খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আকাশ সেনাদের শক্তিমত্তায় চোখ ধাঁধানো মহড়া, আরও আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
আকাশ সেনাদের শক্তিমত্তায় চোখ ধাঁধানো মহড়া, আরও আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

কালের আলো রিপোর্ট:

ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের আকাশে তখন নানা বিমানের ওড়াওড়ি। সুনীল অন্তরীক্ষে ছড়িয়ে দিচ্ছে লাল-সবুজের রঙ। তাঁর বিভায় রঙিন দিগন্ত। সফল ফ্লাইপাস্টের নিখুঁত পরিকল্পনা, লক্ষ্য আর সমন্বয়ে নিজেদেরকে যেন আরও শানিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং। ছিল যুদ্ধ বিমানগুলোর নানা কসরত প্রদর্শন। যেখানে রণকৌশল প্রদর্শন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দক্ষ বৈমানিকরা। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান মিগ ২৯ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিমানগুলোর চোখ ধাঁধানো এক মহড়া। না, সত্যিকারের কোন যুদ্ধ নয়। চলতি বছরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়’ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশের সমন্বয়ে একটি চূড়ান্ত সমন্বিত মহড়া (লাইভেক্স) এর বাস্তবিক চিত্রপট ছিল এমনই।

সামরিক প্রস্তুতি থেকে শুরু করে কৌশলগত দক্ষতা ও আন্ত:বাহিনীর সমন্বয়ের বহি:প্রকাশ ঘটানো কী ছিল না মহড়াটির অনবদ্য আয়োজনে? দৃষ্টি জুড়িয়ে যায় অন্যরকম কিছু অবলোকনে। বিভিন্ন চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধ বিমান, সুপরিসর পরিবহন বিমান, আধুনিক হেলিকপ্টার, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল, বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইউনিট বুধবার (৩০ এপ্রিল) অংশ নেয় মহড়াটিতে। শত্রু এলাকায় অবতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম, যুদ্ধের প্রশিক্ষণ আর যান্ত্রিক দক্ষতার উপস্থাপন ছিল নয়নাভিরাম মহড়ার অন্যতম আকর্ষণ। সর্বোচ্চ সক্ষমতার মাধ্যমে মাতৃভূমিকে রক্ষায় সদা জাগ্রত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুতি উপভোগ- হৃদয়ের গভীর কোণের সুপ্ত ভালোলাগা দিয়ে অনুভব করেই কীনা মহড়া শেষে বিমান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি দূর থেকেই দেখতাম সব সময়। যারা এর সঙ্গে জড়িত দৈনন্দিনভাবে তাদের সঙ্গে নিয়ে দেখার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত হলাম।’

এই মহড়া কেবলই একটি সাময়িক অনুশীলনই নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিমান বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার পরিচয় বহন করে।’ তিনি বক্তব্যে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত উৎকর্ষের জন্য মহড়ায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুশীলন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতি এবং অর্পিত দায়িত্ববোধের বাস্তব রূপায়ণ।’ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি না রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় বিমান বাহিনীকে আধুনিক হিসেবে গড়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান তাঁর পাশেই বসেছিলেন।

সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে অনুশীলনেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিমান বাহিনীর
সূত্র জানায়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে সব সময়ই নিজেদের অনুশীলনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষার কাণ্ডারি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। প্রতি বছরই তাঁরা বার্ষিক মহড়ার মাধ্যমে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতার বিষয়টি জানান দেয়। এবারও ‘আকাশ বিজয়-২০২৫’ নামের চলতি বছরের বার্ষিক মহড়াটি শুরু হয় গত বুধবার (২৩ এপ্রিল)। বিমান বাহিনীর সব প্রধান ঘাঁটিসহ সিলেট, লালমনিরহাট, শমশেরনগর, বগুড়া, বরিশাল, রসুলপুর ও সুধারামে অবস্থিত বিভিন্ন স্টেশন ও ইউনিটসমূহ থেকে সারা দেশে ওইদিন থেকে মহড়া পরিচালিত হয়।

  • বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি না রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
  • আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে
  • সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে অনুশীলনেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিমান বাহিনীর
  • ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দেশ রক্ষায় সতর্ক বিমান বাহিনী

গত রবিবার (২৭ এপ্রিল) বার্ষিক এই মহড়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি ঢাকায় এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি), এয়ার ডিফেন্স অপারেশন সেন্টার (এডিওসি), বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার, বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার, চট্টগ্রামে বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক ও যশোরে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে বিভিন্ন প্রকার বিমানের মহড়া সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন অপারেশনাল ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম অবলোকন করেন। বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর বীর উত্তম এ কে খন্দকার ঘাঁটিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস এর পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়ে এই মহড়া শেষ হয়। মহড়ায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন। এর আগে মহড়া পরিদর্শন করতে ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারে প্রধান উপদেষ্টা এসে পৌঁছলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাকে স্বাগত জানান। পরে ড.ইউনূসকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি না রাখা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
বিমান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিমান বাহিনীর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ জনগণ যারা দেশের অধিকারের প্রশ্নে জীবন ও রক্ত দিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তাদের স্মরণ করছি।’ দেশের বিমান বন্দরসমূহের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিমানবাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদও জানান তিনি।

নিজেকে যুদ্ধবিরোধী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পৃথিবীতে যুদ্ধ হোক এটি আমরা কামনা করি না। যুদ্ধ প্রস্তুতি অনেক সময় যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। কাজেই যুদ্ধের প্রস্তুতির সম্পর্কেও এটি গুরুতর আপত্তি। কিন্তু এমন বিশ্বের আমরা বাস করি প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি আমাদের ঘিরে থাকে। সেখানে প্রস্তুতি না নিয়ে থাকা এটি অসম্ভব ব্যাপার। এখন আমরা যখন কথা বলছি তখন আমাদেরই কাছের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হই হই অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সকালের খবরে দেখলাম হয়তো গুজব আজকেই শুরু হয়ে যাবে যুদ্ধ। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা বাস করি। কাজেই এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রস্তুতি না নেওয়াটা আত্মঘাতী। প্রস্তুতি নিতে হলে আধা-আধি প্রস্তুতির কোন জায়গা নেই। এটা এমন এক পরিস্থিতি জয়ীই একমাত্র অপশন। পরাজয় এখানে কোন অপশন হতে পারে না। কাজেই আমাদের প্রস্তুতি, সেই প্রস্তুতি কত উচ্চ পর্যায়ে আমরা নিতে পারি সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকতে হবে।’

আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে
দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিমান বাহিনীতে ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান, র‌্যাডার, সারফেস টু এয়ার মিসাইল, ইউএবি সংযোজনের জন্য সরকার বিমান বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।’ দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্ব আগামী দিনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার মূল ভিত্তি উল্লেখ করে ড.ইউনূস বিমান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি যুগোপযোগী ক্ষমতা ও দক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি অব্যাহত মনোযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা একটা নিরাপদ, উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তালমিলিয়ে চলার জন্য আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিতভাবে বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও অনুশীলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান দক্ষতাকে যুগোপযোগী করতে সদা সচেষ্ট রয়েছেন।’ প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’ বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি জাতির আস্থা ও ভালবাসা অটুট থাকুক-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দেশ রক্ষায় সতর্ক বিমান বাহিনী
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে দেশ রক্ষায় সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও একাধিকবার আশাবাদী উচ্চারণে বলেছেন, ‘যুদ্ধ চায় না বাংলাদেশ। তবে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সক্ষমতা রয়েছে বিমান বাহিনীর।’ বার্ষিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসকে তাঁর উপস্থিতির মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও অনুপ্রাণিত করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে একটি ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়’ এ দেশের আকাশ সীমানা রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন বৈমানিকরা। তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছে যেকোন পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষায় সদা প্রস্তুত। সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও অদম্য করে তুলতে সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টাও। নিজেদের বার্ষিক এই মহড়ার মাধ্যমে বিমান বাহিনী জানান দিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁরা এক চুলও ছাড় দিতে নারাজ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সংযোজন হবে বিমান বাহিনীতে। এর মাধ্যমে সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। আরও নিশ্চিদ্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছে বিমান বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কণ্ঠেও।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মহড়ার কার্যক্রমকে সময়োপযোগী এবং আরও অর্থবহ করতে বিমান বাহিনীর সম্পদসমূহকে দু’ভাগে ভাগ করে মহড়ার অনুশীলন পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে বিমান বাহিনী তাঁর কর্মদক্ষতা, যুদ্ধপ্রস্তুতি, অপারেশনাল সক্ষমতা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাশাপাশি এই মহড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যা আন্ত:বাহিনী সমন্বয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রতিরক্ষা সচিব আশরাফ উদ্দিন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোখলেস উর রহমান, বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি