খুঁজুন
                               
, ,
           

রণক্ষেত্রে সক্ষমতা দেখালো দক্ষ বৈমানিকরা, একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রত্যয় বিমান বাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
রণক্ষেত্রে সক্ষমতা দেখালো দক্ষ বৈমানিকরা, একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রত্যয় বিমান বাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

টাঙ্গাইলের রসুলপুরের ফায়ারিং রেঞ্জে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চললো শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অনন্য এক মহড়া। আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল রণক্ষেত্র। একের পর এক ঘাঁটি থেকে উড়াল দিচ্ছে মিগ ২৯, এফ-৭ বিজি, এফটি-৭, কে-৮ ডব্লিউ এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার। গোলা ও রকেট বর্ষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে নানা রণকৌশলে ব্যস্ত দক্ষ বৈমানিকরা। ঠিক যেন দেশের আকাশ সীমা রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার অনবদ্য এক দৃষ্টান্ত। তবে, বাস্তবে কোন যুদ্ধ লাগেনি। হামলাও করেনি কোন শত্রুপক্ষ। সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃপ্ত শপথে বলীয়ান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক গোলা ও রকেট বর্ষণ মহড়ার দৃশ্য ছিল এমনই।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই মহড়া অবলোকন করেন বাহিনীটির প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বাংলার আকাশ নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও অদম্য করে তোলাই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি। বিমান বাহিনী প্রধান দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন দেশের প্রতি যেকোনো আঘাত প্রতিহত করার। এক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা বিমান বাহিনীর দায়িত্ব বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, বিমানবাহিনী ২৪ ঘণ্টা র‍্যাডারের মাধ্যমে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ যুদ্ধ চায় না, তবে একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক বিন্দুও ছাড় দেবে না বিমান বাহিনী।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বিমান বাহিনীর এই মহড়া উপভোগ করেন।

‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা, সক্ষমতা ও দুর্বলতা মূল্যায়নকল্পে নিয়মিতভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়ার আয়োজন করে। এটি দেশের সময়োপযোগী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এসব মহড়ায় বিমান বাহিনীর বৈমানিকরা আকাশ থেকে ভূমিতে গোলাবর্ষণ, আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পর্যবেক্ষণসহ আকাশ যুদ্ধের বিভিন্ন প্রকার রণকৌশল অনুশীলন করেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এক্সারসাইজ ফ্ল্যাশ পয়েন্ট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। এটি বাংলার আকাশকে শত্রু বিমানের আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৈমানিকদের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া এই মহড়ার মাধ্যমে বৈমানিক ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোলাররা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং যুদ্ধাস্ত্র দ্বারা নির্ভুল ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। যদিও বিমান বাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে আকাশকে শত্রু বিমানের আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষা। তবে অন্যান্য বাহিনীকে ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট প্রদান করাও অপরিহার্য কাজগুলোর মধ্যে একটি। এবারের মহড়ায় এএন-৩২ পরিবহন বিমান রশদ সরবরাহ, কার্গো ড্রপ ও এয়ারলিফট অপারেশন পরিচালনা করে। এছাড়াও এমআই-১৭, এডব্লিউ-১৩৯ ও বেল-২১২ হেলিকপ্টারসমূহ আকাশ থেকে ভূমিতে গোলা বর্ষণ, ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

দেশের যেকোন প্রয়োজনে আমরা ২৪ ঘন্টা প্রস্তুত রয়েছি
মহড়া পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ভূমিকা হচ্ছে দিগন্তে, স্থলে এবং জলে আমাদের নিরাপত্তা এবং যেকোন ধরনের আঘাত প্রতিহত করা। এটি আমাদের মূলমন্ত্র। এছাড়া দেশের যেকোন প্রয়োজনে আমরা ২৪ ঘন্টা প্রস্তুত রয়েছি। এই মহড়ায় আমাদের বিমান বাহিনীর যেসব সক্ষমতা রয়েছে সেগুলো আমরা প্রদর্শন করেছি। ফাইটার, ট্রান্সপোর্ট ও হেলিকপ্টার- তিন ধরনের সক্ষমতা

আমাদের বৈমানিকদের রয়েছে। আকাশ থেকে ভূমিতে গোলাবর্ষণ ছাড়াও ট্রুপস ইনসারশন, কমব্যাট এন্ড সার্চ রেসকিউ এবং সার্চ এন্ড রেসকিউ এবং আমাদের শান্তিকালীন সময়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় যে প্রস্তুতি দরকার সেই প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে। সেটিরও একটি প্রদর্শন হয়েছে আজ।’

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের মহড়া আমরা শুধু প্রদর্শনের জন্যই করি না, আমাদের নিজস্ব একটি অ্যাসেসমেন্টও হয়, আমরা এখান থেকে বুঝতে পারি আমাদের আর কী ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, আমাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের জন্য আর কী কী করণীয়, সেদিকে আমরা নজর দিতে পারি। কোভিড এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে এই মহড়া অনেকদিন পরে হয়েছে। এবার আমরা স্বল্প পরিসরে শুরু করেছি, ভবিষ্যতে আমাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি হবে, এই মহড়াগুলোকে আরও আধুনিকায়ন করে উন্নতভাবে পরিবেশন করতে পারবো।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহায়তায় আরও উন্নত ধরনের সরঞ্জামাদির প্রত্যাশা
শান্তিকালীন বা যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছে বলে দেশবাসীকে আশ্বত করেন বিমান বাহিনী প্রধান। এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহায়তায় আমরা বিমান বাহিনী আরও উন্নত ধরনের সরঞ্জামাদি পাবো এবং সেটির মাধ্যমে উত্তরোত্তর আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই মহড়ার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যেক পাইলটের ব্রিফিং হচ্ছে, আমাদের নিজস্ব এয়ার ক্রাফটের টেকনিক্যাল সাইড আমরা ঝালাই করতে পেরেছি, আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি হচ্ছে। আমাদের পাইলটদের দৈনন্দিন প্রশিক্ষণ সচল রয়েছে। প্রতিটি পাইলটের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে-যোগ করেন তিনি।

পঞ্চম প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট নিয়ে আশাবাদী বিমান বাহিনী প্রধান
পঞ্চম প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট নিয়ে আশাবাদী বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজ সি-১৩০জে যুক্ত হওয়ায় পরিবহন বিমানে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের যেকোন প্রান্তে আমরা যেকোন সময় সহযোগিতা পাঠাতে পারি। ২০০০ সালে আমাদের চতুর্থ প্রজন্মের বিমান মিগ ২৯ এসেছিল। এরপর ২৪ বছর হয়ে গেছে। আমরা পঞ্চম প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ) বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকেই হোক আমরা বিমান বাহিনীতে নিয়ে আসবো। আমাদের এয়ার ফোর্সের অন্যান্য ধরনের হেলিকপ্টার, সারফেজ টু এয়ার মিসাইল, মিডিয়াম সারফেজ টু এয়ার মিসাইল এই ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা সচেষ্ট আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এয়ার ডিফেন্স র‍্যাডারের মাধ্যমে আমরা ২৪ ঘণ্টা আমাদের আকাশ সীমা মনিটরিং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশে কোন ধরনের শত্রুবিমান প্রবেশ করলে আমরা ডিটেক্ট করতে পারি। কোন যুদ্ধে জড়িত হওয়া আমাদের উদ্দেশ্য না কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত শক্তি হলো তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের আগে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর মাধ্যমে জাতির সামনে যে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, সম্প্রতি ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সূচনায় আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের সাথে মিলিয়ে একই ভাষায় কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আপন, ঢাকা’র উদ্যোগে মহাত্মা ভেগাই হালদারের আবির্ভাব ও তিরোধান উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটু আগে দেখলাম ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছেন। শুনে মনে হয়েছে, পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের যে দর্শন তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেই একই ভাষায় জনগণের কাছে ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, তখন জনগণ সেই পরিকল্পনার মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পায় এবং সেই নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। বাংলাদেশের মানুষও তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এ ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতি বিশ্বাস রেখেই তাঁকে এবং তাঁর দলকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা।

মাহাত্মা ভেগাই হালদারও অনুরূপ মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা প্রচার করে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে এবং বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান এখানে হবে না।

তিনি বলেন, যারা একক ধর্ম, একক সংস্কৃতি বা একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তারা প্রকৃতির নিয়ম, মানবতা ও সভ্যতার বিরোধী।  বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপন, ঢাকার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ হালদার।

কালের আলো/এম/এএইচ

কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

ঘরের মাঠে নেপাল জাতীয় নারী কাবাডি দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা দারুণভাবেই শুরু করল বাংলাদেশ। শুক্রবার(১৭ জুলাই) ঢাকার জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২৪ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ তে লিড নিল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের এই জয়ের ম্যাচে বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালিদের ওপর আগ্রাসী মেজাজ নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কৌশলী আক্রমণ ও রক্ষণভাগে অটুট থেকে প্রথমার্ধেই ১৪-১০ পয়েন্টের লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন স্বাগতিক মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালালেও আর পেরে উঠেনি। শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক।

ম্যাচটি বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের উপস্থিতিতে। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন তিনি। এরপর ভিআইপি বক্সের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে এক পর্যায়ে তিনি নিচে নেমে এসে সাধারণ দর্শকের মতোই দাঁড়িয়ে পুরো খেলা উপভোগ করেন।

ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন তিনি। খেলা শেষে তিনি নিজেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কাছে ডাকেন। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দলের সাফল্যের অংশীদার হয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। জাইমা রহমানের এমন আন্তরিকতা খেলোয়াড়দের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

এর আগে সিরিজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য আমাদের ক্রীড়া ঐতিহ্যের গর্ব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার এই সিরিজ দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া) আমেনা বেগম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাঠের জয় এবং গ্যালারির বাড়তি উৎসাহ সব মিলিয়ে কাবাডি স্টেডিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের এই জয়যাত্রা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারবে বলেই প্রত্যাশা দর্শকদের।

কালের আলো/এসএকে