খুঁজুন
                               
, ,
           

ঐক্যের দৃঢ় বন্ধনে আরও সুসংহত সশস্ত্র বাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
ঐক্যের দৃঢ় বন্ধনে আরও সুসংহত সশস্ত্র বাহিনী

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য নতুন এক সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন এক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জমিনে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দৃশ্যমান অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। যদিও নানা বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। অভ্যুত্থানের অংশীদারদের মধ্যে বিভক্তিও স্পষ্ট। গত ৮ মাসে নানা ওলটপালটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ। জাতির স্বার্থে, মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। জুলাই আন্দোলনের মতো সবাই এক থাকলে দেশের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটগুলো থেকে উত্তরণ সম্ভব।

ডিসেম্বর থেকে জুন টাইমলাইন ধরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে অন্য উপদেষ্টাদের মুখেও এমনই কথা উঠে আসছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঐক্য, সংহতি, গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের পক্ষে একাধিকবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশের সঙ্কটময় মুহুর্তে ছাত্র-জনতার পক্ষে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বিভিন্ন সময়ে তিনি এসব ইস্যুতে কথা বলেছেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব ও মর্যাদার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশবাসী ও বিশ্ববিবেক জাতির দুর্দিনে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। গত মাসে বাংলাদেশ সফরকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি যেভাবে সেনাবাহিনী সামলেছে, সে বিষয়েও সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে প্রতিনিয়ত। সেনাবাহিনীর বহুমাত্রিক পদক্ষেপে এক সময়কার নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন বেশ স্বাভাবিক। নিজেদের উচ্চকিত মানবিক মূল্যবোধে সহানুভূতিশীলতাপূর্ণ সামাজিক সম্প্রীতি গড়তে সহমর্মিতার মাধ্যমে দায়িত্ব-কর্তব্যের মেলবন্ধনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় নিজেরাও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ থেকেছে। অসীম ধৈর্য্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে একদিন-প্রতিদিন। দেশের জনগণের জানমাল রক্ষায় কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবেই। শান্তি ও সম্প্রীতির সম্মিলনে দৃঢ়, সাহসী ও কুশলী নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে জনজীবনে শান্তি-স্বস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে অগ্রগতির মিছিলে দেশকে শামিল করতেও সক্ষম হয়েছেন সেনাপ্রধান।

দেশের চরাঞ্চলসহ ৬২টি জেলায় সেনাসদস্যরা ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত দুই হাজার ৪৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আর ৫ আগস্টের পর থেকে এই পর্যন্ত মোট সাত হাজার ৮২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিদেশি কূটনীতিক, ব্যক্তি ও দূতাবাসগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেনাসদর মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনী সততা, ন্যায়-নীতির সঙ্গে, প্রত্যয় ও সহনশীলতার সঙ্গে দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করছে, ভবিষ্যতেও করবে।

সমুদ্র উপকূলীয় দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছে ‘সুনীলের অতন্দ্র প্রহরী’ বাংলাদেশ নৌবাহিনী। নিয়মিতই অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ এই প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অবিচল নিষ্ঠা-আন্তরিকতায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একাত্ম করেছেন নিজেদের।

পতিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়লেও স্বমিহমায় টিকে রয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী নিজেদের সম্মিলিত প্রয়াসে গত বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান সফলে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে। আত্মীয়তাকে প্রাধান্য না দিয়ে ‘সবার ওপরে দেশ’ এই নীতি প্রতিপালনের মাধ্যমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানকে স্বার্থক উপসংহারে পৌঁছে দিতে আদিগন্ত সূর্যের মতোই সত্যের কাঠিন্যে হয়েছিলেন অত্যুজ্জ্বল। যার বহি:প্রকাশ শুভ্র, সুন্দর, প্রীতি-উজ্জ্বল নতুন জীবনের জয়ধ্বনি। আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে সব রকমের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গভীর দৃষ্টি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশকে শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নির্দেশেই তিনি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। হিমালয়সম বাধা ডিঙিয়ে দেশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে সঠিকভাবে প্রতিটি বিষয় সমন্বয়, তদারক ও নেতৃত্ব দিয়েছেন, দিচ্ছেন।

নিজেদের কর্মগুণের মধ্যে দিয়েই বারবার প্রমাণ করেছেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজেও বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে যে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেনাবাহিনী কাজ করছে, সেটি দেশ ও জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।’ কঠিন সব বাধার প্রাচীর ডিঙিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও একাত্মতায় অনির্বাণ বাংলায় তিনি গেঁথেছেন সেই মর্মস্পর্শী সুর-‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি’। দেশের আপামর জনসাধারণের সঙ্গে ঐক্য, মৈত্রী, সামাজিক সংহতি ও শান্তি-সম্প্রীতির দীপ্তিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন পরতে পরতে। নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের নিশ্বাস-প্রশ্বাস, বুদ্ধি-বোধে-মর্মে-কর্মে আর হৃদয়ানুভূতিতে উচ্চারিত মূলমন্ত্রই ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’।

দিন কয়েক আগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে ‘সম্প্রীতি ভবনের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘আমরা শান্তির দেশ চাই, শৃঙ্খলার দেশ চাই। আমরা এখানে হানাহানি, বিদ্বেষ চাই না।’ তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন মত থাকতে পারে। অবশেষে আমরা সবাই সবাইকে যেন শ্রদ্ধা করি। একে অপরের বক্তব্য, মতামতকে যেন শ্রদ্ধা করি। আমাদের নিজস্ব মতামত থাকবে, সেই অনুযায়ী আমরা অবশ্যই কাজ করব। কিন্তু আমাদের একে অপরের প্রতি যাতে শ্রদ্ধাবোধ থাকে, সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখা জরুরি।’

বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও মানচিত্র অক্ষুণ্ন রাখতে অপরিহার্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ও আলোকোজ্জ্বল ইতিহাস বহমান নদীর মতো। আমাদের সাহস আর অস্তিত্বের উৎসও সশস্ত্র বাহিনী। দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সঙ্কটে সশস্ত্র বাহিনী কখনও পথ হারায়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য রয়েছে। দেশের এই সঙ্কটময় মুহুর্তে সশস্ত্র বাহিনীর নিজেদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করছেন। সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোথাও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। কারও বাকস্বাধীনতার ওপরও হস্তক্ষেপ করেনি।

কিন্তু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে কুৎসিত, হিংস্র, ভয়ঙ্কর, সর্বৈব ও আগ্রাসী মিথ্যাচার চলছে। অপতথ্যের তাণ্ডব চালাচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম। ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী আগ্রাসন মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সব অপপ্রচার রুখে দিতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা রক্ষায় প্রত্যেক সচেতন নাগরিককে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীকে সব বিতর্কের উর্ধ্বে রাখতে হবে। কোনভাবেই তাদের প্রতিপক্ষ ভাবা যাবে না, প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। কোন রকম চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

গত মাসে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে (অফিসার্স অ্যাড্রেস) সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নানা ধরনের অপপ্রচার, গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেন। ঢাকার বাইরের সেনা কর্মকর্তারা অনলাইন মাধ্যমে ওই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মকর্তা ও সৈনিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ দেশ সব সময় স্মরণ করবে। তিনি সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর বিষয়ে সতর্ক করেন। সেনাপ্রধান বলেন, এমন কিছু করা যাবে না, যাতে উসকানিদাতাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়। এ প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি পেশাদার বাহিনী। সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে সরকার জানে, জনগণও জানে। অনেকে নানা ভুল তথ্য, অপতথ্য নানাভাবে ছড়াচ্ছে, এতে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। পরিস্থিতি সামলাতে হবে ধৈর্যের সঙ্গে। সেনাবাহিনীর কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেশ ও দেশের জনগণ।’

স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে জড়িয়ে চটুল গল্পে নিষ্কলুষ জীবনে কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টা থামেনি এখনও। কথা বলার জিহ্বাকে সম্বরণ করতে পারছে না অনেকেই। একবার ভেবে দেখুন-দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে জনআস্থায় চিড় ধরালে আখেরে ক্ষতি হবে দেশের ও দেশের মানুষের। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে এই সশস্ত্র বাহিনীই জনগণের বুকে গুলি চালাতে অপারগতা প্রকাশের পরই অভ্যুত্থান স্বার্থক ও কাক্সিক্ষত সাফল্যের বন্দরে নোঙর করেছে। এখন সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করতে পারে।

দেশের ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের গৌরবের স্মারক সশস্ত্র বাহিনী সততা, পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও প্রশ্নাতীত আন্তরিকতার সঙ্গে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন নজির স্থাপন করেছে। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদারের ক্ষেত্রে রেখে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রতিহত করতে এককাট্টা। সঙ্কটকালের কাণ্ডারিদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। অনাকাক্সিক্ষত, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত বিতর্কের মাধ্যমে তাদের মনোবল নষ্ট করা যাবে না। বর্তমানে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমাণ্ড অত্যন্ত শক্তিশালী। বৈশ্বিক পরিসরেও তাঁরা মানবিক বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর।

কোন অপপ্রচার তাদের অটল মনোবলকে দুর্বল করতে পারবে না। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, অটুট ও অবিচল রয়েছেন। এজন্য তাদের বিষয়ে কথা বলার সময় আমাদের আবেগের বশবর্তী না হয়ে বিবেককে প্রাধান্য দিতে হবে। আবেগতাড়িত মানুষ অহংকারি, অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিণামদর্শী হয়ে ওঠে। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর ইমেজ, মেধা, পরিশ্রম ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপপ্রয়াসকে প্রতিহত করতে হবে। এই দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেককেই নিতে হবে। চরম সঙ্কটময় এই সময়ে এটিই আমাদের প্রত্যেকের সর্বোত্তম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আসুন, আমরা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সামাজিক সংহতি, পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান নিশ্চিত করি। শান্তিকামী দেশবাসীরও প্রত্যাশা আর কোন হানাহানি বা বিদ্বেষ নয়। পারস্পরিক গঠনমূলক আলাপ-আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগকে সফল করি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। দেশের সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতি ও কল্যাণ-সমৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের দিক থেকে জাতীয় মতৈক্য ও পারস্পরিক সমঝোতার পথ প্রশস্ত করি। সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীকে অযাচিতভাবে আক্রমণ না করি। দেশের সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে অস্তিত্ব ও মর্যাদার এই প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকি।

কালের আলো/এমএএএমকে

আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এ ছাড়া তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে পর্যটকসহ ১৪০০ এর বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা কমে আসছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে বন্যার তোড়ে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীর একটি অংশ আটকে গিয়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পানির উচ্চতা বেশি বেড়ে গেলে ভাটির দিকে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে আশেপাশের বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু নেপালেই নয়, তিব্বতেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে বাঁধ দিয়ে অবরুদ্ধ একটি হ্রদে আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ থাকতে পারে। এতে করে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলার সহায়তা বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর পৃথক অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য ও দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনিমেল মেডিসিন, খাবার, শ্যাম্পু, মেহেদি, চা পাতা ও জিরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধীন সিন্দুরখান বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সীমান্ত পিলার ১৯৪৬-এম থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গান্ধীছড়া চা-বাগান এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় এনিমেল মেডিসিন, খাবার ও শ্যাম্পুসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

অন্য একটি অভিযানে নির্দিষ্ট একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্য পায় বিজিবি। এর ভিত্তিতে বিজিবির একটি আভিযানিক দল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অবস্থান নেয়।

এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তল্লাশি করে মাছের খাবারের বস্তার মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চা পাতা, কাবেরী মেহেদি ও জিরা পাওয়া যায়। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্য ও যানবাহন কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব এতদিন অনেকটা এককভাবেই পালন করে এসেছে পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি এই ভূমিকায় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারও।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা-সংলাপ চালিয়ে যেতে আর আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত-বিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

তবে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন. “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযান থেকে সূত্রপাত হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস পেরিয়েছে যুদ্ধের। এতদিন মার্কিন এবং ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযান-পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় দু’টি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে, আবার সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযানও পরিচালনা করেছে।

তবে ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে দেশটির অর্থনীতির ওপর সীমাহীন চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এমন পরিস্থিতিতেই তেহরান সফর করলেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র কাতারের প্রধামন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলরহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার চার দিন পর তেহরানে পৌঁছে দেশটির শীর্ষ আলোচক এবং ক্ষমতসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং সে বৈঠকে ইরানকে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আল-থানির এ আহ্বানের উত্তরে ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান ফের কূটনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে।

আল-থানি এবং ঘালিবাফের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও ছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রনালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়— তাহলে ইরানের হরমুজ বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই তা শুরু করতে হবে।

আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা পরিচালনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ