খুঁজুন
                               
, ,
           

এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের, ভবিষ্যতে আরও উদ্দীপনামূলক ও সমৃদ্ধ ইনভেনশিয়াস’র প্রত্যাশা এমআইএসটি কমান্ড্যান্ট’র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের, ভবিষ্যতে আরও উদ্দীপনামূলক ও সমৃদ্ধ ইনভেনশিয়াস’র প্রত্যাশা এমআইএসটি কমান্ড্যান্ট’র

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বিশ্ব এখন এগোচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে। এই বিপ্লবের মূলে আছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি)। টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেটের ব্যবহার এই বিপ্লবের অনন্য নিয়ামক। বাংলাদেশেও আইসিটি প্রসার দ্রুত হচ্ছে। জীবনযাত্রায় যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি দেশকে একটি বিশ্বমানের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন সম্ভাবনা জাগানিয়া মুহুর্তে দেশের মোট ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে রীতিমতো এক চমক তৈরি করেছে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী জাতীয় প্রযুক্তি উৎসব। যার নামকরণ করা হয়েছিল- ‘ইনভেনশিয়াস ৪.১’। চোখে স্বপ্ন আর প্রাণে প্রাণে উচ্ছ্বাসে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ও প্রেরণা নিয়েই উৎসব থেকে বাড়ি ফেরেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (০৮ মার্চ) উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমআইএসটি’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ মনে করেন, ‘উদ্ভাবন ও নেতৃত্বই একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে নতুন কিছু আবিষ্কার ও পরিবর্তনকে গ্রহণ করার মানসিকতার ওপর।’ স্বভাবতই তথ্যপ্রযুক্তি অগ্রগতির ধারবাহক। তথ্যপ্রযুক্তির পালাবদলের ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যারা সেরা প্রস্তুতি নিতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে। এগিয়ে যাবে অগ্রগতির নতুন সোপানের দিকে। নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে উদ্যমী তারুণ্য। তাদের স্বাভাবিক প্রাণশক্তি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং নতুনত্বের প্রতি, প্রাণশক্তির বাধাহীন প্রকাশের প্রতি, পরিবর্তনের প্রতি সহজাত সমর্থন ও নিষ্ঠার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। মেধাবীরা বিশেষজ্ঞদের সান্নিধ্যে এসে এমন অনন্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হাতে কলমে জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রযাত্রায় এমআইএসটি’র এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির বড় হাতিয়ারের ভূমিকা পালন করবে এমন অভিমত বিশ্লেষকদের।

এমআইএসটি ইনোভেশন ক্লাবের (এমআইসি) উদ্যোগে এবং গবেষণা ও উন্নয়ন শাখা’র তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই উৎসবের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। দু’দিনের এই আয়োজন তাদের মাঝে ভবিষ্যতের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার স্বাক্ষর রেখেছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এক আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকার জন্য এসব দক্ষ তরুণ জনশক্তি নিজ নিজ প্রতিভা ও হাতের নাগালে থাকা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের সদ্ব্যবহার করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।

কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান কমান্ড্যান্ট’র
দেশের ইতিহাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এমআইএসটি’র শিক্ষার্থী শহীদ ইয়ামিন ও শহীদ রাকিব। তাঁরা তরুণ প্রজন্মের সংগ্রামের প্রতীক। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তি সমাজে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে তাঁরা যেন সম্ভাবনাময় এই ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ তাঁর বক্তব্যে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দু’মেধাবী মুখ শহীদ ইয়ামিন ও রাকিবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তরুণদের প্রতি তাঁদের আদর্শ ও আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বিচারক, আয়োজক, স্পন্সর ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই উৎসবকে স্বার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এমআইএসটি’র গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইনভেনশিয়াস আরও উদ্দীপনামূলক ও সমৃদ্ধ হবে। এই আয়োজন শুধু তরুণ উদ্ভাবকদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং গবেষণা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সংস্কৃতি গড়ে তুলে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, যা বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

অংশগ্রহণকারীদের অসাধারণ সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কৌশলগত চিন্তাধারার ঐকান্তিক প্রয়াস
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, উৎসবে চারটি প্রধান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হচ্ছে- হ্যাকাথন, লিড দ্য ফিউচার, ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং প্রকল্প প্রদর্শনী। এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা অসাধারণ সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কৌশলগত চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘আইইউটি’ আর রানারআপ হয় ‘বিএআইইউএসটি’। লিড দ্য ফিউচার প্রতিযোগিতায় ‘এনএসইউ’ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ‘এমআইএসটি’ রানারআপ হয়। ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন প্রতিযোগিতায় ‘মো. রোহান, ইউআইইউ’ শীর্ষস্থান অধিকার করে। আর ‘নুফসাত ফারুকী, আইইউটি’ রানারআপ হয়। প্রকল্প প্রদর্শনীতে ‘আইইউটি’ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ‘এমআইএসটি’ রানারআপ হয়েছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইআরআইআইসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন ও এটুআই প্রকল্পের ‘ডিভাইস ইনোভেশন এক্সপার্ট’ তৌফিকুর রহমান। তাঁরা প্রযুক্তির উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এ ছাড়া তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে পর্যটকসহ ১৪০০ এর বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা কমে আসছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে বন্যার তোড়ে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীর একটি অংশ আটকে গিয়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পানির উচ্চতা বেশি বেড়ে গেলে ভাটির দিকে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে আশেপাশের বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু নেপালেই নয়, তিব্বতেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে বাঁধ দিয়ে অবরুদ্ধ একটি হ্রদে আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ থাকতে পারে। এতে করে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলার সহায়তা বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর পৃথক অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য ও দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনিমেল মেডিসিন, খাবার, শ্যাম্পু, মেহেদি, চা পাতা ও জিরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধীন সিন্দুরখান বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সীমান্ত পিলার ১৯৪৬-এম থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গান্ধীছড়া চা-বাগান এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় এনিমেল মেডিসিন, খাবার ও শ্যাম্পুসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

অন্য একটি অভিযানে নির্দিষ্ট একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্য পায় বিজিবি। এর ভিত্তিতে বিজিবির একটি আভিযানিক দল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অবস্থান নেয়।

এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তল্লাশি করে মাছের খাবারের বস্তার মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চা পাতা, কাবেরী মেহেদি ও জিরা পাওয়া যায়। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্য ও যানবাহন কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব এতদিন অনেকটা এককভাবেই পালন করে এসেছে পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি এই ভূমিকায় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারও।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা-সংলাপ চালিয়ে যেতে আর আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত-বিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

তবে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন. “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযান থেকে সূত্রপাত হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস পেরিয়েছে যুদ্ধের। এতদিন মার্কিন এবং ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযান-পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় দু’টি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে, আবার সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযানও পরিচালনা করেছে।

তবে ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে দেশটির অর্থনীতির ওপর সীমাহীন চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এমন পরিস্থিতিতেই তেহরান সফর করলেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র কাতারের প্রধামন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলরহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার চার দিন পর তেহরানে পৌঁছে দেশটির শীর্ষ আলোচক এবং ক্ষমতসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং সে বৈঠকে ইরানকে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আল-থানির এ আহ্বানের উত্তরে ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান ফের কূটনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে।

আল-থানি এবং ঘালিবাফের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও ছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রনালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়— তাহলে ইরানের হরমুজ বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই তা শুরু করতে হবে।

আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা পরিচালনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ