খুঁজুন
                               
, ,
           

রণক্ষেত্রে সক্ষমতা দেখালো দক্ষ বৈমানিকরা, একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রত্যয় বিমান বাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
রণক্ষেত্রে সক্ষমতা দেখালো দক্ষ বৈমানিকরা, একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রত্যয় বিমান বাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

টাঙ্গাইলের রসুলপুরের ফায়ারিং রেঞ্জে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চললো শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অনন্য এক মহড়া। আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল রণক্ষেত্র। একের পর এক ঘাঁটি থেকে উড়াল দিচ্ছে মিগ ২৯, এফ-৭ বিজি, এফটি-৭, কে-৮ ডব্লিউ এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার। গোলা ও রকেট বর্ষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে নানা রণকৌশলে ব্যস্ত দক্ষ বৈমানিকরা। ঠিক যেন দেশের আকাশ সীমা রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার অনবদ্য এক দৃষ্টান্ত। তবে, বাস্তবে কোন যুদ্ধ লাগেনি। হামলাও করেনি কোন শত্রুপক্ষ। সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃপ্ত শপথে বলীয়ান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক গোলা ও রকেট বর্ষণ মহড়ার দৃশ্য ছিল এমনই।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই মহড়া অবলোকন করেন বাহিনীটির প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বাংলার আকাশ নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও অদম্য করে তোলাই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি। বিমান বাহিনী প্রধান দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন দেশের প্রতি যেকোনো আঘাত প্রতিহত করার। এক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা বিমান বাহিনীর দায়িত্ব বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, বিমানবাহিনী ২৪ ঘণ্টা র‍্যাডারের মাধ্যমে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ যুদ্ধ চায় না, তবে একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক বিন্দুও ছাড় দেবে না বিমান বাহিনী।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বিমান বাহিনীর এই মহড়া উপভোগ করেন।

‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা, সক্ষমতা ও দুর্বলতা মূল্যায়নকল্পে নিয়মিতভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়ার আয়োজন করে। এটি দেশের সময়োপযোগী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এসব মহড়ায় বিমান বাহিনীর বৈমানিকরা আকাশ থেকে ভূমিতে গোলাবর্ষণ, আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পর্যবেক্ষণসহ আকাশ যুদ্ধের বিভিন্ন প্রকার রণকৌশল অনুশীলন করেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এক্সারসাইজ ফ্ল্যাশ পয়েন্ট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। এটি বাংলার আকাশকে শত্রু বিমানের আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৈমানিকদের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া এই মহড়ার মাধ্যমে বৈমানিক ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোলাররা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং যুদ্ধাস্ত্র দ্বারা নির্ভুল ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। যদিও বিমান বাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে আকাশকে শত্রু বিমানের আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষা। তবে অন্যান্য বাহিনীকে ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট প্রদান করাও অপরিহার্য কাজগুলোর মধ্যে একটি। এবারের মহড়ায় এএন-৩২ পরিবহন বিমান রশদ সরবরাহ, কার্গো ড্রপ ও এয়ারলিফট অপারেশন পরিচালনা করে। এছাড়াও এমআই-১৭, এডব্লিউ-১৩৯ ও বেল-২১২ হেলিকপ্টারসমূহ আকাশ থেকে ভূমিতে গোলা বর্ষণ, ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

দেশের যেকোন প্রয়োজনে আমরা ২৪ ঘন্টা প্রস্তুত রয়েছি
মহড়া পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ভূমিকা হচ্ছে দিগন্তে, স্থলে এবং জলে আমাদের নিরাপত্তা এবং যেকোন ধরনের আঘাত প্রতিহত করা। এটি আমাদের মূলমন্ত্র। এছাড়া দেশের যেকোন প্রয়োজনে আমরা ২৪ ঘন্টা প্রস্তুত রয়েছি। এই মহড়ায় আমাদের বিমান বাহিনীর যেসব সক্ষমতা রয়েছে সেগুলো আমরা প্রদর্শন করেছি। ফাইটার, ট্রান্সপোর্ট ও হেলিকপ্টার- তিন ধরনের সক্ষমতা

আমাদের বৈমানিকদের রয়েছে। আকাশ থেকে ভূমিতে গোলাবর্ষণ ছাড়াও ট্রুপস ইনসারশন, কমব্যাট এন্ড সার্চ রেসকিউ এবং সার্চ এন্ড রেসকিউ এবং আমাদের শান্তিকালীন সময়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় যে প্রস্তুতি দরকার সেই প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে। সেটিরও একটি প্রদর্শন হয়েছে আজ।’

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের মহড়া আমরা শুধু প্রদর্শনের জন্যই করি না, আমাদের নিজস্ব একটি অ্যাসেসমেন্টও হয়, আমরা এখান থেকে বুঝতে পারি আমাদের আর কী ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, আমাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের জন্য আর কী কী করণীয়, সেদিকে আমরা নজর দিতে পারি। কোভিড এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে এই মহড়া অনেকদিন পরে হয়েছে। এবার আমরা স্বল্প পরিসরে শুরু করেছি, ভবিষ্যতে আমাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি হবে, এই মহড়াগুলোকে আরও আধুনিকায়ন করে উন্নতভাবে পরিবেশন করতে পারবো।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহায়তায় আরও উন্নত ধরনের সরঞ্জামাদির প্রত্যাশা
শান্তিকালীন বা যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছে বলে দেশবাসীকে আশ্বত করেন বিমান বাহিনী প্রধান। এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘একুশ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহায়তায় আমরা বিমান বাহিনী আরও উন্নত ধরনের সরঞ্জামাদি পাবো এবং সেটির মাধ্যমে উত্তরোত্তর আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই মহড়ার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যেক পাইলটের ব্রিফিং হচ্ছে, আমাদের নিজস্ব এয়ার ক্রাফটের টেকনিক্যাল সাইড আমরা ঝালাই করতে পেরেছি, আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি হচ্ছে। আমাদের পাইলটদের দৈনন্দিন প্রশিক্ষণ সচল রয়েছে। প্রতিটি পাইলটের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে-যোগ করেন তিনি।

পঞ্চম প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট নিয়ে আশাবাদী বিমান বাহিনী প্রধান
পঞ্চম প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট নিয়ে আশাবাদী বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজ সি-১৩০জে যুক্ত হওয়ায় পরিবহন বিমানে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের যেকোন প্রান্তে আমরা যেকোন সময় সহযোগিতা পাঠাতে পারি। ২০০০ সালে আমাদের চতুর্থ প্রজন্মের বিমান মিগ ২৯ এসেছিল। এরপর ২৪ বছর হয়ে গেছে। আমরা পঞ্চম প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ) বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকেই হোক আমরা বিমান বাহিনীতে নিয়ে আসবো। আমাদের এয়ার ফোর্সের অন্যান্য ধরনের হেলিকপ্টার, সারফেজ টু এয়ার মিসাইল, মিডিয়াম সারফেজ টু এয়ার মিসাইল এই ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা সচেষ্ট আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এয়ার ডিফেন্স র‍্যাডারের মাধ্যমে আমরা ২৪ ঘণ্টা আমাদের আকাশ সীমা মনিটরিং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশে কোন ধরনের শত্রুবিমান প্রবেশ করলে আমরা ডিটেক্ট করতে পারি। কোন যুদ্ধে জড়িত হওয়া আমাদের উদ্দেশ্য না কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি।’

কালের আলো/এমএএএমকে

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না করলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান শর্তই হলো স্থিতিশীল পরিবেশ ও নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি খাটাতে চান নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে। যদি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম শঙ্কাও থাকে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দেশীয় উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে এগোবেন না।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সিইআইজেডসহ দেশের সবকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।

উন্নয়নকাজের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান, চীনা সড়ক এবং সেতু কর্পোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই, চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আনোয়ারার এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোপুরি চালু হলে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর এক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি।

বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমি ট্রাইবুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেননা শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনও ঘটেছে বলে জানা নেই।

তিনি বলেন, আমরা মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুটি ঘটনার ওপর আমরা চার্জ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আনা হয়।

আর এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি চার্জে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি  জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও ভাতা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার এই ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি করেছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

এছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

তাদের জন্যও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন হার অনুযায়ী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা,খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ২৩ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ এই ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে