খুঁজুন
                               
, ,
           

সন্তান জন্মের পর ক্যাটরিনাকে ট্রোলিং, ক্ষোভ ঝাড়লেন সালমান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
সন্তান জন্মের পর ক্যাটরিনাকে ট্রোলিং, ক্ষোভ ঝাড়লেন সালমান

সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। এরপর থেকেই তাঁর চেহারা ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা মন্তব্য ও ট্রোলিং। এবার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অভিনেতা সালমান খান।

রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ২০’-এর ‘উইকেন্ড কা ভার’-এর মঞ্চে ক্যাটরিনা ও বয়সী তারকাদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে করা কটূক্তির প্রসঙ্গ ওঠে। তখন তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনলাইন আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানান সালমান।

সালমান বলেন, কোনো নারী মা হওয়ার পর তাঁর শরীরে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। কিন্তু সমাজের একাংশ বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে না দেখে ‘মোটা হয়ে গেছে’ বলে কটাক্ষ শুরু করে। একজন মাকে নিয়ে কেন এভাবে ট্রোল করা হবে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অভিনেতার মতে, সন্তান জন্মের পর অভিনেত্রীরা নিজেদের সময় নিয়ে শারীরিকভাবে প্রস্তুত হয়ে আবার পর্দায় ফিরতে পারেন। তাই তাঁদের ওপর দ্রুত আগের চেহারায় ফেরার অযথা চাপ তৈরি করা উচিত নয়।

নিজের ট্রোলিংয়েরও জবাব সালমানের

শুধু নারীদের নিয়ে করা মন্তব্য নয়, নিজের বয়স ও ওজন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে চলা ট্রোলিংয়ের জবাব দেন সালমান। তিনি বলেন, তিনি আর ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ সিনেমার সময়কার বয়সে নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক।

সমালোচকদের জবাব দিতে মঞ্চেই নিজের কাউবয় টুপি, জ্যাকেট ও টি-শার্ট খুলে ফেলেন সালমান। এরপর মেকআপও মুছে ফেলেন। ট্রোলারদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘ভাই মোটা হয়ে গেছে! ট্রল করো ভাইকে নিয়ে।’

‘সমালোচনা করুন, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়’

দর্শকদের উদ্দেশে সালমান বলেন, কোনো সিনেমা ভালো না লাগলে বা অভিনয় পছন্দ না হলে দর্শকের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। এতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে সেই সমালোচনা যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি ও অনলাইন গালাগালিতে পরিণত হয়, তখনই সমস্যা তৈরি হয়।

তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, সিনেমার টিকিট কিনে দেখার অর্থ এই নয় যে পর্দার পেছনে থাকা শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করার অধিকারও পাওয়া গেল।

কালের আলো/এসএ

অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা আইজিপির, ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা আইজিপির, ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার!

পুলিশ কঠোর হলে সমালোচনা, নিষ্ক্রিয় থাকলেও প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের এই বাস্তবতা তুলে ধরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটির দাবি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান বোঝাতে নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের বার্তা দিতেই ‘রূপক’ অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন আইজিপি।

  • পুলিশের ওপর ১০ মাসে ১৭৬ হামলা, নিহত ৪ সদস্য
  • দায়িত্ব পালন ও আত্মরক্ষার প্রসঙ্গ সামনে আনল সদর দপ্তর

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইজিপি। সেখানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে আখ্যা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। আইজিপির ভাষ্য, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’

বক্তব্যটি সামনে আসার পর এদিন রাতে পুলিশ সদর দপ্তর এক ব্যাখ্যায় জানায়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের অঙ্গীকার তুলে ধরতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়া কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পুলিশের ওপর হামলার পরিসংখ্যান
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন।

পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।

সদর দপ্তরের বক্তব্যে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন পুলিশের দায়িত্ব পালন ও আত্মরক্ষার অধিকারের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সমুন্নত রাখা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত
পুলিশের ব্যাখ্যায় অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি মানবাধিকার সমুন্নত রাখা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ।

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না; অসাবধানতাবশত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইজিপির বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যাখ্যায় দুটি বিষয় সামনে এসেছে—অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন, মানবাধিকার ও পেশাদারত্বের গুরুত্ব। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও জরুরি।

কালের আলো/এমডিএইচ/এএএন

নিরাপদ আকাশের লক্ষ্যে ঢাকায় বিশ্বসম্মিলন, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ-সমন্বয়ে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
নিরাপদ আকাশের লক্ষ্যে ঢাকায় বিশ্বসম্মিলন, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ-সমন্বয়ে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

বিমান চলাচলে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি তৈরি করছে নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভবিষ্যৎ উপযোগী, কার্যকর ও টেকসই ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা সেমিনার। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত দলগত কার্যক্রমের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সেমিনারের উদ্বোধন করা হয়। সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। আগামী ২৮ অক্টোবর সেমিনারটি শেষ হবে।

  • ২০ দেশের বিমান বাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুরু তিন দিনের ফ্লাইট সেফটি সেমিনার
  • প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে দক্ষ জনবল, উন্নত প্রশিক্ষণ ও দলগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব;
  • অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। সেমিনারে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্লাইট সেফটির সংস্কৃতি গড়ে তোলা, উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ আকাশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই বছরের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য—‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং দলগত কাজ: ভবিষ্যৎ-উপযোগী সুরক্ষামূলক মানসিকতা তৈরি করা’। প্রতিপাদ্যটি শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং মানবসম্পদ, দক্ষতা, নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করার পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।’ তিনি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রমকে ফ্লাইট সেফটি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আধুনিক বিমান চলাচলে শুধু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়; সেই প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান বাহিনী প্রধান ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সেমিনার অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রযুক্তির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দক্ষতাও
আধুনিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, মানবিক দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার পারস্পরিক সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উন্নত প্রযুক্তি ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করলেও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নির্ভর করে প্রশিক্ষিত জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর।

এ কারণে সেমিনারে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে আলোচনা বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল দুর্ঘটনা-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরছেন। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে এসব আলোচনা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

এই সেমিনারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা এ সেমিনারে যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)-এর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণও এবারের আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক।

বিভিন্ন দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এ সেমিনারকে অভিজ্ঞতা বিনিময়, নিরাপত্তা চর্চার তুলনামূলক পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরছে।

সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়ে অংশগ্রহণ
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রশাসনিক, গবেষণা ও বিমান পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এ ছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। অন্যান্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এ অংশগ্রহণ বিমান চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক বিষয়গুলোকে একই আলোচনার পরিসরে নিয়ে এসেছে। বিমান পরিচালনা, আবহাওয়া, জরুরি সাড়া প্রদান, সীমান্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করা নিরাপত্তাব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন
সেমিনারের বিভিন্ন অধিবেশনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি চর্চা, উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময় চলছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাঁদের প্রবন্ধ ও আলোচনায় প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, মানবিক উপাদান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত দলগত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রযুক্তির সঙ্গে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, হিউম্যান ফ্যাক্টর এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সমন্বয় অপরিহার্য। একই সঙ্গে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই সেমিনারে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিমান চলাচলের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

দায়রা আদালতেও জামিন পেলেন না মেজর আখতারুজ্জামান

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
দায়রা আদালতেও জামিন পেলেন না মেজর আখতারুজ্জামান

সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে করা মামলায় তাঁর জামিন চাওয়া হয়েছিল।

২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ আদেশ দেন। এর ফলে এ মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পেলেন না তিনি। আদালতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তাঁর পক্ষে দায়রা আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেখানেও জামিন মেলেনি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করা হলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে তাঁর আইনজীবীরা দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়া নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হুমকি-ধমকিতে গড়ায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। জামিন আবেদন নামঞ্জুরের মধ্য দিয়ে মামলাটিতে তাঁর মুক্তির আবেদন আপাতত নাকচ হলো।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি