খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৫২ নবীন কর্মকর্তা, দেশপ্রেমে সর্বোচ্চ গুরুত্বের বার্তা সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৫২ নবীন কর্মকর্তা, দেশপ্রেমে সর্বোচ্চ গুরুত্বের বার্তা সেনাপ্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

‘শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়’ তাঁরা। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকার প্রত্যয় সবার চোখে-মুখে। দীর্ঘ কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশ নেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবীন কর্মকর্তারা। রোববার (২২ জুন) বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমিতে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ। বাদ্যের তালে তালে দৃঢ়পায়ে এগিয়ে চলেন সুসজ্জিত নৌবাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের দল। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২২-বি ব্যাচের ৪৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৫-এ ব্যাচের ৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৫২ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। যেখানে রয়েছেন ৮ জন নারী ও ৪ জন বিদেশি কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারীদের হাতে তুলে দেন পদক। দেশের বিস্তীর্ণ জলসীমার অতদ্র প্রহরী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবীন নির্ভীক সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি সকলের জন্য আনন্দের দিন।  কারণ বিএনএতে দীর্ঘ তিন বছর প্রশিক্ষণ শেষে আজ তোমরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছ। এজন্য তোমাদেরকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা এই যে, নেতৃত্বের সর্বোচ্চ গুণাবলী যেমন:  সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম দ্বারা নৌবাহিনীর ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব তোমরা আন্তরিকতার সাথে পালন করবে।’

এই প্যারেডে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এজন্য তোমাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তোমাদের এই একাডেমি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তোমাদের এই বিল্ডিং এবং পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য এটাতে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি। নবীন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে ফোর্সের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও সংশ্লিষ্টদের জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারগণের গর্বিত মাতা পিতা ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

  • দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নবীন কর্মকর্তাদের
  • একটি দক্ষ ও আধুনিক নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য
  • যেকোন ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে
  • সার্বভৌমত্ব রক্ষা তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত 
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দ্বারস্থ হবে

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের জন্য কয়েকজন নবীন কর্মকর্তাকে পদক দেওয়া হয়। সব বিষয়ে সর্বোচ্চ নৈপুণ্যের জন্য মিডশিপম্যান মেহেদী হাসান মৃধা ‘সোর্ড অব অনার’, দ্বিতীয় সেরা হিসেবে মিডশিপম্যান মো. মেহেরাব হক তনি ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট রাজীব দত্ত ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। এ ছাড়া সুদানের মিডশিপম্যান আবোহোরিরা এলবাদাওয়ি আহমেদ এবদেলনাইম পান ‘বিএনএ আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক’।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নবীন কর্মকর্তাদের

কুচকাওয়াজ শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেন। তারা সুবিশাল সমুদ্র রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সন্তানদের এমন অর্জনে গর্বিত অভিভাবকরাও। অভিন্ন কণ্ঠে তাঁরা বলেন, ‘আমার সন্তান আজকে নেভাল অফিসার হয়েছে। গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে। প্রয়োজনে দেশের জন্য প্রাণ দেবে। দেশের নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে ভূমিকা রাখবে। আপসহীন থাকবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে।

একটি দক্ষ ও আধুনিক নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধা জানান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শাহাদাত বরণকারী বীর যোদ্ধাদের, যাদের সুমহান আত্মত্যাগ সব সময় প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ নৌবাহিনীর গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এই নৌবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরেই বর্তায়। এই লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের নেতৃত্বের শৃঙ্খলা, আনুগত্য, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে অবদান রেখে চলেছে।

যেকোন ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে

নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যেকোন ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে এবং যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তোমাদেরকে সাহসিকতার সাথে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তোমরা প্রতিনিয়ত নিজের সক্ষমতা বাড়াতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, রীতিনীতি, সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন পদ্ধতি মনেপ্রাণে সর্বদা গ্রহণ করবে এবং নিজেদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বদা প্রস্তুত রাখবে। মনে রাখবে তোমাদের ওপর অর্পিত হবে নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’

সার্বভৌমত্ব রক্ষা তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মূলমন্ত্র ‘শান্তিতে সংগ্রামী সমুদ্রে দুর্জয়’ এটাতে উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত এমনটিই মনে করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের জন্য নৌবাহিনী একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টায় আছি এই নৌবাহিনীকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করতে।

বিভিন্ন ধরনের জাহাজ, সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের সিলাইনআপ কমিউনিকেশন রক্ষা করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশ আমদানি-রপ্তানি নির্ভর একটি দেশ। এদেশের সিলাইনআপ কমিউনিকেশন রক্ষার দায়িত্ব তোমাদের। ইনশাআল্লাহ তোমরা তোমাদের চাকরি জীবনে প্রত্যক্ষ করবে নতুন নতুন সরঞ্জাম, জাহাজ ও সাবমেরিন এই নৌবাহিনীতে সংযোজিত হবে। তোমরা এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে ইনশাআল্লাহ।’

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দ্বারস্থ হবে

নৌবাহিনী একটি অত্যন্ত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান যেখানে শৃঙ্খলা প্রধান চালিকাশক্তি বলে মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘এখানে সকল বিষয় নির্ধারিত নিয়ম, প্রথা ও অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত হয়। যেকোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দ্বারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবে না, তোমাদের গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। মনে রাখবে আমাদের জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে তোমরা একজন আদর্শবান, মর্যাদাবান ও  উন্নত চরিত্রের নৌ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

নেপালের দুর্যোগ থেকে কীভাবে রক্ষা পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা মানসী পারেখ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
নেপালের দুর্যোগ থেকে কীভাবে রক্ষা পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা মানসী পারেখ

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা মানসী পারেখ। বর্তমানে তিনি নিরাপদে চীনে অবস্থান করছেন। সদগুরুর কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে সেখানে গেছেন তিনি।

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর এলাকায় সাম্প্রতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ২৭ আগস্ট যাওয়ার কথা ছিল মানসীর। তবে তার আগেই ওই এলাকা ছেড়ে চীনে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

নেপালের বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন মানসী। একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘কী খারাপ অবস্থা হয়েছে! বৃহস্পতিবার তো এখানেই থাকার কথা ছিল আমার। মাত্র কয়েক দিন আগেই এই জায়গায় আমি গিয়েছিলাম। সকলে এত ভালোভাবে আমাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, সেটা ভোলার নয়। এখন তো গোটা রাজ্যই পানির নিচে।’

অন্য এক পোস্টে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে মানসী লিখেছেন, ‘জীবন বড্ড অনিশ্চিত, কিন্তু যা ঘটেছে তা সত্যিই মন ভেঙে দিচ্ছে বারবার।’

নেপালে আটকে পড়া এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ঈশ্বরের কৃপায় তাঁরা চীনে নিরাপদে আছেন। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বন্যার মধ্যে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ইশা ফাউন্ডেশনও যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

নেপালের চলমান দুর্যোগে বেশ কয়েকজন ভারতীয় তারকাও আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। অন্যদিকে বাংলাদেশি অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসও নেপালে গিয়ে দুর্যোগের মধ্যে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, পাহাড়ধস ও আকস্মিক ঢলের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

কালের আলো/এসএ

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচার, স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে পিসিবির অভিযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচার, স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে পিসিবির অভিযোগ

লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচার করায় ব্রিটিশ ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকার প্রচারের প্রতিবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চের পর পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামানোর কথাও ভেবেছিল পিসিবি। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু করতে মাঠে নামে পাকিস্তান।

লাঞ্চ বিরতিতে প্রচারিত ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি নেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও স্কাই স্পোর্টসের সম্প্রচারক মাইকেল আথারটন। সাক্ষাৎকারে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁর দুই ছেলে। তাঁরা জানান, কারাগারে বাবার জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।

ইমরান খান প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাবার জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁর দুই ছেলে বিভিন্নভাবে সরব হয়েছেন।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, লাঞ্চের বিরতির আগে স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারটি নিয়ে আপত্তি জানায় পিসিবি। এরপর সম্প্রচারের সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস।

সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার সময় পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা দ্বিতীয় সেশনের জন্য মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে তাঁদের মাঠে নামার কথা ছিল এবং নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামে দলটি।

আথারটন বুধবার সকালে লর্ডসের রাইটার্স রুমে ইমরানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার নেন। টেস্ট শুরুর আগেই স্কাই স্পোর্টস সাক্ষাৎকারটির একটি টিজারও প্রচার করেছিল। তবে পাকিস্তানে সিরিজটির সম্প্রচারকারী পিটিভি সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তাঁকে সেখানে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ইমরানের পরিবার ও ছেলেদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাইকেল আথারটনসহ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কেরা।

এটি ছিল ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের দ্বিতীয় চিঠি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই বিষয়ে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন।

তবে ইমরানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের দাবি, ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে তাঁর পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকেরা তাঁর সঙ্গে ৯০০ বারের বেশি দেখা করেছেন।

১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

আজ শুরু নারী এশিয়া কাপ, কবে মাঠে নামছে বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
আজ শুরু নারী এশিয়া কাপ, কবে মাঠে নামছে বাংলাদেশ?

আট বছর পর আবারও নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আজ হংকং ও থাইল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের নারী এশিয়া কাপের দশম আসর।

বাংলাদেশের অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে কয়েক দিন পর। নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দলের প্রথম ম্যাচ ৩১ আগস্ট, প্রতিপক্ষ এশিয়া কাপে অভিষেক হতে যাওয়া ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপের অন্য দুই দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা এবং স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত। ‘এ’ গ্রুপে আছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত, পাকিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ড। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৩ সেপ্টেম্বর।

২০১৮ সালে কুয়ালালামপুরে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেটিই অন্যতম বড় সাফল্য।

তবে এরপরের দুই আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে ফিরতে চায় দলটি।

বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে অবশ্য ধাক্কা এসেছে ফারিহা ইসলামের চোটে। ঊরুর চোটে গত ২৫ আগস্ট এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যান বাঁহাতি এই পেসার। একই কারণে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমস থেকেও ছিটকে পড়েছেন তিনি।

ফারিহার বদলি হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন ১৭ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার ফারজানা ইয়াসমিন। এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি তাঁর।

নারী এশিয়া কাপের সবচেয়ে সফল দল ভারত। সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও অন্যতম ফেবারিট। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত নয়। ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।

এবারের আসরে নতুন দল হিসেবে এসেছে ইন্দোনেশিয়া। বাছাইপর্বে তৃতীয় হয়ে মূল টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

বাংলাদেশের ম্যাচ সূচি

  • ৩১ আগস্ট: বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া
  • ৬ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা
  • ৮ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত

বাংলাদেশের সব ম্যাচই হবে দুবাইয়ে, বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর দুই গ্রুপের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। সেখান থেকে জয়ী দুই দল খেলবে ১৩ সেপ্টেম্বরের ফাইনালে।

কালের আলো/এসএ