খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাবাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ধরা পড়লো শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ধরা পড়লো শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ

কালের আলো রিপোর্ট:

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম এবং তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। এই তালিকায় প্রথম নামই ছিল ঢাকার অপরাধ জগতের ত্রাস সুব্রত বাইনের। সেভেন স্টার গ্রুপের এই প্রধানের নামে ইন্টারপোলেও নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর সুব্রত ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় ঘাঁটি গাড়েন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুকৌশলে দেশে ফিরে আসেন। সুব্রত বাইনের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন তাঁরই শিষ্য আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ। গুরু-শিষ্য মিলে পরিচয় গোপন করে কুষ্টিয়ার সোনার বাংলা মসজিদ এলাকার একটি বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।

মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরের সোনার বাংলা রোডের সেই বাড়িতে তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাদেরই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি বিদেশি পিস্তল, ১০ টি ম্যাগজিন, ৫৩ রাউন্ড গুলি ও একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।

এদিন বিকেলে রাজধানীর বনানীর সেনাসদরে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামিউদ্দৌলা চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া ও হাতিরঝিল এলাকা থেকে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ও দুজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি আমাদের সেনাবাহিনীর দক্ষতা, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং জাতির প্রতি দায়িত্ববোধের একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, ‘ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া কুষ্টিয়া এবং ঢাকার হাতিরঝিলে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একটি ইউনিট, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সফলভাবে দুইজন শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং তাদের দুইজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।’

আইএসপিআর পরিচালক আরও বলেন, ‘এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও নাশকতা চালিয়ে আসছিল। সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সেভেন স্টার গ্রুপের মূল পরিকল্পনাকারী। এই অভিযান ছিল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনার ফসল। অভিযানটি কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও সংঘর্ষ ছাড়াই পরিচালিত হয়। যা আমাদের সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’ এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় ও সহায়তা করেছে সেনা সদর, সামরিক অপারেশন পরিদপ্তর, ৫৫ ডিভিশন, ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার বিগ্রেড, ৭১ মেকানাইজ বিগ্রেড ও এনএসআই।

মীর মহিউদ্দিনের তিনতলা বাড়িতেই থাকতেন সুব্রত বাইন ও মাসুদ
কুষ্টিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনার বাংলা মসজিদ সড়কের মীর মহিউদ্দিনের তিনতলা বাড়ি। একদিন আগেও বাড়িটি তেমন পরিচিত ছিল না। মঙ্গলবার (২৭ মে) সেনাসদস্যরা ভোরে চারটি গাড়ি নিয়ে অভিযান চালিয়ে ভবন ঘিরে ফেলেন এবং নিচতলা থেকে দুজনকে আটক করেন। তখনও কেউই জানতো না আটকৃত দু’জন দেশের অপরাধজগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ। দীর্ঘদিন ধরেই যাদের প্রভাব রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বহু বছর ধরে তাঁরা পালিয়ে থাকলেও দেশে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় ঘুরেফিরে আলোচনায় উঠে আসেন। অত:পর তিন ঘণ্টাব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মুখ না খুললেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে আসে আতঙ্ক ও চমকে ওঠার চিত্র। বাড়ির নিচতলায় প্রায় দেড় মাস ধরে ভাড়া থাকা দুজনের পরিচয় জানার পর এলাকায় ভয় ও উৎকণ্ঠার আবহ ছড়িয়ে পড়ে। সেই মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে নিচতলায় এক দাড়িওয়ালা অপরিচিত ব্যক্তিকে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। তিনি দিনে একবার শুধু খাওয়ার সময় বাইরে বের হতেন। অভিযানের সময় সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট দুটি কক্ষে বসিয়ে রাখেন এবং বারবার বলেন, ‘তোমাদের কোনো ভয় নেই।’

 

এক শিক্ষার্থী বলেন, সকাল ৮টার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাস আসে। তখন সেনাসদস্যরা একজন দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে এবং অন্য এক যুবককে হাত বেঁধে গাড়িতে তোলেন। অভিযান শেষে একজন সেনা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘এখন বললে ভয় পাবে। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে সব জানতে পারবে।’

যেভাবে উত্থান শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের
রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলাদা প্রভাব রয়েছে সেভেন স্টার গ্রুপের। এই ‘সেভেন স্টার’ বাহিনীর প্রধান ছিলেন সুব্রত বাইন। পুলিশের খাতায় তাঁর পুরো নাম ত্রিমাতি সুব্রত বাইন। বহুদিন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপিয়ে ভারতের কারাগারে কিছু দিন বন্দী ছিলেন। সুব্রত বাইনের আদি নিবাস বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার জোবারপাড় গ্রামে। তাঁর বাবা বিপুল বাইন ছিলেন একটি এনজিওর গাড়িচালক। মা কুমুলিনি আর তিন বোন মেরি, চেরি ও পরীকে নিয়ে ঢাকার মগবাজারের ভাড়া বাসায় থাকতেন। সুব্রত বাইন বড় সন্তান। ১৯৬৭ সালে জন্ম, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে।

বরিশালে অক্সফোর্ড মিশন স্কুল নামে খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করেন সুব্রত বাইন। সেখানে হোস্টেলে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। সেখানে ভালো না করায় তাঁকে ঢাকায় শেরেবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে এসএসসি। এরপর সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে সেখানকার এক নেতার সঙ্গে পরিচয়। কলেজে ভর্তি হওয়া আর হয়নি তাঁর। তখন থেকে বইয়ের বদলে হাতে ওঠে অস্ত্র।

খুব অল্প দিনেই মগবাজারে একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে ওঠে সুব্রতর নেতৃত্বে। ১৯৯৩ সালের দিকে মধুবাজার বাজারে সবজিবিক্রেতা খুন হলে পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ওঠে। এর কিছুদিন পর মগবাজারের বিশাল সেন্টার নির্মাণের সময় চাঁদাবাজি নিয়ে গোলাগুলি হয়। এরপরই সুব্রত বাইনের নাম গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়। সুব্রত বাইন পরে বিশাল সেন্টারের দোকান মালিক সমিতির নেতাও হন। সেই পরিচয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন।

১৯৯১-এর নির্বাচনে তিনি বিএনপির হয়ে মগবাজার এলাকায় কাজ করেন। এতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খুব কাছের লোক হয়ে যান। মগবাজারের মধুবাগ মাঠে একবার তাঁর জন্মদিনের উৎসবও হয়। ওই উৎসবে বিএনপির অনেক নেতা হাজির হওয়ার পর সুব্রত বাইন রাতারাতি ‘তারকা সন্ত্রাসী’ বনে যান। ওই সময় যুবলীগের লিয়াকত মগবাজার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। লিয়াকতের কবল থেকে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপিপন্থীরা সুব্রতকে সমর্থন দেন। এরপর ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ট্রিপল মার্ডারে নেতৃত্ব দেন সুব্রত। এ ছাড়া মগবাজারের রফিক, সিদ্ধেশ্বরীর খোকনসহ বেশ কয়েকজন তাঁর হাতে খুন হন। ওই সময় রমনা, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও মধুবাগ এলাকায় গোলাগুলি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অবস্থা এমন হয়েছিল যে হতাহতের খবর না পেলে পুলিশও ঘটনাস্থলে যেত না। এভাবে খুব অল্প সময়ে রাজধানীর দক্ষিণাংশের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে সুব্রত বাইনের হাতে। তাঁর বিরুদ্ধে সে সময় কমপক্ষে ৩০টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে আগারগাঁওয়ে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা মুরাদ খুনের ঘটনায় তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়।

১৯৯৭ সালে নয়াপল্টন এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের এসি আকরাম হোসেন গ্রেপ্তার করেন সুব্রত বাইনকে। বছর দেড়েক জেলে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে যান। সুব্রত জেলে থাকার সময় তাঁর স্ত্রী লুসি গ্রুপেরই এক সদস্যের প্রেমে পড়েন। জেল থেকে বেরিয়ে ঘটনা জানার পর সুব্রত নিজেই লুসিকে সেই যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেন। লুসির দুই সন্তান ছিল। পরে ১৯৯৯ সালে কুমিল্লায় বিউটি নামের এক নারীকে বিয়ে করেন সুব্রত। তবে বিয়ের কয়েক বছর পর বিউটিকে ডিভোর্স দেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম এবং তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। এই তালিকায় প্রথম নামই ছিল সুব্রত বাইনের। তাঁর নামে ইন্টারপোলেও নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর সুব্রত ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় ঘাঁটি গাড়েন। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার জামেলা নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে একটি মেয়ে আছে। ভারতে গিয়ে সেখানে জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যাবতীয় নথিপত্র তৈরি করেন সুব্রত। সুব্রতর ছোট বোন চেরির স্বামী অতুল জানান, সুব্রতর ভারতীয় নাগরিকত্বের সব কাগজপত্র আছে। এরপরও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর কলকাতা পুলিশ তাঁকে আটক করে। তবে বেশি দিন জেলে থাকতে হয়নি। জামিন পেয়ে দুবাই চলে যান। সেখান থেকে ফিরে কলকাতার এক চিত্রনায়িকার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। সেই ফোন কলের সূত্র ধরে ২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স তাঁকে ধাওয়া করে।

টাস্কফোর্সের তাড়া খেয়ে সুব্রত নেপালের সীমান্ত শহর কাঁকরভিটায় ঢুকে পড়েন এবং নেপালি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। প্রথমে তাঁকে পূর্ব নেপালের ভাদ্রপুর এবং পরে ঝুমকা কারাগারে নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর সেই কারাগারে ৭৭ ফুট লম্বা সুড়ঙ্গ কেটে পালিয়ে যান। আবার কলকাতায় আসার কয়েক দিন পর ২৭ নভেম্বর বউবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কলকাতার জেলেই ছিলেন।

কলকাতায় থাকার সময় সেখানে বসেই ঢাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন সুব্রত বাইন। সড়ক ও জনপথের বড় বড় ঠিকাদারি কাজ ভাগাভাগি করতেন। সেই চাঁদার টাকায় নদীয়ায় ৫০ বিঘা জমিসহ এক বাগানবাড়ি কেনেন। এ ছাড়া ঢাকা ও কলকাতার ব্যবসায়ীদের টাকা আদায়ের কাজটি তিনি করতেন। কলকাতার ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা ঢাকার কোনো ব্যবসায়ীর কাছে আটকে গেলে সুব্রতর লোকজন আদায় করে দিত।

পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের পরিবার আগে থাকত রাজধানীর মগবাজারে। পরে তাঁরা গাজীপুরের পুবাইল হারবাইদ নয়াপাড়ায় পাঁচ কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেন। এখন সেখানেই থাকেন সুব্রত বাইনের বাবা বিপুল বাইন ও মা কুমুলিনি বাইন। এক ভাই তিন বোনের মধ্যে সুব্রত সবার বড়। তিন বোন মেরি বাইন, চেরি সুপর্ণা বাইন ও সুপ্রভা পরির বিয়ে হয়েছে। চেরি ঢাকার এক হাসপাতালে আর পরি একটি ক্রিশ্চিয়ান সংস্থায় কাজ করেন।

মোল্লা মাসুদের ‘গুরু’ সুব্রত বাইন
ঢাকার অপরাধজগতের একসময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ছিলেন মোল্লা মাসুদের ‘গুরু’। সুব্রত বাইন অনেক আগেই ধর্ম পরিবর্তন করে ভারতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। অপরদিকে মাসুদও সরকারের ঘোষিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের একজন। এমন পরিস্থিতিতে সুব্রত বাইনের গ্রেফতারের পর পরই মাসুদের নাম নতুন করে আলোচনায় আসায় জল্পনা তৈরি হয়। মতিঝিল-গোপীবাগের ত্রাস হিসেবে একসময় পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত ৩০টিরও বেশি মামলা। এর মধ্যে রয়েছে-বিএনপি নেতা কামাল মজুমদারের ভাগনে মামুন হত্যা, পুরান ঢাকার ‘মুরগি মিলন’ হত্যাকাণ্ড, খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার এবং রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির অসংখ্য অভিযোগ। তিনি মূলত ঢাকার বড় ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন এবং সেই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পৌঁছে যেত। মগবাজারের একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এমনকি ঈদ মৌসুমে পশুর হাট পর্যন্ত তার নিয়ন্ত্রণে থাকত।

কালের আলো/এমএএএমকে

সরকারের ‘কোর টিমে’ তিন মন্ত্রীর দৃশ্যমানতা

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সরকারের ‘কোর টিমে’ তিন মন্ত্রীর দৃশ্যমানতা

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রী—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত করেছে সরকার। নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের ওপর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন মন্ত্রণালয়-বিভাগসহ যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগপ্রাপ্ত নেই, সেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি নির্ধারিত বিকল্প মন্ত্রীরা পরিচালনা করবেন।

রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের সংসদীয় দায়িত্বে ড.মঈন খান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদীয় কার্যাবলি পরিচালনার দায়িত্ব। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত হওয়ায় সংসদীয় কার্যক্রমে মঈন খানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার অনুপস্থিতিতে এ দায়িত্ব পালন করবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সালাহউদ্দিনের হাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। রাষ্ট্র পরিচালনার দিক থেকে এই চারটি ক্ষেত্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দায়িত্ব পাওয়া সরকারের অভ্যন্তরে সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

জাহিদের ভূমিকাও হচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতিতে বিকল্প দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক নীতির দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সংসদীয় ব্যবস্থাপনাতেও জাহিদের ভূমিকা থাকছে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি তার ওপর সরকারপ্রধান তারেক রহমানের গভীর আস্থার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বিকল্প দায়িত্বের তালিকায় তার অবস্থান তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারীদের একজন হিসেবে সামনে এনেছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস
এর আগে ২৪ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা ওই প্রজ্ঞাপন পরে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়।সেই তালিকার ধারাবাহিকতায় এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নতুনভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম যাতে থেমে না থাকে, সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করছে সরকার।

সরকারে তিন মন্ত্রীর অবস্থানের গুরুত্ব
সামগ্রিকভাবে নতুন দায়িত্ব বণ্টনকে শুধু প্রশাসনিক রুটিন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা, মন্ত্রিপরিষদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ ও ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের ভূমিকা নির্ধারণ সরকারের ভেতরে তাদের অবস্থানের গুরুত্বই তুলে ধরে।

ড. মঈন খান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বড় অংশের। আর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ওপর অর্পিত বিকল্প দায়িত্ব তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় কাঠামোর আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ নতুন দায়িত্ব বণ্টনে শুধু দায়িত্বের পরিধিই বাড়েনি; সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংসদীয় কার্যক্রমে এই তিন মন্ত্রীর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকর ভূমিকার পরিসরও আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে তাদের এই বর্ধিত দায়িত্ব সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বর ও এর জীবাণুবাহিত এডিস মশা প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জীবানু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাড়ি পরিদর্শন, সোর্স রিডাকশন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আগামীকাল থেকে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৫০০ সদস্যকে ২৪টি দলে ভাগ করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এসব দল ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস এবং নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানান ডিএনসিসির মুখপাত্র জাকির হোসেন।

তিনি জানান, জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরপরই ডিএনসিসির উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হবে।

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায়, করণীয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে নগরবাসীকে ধারণা দিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক উপকরণ প্রদর্শন করা হবে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিশেষ মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা, জমে থাকা পানির উৎস অপসারণ, সোর্স রিডাকশন এবং লার্ভা নিধনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশকনিধন কার্যক্রম নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ কারণে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ