খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৫২ নবীন কর্মকর্তা, দেশপ্রেমে সর্বোচ্চ গুরুত্বের বার্তা সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৫২ নবীন কর্মকর্তা, দেশপ্রেমে সর্বোচ্চ গুরুত্বের বার্তা সেনাপ্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

‘শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়’ তাঁরা। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকার প্রত্যয় সবার চোখে-মুখে। দীর্ঘ কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশ নেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবীন কর্মকর্তারা। রোববার (২২ জুন) বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমিতে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ। বাদ্যের তালে তালে দৃঢ়পায়ে এগিয়ে চলেন সুসজ্জিত নৌবাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের দল। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২২-বি ব্যাচের ৪৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৫-এ ব্যাচের ৮ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৫২ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। যেখানে রয়েছেন ৮ জন নারী ও ৪ জন বিদেশি কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারীদের হাতে তুলে দেন পদক। দেশের বিস্তীর্ণ জলসীমার অতদ্র প্রহরী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবীন নির্ভীক সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি সকলের জন্য আনন্দের দিন।  কারণ বিএনএতে দীর্ঘ তিন বছর প্রশিক্ষণ শেষে আজ তোমরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছ। এজন্য তোমাদেরকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা এই যে, নেতৃত্বের সর্বোচ্চ গুণাবলী যেমন:  সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম দ্বারা নৌবাহিনীর ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব তোমরা আন্তরিকতার সাথে পালন করবে।’

এই প্যারেডে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এজন্য তোমাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তোমাদের এই একাডেমি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তোমাদের এই বিল্ডিং এবং পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য এটাতে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি। নবীন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে ফোর্সের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও সংশ্লিষ্টদের জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারগণের গর্বিত মাতা পিতা ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

  • দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নবীন কর্মকর্তাদের
  • একটি দক্ষ ও আধুনিক নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য
  • যেকোন ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে
  • সার্বভৌমত্ব রক্ষা তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত 
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দ্বারস্থ হবে

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের জন্য কয়েকজন নবীন কর্মকর্তাকে পদক দেওয়া হয়। সব বিষয়ে সর্বোচ্চ নৈপুণ্যের জন্য মিডশিপম্যান মেহেদী হাসান মৃধা ‘সোর্ড অব অনার’, দ্বিতীয় সেরা হিসেবে মিডশিপম্যান মো. মেহেরাব হক তনি ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট রাজীব দত্ত ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। এ ছাড়া সুদানের মিডশিপম্যান আবোহোরিরা এলবাদাওয়ি আহমেদ এবদেলনাইম পান ‘বিএনএ আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক’।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নবীন কর্মকর্তাদের

কুচকাওয়াজ শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেন। তারা সুবিশাল সমুদ্র রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সন্তানদের এমন অর্জনে গর্বিত অভিভাবকরাও। অভিন্ন কণ্ঠে তাঁরা বলেন, ‘আমার সন্তান আজকে নেভাল অফিসার হয়েছে। গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে। প্রয়োজনে দেশের জন্য প্রাণ দেবে। দেশের নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে ভূমিকা রাখবে। আপসহীন থাকবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে।

একটি দক্ষ ও আধুনিক নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধা জানান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শাহাদাত বরণকারী বীর যোদ্ধাদের, যাদের সুমহান আত্মত্যাগ সব সময় প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ নৌবাহিনীর গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এই নৌবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরেই বর্তায়। এই লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের নেতৃত্বের শৃঙ্খলা, আনুগত্য, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে অবদান রেখে চলেছে।

যেকোন ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে

নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যেকোন ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে এবং যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তোমাদেরকে সাহসিকতার সাথে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তোমরা প্রতিনিয়ত নিজের সক্ষমতা বাড়াতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, রীতিনীতি, সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন পদ্ধতি মনেপ্রাণে সর্বদা গ্রহণ করবে এবং নিজেদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বদা প্রস্তুত রাখবে। মনে রাখবে তোমাদের ওপর অর্পিত হবে নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’

সার্বভৌমত্ব রক্ষা তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মূলমন্ত্র ‘শান্তিতে সংগ্রামী সমুদ্রে দুর্জয়’ এটাতে উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত এমনটিই মনে করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের জন্য নৌবাহিনী একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টায় আছি এই নৌবাহিনীকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করতে।

বিভিন্ন ধরনের জাহাজ, সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের সিলাইনআপ কমিউনিকেশন রক্ষা করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশ আমদানি-রপ্তানি নির্ভর একটি দেশ। এদেশের সিলাইনআপ কমিউনিকেশন রক্ষার দায়িত্ব তোমাদের। ইনশাআল্লাহ তোমরা তোমাদের চাকরি জীবনে প্রত্যক্ষ করবে নতুন নতুন সরঞ্জাম, জাহাজ ও সাবমেরিন এই নৌবাহিনীতে সংযোজিত হবে। তোমরা এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে ইনশাআল্লাহ।’

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দ্বারস্থ হবে

নৌবাহিনী একটি অত্যন্ত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান যেখানে শৃঙ্খলা প্রধান চালিকাশক্তি বলে মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘এখানে সকল বিষয় নির্ধারিত নিয়ম, প্রথা ও অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত হয়। যেকোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দ্বারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবে না, তোমাদের গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। মনে রাখবে আমাদের জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে তোমরা একজন আদর্শবান, মর্যাদাবান ও  উন্নত চরিত্রের নৌ সদস্য হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

সরকারি ছুটির দিনে সরকারের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান একজন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, ব্যাংক, ঈদের জামাত ও ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রতিটি হাটে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতির পাশাপাশি সাব-কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন রাখা হয়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাল নোট চক্র, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে। অধিক পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি এসকর্ট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ঢাকার প্রবেশপথ যেমন গাবতলী, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পশুবাহী ট্রাক নির্ধারিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও যেন জোরপূর্বক নামানো না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের আগে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি জানান, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো যানজটমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পশুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যানজট এড়াতে হাটের সীমানার বাইরে রাস্তা বা ফুটপাতে পশু রাখতে না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক টার্মিনালে আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিল্যান্স টিমও মাঠে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের নজরে এলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন