খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের জনমত জরিপে সাড়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের জনমত জরিপে সাড়া

কালের আলো রিপোর্ট:

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয় শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্যদিকে অভ্যুত্থানের শক্তিকে সংহত করে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা যুক্ত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছেন তারা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের মানুষের কাছে দলের নাম ও প্রতীক চেয়েছে শিক্ষার্থীদের এই দুটি প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি দেশের মানুষের চিন্তা, প্রত্যাশা, পরামর্শ চেয়ে জনমত জরিপ ও মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। শুরু করেছে ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন। দেশ পরিবর্তনে তিনটি পরামর্শও চাওয়া হচ্ছে তাদের জরিপে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, কার্জল হলসহ রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী বুথ বসিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনমান রাজধানীর পান্থপথ সিগন্যালের পাশে একটি বুথে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে ভিড় করতে দেখা গেছে। সেখানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে বিভিন্ন লিখিত মতামত জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এতে নতুন দলের নাম কী হবে, মার্কা কী হবে-এমন নানা প্রশ্নে নিজেদের আকাক্সক্ষার কথা জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সাড়া পাচ্ছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে নতুন এই রাজনৈতিক দল।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেয়া এক পোস্টে এই ক্যাম্পেইনের কথা জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন একসময় দুই সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশের বিপ্লবী ছাত্র-তারুণ্য। সেই তরুণরাই গঠন করতে যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক দল। আর সেই দল গঠনে আমরা জানতে চাই ছাত্রসমাজের প্রত্যাশা। ছাত্রসমাজের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়েই গঠন করা হবে নতুন রাজনৈতিক দল। সেই লক্ষ্যে আমরা শুরু করেছি ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ নামক ক্যাম্পেইন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অস্থায়ী বুথগুলোতে ফরম পূরণের উদ্দেশ্যে অনেকেই আসছেন। ফরমে দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। ফরমরে প্রশ্নে রয়েছে নাম, পেশা, জেলাসহ একাধিক প্রশ্ন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হচ্ছে-আপনার মতে কোন তিনটি কাজ করলে দেশ বদলে যাবে? নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে আপনার জীবনের সমস্যার সমাধান চান? নতুন দলের কাছে কী প্রত্যাশা করেন? দলের নাম কী হতে পারে এবং দলের মার্কা কী হবে? শিক্ষার্থী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে এই ফরম পূরণ করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছেন।

ফরম পূরণের পর কথা হলো রবিউল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি লিখেছেন- ‘দুর্নীতি দূর করতে হবে, বেকারত্ব দূর করতে হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করতে হবে।’ তিনি এই দলের কাছে প্রত্যাশা করেন সততা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা। আরিফুল ইসলাম নামে একজন ব্যবসায়ী লিখেছেন- আমি এ দেশের একজন নাগরিক, এটি যেন স্বাধীনভাবে বলতি পারি।’ সুন্দর একটি আদর্শে দেশ গড়ে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, সেটা প্রত্যাশা করেন তিনি।

বুথে বসা কলাবাগান থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি মাহবুব গাজী বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বুথ চালু থাকে। আমাদের এই ক্যাম্পিং চলবে টানা তিন দিন। তবে বেড়ে সপ্তাহব্যাপী হতে পারে। ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীদের একটি টিম পালাক্রমে কাজ করছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টির মতো লিখিত ফরম জমা পড়ছে। এদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত জমা পড়েছে প্রায় ১০০টি।’

জানা গেছে, রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশে এই জরিপ চালাবেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা। জরিপ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সাংস্কৃতিক সেলের সদস্য সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত নিচ্ছি। ছয়টি বুথে এই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়ার পর সারা দেশে এই জরিপ চলবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। সম্ভাব্য নতুন দলটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মটির অনেকেরই অংশগ্রহণ থাকবে। তবে নতুন দল গঠিত হলেও জাতীয় নাগরিক কমিটির বিলুপ্তি হবে না। নতুন দলের কারণে বিলুপ্ত হবে না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও। এই দলে তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে অভ্যুত্থানের পক্ষের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে নাগরিক কমিটিতে থাকা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ এর বাইরে অনেকেই রয়েছেন, তারা স্থান পাবেন এ দলে। পাশাপাশি বিরাজমান রাজনৈতিক দলগুলো থেকে কেউ এ দলে আসতে চাইলে তাদেরও স্বাগত জানানো হবে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে থাকা তিন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ এর মধ্যে থেকে একজন পদত্যাগ করে দলের নেতৃত্ব নেবেন। অন্য দুজন আরও পরে সুবিধাজনক সময়ে পদত্যাগ করে দলে যোগ দিতে পারেন। ওই দুজনের একজন আগামী জুন মাসে উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দলে যোগ দিতে পারেন।

কালের আলো/এমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি