খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

স্মৃতিচারণায় জমে ওঠে পুনর্মিলনী উৎসবের মিলনমেলা, দেশ ও জাতি গঠনে ক্যাডেটদের অবদানের কথা সেনাপ্রধানের কণ্ঠে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
স্মৃতিচারণায় জমে ওঠে পুনর্মিলনী উৎসবের মিলনমেলা, দেশ ও জাতি গঠনে ক্যাডেটদের অবদানের কথা সেনাপ্রধানের কণ্ঠে

কালের আলো রিপোর্ট:

শীতার্ত মাঘ বিদায় নিচ্ছে বলেই দিনভর উজ্জ্বল সূর্যের তেজ চড়েছে। ঋতুরাজ বসন্তের হাওয়ার কাঁপন তখন প্রকৃতিতে। ফাল্গুনের টানের এই সময়টিতে চট্টগ্রামস্থ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের মাঠ মুখর নানা বয়সী প্রাক্তন ক্যাডেটদের পদচারণে। একেকজন নিজ নিজ অঙ্গনে এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। মাঝখানে জীবন থেকে হারিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বলতে ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপেই ছিল সীমাবদ্ধ। কারও তো আবার ক্যাডেট জীবন শেষ হওয়ার পর আর যোগাযোগই হয়নি। ফলত দীর্ঘ সময় পর একে অন্যের সঙ্গে দেখা।

একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন বুকে। কেউ কেউ এসেছেন আবার তিন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়েই। অনেকটা আবেগাপ্লুত প্রত্যেকেই। আড্ডা, আলাপচারিতা, কুশল বিনিময় আর স্মৃতিচারণায় অন্য রকম এক অনুভূতি। জমে ওঠে মিলনমেলা। ক্যাডেট কলেজ প্রাঙ্গণের প্রাক্তনদের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসছিল- ‘বন্ধু, কী খবর বল, কত দিন পর দেখা’, ‘এই মাঠেই তো খেলে বেড়াতাম, আজ চেনাই যায় না’ প্রভৃতি। তাঁরা বলছিলেন মনের গহিনে জমে থাকা নানা কথা। দীর্ঘ সময় পর পুরনো বন্ধু এক্স ক্যাডেটদের কাছে পেয়ে মেতে ওঠেন আনন্দে।

ছুটির দিনের মৌনতা ছাপিয়ে শুক্রবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) এমনই জমজমাট ছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এই ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের সংগঠন ওল্ড ফৌজিয়ান এসোসিয়েশন (ওফা) এর আয়োজনে তিন দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসবের দ্বিতীয় দিনের মিলন মোহনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। দেশের সর্বপ্রথম এই ক্যাডেট কলেজের পুনর্মিলনী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশ ও জাতি গঠনে ক্যাডেটদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। নতুন ক্যাডেটদের মন-মননে গেঁথে দেন সাফল্যের মন্ত্র। সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠতে জানান আহ্বান।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) সর্বপ্রথম ক্যাডেট কলেজ। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ‘ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ’। মহান স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে অবস্থিত এই ক্যাডেট কলেজটির পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। পড়াশোনা ছাড়াও শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক, চারিত্রিক, সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বের বিকাশে এই ক্যাডেট কলেজের জুড়ি মেলা ভার। দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে এই ক্যাডেট কলেজটির। কলেজটির প্রাক্তন ক্যাডেটরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ক্যাডেটদেরকে অর্জিত জ্ঞানকে দেশ ও জাতির উন্নতির কাজে লাগানোর আহ্বান জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ প্রাঙ্গনে এসে পৌঁছলে ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. মাসুদুর রহমান, কলেজ অধ্যক্ষ মিসেস মাহিনুর আক্তার এবং ওল্ড ফৌজিয়ান এসোসিয়েশন (ওফা) এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) আবদুল মতিন তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেনাবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানস্থলে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী প্রাক্তন বীর সেনানী ক্যাডেটদের স্মরণে নির্মিত ‘৭১ এর ফৌজিয়ান’ এ পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য প্যারেডে তিনি সালাম গ্রহণ করেন। পরে কলেজ অধ্যক্ষ মিসেস মাহিনুর আক্তার তাকে ক্রেস্ট উপহার দেন। এ সময় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মাহাবুবুস সামাদ চৌধুরীসহ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, এই ক্যাডেট কলেজের সাবেক ক্যাডেটদের সংগঠন ওল্ড ফৌজিয়ান এসোসিয়েশন (ওফা) এর উদ্যোগে এবার পুনর্মিলনী উৎসবকে ঘিরে আগেই বর্ণিল সাজে সাজানো হয় কলেজের বিভিন্ন স্থাপনা। কলেজের ভবন ও আশপাশের ভবনে করা হয় আলোকসজ্জা। বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিন দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসবের উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক। তিনি অন্যায়, অবিচার, মিথ্যাচার দূর করে সত্যাশ্রয়ী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রশিক্ষিত ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্মৃতিজড়ানো ক্যাডেট কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেন ফিরে গিয়েছিলেন হারানো সেই সোনালি ক্ষণে। তারুণ্যের দুরন্তপনার সঙ্গীদের সঙ্গে দিনভর আবেগ-উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। হালের ট্র্যান্ড সেলফি তোলায় ব্যস্ত থেকেছেন প্রত্যেকে; বন্দি হয়েছেন স্মৃতির ফ্রেমে। শনিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ভাঙবে সেই মিলনমেলা। যাওয়ার বেলায় বিদায়ী বন্ধুরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হয়তো বলবেন-‘আবার হবে তো দেখা, এ দেখাই শেষ দেখা নয় তো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

রেশম গোটা দেশের সম্পদ, আমাদের ঐতিহ্য: পাটপ্রতিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
রেশম গোটা দেশের সম্পদ, আমাদের ঐতিহ্য: পাটপ্রতিমন্ত্রী

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, রেশম শুধু রাজশাহীর সম্পদ নয়, এটি গোটা বাংলাদেশের সম্পদ। রেশম আমাদের ঐতিহ্য। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রেশম বোর্ড স্থাপন করেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী সিল্কের উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজশাহী সিল্ক কীভাবে আরও উন্নত ও আধুনিকায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। গবেষণার মাধ্যমে তুঁতের ফলন বৃদ্ধি, তুঁত গাছের উন্নয়ন, রেশম সুতার উন্নয়ন তথা রাজশাহী সিল্কের সার্বিক ঐতিহ্য বৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

এ জন্য স্টেকহোল্ডারদের মূল্যবান পরামর্শ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, রেশম সুতার উৎপাদন বৃদ্ধিতে কারখানাগুলোতে বন্ধ পড়ে থাকা লুমগুলো চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিদর্শনকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি।

পরে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ‘সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভাটি বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ। তিনি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

কালের আলো/এসএকে

সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হবে ঢাকায়

নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হবে ঢাকায়

দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে আনতে ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার।

তিনি বলেন, দুই দিনের সফরে লালমনিরহাট সফরে আজকে (শনিবার) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি রেস্টরুমে গিয়ে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেন মন্ত্রী। পরে তাকে দ্রুত সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গফুর সরকার আরও বলেন, পরে নেতাকর্মীদের পরামর্শে মন্ত্রীকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিমানে যেতে পারেননি। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে সৈয়দপুর পৌঁছালে সেটিতে মন্ত্রীকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

কালের আলো /এসএকে

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।

কৃষিখাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’। সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে