খুঁজুন
                               
, ,
           

আল-আকসার কাছে নেতানিয়াহু, জড়ো হলেন হাজারো ইসরায়েলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
আল-আকসার কাছে নেতানিয়াহু, জড়ো হলেন হাজারো ইসরায়েলি

মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের কাছে পশ্চিম দেয়াল এলাকায় কয়েকজন মন্ত্রী ও হাজারো ইসরায়েলিকে নিয়ে গিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে তিনি আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করেননি; দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পশ্চিম দেয়াল প্রাঙ্গণে প্রার্থনা করেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নেতানিয়াহু ও তার সঙ্গীরা সেখানে যান বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম গভর্নরেট।

গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়, পুরোনো শহরের ওয়াদি স্ট্রিট হয়ে হাজার হাজার ইসরায়েলি পশ্চিম দেয়াল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এ সময় পুরো এলাকায় জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইহুদিদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ইয়ম কিপ্পুর সামনে রেখে আল-আকসা মসজিদের একটি প্রবেশপথ বাব আল-রহমার কাছে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালনের আহ্বান জানিয়েছিল কয়েকটি ইসরায়েলি গোষ্ঠী। সেই আহ্বানের পরই বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি সেখানে জড়ো হন বলে জানায় জেরুজালেম গভর্নরেট।

অন্যদিকে, একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিও নামাজ আদায় ও পুরোনো শহরের বাজারে কেনাকাটার জন্য এলাকায় আসেন। ইয়ম কিপ্পুর সামনে ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা মসজিদে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।

পশ্চিম দেয়াল নিয়ে বিরোধ

পশ্চিম দেয়ালকে ইহুদিরা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করে এবং বর্তমানে এলাকাটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ প্রশাসন ও ফিলিস্তিনের জেরুজালেম গভর্নরেটের বক্তব্য, পশ্চিম দেয়াল আল-আকসা মসজিদ-সংলগ্ন ইসলামী পবিত্র স্থাপনাগুলোর অংশ।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম দেয়াল প্রাঙ্গণ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখে। সেখানে নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও সরকারি আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রবেশপথে নিরাপত্তা তল্লাশি ও পরিচয় যাচাই করা হয়।

ইয়ম কিপ্পুরের আগে ‘সেলিখোট’ নামে বিশেষ প্রার্থনা পালনের জন্য বাব আল-রহমার বাইরে সমবেত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিল কয়েকটি ইসরায়েলি গোষ্ঠী। চলতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর ইয়ম কিপ্পুর পালিত হওয়ার কথা।

সামনে আরও কয়েকটি ধর্মীয় উৎসব

ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের মৌসুম শুরু হয়েছে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর হিব্রু নববর্ষের মধ্য দিয়ে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর পালিত হবে ইয়ম কিপ্পুর বা প্রায়শ্চিত্ত দিবস।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সুক্কোট বা ফিস্ট অব ট্যাবারন্যাকলস। এরপর ৩ অক্টোবর পালিত হবে সিমখাত তোরাহ, যেদিন ইহুদিদের বার্ষিক তোরাহ পাঠচক্রের সমাপ্তি উদ্‌যাপন করা হয়।

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলিদের প্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। জেরুজালেম গভর্নরেটের দাবি, ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশ একতরফাভাবে ইসরায়েলিদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে আরও প্রায় ১০০ ইসরায়েলি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন বলেও জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট। তাদের ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় প্রাঙ্গণে ঢুকে ধর্মীয় আচার পালনের অভিযোগ করা হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এসএ

 

পৈতৃক জমি একার নামে নয়, খতিয়ানে উঠবে সব ওয়ারিশ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
পৈতৃক জমি একার নামে নয়, খতিয়ানে উঠবে সব ওয়ারিশ

বাবা বা কোনো জমির মালিকের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি একজন ওয়ারিশের নামে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ থাকছে না। একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলে সবাইকে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। কেউ নিজের অংশ আলাদা করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপনে আনা এই পরিবর্তন এখন কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উত্তরাধিকার সম্পত্তির সরকারি রেকর্ডে প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম ও প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকছে। ফলে অন্য উত্তরাধিকারীকে বাদ দিয়ে গোপনে জমি নিজের নামে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বণ্টননামা ছাড়াই যৌথ নামজারি
নতুন নিয়মের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা যাবে না। ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে সব উত্তরাধিকারীর নামে একই খতিয়ানে নামজারি করতে হবে। তবে উত্তরাধিকারীরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ এখন ওয়ারিশি জমির ক্ষেত্রে দুটি ব্যবস্থা স্পষ্ট—যৌথ মালিকানা হলে যৌথ নামজারি, আর ভাগ করা মালিকানা হলে নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক নামজারি।আগে অনেক ক্ষেত্রে বণ্টননামা না থাকার কারণ দেখিয়ে যৌথ নামজারির আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হতো। নতুন নির্দেশনায় সেই জটিলতা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নারী ও দুর্বল ওয়ারিশদের অধিকার সুরক্ষার সুযোগ
ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ ভূমি-সংক্রান্ত মামলার অন্যতম কারণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন ওয়ারিশ অন্যদের অজ্ঞাতে জমি নিজের নামে নামজারি করে নেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসানের মতে, সব ওয়ারিশকে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়মে অন্যদের বাদ দেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারি আটকে দেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হওয়ার কথা।বিশেষ করে নারী ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থানে থাকা ওয়ারিশদের জন্য এর গুরুত্ব রয়েছে। সরকারি রেকর্ডেই তাদের নাম ও হিস্যা থাকলে সম্পত্তির অধিকার গোপন বা অস্বীকার করা তুলনামূলক কঠিন হবে।

বাস্তবায়নেই বড় পরীক্ষা
অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায় এবং সাধারণত ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির লক্ষ্য রয়েছে। তবে জমি নিয়ে বিরোধ, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র বা তথ্য যাচাইয়ের জটিলতায় সময় বাড়তে পারে। উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে সাধারণত ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যুসনদ, আগের খতিয়ান, দাগের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট দলিল প্রয়োজন হয়। পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে থাকলে বা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সমস্যা হলে যৌথ নামজারি জটিল হতে পারে।

পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সময় ও খরচও বাড়বে। ফলে নতুন বিধানের পাশাপাশি ভূমি অফিসের জনবল, যাচাই সক্ষমতা ও ডিজিটাল সেবা জোরদার করাও জরুরি। শেষ পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে একটি বিষয়েই—প্রত্যেক প্রকৃত ওয়ারিশের নাম ও হিস্যা সরকারি রেকর্ডে কতটা নির্ভুলভাবে উঠে আসে। কারণ খতিয়ানে একটি নাম বাদ পড়া কখনো কখনো একটি পরিবারের দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ম্যাকলমোর ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন এড শিরান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ম্যাকলমোর ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন এড শিরান

ম্যাকলমোরকে নিজের চলমান ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তুমুল বিতর্কের মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় শনিবারের কনসার্টে মঞ্চে উঠে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। শিরান জানান, কখনোই নিজেকে ‘অ্যাকটিভিস্ট মিউজিশিয়ান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। তবে বর্তমান মানবিক সংকট তাঁকে নীরব থাকার সুযোগ দিচ্ছে না।

ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে দর্শকদের উদ্দেশে শিরান বলেন, তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে রাজনৈতিক ভাষ্যকারের ভূমিকা নিতে চাননি। তাঁর কাছে গান ও কনসার্ট হওয়া উচিত ঐক্যের জায়গা। কিন্তু গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে তিনি মানবিক সংকট হিসেবে দেখছেন এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন রাখতে পারছেন না।

বিতর্কের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের শুরুতে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে একটি মঞ্চ পরিবেশনায় ম্যাকলমোর সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানান। এর পরই এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে শিরান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নয়। সফরের আয়োজক মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ভেন্যু ম্যাকলমোরকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ম্যাসাচুসেটসের গিলেট স্টেডিয়ামও ছিল।

গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের কর্ণধার রবার্ট ক্র্যাফটও ম্যাকলমোরের পারফরম্যান্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ম্যাকলমোরের বক্তব্যকে ‘হেট স্পিচ’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্যে হামাসের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।

ম্যাকলমোরের পক্ষে শিল্পীদের সরে দাঁড়ানো

ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েকজন শিল্পীও ‘লুপ ট্যুর’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইরিশ গায়ক-গীতিকার অ্যারন রো এবং ড্যানিশ সংগীতশিল্পী লুকাস গ্রাহাম ও তাঁর ব্যান্ডের সদস্যরা।

তাঁদের বক্তব্য, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা শিল্পীদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে শনিবারের কনসার্টে শিরান স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ নিয়ে ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে শিরানের বক্তব্য

ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে শিরান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে চালানো হামলাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর, অযৌক্তিক ও অসমানুপাতিক’ বলে মন্তব্য করেন।

শিরানের ভাষায়, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলা ভয়াবহ ছিল এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাকে আরও গভীর করেছে।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। পশ্চিম তীরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান সীমিত বলেও স্বীকার করেছেন শিরান। তিনি জানান, কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপকারে আসা যায়, তা বোঝার চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে তিনি শুনছেন ও শিখছেন।

‘আমি জানতাম না সফর চলবে কি না’

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রভাব যে তাঁর ওপরও পড়েছে, সেটি কনসার্টে স্বীকার করেন শিরান।

দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একপর্যায়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না ‘লুপ ট্যুর’ আদৌ চলবে কি না। এমনকি শিল্পী হিসেবে আবার মঞ্চে ফিরতে চান কি না, তা নিয়েও সংশয়ে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তিনি মঞ্চে ফিরেছেন।

শিরান আরও বলেন, তাঁর কনসার্ট এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে সবাই স্বাগত এবং ভিন্নমতের মানুষও পাশাপাশি দাঁড়াতে পারেন।

কনসার্টের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ

শিরানের বক্তব্যের মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের বাইরে বিক্ষোভও হয়েছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে অবস্থান নেন। তাঁদের একজন বিবিসিকে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানাতেই তাঁরা সেখানে এসেছেন।

তাঁদের মতে, ম্যাকলমোরের মতো শিল্পীদের নিজস্ব মঞ্চ ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত।

অন্যদিকে কনসার্টে আসা কয়েকজন দর্শক জানান, তাঁরা সংগীত উপভোগের পাশাপাশি শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দেন।

বিতর্কের মধ্যেই এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এর বাকি আয়োজন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় চলবে। তবে বিতর্কের প্রভাব টিকিট বিক্রিতেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের কিছু টিকিটের দাম ৩২ ডলার পর্যন্ত নেমে আসে। কিছু দর্শক টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। যদিও টিকিটমাস্টার ও মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, আরও বাড়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, আরও বাড়ার আশঙ্কা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছে পেন্টাগন।

পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধসংক্রান্ত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার যোগ হয়েছে। তবে এই হিসাবকে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বলা হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতের খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এর আগে জুলাইয়ে পেন্টাগন জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যয়ের হিসাব আরও বেড়েছে।

সিবিওর হিসাবও ছাড়াল পেন্টাগনের নতুন ব্যয়

মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (CBO) জানিয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে প্রতিরক্ষা বিভাগের খরচ প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। পেন্টাগনের নতুন হিসাব সেই প্রাক্কলনকে ছাড়িয়ে গেছে।

সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আগস্টের পর প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। সংঘাত তীব্র হলে মাসিক ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতিতেও

সিবিও সতর্ক করেছে, ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। যুদ্ধের ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যয়ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে পেন্টাগনের ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলারের হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়। সামরিক ঘাঁটি ও ভবন মেরামত এবং কিছু পরোক্ষ সামরিক ব্যয় এতে ধরা হয়নি। ফলে সংঘাত দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: CNN, CBO

কালের আলো/এসএ