খুঁজুন
                               
, ,
           

একজন সেনাসদস্যের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনে ফায়ারিং-এ দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি : সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
একজন সেনাসদস্যের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনে ফায়ারিং-এ দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি : সেনাপ্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

একজন সেনাসদস্যের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনে ফায়ারিং-এ দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি মনে করেন, এটি সেনাসদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীনকাল থেকেই ফায়ারি-এর দক্ষতাকেই একজন সৈনিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আর তাই সৈনিক জীবনের শুরু থেকেই ফায়ারিং-এ দক্ষতা অর্জন করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলতি বছরের ফায়ারিং প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতি বছর সেনাবাহিনীর এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা সেনাসদস্যদের কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

এ সময় নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মঈন খানসহ বিভিন্ন ফরমেশন ও সেনাসদরের উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সদর দপ্তর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশন, লজিস্টিকস্ এরিয়া, ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি দল অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

আইএসপিআর আরও জানায়, এই প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশনের সৈনিক মো. রাজু সরদার  শ্রেষ্ঠ ফায়ারার, ৬ স্বতন্ত্র এডিএ বিগ্রেড’র সৈনিক (ওসিইউ) মো. জুবায়ের আলী দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট সামিয়া রহমান শ্রেষ্ঠ মহিলা ফায়ারার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও সেনাবাহিনী প্রধান সিএএস ট্রফি ফায়ারিং প্রতিযোগিতার মাইনর ইউনিটসমূহের মধ্যে এডহক ৪৭ মর্টার রেজিমেন্ট আর্টিলারি চ্যাম্পিয়ন, সদর দপ্তর ১০৫ পদাতিক ব্রিগেড রানারআপ এবং মেজর ইউনিট সমূহের মধ্যে ১ ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট চ্যাম্পিয়ন, ২৯ ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট রানারআপ এবং ব্যক্তিগতভাবে ছয়জন শ্রেষ্ঠ ফায়ারারদেরকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

জানা যায়, সেনাসদস্যদের ফায়ারিং এর মানোন্নয়ন ও আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৯ সাল থেকে সকল ফিল্ড এবং স্ট্যাটিক ইউনিটসমূহকে অন্তর্ভূক্ত করে সিএএস ট্রফি ফায়ারিং প্রতিযোগিতা চালু হয়েছিল। প্রাথমিক সময়ে, ক্লাসিফিকেশন ফায়ারিং-এর ফলাফলের ভিত্তিতে এই ট্রফি প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে ২০১৪ সাল হতে ক্লাসিফিকেশন ফায়ারিং পদ্ধতি অনুসরণ করে পৃথকভাবে সিএএস ট্রফি ফায়ারিং প্রতিযোগিতার সূত্রপাত হয়। ২০২১ সালে প্রশিক্ষণ বছর থেকেই প্রথমবারের মতো সিএএস ট্রফি ফায়ারিং প্রতিযোগিতা দুইটি পর্বে পরিচালিত হয়েছে।

সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলতি বছরের ফায়ারিং প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সকল স্তরের অধিনায়ক, অফিসার, জেসিও এবং এনসিও সহ সর্বস্তরের সৈনিকদের জন্য ফায়ারিং অনুশীলন করা এবং ফায়ারিং এ দক্ষতা অর্জন করা একটি অভিষ্ট লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমি এই লক্ষ্য অর্জনে সকলকে ঐকান্তিক প্রচেষ্টার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি এই প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু এবং সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মঈন খান এবং প্রতিযোগিতার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

কালের আলো/এমএএএমকে

আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আদালতটির সঙ্গে বেশিরভাগ আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চলতি সপ্তাহেই এসব নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারে ওয়াশিংটন। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা পার হওয়ার পর আইসিসির সঙ্গে বেশির ভাগ আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ হবে।

এর আগে আইসিসির নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার পুরো প্রতিষ্ঠানটির ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চলতি সপ্তাহে অথবা এর পরপরই নির্বাহী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হতে পারে। সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসির বিচারকার্যকে কেন্দ্র করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এর আওতায় আদালটির কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আফগানিস্তানে মার্কিন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্ত এবং ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিক্রিয়ায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। গাজায় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগের তদন্তের পর ওই পরোয়ানা জারি করা হয়।

সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুলায়ে সেইয়ে রয়েছেন। আইসিসি এসব নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর ‘স্পষ্ট আক্রমণ’।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শামা ওবায়েদের সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
শামা ওবায়েদের সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলজেরিয়ার সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ, কৃষি, সার, জলবায়ু পরিবর্তন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে আলজেরিয়ায় পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য দেশটির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

বিশ্বের বড় দাতাদের নজরে বাংলাদেশ, বাড়ছে অর্থায়ন

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বের বড় দাতাদের নজরে  বাংলাদেশ, বাড়ছে অর্থায়ন

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ আবারও দৃশ্যমানভাবে বাড়ছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ, জাইকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএসএআইডির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে প্রায় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই অর্থায়ন প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন অর্থের ব্যয় বেড়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহ কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন বাংলাদেশের জন্য এই বাড়তি প্রতিশ্রুতি অর্থনীতির সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদা—দুইয়ের প্রতিই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মনোযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবার অর্থায়নের বড় অংশ যাচ্ছে এমন সব খাতে, যেগুলো ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্ত করার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

  • ১১.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা
  • আস্থার কেন্দ্রে বড় বাজার ও তরুণ জনগোষ্ঠী
  • জলবায়ু, অবকাঠামো, মানবসম্পদ ও সংস্কারে মিলছে নতুন অর্থায়নের সুযোগ

শুধু ঋণ নয়, বাড়ছে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব
বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের চরিত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একসময় বড় অবকাঠামো প্রকল্পই বৈদেশিক সহায়তার প্রধান ক্ষেত্র ছিল। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু অভিযোজন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা, নারী উদ্যোক্তা, এসএমই, সবুজ শিল্প ও রাজস্ব সংস্কার। অর্থাৎ নতুন অর্থায়নের লক্ষ্য শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো তৈরি নয়; অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জন্য এ পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগামী দিনের প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি, জ্বালানি, যোগাযোগ ও বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর।

৩.৫ বিলিয়ন ডলারে বিশ্বব্যাংকের বড় বার্তা
চলতি বছরে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জলবায়ু অভিযোজন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এ অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থায়নের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে জলবায়ু ঝুঁকির কারণে। বাংলাদেশের বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রতিবছর বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ফলে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও অভিযোজন কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির সুযোগ তৈরি করছে। একই অর্থায়ন কর্মসূচিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য যুক্ত হওয়ায় মানবসম্পদ উন্নয়নও গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে যে দক্ষ ও সুস্থ কর্মশক্তি প্রয়োজন, এসব বিনিয়োগ সেই ভিত্তিই শক্ত করতে পারে।

অবকাঠামোর সঙ্গে এবার গুরুত্ব এসএমইতেও
এডিবির প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অবকাঠামো, জ্বালানি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনীতিতে এই তিনটি খাতের প্রভাব বহুমাত্রিক। অবকাঠামো উন্নত হলে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসার ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হয়। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল হলে শিল্প উৎপাদন বাড়তে পারে।
আর এসএমই খাতে অর্থায়ন বাড়লে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে এডিবির অর্থায়নকে শুধু প্রকল্পভিত্তিক সহায়তা হিসেবে দেখার বদলে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে সক্ষমতা তৈরির বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা যায়।

জাইকার অর্থে শহর, বন্দর ও দক্ষ জনশক্তি
জাপানের জাইকা প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। মেট্রোরেল, বন্দর ও কারিগরি শিক্ষায় এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তিনটি ক্ষেত্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উন্নত নগর পরিবহন কর্মঘণ্টা ও চলাচলের ব্যয় কমাতে পারে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে আমদানি-রপ্তানির গতি বাড়ার সুযোগ থাকে। আর কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

আইএমএফের অর্থে সংস্কারের সুযোগ
বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ আইএমএফ। সংস্থাটি প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর সঙ্গে বাজেট সহায়তা ও রাজস্ব সংস্কারের বিষয়টি যুক্ত। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে।

প্রায় ১০ দিনের সফরে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের আগে নির্ধারিত শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। নতুন সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা এগোতে পারে। আইএমএফের এই সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি কারণে। রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাত ও সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও সক্ষম করার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের বড় শক্তি জনসংখ্যা ও বাজার
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর আগ্রহের পেছনে বাংলাদেশের বিশাল বাজারও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ হওয়ায় এখানে ভোগ ও সেবার বড় বাজার রয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পদ। এই জনশক্তিকে দক্ষ করে তুলতে পারলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, সেবা ও উদ্যোক্তা খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতা, স্টার্টআপ, নারী উদ্যোক্তা ও কারিগরি শিক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভূরাজনীতিও বাড়াচ্ছে অংশীদারিত্ব
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, যোগাযোগ, সমুদ্রবন্দর, সরবরাহব্যবস্থা ও আঞ্চলিক সংযোগের সম্ভাবনা বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের বিভিন্ন উদ্যোগে তাই অবকাঠামোর পাশাপাশি বাণিজ্য, সবুজ অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলোও সামনে আসছে।

অর্থায়নের আসল সাফল্য নির্ভর করবে ব্যবহারে
বাংলাদেশের জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের পরিধি একই সঙ্গে বাড়ছে এবং বৈচিত্র্যও আসছে। বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু ও মানবসম্পদ বিনিয়োগ, এডিবির অবকাঠামো ও এসএমই সহায়তা, জাইকার পরিবহন ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইএমএফের সংস্কার সহায়তা—সব মিলিয়ে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে সক্ষমতা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এই সুযোগকে স্থায়ী অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকৃত মূল্য শুধু কত বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেল, তার ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে সেই অর্থ কতটা উৎপাদনশীল সম্পদ, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ আয়ের উৎস তৈরি করতে পারল তার ওপর। বর্তমান প্রবাহ সেই সম্ভাবনার দরজাই নতুন করে খুলে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো—আন্তর্জাতিক আস্থার এই সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতায় রূপ দেওয়া।

এম/এএইচ