খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সেনাবাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ধরা পড়লো শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ধরা পড়লো শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ

কালের আলো রিপোর্ট:

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম এবং তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। এই তালিকায় প্রথম নামই ছিল ঢাকার অপরাধ জগতের ত্রাস সুব্রত বাইনের। সেভেন স্টার গ্রুপের এই প্রধানের নামে ইন্টারপোলেও নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর সুব্রত ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় ঘাঁটি গাড়েন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুকৌশলে দেশে ফিরে আসেন। সুব্রত বাইনের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন তাঁরই শিষ্য আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ। গুরু-শিষ্য মিলে পরিচয় গোপন করে কুষ্টিয়ার সোনার বাংলা মসজিদ এলাকার একটি বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।

মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরের সোনার বাংলা রোডের সেই বাড়িতে তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাদেরই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি বিদেশি পিস্তল, ১০ টি ম্যাগজিন, ৫৩ রাউন্ড গুলি ও একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।

এদিন বিকেলে রাজধানীর বনানীর সেনাসদরে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামিউদ্দৌলা চৌধুরী বলেন, ‘কুষ্টিয়া ও হাতিরঝিল এলাকা থেকে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ও দুজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি আমাদের সেনাবাহিনীর দক্ষতা, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং জাতির প্রতি দায়িত্ববোধের একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, ‘ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া কুষ্টিয়া এবং ঢাকার হাতিরঝিলে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একটি ইউনিট, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সফলভাবে দুইজন শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং তাদের দুইজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।’

আইএসপিআর পরিচালক আরও বলেন, ‘এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও নাশকতা চালিয়ে আসছিল। সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সেভেন স্টার গ্রুপের মূল পরিকল্পনাকারী। এই অভিযান ছিল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনার ফসল। অভিযানটি কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও সংঘর্ষ ছাড়াই পরিচালিত হয়। যা আমাদের সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’ এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় ও সহায়তা করেছে সেনা সদর, সামরিক অপারেশন পরিদপ্তর, ৫৫ ডিভিশন, ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার বিগ্রেড, ৭১ মেকানাইজ বিগ্রেড ও এনএসআই।

মীর মহিউদ্দিনের তিনতলা বাড়িতেই থাকতেন সুব্রত বাইন ও মাসুদ
কুষ্টিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনার বাংলা মসজিদ সড়কের মীর মহিউদ্দিনের তিনতলা বাড়ি। একদিন আগেও বাড়িটি তেমন পরিচিত ছিল না। মঙ্গলবার (২৭ মে) সেনাসদস্যরা ভোরে চারটি গাড়ি নিয়ে অভিযান চালিয়ে ভবন ঘিরে ফেলেন এবং নিচতলা থেকে দুজনকে আটক করেন। তখনও কেউই জানতো না আটকৃত দু’জন দেশের অপরাধজগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ। দীর্ঘদিন ধরেই যাদের প্রভাব রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বহু বছর ধরে তাঁরা পালিয়ে থাকলেও দেশে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় ঘুরেফিরে আলোচনায় উঠে আসেন। অত:পর তিন ঘণ্টাব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মুখ না খুললেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে আসে আতঙ্ক ও চমকে ওঠার চিত্র। বাড়ির নিচতলায় প্রায় দেড় মাস ধরে ভাড়া থাকা দুজনের পরিচয় জানার পর এলাকায় ভয় ও উৎকণ্ঠার আবহ ছড়িয়ে পড়ে। সেই মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে নিচতলায় এক দাড়িওয়ালা অপরিচিত ব্যক্তিকে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। তিনি দিনে একবার শুধু খাওয়ার সময় বাইরে বের হতেন। অভিযানের সময় সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট দুটি কক্ষে বসিয়ে রাখেন এবং বারবার বলেন, ‘তোমাদের কোনো ভয় নেই।’

 

এক শিক্ষার্থী বলেন, সকাল ৮টার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাস আসে। তখন সেনাসদস্যরা একজন দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে এবং অন্য এক যুবককে হাত বেঁধে গাড়িতে তোলেন। অভিযান শেষে একজন সেনা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘এখন বললে ভয় পাবে। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে সব জানতে পারবে।’

যেভাবে উত্থান শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের
রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলাদা প্রভাব রয়েছে সেভেন স্টার গ্রুপের। এই ‘সেভেন স্টার’ বাহিনীর প্রধান ছিলেন সুব্রত বাইন। পুলিশের খাতায় তাঁর পুরো নাম ত্রিমাতি সুব্রত বাইন। বহুদিন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপিয়ে ভারতের কারাগারে কিছু দিন বন্দী ছিলেন। সুব্রত বাইনের আদি নিবাস বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার জোবারপাড় গ্রামে। তাঁর বাবা বিপুল বাইন ছিলেন একটি এনজিওর গাড়িচালক। মা কুমুলিনি আর তিন বোন মেরি, চেরি ও পরীকে নিয়ে ঢাকার মগবাজারের ভাড়া বাসায় থাকতেন। সুব্রত বাইন বড় সন্তান। ১৯৬৭ সালে জন্ম, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে।

বরিশালে অক্সফোর্ড মিশন স্কুল নামে খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করেন সুব্রত বাইন। সেখানে হোস্টেলে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। সেখানে ভালো না করায় তাঁকে ঢাকায় শেরেবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে এসএসসি। এরপর সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে সেখানকার এক নেতার সঙ্গে পরিচয়। কলেজে ভর্তি হওয়া আর হয়নি তাঁর। তখন থেকে বইয়ের বদলে হাতে ওঠে অস্ত্র।

খুব অল্প দিনেই মগবাজারে একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে ওঠে সুব্রতর নেতৃত্বে। ১৯৯৩ সালের দিকে মধুবাজার বাজারে সবজিবিক্রেতা খুন হলে পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ওঠে। এর কিছুদিন পর মগবাজারের বিশাল সেন্টার নির্মাণের সময় চাঁদাবাজি নিয়ে গোলাগুলি হয়। এরপরই সুব্রত বাইনের নাম গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়। সুব্রত বাইন পরে বিশাল সেন্টারের দোকান মালিক সমিতির নেতাও হন। সেই পরিচয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন।

১৯৯১-এর নির্বাচনে তিনি বিএনপির হয়ে মগবাজার এলাকায় কাজ করেন। এতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খুব কাছের লোক হয়ে যান। মগবাজারের মধুবাগ মাঠে একবার তাঁর জন্মদিনের উৎসবও হয়। ওই উৎসবে বিএনপির অনেক নেতা হাজির হওয়ার পর সুব্রত বাইন রাতারাতি ‘তারকা সন্ত্রাসী’ বনে যান। ওই সময় যুবলীগের লিয়াকত মগবাজার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। লিয়াকতের কবল থেকে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপিপন্থীরা সুব্রতকে সমর্থন দেন। এরপর ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ট্রিপল মার্ডারে নেতৃত্ব দেন সুব্রত। এ ছাড়া মগবাজারের রফিক, সিদ্ধেশ্বরীর খোকনসহ বেশ কয়েকজন তাঁর হাতে খুন হন। ওই সময় রমনা, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও মধুবাগ এলাকায় গোলাগুলি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অবস্থা এমন হয়েছিল যে হতাহতের খবর না পেলে পুলিশও ঘটনাস্থলে যেত না। এভাবে খুব অল্প সময়ে রাজধানীর দক্ষিণাংশের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে সুব্রত বাইনের হাতে। তাঁর বিরুদ্ধে সে সময় কমপক্ষে ৩০টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে আগারগাঁওয়ে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা মুরাদ খুনের ঘটনায় তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়।

১৯৯৭ সালে নয়াপল্টন এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের এসি আকরাম হোসেন গ্রেপ্তার করেন সুব্রত বাইনকে। বছর দেড়েক জেলে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে যান। সুব্রত জেলে থাকার সময় তাঁর স্ত্রী লুসি গ্রুপেরই এক সদস্যের প্রেমে পড়েন। জেল থেকে বেরিয়ে ঘটনা জানার পর সুব্রত নিজেই লুসিকে সেই যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেন। লুসির দুই সন্তান ছিল। পরে ১৯৯৯ সালে কুমিল্লায় বিউটি নামের এক নারীকে বিয়ে করেন সুব্রত। তবে বিয়ের কয়েক বছর পর বিউটিকে ডিভোর্স দেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম এবং তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। এই তালিকায় প্রথম নামই ছিল সুব্রত বাইনের। তাঁর নামে ইন্টারপোলেও নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর সুব্রত ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় ঘাঁটি গাড়েন। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার জামেলা নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে একটি মেয়ে আছে। ভারতে গিয়ে সেখানে জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যাবতীয় নথিপত্র তৈরি করেন সুব্রত। সুব্রতর ছোট বোন চেরির স্বামী অতুল জানান, সুব্রতর ভারতীয় নাগরিকত্বের সব কাগজপত্র আছে। এরপরও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর কলকাতা পুলিশ তাঁকে আটক করে। তবে বেশি দিন জেলে থাকতে হয়নি। জামিন পেয়ে দুবাই চলে যান। সেখান থেকে ফিরে কলকাতার এক চিত্রনায়িকার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। সেই ফোন কলের সূত্র ধরে ২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স তাঁকে ধাওয়া করে।

টাস্কফোর্সের তাড়া খেয়ে সুব্রত নেপালের সীমান্ত শহর কাঁকরভিটায় ঢুকে পড়েন এবং নেপালি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। প্রথমে তাঁকে পূর্ব নেপালের ভাদ্রপুর এবং পরে ঝুমকা কারাগারে নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর সেই কারাগারে ৭৭ ফুট লম্বা সুড়ঙ্গ কেটে পালিয়ে যান। আবার কলকাতায় আসার কয়েক দিন পর ২৭ নভেম্বর বউবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কলকাতার জেলেই ছিলেন।

কলকাতায় থাকার সময় সেখানে বসেই ঢাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন সুব্রত বাইন। সড়ক ও জনপথের বড় বড় ঠিকাদারি কাজ ভাগাভাগি করতেন। সেই চাঁদার টাকায় নদীয়ায় ৫০ বিঘা জমিসহ এক বাগানবাড়ি কেনেন। এ ছাড়া ঢাকা ও কলকাতার ব্যবসায়ীদের টাকা আদায়ের কাজটি তিনি করতেন। কলকাতার ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা ঢাকার কোনো ব্যবসায়ীর কাছে আটকে গেলে সুব্রতর লোকজন আদায় করে দিত।

পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের পরিবার আগে থাকত রাজধানীর মগবাজারে। পরে তাঁরা গাজীপুরের পুবাইল হারবাইদ নয়াপাড়ায় পাঁচ কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেন। এখন সেখানেই থাকেন সুব্রত বাইনের বাবা বিপুল বাইন ও মা কুমুলিনি বাইন। এক ভাই তিন বোনের মধ্যে সুব্রত সবার বড়। তিন বোন মেরি বাইন, চেরি সুপর্ণা বাইন ও সুপ্রভা পরির বিয়ে হয়েছে। চেরি ঢাকার এক হাসপাতালে আর পরি একটি ক্রিশ্চিয়ান সংস্থায় কাজ করেন।

মোল্লা মাসুদের ‘গুরু’ সুব্রত বাইন
ঢাকার অপরাধজগতের একসময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ছিলেন মোল্লা মাসুদের ‘গুরু’। সুব্রত বাইন অনেক আগেই ধর্ম পরিবর্তন করে ভারতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। অপরদিকে মাসুদও সরকারের ঘোষিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের একজন। এমন পরিস্থিতিতে সুব্রত বাইনের গ্রেফতারের পর পরই মাসুদের নাম নতুন করে আলোচনায় আসায় জল্পনা তৈরি হয়। মতিঝিল-গোপীবাগের ত্রাস হিসেবে একসময় পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত ৩০টিরও বেশি মামলা। এর মধ্যে রয়েছে-বিএনপি নেতা কামাল মজুমদারের ভাগনে মামুন হত্যা, পুরান ঢাকার ‘মুরগি মিলন’ হত্যাকাণ্ড, খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার এবং রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির অসংখ্য অভিযোগ। তিনি মূলত ঢাকার বড় ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন এবং সেই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পৌঁছে যেত। মগবাজারের একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এমনকি ঈদ মৌসুমে পশুর হাট পর্যন্ত তার নিয়ন্ত্রণে থাকত।

কালের আলো/এমএএএমকে

নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

পোস্টে বলা হয়, ঈদুল আজহার এই আনন্দময় দিনে আমাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের ভিত্তির ওপর বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হোক।

এর আগে সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি তিনি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের বরাতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

বার্তায় মোদি বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে ভারত আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলকামনা করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩৮ ডলার বা ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সেশনের শুরুতে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।

অন্যদিকে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৪ ডলার বা ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এরআগে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেে একটি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

তবে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি থাকার খবরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টা পর তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ‘হুমকি তৈরি করেছিল’ এমন চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যেখান থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জবাবে কুয়েতে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, বন্দর আব্বাসের বিমানবন্দরের কাছে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় ভোর ভোর ৪:৫০ মিনিটে কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি চালানো হয়।

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি বাহিনীটি আরও বলেছে, ‘এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি শত্রুর জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যাতে শত্রুরা বুঝতে পারে যে তাদের যেকোনো আগ্রাসন আর বিনা জবাবে থাকবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের পরবর্তী জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও সুনির্দিষ্ট হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে, যার ফলে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, ‘যতক্ষণ একটি চুক্তি হবে বলে আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম বাড়তেই থাকবে। এটি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেয় কীভাবে এই সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালিতে এক বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল আটকে আছে। যার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমে আসার প্রভাব চূড়ান্তভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে।’

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে গোলাপি আভাযুক্ত সাদা সেই মহিষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই প্রাণীটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সেই আগ্রহ থেকেই ঈদের দিন সকাল থেকে নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন চিড়িয়াখানায়।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার এল–৭ ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, অন্য প্রাণীর খাঁচার তুলনায় এই অংশে দর্শনার্থীদের ভিড় কয়েক গুণ বেশি। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছেন। অনেকেই শিশুদের কোলে নিয়ে মহিষটিকে দেখাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের কৌতূহল আর হাসি-আনন্দে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মিরপুর–৬ এলাকা থেকে আসা স্কুলশিক্ষার্থী তানভীর হোসেন জানায়, বন্ধুদের কাছ থেকে আগেই মহিষটির কথা শুনেছিল। নাম কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখা হয়েছে জানতে চাইলে সে হেসে বলে, চুলের স্টাইলটা নাকি ট্রাম্পের মতো।

মোহাম্মদপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষার্থী রাফি ইসলাম বলেন, ফেসবুকে এত ভাইরাল হওয়ার পর কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। তাই ঈদের ছুটিতে দেখতে এসেছেন। এখানে এসে দেখলেন, অনেক মানুষ শুধু এই মহিষটিকে দেখতেই ভিড় করেছেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আসা রুবিনা আক্তার বলেন, তাঁর ছোট ছেলে জোর করেই তাঁকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসেছে। কারণ, সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে মহিষটিকে দেখতে চেয়েছিল। বাসা থেকে ছেলেটি বলছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখতে যাবে। পরে বুঝেছেন, সেটি আসলে একটি মহিষ।

চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানান, মহিষটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক দিনের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যাতে খাঁচার খুব কাছে যেতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

চিড়িয়াখানার এক কর্মী বলেন, সকাল থেকে মানুষ এসে প্রথমেই জানতে চাইছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কোথায় রাখা হয়েছে। অনেকে অন্য প্রাণী না দেখে সরাসরি এই মহিষটির কাছেই চলে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহিষটির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। কেউ বলছেন, এর চুলের ধরন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো। কেউ আবার চোখ ও মুখের গড়নের সঙ্গে মিল খুঁজছেন। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করছেন।

জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটে প্রথম আলোচনায় আসে মহিষটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। পরে দেশীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বিদেশি কয়েকটি গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণীটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়তে থাকে।

মহিষটির মালিকের পরিবারের সদস্যরা জানান, শখ করেই এর নাম রাখা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত মাথার সামনের ঝুঁটি ও মুখের কিছু বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মিল খুঁজে পাওয়ায় এমন নাম দেওয়া হয়। পরে সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আলোচনার মধ্যেই মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সরকারি উদ্যোগে সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ প্রাণীটিকে কাছ থেকে দেখতে পারেন। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মহিষটিকে বিশেষ পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

ঈদের ছুটির আমেজের মধ্যেও চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন এই মহিষটিকে ঘিরেই। বিকেলের দিকে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়ও। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ শুধুই কৌতূহল থেকে ছুটে এসেছেন ভাইরাল সেই প্রাণীটিকে দেখতে।

দর্শনার্থীদের অনেকে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোনো প্রাণীকে সরাসরি দেখতে পারার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য ভিন্নরকম। অনেকের মতে, শিশুদের জন্যও এটি বাড়তি আনন্দের বিষয়। ঈদের আনন্দের মধ্যেই তাই রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নতুন আকর্ষণের নাম হয়ে উঠেছে সাদা সেই মহিষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন