খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

মেরিন ড্রাইভে রেইস প্রতিযোগিতায় বৈচিত্র্যময় রূপে সাইক্লিস্টরা, দ্যুতি ছড়ানো তারুণ্যের ভূমিকা প্রজ্জ্বলিত করলেন সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মেরিন ড্রাইভে রেইস প্রতিযোগিতায় বৈচিত্র্যময় রূপে সাইক্লিস্টরা, দ্যুতি ছড়ানো তারুণ্যের ভূমিকা প্রজ্জ্বলিত করলেন সেনাপ্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

পাহাড় আর সাগরের গভীর মিতালীর অপূর্ব এক দৃশ্য। সড়কের একপাশে উঁচু পাহাড়ে সবুজের হাতছানি। অন্যপাশে যেন আছড়ে পড়ছে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ। এই দুয়ের বুক চিরে মাঝখানে নদীর মতো গেছে বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়ক। ভোরের আলো ফুটার সঙ্গে সঙ্গেই মাঝখানে দীর্ঘ সড়ক ধরে সাইকেল নিয়ে ছুটছেন কয়েক শ মানুষ। কে কার আগে যাবে এ নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা।

অদম্য মনোবল, সাহসিকতা, শারীরিক সক্ষমতা আর অপরিমেয় মানসিক দৃঢ়তায় কঠিন এক সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে একীভূত দেশ-বিদেশের ৪০০ সাইক্লিস্ট। সাগর তীর আর পাহাড়ের পাদদেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনিন্দ্য সুন্দর এমনই এক আয়োজনের দেখা মিললো ‘মেরিন ড্রাইভ রেস ২০২৫’ ঘিরে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কটিতে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিশ্বব্যাপী উপস্থাপনের দৃঢ় প্রত্যয়ে দেশপ্রেমের প্রজ্জ্বলিত শিখার আলোয় গোটা দেশকে উজ্জীবিত করা সাইক্লিস্টদের অননুমেয় উচ্ছ্বাস আর হৃদয় পরিপ্লুত আবেগে বরণ করেন স্বয়ং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের ইনানীতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মেরিন ড্রাইভ রেইস-২০২৫ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিজয়ী সাইক্লিস্টদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্মের দ্যুতি ছড়ানো ভূমিকাকে প্রজ্জ্বলিত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের তরুণ প্রজন্ম একটি সুস্থ জাতি ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন এবং সর্বস্তরে সুস্থতার চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে ‘রাইড ফর গ্লোরি’ এই বার্তাকে ধারণ করতে হবে।’

তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিদেশিদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। দেশব্যাপী এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেনাপ্রধান বলেন, ‘কক্সবাজারে সাইক্লিংয়ের জন্য মেরিন ড্রাইভ রয়েছে। এটা এতো ব্যস্ত থাকে না। সকাল বেলা শুরু করে প্রতিযোগিতা শেষ করেছেন। এই মেরিন ড্রাইভে এই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’ এ সময় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর পয়েন্ট; ভোর ৫টা থেকে জড়ো হতে থাকে দেশি-বিদেশি সাইক্লিস্টসরা। সকালে ঠিক ৬টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে বেলুন উড়িয়ে প্রথমবারের মেরিন ড্রাইভ রেইসের উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। এরপর শুরু হয় প্রতিযোগিতা। সাইকেল নিয়ে ছুটতে থাকেন সাইক্লিস্টসরা। মেরিন ড্রাইভে প্রতিযোগীদের যেন অবিরাম ছুটে চলা; সবারই লক্ষ্যে জয়ী হওয়া।

দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের মনোমুগ্ধকর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে ১১০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে চেষ্টায় অবতীর্ণ ৪০০ প্রতিযোগীর। কেউ এই প্রথম সাইকেল রেইসে অংশ নিয়েছেন আবার কেউ কেউ সাইকেল রেইসটা শখের বশে করছেন। তবে প্রতিযোগীদের প্রত্যেকের কণ্ঠেই উচ্চারিত হয়েছে একই কথা। সেটি হচ্ছে মেরিন ড্রাইভে এমন আয়োজন অনন্য ও অসাধারণ।

আয়োজক সূত্র জানায়, পেশাদার ক্যাটাগরির সাইক্লিস্টরা দরিয়ানগরের প্যারাসেইলিং পয়েন্ট থেকে শুরু করে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট হয়ে বে-ওয়াচ হোটেলের সম্মুখে এসে সাইক্লিং শেষ করেন। পেশাদার গ্রুপের ফিনিশিং টাইম ছিল মাত্র ৩ ঘণ্টা। আবার অপেশাদার ক্যাটাগরির প্রতিযোগীরা প্যারাসেইলিং পয়েন্ট থেকে হোটেল বে-ওয়াচ, বালিয়াখালী কাঁকড়া বিচ হয়ে আবার হোটেল বে-ওয়াচে সম্মুখে এসে শেষ করেন সাইক্লিং। তাঁদের ফিনিশিং টাইম ছিল সাকুল্যে আড়াই ঘণ্টা।

এই প্রতিযোগিতায় প্রফেশনাল (১৩ থেকে ৪৪ বছর) ১১০ কিলোমিটার গ্রুপে নারী ও পুরুষদের মধ্যে সেরা বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন কর্পোরাল ফাতেমা খাতুন (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) ও মিজানুর রহমান। এ্যামেচার (১৩ থেকে ৪৪ বছর) ৫৫ কিলোমিটার গ্রুপে নারী ও পুরুষদের মধ্যে সেরা বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন লরা (ব্রাজিল) ও সৈয়দ মুবিন। এছাড়াও, নারী-পুরুষ উভয় ক্যাটাগরির (১৩-৪৪ বছর বয়সী) প্রথম ১০ জনকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সার্বিক সহায়তা করেন।

অনুভূতির কথা জানিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা তানহা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সাইক্লিংয়ের কালচারটা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিন্তু এটা ধরে রাখতে হলে রেইসিংয়ের দিকে ফোকাস করতে হবে। বিশেষ করে, নারীদের। এই প্রতিযোগিতায় আমি প্রথম হয়েছি, ৫৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছি ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে। পাহাড়-সমুদ্রের মাঝে এই আয়োজন ছিল সত্যিই অসাধারণ।’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিদেশি প্রতিযোগী লরা বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত এমন একটি পরিবেশে সাইক্লিং প্রতিযোগিতা অংশ নিতে পেরে। কক্সবাজার খুবই সুন্দর। আমি খুবই আনন্দিত।’

শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের কর্পোরেট নাইট আয়োজন
দেশের শীর্ষস্থায়ী বেসরকারি ব্যাংক ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের বেওয়াচ হোটেলে একটি কর্পোরেট নাইট আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এর চেয়ারম্যান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আইএসপিআর জানায়, এই সমাবেশে শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, ব্যবসায়িক মতবিনিময় এবং সহযোগিতার জন্য নতুন উপায় অন্বেষণ করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

ইউরোপে যখন অভিবাসননীতি নিয়ে কড়াকড়ি চলছে তখন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিলো স্পেন। প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে এই উদ্যোগকে ন্যায়ের পদক্ষেপ বলছে স্পেন সরকার।

এদিকে স্পেনের এমন সিদ্ধান্তের পর বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।

যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসাআর/এএএন