খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

মাইলস্টোনের বিধ্বস্ত ভবনে ছিল স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী, সশস্ত্র বাহিনীর মানবিকতা ও পেশাদারত্ব’র প্রশংসা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
মাইলস্টোনের বিধ্বস্ত ভবনে ছিল স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী, সশস্ত্র বাহিনীর মানবিকতা ও পেশাদারত্ব’র প্রশংসা

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহতাব ভূঁইয়ার (১৪) পর চলে গেলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. মাহিয়াও (১৫)। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩১ জনে। আহতদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিতে ঢাকায় আসা ভারতীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন। চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পৌঁছান। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতির তথ্যমতে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন শিক্ষার্থী, দুজন শিক্ষক ও দুজন অভিভাবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এছাড়া তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন অভিভাবক এখনো নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময়, হতাহতসহ পুরো চিত্র তুলে ধরা মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিওয়ান যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়।

দুপুর ১টায় স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় তখন অভিভাবকদের জন্য শুধু স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী অপেক্ষারত অবস্থায় ছিল। এ সময়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ হতবিহ্বল, স্তব্ধ ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে মুহূর্তের মধ্যে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকাবাসী উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ ও র‌্যাবের প্রশিক্ষিত জনবল সম্মিলিতভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিবৃতির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ভয়াবহতা, আগুনের তীব্রতা আর হতাহতদের হৃদয়বিদারক চিত্রের মাঝেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অনন্য মানবিকতা ও পেশাদারত্ব সব পরিমণ্ডলেই প্রশংসিত হয়েছে।

মা-ছেলের বীভৎস মরদেহ গর্বের পোশাক খুলে ঢেকে দেন সেনা কর্মকর্তারা
বিমান বিধ্বস্তে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির সামনে এক মা ও এক ছেলে বীভৎস অবস্থায় পড়ে ছিল। শোকস্তব্ধ হৃদয়ে নিজেদের গর্বের পোশাক খুলে মরদেহ দু’টি ঢেকে দেন সেনা কর্মকর্তারা। সেনা সদস্যদের এই মানবিকতা প্রশংসা কুড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে সেনাবাহিনীর ৪৩ রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার মেজর মেহেদী এই বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর আমরা যখন ঘটনাস্থলে আছি, তখন দেখি বিমান বিধ্বস্তে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির সামনে এক মা ও এক ছেলে বীভৎস অবস্থায় পড়ে আছে। তখন আমাদের গর্বের পোশাক খুলে মরদেহগুলো ঢেকে দিই।’ মেজর মেহেদী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই আমরা প্রথম রেসপন্স টিম হিসেবে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করি। স্পটে প্রবেশের পর দুটি মরদেহ দেখতে পাই-সম্ভবত একজন মা ও তার ছেলে। দৃশ্যটি এতটাই হৃদয়বিদারক ছিল যে সঙ্গে সঙ্গে আমি ও আমার সহকারী সৈনিক আশিক আমাদের গর্বের ইউনিফর্ম খুলে মরদেহ দুটি ঢেকে দেই। আমাদের পোশাকের চেয়ে ওই মা-ছেলের মরদেহের সম্মান আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল।’

  • মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩১ জনে
  • বার্ন ইন্সটিটিউটে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সরা
  • মা-ছেলের বীভৎস মরদেহ গর্বের পোশাক খুলে ঢেকে দেন সেনা কর্মকর্তারা
  • পুড়ে অঙ্গার ৫ দেহ, ডিএনএ নমুনা দিলেন ১১ জন
  • বার্ন ও সিএমএইচে বিমানবাহিনীর সমন্বয় সেল গঠন

মেজর মেহেদী বলেন, ‘ঘটনার দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কারণ, বিধ্বস্তস্থলের একদম কাছেই আমাদের অস্থায়ী আর্মি ক্যাম্প ছিল।’ তিনি বলেন, ‘বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয় সেখানে প্রবল আগুন জ্বলছিল। সেই অবস্থায় আমরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পাই, একটি শ্রেণিকক্ষে আগুন জ্বলছে এবং তার সামনেই পড়ে আছে দুটি মরদেহ। ভয়াবহ আগুনের মধ্যেও আমরা ভেতরে প্রবেশ করি এবং উদ্ধারকাজ শুরু করি। আমাদের উদ্ধার তৎপরতায় হতাহত অনেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্টাফ ও অভিভাবকদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এখনো অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’

উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর পাশে মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও দাঁড়িয়েছিল জানিয়ে মেজর মেহেদী বলেন, ‘এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। তাদের সাহস ও সহযোগিতা আমাদের কাজকে আরও সহজ করেছে। আমরা কৃতজ্ঞ।’ সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘উদ্ধার অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর ২৫ জন সদস্য আহত হন, তবে গুরুতর কেউ নন। তারা বর্তমানে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের বের করতে ভবনের গ্রিল ভেঙে একটি স্লাইডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছিল। পরে আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রচার হওয়ায় বিষয়ে মেজর মেহেদী বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় যে যার মতো করে হতাহতদের উদ্ধার করেছিল। ফলে সঠিক সংখ্যা আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারবে মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো।’

মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষের বিবৃতি ‘ছুটির পর বিধ্বস্ত হয় বিমান’
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের স্কুল শাখার ১৯ জন শিক্ষার্থী, দুজন শিক্ষক, দুজন অভিভাবক মৃত্যুবরণ করেন। দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন ৫১ জন। তাদের মধ্যে ৪০ জন শিক্ষার্থী, ৭ জন শিক্ষক, একজন অভিভাবক, একজন আয়া ও একজন পিয়ন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন মোট ৫ জন। নিখোঁজদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন অভিভাবক।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় ২২ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ শুধু এ প্রতিষ্ঠানে নিহত, আহত ও নিখোঁজের তথ্য তুলে ধরছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য হালনাগাদকরণের কাজ চলমান। এ দুঃখজনক ঘটনায় হতাহতের সর্বমোট সংখ্যা তুলে ধরছে আইএসপিআর। হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি আমরা গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আহতদের চিকিৎসাসহ সকল প্রয়োজনে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ সবর্দা পাশে রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থী ও সন্তান হারানোর এ চরম শোকসন্তপ্ত অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টাবৃন্দ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট, অভিভাবক, এলাকাবাসীসহ পুরো জাতি আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। প্রত্যেকেই তাদের অবস্থান থেকে সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুতরভাবে আহতদের উন্নত ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ব্যাপারে চিকিৎসা ও সেবাকার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি জরুরি সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।’ এতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার প্রথম থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার, যোগাযোগ, সেবা, চিকিৎসাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা মানবিকতার হাত বাড়িয়েছেন, সেসকল ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি সকল গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি, যারা মর্মান্তিক এ ঘটনাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের দৃষ্টিগোচর করেছেন।’

মেয়ের খোঁজে এসে পোড়া ব্যাগ নিয়ে বের হলেন মা
নিখোঁজ মেয়ে মরিয়ম উম্মে আফিয়াকে খুঁজতে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আসেন তার মা তামিমা উম্মে, মামা ও স্বজনরা। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মেয়েটির মাকে স্কুলের ভেতরে যেতে দেখা যায়। যদিও মাইলস্টোন স্কুল অ্যাড কলেজের ফটকে তালা। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে মানা। কিন্তু সন্তানহারা মা কী সে বাধা মানে। তার হাউমাউ করে কান্না ও বিলাপে স্কুলের ফটক খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরক্ষণে দৌড়ে যান বিমান বিধ্বস্ত হওয়া ভবনের সামনে। সন্তান মরিয়ম উম্মে আফিয়ার খোঁজ পেলেন না। পরে মেয়ের পোড়া ব্যাগ নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ক্যাম্পাস থেকে বের হোন মা তামিমা উম্মে।

মরিয়ম উম্মে স্কুলটির তৃতীয় শ্রেণির আকাশ শাখায় পড়তো। গত সোমবার (২১ জুলাই) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। তার খোঁজেই বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গণে যান মরিয়মের মা, মামা ও স্বজনরা। এর মধ্যে স্বজনদের একজনের হাতে পোড়া ব্যাগ ছিল। মরিয়ম উম্মে আফিয়ার মামা সাব্বির সাংবাদিকদের জানান, তাদের বাসা চন্ডালভোগ এলাকায়। কথা বলার মতো অবস্থা আমাদের নেই। আমার বোন খুবই অসুস্থ। সবাই দোয়া করবেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে স্কুলের ফটকে এসে কথা বলেন স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস কে সোলায়মান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিচয়পত্র দেখালে ও নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ করলে তাদের ভেতরে যেতে দেওয়া হবে। স্কুলের ৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের তথ্য দেওয়া হবে। সেখানে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

পুড়ে অঙ্গার ৫ দেহ, ডিএনএ নমুনা দিলেন ১১ জন
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বিকৃত হয়ে যাওয়া মরদেহ শনাক্তে ১১টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব মরদেহের বিপরীতে ১১ জন দাবিদারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এ তথ্য জানান সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) শম্পা ইয়াসমিন। তিনি জানান, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে থাকা পাঁচ মরদেহ বা দেহাবশেষ থেকে ১১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বিপরীতে সিআইডিতে এসে এখন পর্যন্ত ১১ জন দাবিদার তাদের রক্তের নমুনা দিয়ে গেছেন। এদের মধ্যে এক পরিবারের একাধিক ব্যক্তিও রয়েছেন। এদিকে, এই ঘটনায় নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের মালিবাগে সিআইডি ভবনে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের জন্য নমুনা দেওয়ার অনুরোধ জানায় সরকার। বুধবার (২৩ জুলাই) সরকারি তথ্য বিবরণীতে এই অনুরোধ জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের প্রকাশিত তালিকায় যাদের সন্তান বা স্বজনের নাম নেই, সেসব পরিবারের সদস্যদের মালিবাগে সিআইডি ভবনে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের জন্য নমুনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. মো. সায়েদুর রহমান আগেই এ অনুরোধ জানিয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, সিএমএইচের মর্গে রাখা ছয়টি মৃতদেহ এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এরইমধ্যে মৃতদেহগুলোর ডিএনএ অ্যানালাইসিসের (প্রোফাইলিং) জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দিয়ে সিআইডির ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হবে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা পাওয়া গেলে সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই ডিএনএ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

বার্ন ও সিএমএইচে বিমানবাহিনীর সমন্বয় সেল গঠন
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা ও সমন্বয়সহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি সমন্বয় সেল গঠন করেছে বিমানবাহিনী। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট (কক্ষ নং-৮১১, ০১৭৬৯-৯৯৩৫৫৮) এবং সিএমএইচে (০১৮১৫-৯১২৬১৭) এই সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন দিয়ে তথ্য জানানো ও নেওয়ার জন্য আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এমএএইচএন

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

সরকারি ছুটির দিনে সরকারের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান একজন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, ব্যাংক, ঈদের জামাত ও ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রতিটি হাটে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতির পাশাপাশি সাব-কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন রাখা হয়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাল নোট চক্র, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে। অধিক পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি এসকর্ট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ঢাকার প্রবেশপথ যেমন গাবতলী, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পশুবাহী ট্রাক নির্ধারিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও যেন জোরপূর্বক নামানো না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের আগে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি জানান, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো যানজটমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পশুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যানজট এড়াতে হাটের সীমানার বাইরে রাস্তা বা ফুটপাতে পশু রাখতে না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক টার্মিনালে আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিল্যান্স টিমও মাঠে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের নজরে এলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন