খুঁজুন
                               
, ,
           

আকাশ সেনাদের শক্তিমত্তায় চোখ ধাঁধানো মহড়া, আরও আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
আকাশ সেনাদের শক্তিমত্তায় চোখ ধাঁধানো মহড়া, আরও আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

কালের আলো রিপোর্ট:

ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের আকাশে তখন নানা বিমানের ওড়াওড়ি। সুনীল অন্তরীক্ষে ছড়িয়ে দিচ্ছে লাল-সবুজের রঙ। তাঁর বিভায় রঙিন দিগন্ত। সফল ফ্লাইপাস্টের নিখুঁত পরিকল্পনা, লক্ষ্য আর সমন্বয়ে নিজেদেরকে যেন আরও শানিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং। ছিল যুদ্ধ বিমানগুলোর নানা কসরত প্রদর্শন। যেখানে রণকৌশল প্রদর্শন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দক্ষ বৈমানিকরা। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান মিগ ২৯ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিমানগুলোর চোখ ধাঁধানো এক মহড়া। না, সত্যিকারের কোন যুদ্ধ নয়। চলতি বছরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়’ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশের সমন্বয়ে একটি চূড়ান্ত সমন্বিত মহড়া (লাইভেক্স) এর বাস্তবিক চিত্রপট ছিল এমনই।

সামরিক প্রস্তুতি থেকে শুরু করে কৌশলগত দক্ষতা ও আন্ত:বাহিনীর সমন্বয়ের বহি:প্রকাশ ঘটানো কী ছিল না মহড়াটির অনবদ্য আয়োজনে? দৃষ্টি জুড়িয়ে যায় অন্যরকম কিছু অবলোকনে। বিভিন্ন চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধ বিমান, সুপরিসর পরিবহন বিমান, আধুনিক হেলিকপ্টার, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল, বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইউনিট বুধবার (৩০ এপ্রিল) অংশ নেয় মহড়াটিতে। শত্রু এলাকায় অবতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম, যুদ্ধের প্রশিক্ষণ আর যান্ত্রিক দক্ষতার উপস্থাপন ছিল নয়নাভিরাম মহড়ার অন্যতম আকর্ষণ। সর্বোচ্চ সক্ষমতার মাধ্যমে মাতৃভূমিকে রক্ষায় সদা জাগ্রত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুতি উপভোগ- হৃদয়ের গভীর কোণের সুপ্ত ভালোলাগা দিয়ে অনুভব করেই কীনা মহড়া শেষে বিমান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি দূর থেকেই দেখতাম সব সময়। যারা এর সঙ্গে জড়িত দৈনন্দিনভাবে তাদের সঙ্গে নিয়ে দেখার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত হলাম।’

এই মহড়া কেবলই একটি সাময়িক অনুশীলনই নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিমান বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার পরিচয় বহন করে।’ তিনি বক্তব্যে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত উৎকর্ষের জন্য মহড়ায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুশীলন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতি এবং অর্পিত দায়িত্ববোধের বাস্তব রূপায়ণ।’ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি না রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় বিমান বাহিনীকে আধুনিক হিসেবে গড়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান তাঁর পাশেই বসেছিলেন।

সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে অনুশীলনেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিমান বাহিনীর
সূত্র জানায়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে সব সময়ই নিজেদের অনুশীলনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষার কাণ্ডারি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। প্রতি বছরই তাঁরা বার্ষিক মহড়ার মাধ্যমে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতার বিষয়টি জানান দেয়। এবারও ‘আকাশ বিজয়-২০২৫’ নামের চলতি বছরের বার্ষিক মহড়াটি শুরু হয় গত বুধবার (২৩ এপ্রিল)। বিমান বাহিনীর সব প্রধান ঘাঁটিসহ সিলেট, লালমনিরহাট, শমশেরনগর, বগুড়া, বরিশাল, রসুলপুর ও সুধারামে অবস্থিত বিভিন্ন স্টেশন ও ইউনিটসমূহ থেকে সারা দেশে ওইদিন থেকে মহড়া পরিচালিত হয়।

  • বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি না রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
  • আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে
  • সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে অনুশীলনেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিমান বাহিনীর
  • ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দেশ রক্ষায় সতর্ক বিমান বাহিনী

গত রবিবার (২৭ এপ্রিল) বার্ষিক এই মহড়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি ঢাকায় এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি), এয়ার ডিফেন্স অপারেশন সেন্টার (এডিওসি), বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার, বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার, চট্টগ্রামে বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক ও যশোরে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে বিভিন্ন প্রকার বিমানের মহড়া সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন অপারেশনাল ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম অবলোকন করেন। বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর বীর উত্তম এ কে খন্দকার ঘাঁটিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস এর পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়ে এই মহড়া শেষ হয়। মহড়ায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন। এর আগে মহড়া পরিদর্শন করতে ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারে প্রধান উপদেষ্টা এসে পৌঁছলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাকে স্বাগত জানান। পরে ড.ইউনূসকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি না রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
বিমান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিমান বাহিনীর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ জনগণ যারা দেশের অধিকারের প্রশ্নে জীবন ও রক্ত দিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তাদের স্মরণ করছি।’ দেশের বিমান বন্দরসমূহের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিমানবাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদও জানান তিনি।

নিজেকে যুদ্ধবিরোধী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পৃথিবীতে যুদ্ধ হোক এটি আমরা কামনা করি না। যুদ্ধ প্রস্তুতি অনেক সময় যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। কাজেই যুদ্ধের প্রস্তুতির সম্পর্কেও এটি গুরুতর আপত্তি। কিন্তু এমন বিশ্বের আমরা বাস করি প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি আমাদের ঘিরে থাকে। সেখানে প্রস্তুতি না নিয়ে থাকা এটি অসম্ভব ব্যাপার। এখন আমরা যখন কথা বলছি তখন আমাদেরই কাছের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হই হই অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সকালের খবরে দেখলাম হয়তো গুজব আজকেই শুরু হয়ে যাবে যুদ্ধ। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা বাস করি। কাজেই এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রস্তুতি না নেওয়াটা আত্মঘাতী। প্রস্তুতি নিতে হলে আধা-আধি প্রস্তুতির কোন জায়গা নেই। এটা এমন এক পরিস্থিতি জয়ীই একমাত্র অপশন। পরাজয় এখানে কোন অপশন হতে পারে না। কাজেই আমাদের প্রস্তুতি, সেই প্রস্তুতি কত উচ্চ পর্যায়ে আমরা নিতে পারি সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকতে হবে।’

আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে
দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিমান বাহিনীতে ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান, র‌্যাডার, সারফেস টু এয়ার মিসাইল, ইউএবি সংযোজনের জন্য সরকার বিমান বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।’ দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্ব আগামী দিনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার মূল ভিত্তি উল্লেখ করে ড.ইউনূস বিমান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি যুগোপযোগী ক্ষমতা ও দক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি অব্যাহত মনোযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা একটা নিরাপদ, উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তালমিলিয়ে চলার জন্য আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিতভাবে বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও অনুশীলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান দক্ষতাকে যুগোপযোগী করতে সদা সচেষ্ট রয়েছেন।’ প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’ বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি জাতির আস্থা ও ভালবাসা অটুট থাকুক-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দেশ রক্ষায় সতর্ক বিমান বাহিনী
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দেশ রক্ষায় সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও একাধিকবার আশাবাদী উচ্চারণে বলেছেন, ‘যুদ্ধ চায় না বাংলাদেশ। তবে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সক্ষমতা রয়েছে বিমান বাহিনীর।’ বার্ষিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসকে তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও অনুপ্রাণিত করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে একটি ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়’ এ দেশের আকাশ সীমানা রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন বৈমানিকরা। তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছে যেকোন পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষায় সদা প্রস্তুত। সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও অদম্য করে তুলতে সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টাও। নিজেদের বার্ষিক এই মহড়ার মাধ্যমে বিমান বাহিনী জানান দিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁরা এক চুলও ছাড় দিতে নারাজ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সংযোজন হবে বিমান বাহিনীতে। এর মাধ্যমে সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। আরও নিশ্চিদ্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছে বিমান বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কণ্ঠেও।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মহড়ার কার্যক্রমকে সময়োপযোগী এবং আরও অর্থবহ করতে বিমান বাহিনীর সম্পদসমূহকে দু’ভাগে ভাগ করে মহড়ার অনুশীলন পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে বিমান বাহিনী তাঁর কর্মদক্ষতা, যুদ্ধপ্রস্তুতি, অপারেশনাল সক্ষমতা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাশাপাশি এই মহড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যা আন্ত:বাহিনী সমন্বয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রতিরক্ষা সচিব আশরাফ উদ্দিন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোখলেস উর রহমান, বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। বিগত ১৮০ দিনে সরকারের নেওয়া ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট ) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআর এক বার্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবগত করার জন্য

​সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং কানাডার হাইকমিশনার পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

​আলোচনায় সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান, কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার ও সুসংহত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি