খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে আর্মি এভিয়েশন, আরও যুগোপযোগী করার অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে আর্মি এভিয়েশন, আরও যুগোপযোগী করার অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

একাধিক ইউনিট ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ফরমেশন। সাধারণত শান্তিকালীন সময়ে আর্মি এভিয়েশন সেনা বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন অনুশীলন ও মহড়ায় অংশহণ, জরুরী চিকিৎসার জন্য রোগী স্থানান্তর, সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জরুরি প্রয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। ফিক্সড উইং বিমান, হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষণ বিমান ও সিমুলেটর আর্মি এভিয়েশনকে করেছে আধুনিক। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এভিয়েশনের আরও সক্ষমতা বাড়াতে নজর দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সুসংবাদ দিয়ে জানিয়েছেন এভিয়েশনে নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের কাজ চলছে, যা বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করবে। একই সঙ্গে তিনি আর্মি এভিয়েশন গ্রুপকে আধুনিক, যুগোপযোগী, পেশাদার ও শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেছেন।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি এভিয়েশনে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের অধীনস্থ এভিয়েশন স্কুলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এভিয়েশন বেসিক কোর্স-১৩ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। পরে সেনাপ্রধান নবীন বৈমানিকদের সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে ফ্লাইং ব্রেভেট অনুমোদন করেন।

জানা যায়, ‘গতি ও নিপুনতা’ এই মূলমন্ত্র ধারন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র উড্ডয়ন প্রতিষ্ঠান আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ ১৯৭৮ সালের পহেলা জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য সেনাবাহিনীর আভিযানিক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে বিমান সহায়তা প্রদান করা। যুদ্ধকালীন সময়ে আকাশ পর্যবেক্ষক হিসেবে গোলা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি রিইনফোর্সমেন্ট সহায়তা, কমান্ডো অপারেশনে সহায়তা, জরুরি রশদ সরবরাহ ও যুদ্ধক্ষেত্রে রোগী স্থানান্তরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। আধুনিক সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিল রেখে আর্মি এভিয়েশনে সংযোজিত হচ্ছে আধুনিক হেলিকপ্টার ও সামরিক বিমান।

২০২১ সালের ১১ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে দু’টি অত্যাধুনিক বেল ফোর জিরো সেভেন জিএক্সআই হেলিকপ্টার। এই দু’টি হেলিকপ্টার নবীন বৈমানিকদের প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। একই সঙ্গে আকাশ থেকে ভূমিতে অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণেও কাজ করছে। জিএক্সআই হেলিকপ্টার সংযোজনের পর ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংযোজিত হয় দ্বিতীয় কাসা-সি ২৯৫ ডব্লিউ মিডিয়াম ইউটিলিটি সামরিক বিমান। এর আগে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিমান বহরে অন্তর্ভূক্ত হয় ৪ টি ডায়মন্ড ডিএ৪০এনজি প্রশিক্ষণ বিমান। এছাড়া আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের বিমান বহরে রয়েছে সেসনা-১৫২ এ্যারোব্যাট, সেসনা গ্রান্ড ক্যারাভান সিই-২০৮বি বিমান, বেল-২০৬ এল ৪ হেলিকপ্টার, ইউরোকপ্টার ডফিন এএস ৩৬৫ এনথ্রি প্লাস, এমআই ১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার এবং কাসা সি-২৯৫ ডব্লিউ বিমান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তরুণ সামরিক এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত সেনা, নৌ ও পুলিশ বাহিনীর ১৬২ জন অফিসারকে বৈমানিক হিসেবে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই কোর্সে সেনাবাহিনীর ১৮ জন, নৌবাহিনীর ৪ জন ও বাংলাদেশ পুলিশের ২ জনসহ সর্বমোট ২৪ জন তরুণ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের প্যারাড্রপ ফাস্ট, ড্রপিং ও রেপলিং মিশনেও কাজ করবে প্রশিক্ষণ নেওয়া সবাই। এই কোর্সটিতে সকল প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ফিক্সিড উইং এ পি.নং-৩৫১৬ লেঃ আদনান রাকিব, (এক্স), বিএন; রোটারী উইং এ বিএ-১০১৮৫ ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল হাসিব, এসি এবং ইউএভি রেজিমেন্ট এ বিএ-১০০৯৫ ক্যাপ্টেন মোঃ ফাহিম-আল-জামান, ইএমই শ্রেষ্ঠ বৈমানিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বলে জানিয়েছেন আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

সুশিক্ষিত ও সুনিপুণ সেনা বৈমানিকরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি এভিয়েশন স্কুলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এভিয়েশন বেসিক কোর্স-১৩ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আর্মি এভিয়েশন গ্রুপকে আধুনিক ও শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে সেনাবাহিনীর বৈমানিকরা।’ আর্মি এভিয়েশন গ্রুপকে আধুনিক, যুগোপযোগী, পেশাদার ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সুশিক্ষিত ও সুনিপুণ সেনা বৈমানিকরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।’

সেনাবাহিনীর বৈমানিকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় অভিযান ও প্রশাসনিক সহায়তাও কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এসব বৈমানিকরা জাতীয় যেকোন দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় ত্রাণ পরিবহন, বিতরণ, মুমূর্ষু ও সঙ্কটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর ও আটকে পড়া অসহায় মানুষদের নিরাপদ স্থানে পরিবহন করার জন্য দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।’ উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিতে আরও আধুনিক হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি। আগামী দিনে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের গ্রুপ কমান্ডার মেজর জেনারেল আই কে এম মোস্তাহসেনুল বাকীসহ সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না করলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান শর্তই হলো স্থিতিশীল পরিবেশ ও নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি খাটাতে চান নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে। যদি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম শঙ্কাও থাকে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দেশীয় উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে এগোবেন না।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সিইআইজেডসহ দেশের সবকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।

উন্নয়নকাজের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান, চীনা সড়ক এবং সেতু কর্পোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই, চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আনোয়ারার এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোপুরি চালু হলে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ছিল ‘জেনোসাইড’: চিফ প্রসিকিউটর

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর এক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি।

বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমি ট্রাইবুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেননা শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনও ঘটেছে বলে জানা নেই।

তিনি বলেন, আমরা মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুটি ঘটনার ওপর আমরা চার্জ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আনা হয়।

আর এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি চার্জে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি  জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও ভাতা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার এই ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি করেছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

এছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

তাদের জন্যও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন হার অনুযায়ী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা,খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ২৩ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ এই ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে