খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রায় শুভ্র সুন্দরের বারতায় নাগরিকদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রায় শুভ্র সুন্দরের বারতায় নাগরিকদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা

কালের আলো রিপোর্ট:

গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে সবার চক্ষুশূল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ পুলিশ। সরকার পতনের পর জনরোষে থানাগুলো পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে। লুট হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। এরপর পুলিশে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর ‘যুদ্ধ’। ভেঙে পড়া মনোবল ফিরে পেতে কঠিন এক সংগ্রাম। বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর খোলনলচে বদলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অতীতের দুর্নাম ঘুচিয়ে বাহিনীটির জনআস্থা অর্জনে গভীর মনোযোগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল ফেরানো ও নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করে চলেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। কঠিন এই বাস্তবতার মধ্যেই ‘আমার পুলিশ আমার দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’-প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে চলতি বছরের পুলিশ সপ্তাহ।

প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপী আয়োজন থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার মাত্র তিনদিনেই শেষ হয়েছে সব আয়োজন। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার (০১ মে) প্রথমবারের মতো এই পুলিশ সপ্তাহে নাগরিকদের জন্য নতুন মাত্রার একটি আয়োজন করে বাংলাদেশ পুলিশ। এদিন দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘নাগরিক ভাবনায় জনতার পুলিশ : নিরাপত্তা ও আস্থার বন্ধন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভাটিকে ঘিরে ছিল স্বভাবতই উৎসবমুখর এক পরিবেশ। দুর্গম পথ পেরিয়ে যেন অপার সম্ভাবনায় স্বপ্নের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া। প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে শুভ্র সুন্দরের বারতায় নাগরিকদের প্রাণবন্ত এক মিলনমেলা। মৈত্রী ও সম্প্রীতির যেন এক উদার মিলনক্ষেত্র! ঠিক যেন বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রা। যেখানে দেশের বিশিষ্টজনরা বাংলাদেশ পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনতার পুলিশ হিসেবে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন।

নিজেদের পরিবর্তনে একাট্টা হওয়ার শপথে অনন্য মহিমাময় এই দিনটিতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, প্রথিতযশা চিন্তাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান, সাবেক আইজিপি মো. আব্দুল কাইয়ুম, সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিন কাশেম, বিশিষ্ট আইনজীবী মানজুর আল মতিন, সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরাজী, নির্মাতা ও পরিচালক আশফাক নিপুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ নতুন স্বপ্নে, নতুন সাহস ও অঙ্গীকারে ‘জনতার পুলিশ’ গড়তে প্রতিটি পুলিশ সদস্য নিজেদের আন্দোলিত করেছেন প্রবলভাবেই। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ বাহারুল আলম বিপিএম। সমাপনী বক্তব্য রাখেন নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সংক্রান্ত উপ-কমিটির সভাপতি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল। বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রার এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীর আকুন্ঠ সমর্থন আর পুলিশ-জনতার হৃদয় দিয়ে হৃদয় কেনার বার্তাও ধ্বনিত হয়েছে নিজেদের অবিনাশী চেতনার মর্মমূলে।

এই সংলাপ পুলিশ সপ্তাহের একটি নতুন সংযোজন ও নতুন ভাবনা
‘নাগরিক ভাবনায় জনতার পুলিশ : নিরাপত্তা ও আস্থার বন্ধন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আজকের এই সংলাপ পুলিশ সপ্তাহের একটি নতুন সংযোজন ও নতুন ভাবনা। মূলত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। পুলিশ নাগরিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, তাঁরা কেমন পুলিশ চান এসব বিষয় আরেকটু ভালোভাবে জানতে চাই আমরা। পুলিশ সম্পর্কে নাগরিক ভাষ্য ও নাগরিক প্রত্যাশা আমরা জানতে চাই। আমরা জানি, রবার্ট পিল ১৮২৯ সালে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করেন। এর আগের পুলিশী কার্যক্রম ব্রিটিশ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। পুলিশের কাছে নাগরিকদের কাছে স্বত:স্ফূর্ততা বা নাগরিক অংশীদারিত্ব ছিল না। নাগরিকদের আস্থা ছিল অনেক কম। অনেকেই মনে করতেন আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তিরা নিজেদের সুবিধার জন্য কাজ করে। পুলিশ একধরনের কর্তৃত্ববাদী আচরণে অভ্যস্ত ছিল ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা কমে গিয়েছিল। রবার্ট পিল এসব শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে একটি পেশাদার, নিয়মিত ও জনসেবামূলক পুলিশ বাহিনী গঠনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসেন। তাঁর ই ইলিয়ান প্রিন্সিপালস বলে পরিচিত নীতিগুলোর মধ্যে জোর দেওয়া হয় পুলিশ জনগণের মধ্যে থেকে জনগণের জন্য কাজ করবে।

  • পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনতার পুলিশ হিসেবে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত
  • এই সংলাপ পুলিশ সপ্তাহের একটি নতুন সংযোজন ও নতুন ভাবনা
  • পুলিশের সঙ্গে জনতার বিভক্তির গোড়ায় যেতে হবে
  • রাষ্ট্র যখন নিপীড়ক হয়ে ওঠে তখন পুলিশকে আর জনতার পুলিশ হয়ে উঠতে দেয় না
  • পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে
  • রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুলিশের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে
  • সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে
  • আমরা জনতার মুখোমুখি থাকবো না, পাশাপাশি থাকবো

আইজিপি নিজের বক্তব্যে আরও একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, ‘১৯৩০ সালে ভারতবর্ষে লবণ আইন ভঙ্গ করার প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ‘লবণ মার্চ’ হয়। আন্দোলন ছিল একেবারেই অহিংস। কিন্তু ইন্ডিয়ান পুলিশ সদস্যদের ছিল ভিন্ন ভূমিকা। তাদের দায়িত্ব ছিল এই অহিংস আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা। তৎকালীন দায়িত্বরত এক পুলিশ অফিসার তাঁর ডায়েরিতে লিখেন-‘আমি বেত্রাঘাত করেছি এমন মানুষের ওপরে যারা একটিবারও আমাদেরকে প্রতিরোধ করেনি। আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে। আমি আজ বুঝেছি শক্তি নয় নৈতিকতা বড় অস্ত্র।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে- অস্ত্র নয়, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের প্রকৃত শক্তি। পুলিশ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে থাকে, তবে তারা ‘ভয়ের প্রতীক’ নয়, বরং হয়ে ওঠে ‘ভরসার আশ্রয়’। আজকের এই দিনে আমরা সবার কাছে এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চাই।’

পুলিশের সঙ্গে জনতার বিভক্তির গোড়ায় যেতে হবে
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথিতযশা চিন্তাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘পুলিশের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। পুলিশের যে পজিশনে থাকার কথা ছিল সে পজিশনে নেই। পুলিশ যে আইনে চলে সেখানে পদে পদে সমস্যা আছে। এসব বিষয়ে মাঝেমধ্যে আলোচনা করা উচিত এবং খোলাখুলি আলোচনা হওয়া উচিত। পুলিশ শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ নয় পুলিশ সমাজের অংশ।’

দেশের প্রখ্যাত এই লেখক আরও বলেন, ‘পুলিশের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস আমার নেই। এটি নতুন ঘটনা বলা যায়। পুলিশ সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁরা প্রস্তাব করেছেন অলটারেনেটিভস ফর দ্য পুলিশ। কিন্তু আমি প্রত্যাশা করেছিলাম অলটারনেটিভ টু দ্য পুলিশ। পুলিশের মধ্যে কী ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কোন সমাজের জন্য আমি পুলিশের কাজের জন্য বলছি এবং যেসব সমাজে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিরাজ করে সেখানে পুলিশের কাজ কী?’

পুলিশের বলপ্রয়োগের কাজটি জনপ্রিয় নয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোন বিতর্ক করতে এখানে দাঁড়াইনি। আমাদের দেশে পুলিশ যে আইনে চলছে সেটি ঔপনিবেশিক আইন। আমাদের সংবিধান আছে আমরা সেই সংবিধান অনুযায়ী চলি না। ২০২৪ স্মরণে আপনারা এই অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান করছেন। কোন রাষ্ট্র জোরের ওপর টিকে থাকতে পারে না। জনসমর্থন যখন হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় তখন পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। পুলিশ কথার মধ্যে রাষ্ট্র কথাটি লুকিয়ে রয়েছে।’

ড.সলিমুল্লাহ আরও বলেন, ‘পুলিশ সমাজের অংশ। পুলিশের বিকল্প সিভিল সোসাইটি নয়। পুলিশের সঙ্গে জনতার বিভক্তির গোড়ায় যেতে হবে। এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে জনতার বিভক্তি। এই রাষ্ট্র জনগণের রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারছে না। গণতন্ত্র বলতে আমরা স্বভাবতই বুঝি ৫ বছরের পর নির্বাচন। মানুষকে চিন্তায় উদ্ধৃত না করে সত্যকে আলিঙ্গন করার সাহস না দিয়ে তাকে শুধু মঙ্গল আর সুন্দরের আবরণে আচ্ছন্ন করে রাখে এটি ফ্যাসিবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি।’

রাষ্ট্র যখন নিপীড়ক হয়ে ওঠে তখন পুলিশকে আর জনতার পুলিশ হয়ে উঠতে দেয় না
নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত হয়ে উঠবার জন্য প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই অর্থে পাকিস্তানিরা যখন প্রথম আক্রমণ এই রাজারবাগে পুলিশের ওপরই করেছিল। একটি সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের পরিস্কারভাবে অফিশিয়ালি যুদ্ধ শুরুর আগে তৎকালীন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ মানুষকে বলেছিল, পাকিস্তানকে তাড়িয়ে আমরা স্বাধীন দেশ তৈরি করবে। নতুন রাষ্ট্রের মূল নীতি হবে সমতাভিত্তিক সমাজ। যেখানে জাস্টিজ প্রতিষ্ঠিত হবে। নাগরিকের মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। কিন্তু রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে নিপীড়নমূলক বৈশিষ্ট্য নিয়ে। রাষ্ট্র যখন নিপীড়ক হয়ে ওঠে তখন পুলিশকে আর জনতার পুলিশ হয়ে উঠতে দেয় না।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশকে জনতার পুলিশ হতে হলে কতগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ন্যায় বা অন্যায় দেখার মত বুদ্ধিমত্তা থাকতে হবে।’

পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ফিরে যান প্রায় ৩৫ বছর আগের ঘটনাপ্রবাহে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা। পুলিশের সামনে কথা বলার অভিজ্ঞতা প্রথম। আমি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবাখাতে কাজ করি। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে যখন সফিপুরে আমরা কাজ করি তখন পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তা সহায়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কাছে কোন গাড়িই ছিল না। আমরা চারটি ফ্যাক্টরি তাদের টেম্পু ভাড়া করে দেই। ভাড়ার টাকাও কারখানাকে দিতে হতো। সেখান থেকে পুলিশের এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখি, আমরা শুনেছি রাস্তায় একজন ব্রিটিশ পুলিশকে দেখলে মানুষ সম্মান করে সালাম বা হ্যালো বলতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেটি নেই।’

পুলিশের আস্থা বাড়াতে পুলিশ সার্ভিসে কারা যান এই ব্যাপারে আরও মনোযোগী হওয়াসহ তিনটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাকে পুলিশে নিচ্ছেন, কীভাবে ট্রেনিং দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে কী সেবা দেওয়ার মনোযোগ তৈরি করতে পারছি? এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে সমতা। আমরা কী আইন সবার জন্য প্রয়োগ করি। বাংলাদেশে যারা ইনভেস্ট করে তারা বলে, বাংলাদেশে অনেক ল আছে কিন্তু অর্ডার নেই। আইনের সমান প্রয়োগ দেশে নেই। একজন পুলিশ অফিসার কী এটি প্রয়োগ করতে পারেন? তৃতীয় হচ্ছে শৃঙ্খলা। শিল্প পুলিশ এখন বাস্তবতা। এটি ছাড়া আমরা আমাদের কারখানা নিরাপদ রাখতে পারি না। শিল্প পুলিশও যখন আরেকজনের হাতিয়ার হয়ে যায় সেটি আমরা কীভাবে রোধ করবো? পুলিশকে সত্যি সত্যি স্বাধীনতা কি দিতে পারছি? আমরা আশা করবো এটি নিয়ে আপনারা কাজ করবেন। আপনারা যেন সমাজের জন্য কাজ করতে পারেন সেই জায়গাটি তৈরি করে দিতে হবে। তাঁরপর সেটি ধরে রাখার দায়িত্ব আপনাদের।’

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুলিশের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুলিশের অপব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানান সাজ্জাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তাহলে পুলিশের ইমেজ বাড়বে।’ অধ্যাপক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘পুলিশ যদি সত্যের পথে থাকে তাহলে ‘নতুন বাংলাদেশে’ তাদের আস্থার জায়গা হবে।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশকে অসহায় মানুষের মাঝে দাঁড়াতে হবে।’ ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের অন্যায় আদেশ পালন থেকে বিরত থাকার জন্য পুলিশ সদস্যদেরকে লড়াই করতে হবে।’

সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে
সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে বলে মন্তব্য করেন সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘এত বড় পরিবর্তন হয়ে একটা গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল। বাচ্চা ছেলেরা তারা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছে তারা নতুন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়। একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীনতার পর। কিন্তু সঠিকভাবে আমরা এগোতে পারিনি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই যে একটা সম্ভাবনার ধার উন্মোচিত হয়েছে। অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক স্বপ্ন এই স্বপ্ন যেন ব্যর্থ না হয়। সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত আমরা যা দেখলাম তা কল্পনা ও ধারণা করা যায় না। গণতন্ত্র থাকলে যে সুবিধা হয় সেটা হচ্ছে যে পাঁচ বছর পর আপনাকে ভোটারদের কাছে যেতে হবে এবং মেন্ডেট নিতে হবে আপনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন না। ২০০৯ সালের নির্বাচনে যে খুব নিখুঁত হয়েছে তা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব না। তার পরবর্তী তিনটা নির্বাচনে যা হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। যখন একচ্ছত্র ক্ষমতা এসে যায় তখন প্রশাসন ভেঙে পড়ে। এটা ভয় খুন-গুম ওর সন্ত্রাস দ্বারা সম্ভব হয়েছে। এ সময় শুধুমাত্র এক শ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তা না সব সেক্টরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা অতি উৎসাহিত হয়ে কাজ করেছে। যা হবার হয়েছে আমাদের আবার নতুন করে মানুষদেরকে সেবা দিতে হবে। সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে।’

পুলিশ সংস্কার কমিশনকে ব্যর্থ বলে মনে করেন সাবেক আইজিপি
সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা পুলিশ সংস্কার কমিশনকে ব্যর্থ উল্লেখ করে বলেন, ‘সংস্কার কমিশন পুলিশের বিষয়ে বলছে অনেক বিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা দরকার। পরীক্ষা-নিরীক্ষা যদি দরকার এই কথা বলা হয় তাহলে এই সংস্কার কমিশনের কি দরকার। এই পুলিশ কমিশন ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন নিয়ে কিছু বলে না কিন্তু গন্ডগোল ওইখানেও আছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা যদি না থাকে তাহলে পুলিশ কিভাবে কাজ করবে। যাদের সুবাদে আমরা আজকে কথা বলতে পারছি সেটা কতদিন বলতে পারব সেটার কোনো গ্যারান্টি নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর যদি সদিচ্ছা না থাকে তাহলে সম্ভব না। এই সমাজে বিষাক্ত একটা বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। এটা আমাদেরকে বুঝতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কিন্তু ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এটা বদলানো পুলিশের হাতে নাই। পুলিশের অনেক অফিসাররা দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। আমাকে একজন আইজিপি বলেছিলেন ঘুষ খাওয়ার থেকে শ্বশুরবাড়ি থাকা ভালো।’

আমরা জনতার মুখোমুখি থাকবো না, পাশাপাশি থাকবো
সমাপনী বক্তব্য রাখেন নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সংক্রান্ত উপ-কমিটির সভাপতি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল। তিনি বলেন, ‘আমরা জনতার মুখোমুখি থাকবো না, পাশাপাশি থাকবো। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যেতে চাই; জনগণের পুলিশ, সাধারণ মানুষের পুলিশ হতে চাই।’

স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই অতিরিক্ত আইজি আরও বলেন, ‘আজ থেকে ৬ থেকে ৭ মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি কিলারস ফোর্স হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছিল। আমাদের বিশেষ সহকারী স্যার এই শব্দটি আমাকে বলেছেন। আল্লাহর অশেষ কৃপায় সবার সমর্থন ও মাঠ পর্যায়ের সহকর্মীদের ঐকান্তিক প্রয়াসে উই টার্নড দি ফোর্স লাইক দিস। আজ আমরা সামনা সামনি বসতে পেরেছি। মুখোমুখি জায়গার থেকে আজকের সমাবেশের উদ্দেশ্যে ছিল আমরা পাশাপাশি থাকবো। আমরা যে জনতার কাতারের পুলিশ এই বার্তাটি দেওয়ার জন্য এই আয়োজন। আমরা সকল শ্রেণি-পেশাকে ধারন করার চেষ্টা করেছিলাম। সারা দেশে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, জুলাই-আগস্টের যে পুলিশ ছিল সেই পুলিশ থেকে আমরা নিজেরা পরিবর্তিত হয়েছি। আজ আমরা এমন একটি পুলিশ হয়েছি যে পুলিশ নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যেতে চাই। আমরা এদেশের সাধারণ জনগণের জন্য। বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রাকে নতুনভাবে সামনের দিকে উদযাপন করতে চাই।’

কালের আলো/এমএএএমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি