খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে গিয়ে বসলেন প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের ঠিক পাশের সোফায়। এর মাধ্যমে প্রায় ৬ বছর পর প্রকাশ্যে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এর আগে সেনাকুঞ্জে তাকে অভ্যর্থনা জানালেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহুর্তে সেনাকুঞ্জ ছাড়ার আগ পর্যন্ত পুরোটা সময় হাস্যেজ্জ্বল দেখা গেছে তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়াকে ঘিরে পুরো অনুষ্ঠান যেন হয়ে ওঠে খালেদা জিয়াময়। অনেকেই এগিয়ে যান তাঁর সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করতে। শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবরও জানতে চান। অন্তর্বর্তীকালীন  সরকারের তিন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম বিনয় ও সম্মানের সঙ্গে কথা বলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপোসহীন লড়াকু নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে। কুশল বিনিময়কালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম আপনার শরীর কেমন?’ এসময় খালেদা জিয়া জানান, ‘না, বেশি ভালো না।’ মাহফুজ আলম তখন বলেন, ‘আপনাকে ভালো থাকতে হবে। সামনে আসলে একটা কনফিডেন্স বের হয়।’

আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন ড.ইউনূস ও খালেদা জিয়া

নিজের পাশের সোফায় খালেদা জিয়াকে পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। আলাপচারিতায় মেতে ওঠতে দেখা যায় তাদের দু’জনকেই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার নজরকাড়া উপস্থিতিতে তাঁর অভিব্যক্তিও প্রকাশ করেন সোজাসাপ্টা উচ্চারণে। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে এসেছেন। একযুগ তিনি আসার সুযোগ পাননি। আমরা গর্বিত এই সুযোগ দিতে পেরে।’ খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অসুস্থতা সত্ত্বেও বিশেষ দিনে সবার সঙ্গে শরিক হওয়ার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ। আপনার আশু রোগমুক্তি কামনা করছি।’

জানা যায়, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ২০১২ সালে সেনাকুঞ্জে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর ২০১৩ সালে আমন্ত্রণ পেলেও যাননি তিনি। এবার নতুন বাংলাদেশে চলতি বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বশরীরে গিয়ে তাকে নিমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। এদিন গোটা অনুষ্ঠানে হাস্যেজ্জ্বল এক খালেদা জিয়ার উপস্থিতি দৃষ্টি কেড়েছে সবার। ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট সফরের পর নানা ঘটনা প্রবাহে আর প্রকাশ্যে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি খালেদা জিয়াকে। কিন্তু এই বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠান যেন নতুন এক ইতিহাস তৈরি করলো। সেনাকুঞ্জে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। খালেদার গাড়ির সামনে ছিল মিলিটারি পুলিশের (এমপি) পাইলট কার ও পেছনে সেনাবাহিনীর একটি অ্যাম্বুলেন্স।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সদর্প উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ আমন্ত্রিত জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কামাল হোসেন, জেএসডির আসম আবদুর রব, জোনায়েদ সাকী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নূরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

তিন বাহিনী প্রধানকে মির্জা ফখরুলের ধন্যবাদ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালে ষড়যন্ত্রমূলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দুই বছর কারাগারে থাকার পর ২০২০ সালের মার্চে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি পান খালেদা জিয়া। গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি দণ্ড মওকুফ করে তাকে মুক্তি দেন। সাময়িক মুক্তির পর থেকে তিনি কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে কখনো বাসা থেকে বের হননি। রাজনৈতিক কর্মসূচি বা কোনো ধরনের অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি। খালেদা জিয়া এদিন বাসা থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সড়কে জড়ো হওয়া বিএনপিকর্মীরা পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন।

সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সেনাকুঞ্জে যাওয়ার এই ঘটনা গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখবে। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে- সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর যারা প্রধান আছেন তাদেরকে, যারা অধিকর্তা আছেন তাদেরকে। ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে- আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এজন্য যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই ঘোষণাকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে আপসহীন সংগ্রাম, এই দীর্ঘ বছর বছর ধরে নিরন্তর সংগ্রাম, সেই সংগ্রামকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এদেশের মানুষ যে সংগ্রাম করেছে, আত্মত্যাগ করেছে, প্রাণ দিয়েছে, তাকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে প্রাণগুলো চলে গেল, তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা নিঃসন্দেহে এই কথায় স্মরণ করতে চাই, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের থেকে অনেক দূরে আছেন, আজকে তিনিও সবচেয়ে বেশি আনন্দিত, দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যে আজকে তাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি (খালেদা জিয়া) তার যে জায়গা, সেই জায়গা তিনি যেতে পেরেছেন।’

কালের আলো/এমএএএমকে

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না করলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান শর্তই হলো স্থিতিশীল পরিবেশ ও নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি খাটাতে চান নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে। যদি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম শঙ্কাও থাকে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দেশীয় উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে এগোবেন না।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সিইআইজেডসহ দেশের সবকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।

উন্নয়নকাজের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান, চীনা সড়ক এবং সেতু কর্পোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই, চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আনোয়ারার এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোপুরি চালু হলে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর এক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি।

বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমি ট্রাইবুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেননা শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনও ঘটেছে বলে জানা নেই।

তিনি বলেন, আমরা মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুটি ঘটনার ওপর আমরা চার্জ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আনা হয়।

আর এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি চার্জে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি  জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও ভাতা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার এই ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি করেছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

এছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

তাদের জন্যও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন হার অনুযায়ী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা,খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ২৩ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ এই ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে