খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

গুজব-কুৎসায় সশস্ত্র বাহিনীকে ‘বিতর্কিত’ করতে চায় কারা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
গুজব-কুৎসায় সশস্ত্র বাহিনীকে ‘বিতর্কিত’ করতে চায় কারা?

কালের আলো রিপোর্ট:

উপকারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মানবিক উৎকৃষ্ট গুণ। একবার কৃতজ্ঞতা জানালে পরবর্তী সময়ে আবারও সাহায্য করতে উৎসাহী হওয়া স্বাভাবিক। এটি মানবিক মূল্যবোধকেও উজ্জ্বল করে। কিন্তু কৃতজ্ঞতার বদলে অবিবেচকের মতো উল্টো গুজব-কুৎসা রটিয়ে জাতির গর্ব, আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করতে লাশ গুমের কিচ্ছা-কাহিনী! সীমা ও শালীনতা না মেনে মানবিকবোধের বিসর্জনের ধারাবাহিকতা। সত্য তুলে না ধরে ডাহা মিথ্যাচারের এমন নির্লজ্জ বহি:প্রকাশ রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ প্রাণহানির আগে থেকেই বাড়বাড়ন্ত হয়ে ওঠে। স্বয়ং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন যখন বিনয়াবনত কণ্ঠে গুজব ও মিস ইনফরমেশনে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন-‘একটি শক্তিশালী বিমানবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অপরিহার্য। দয়া করে গুজব ছড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের স্তম্ভ দুর্বল করে দেবেন না।’

কিন্তু তখনও সুযোগ সন্ধানীরা দানবীয়, তাঁরা ফুলস্টপ হননি। নীতি-আদর্শের পাশাপাশি রুচি, শালীনতা বা সৌজন্যবোধকেও ধুলায় মিশিয়েছেন। কোনো পক্ষ স্বার্থ হাসিলে, নিজের ইউটিউব ব্যবসার পালে হাওয়া দিতে কারও রাজনৈতিক ফন্দি হাসিলে কিংবা কারো চামচায়ে উজির নাজির হতে মুসাবিদা করে অথবা কর্পোরেট বাটপারি হাসিলের মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে অস্থিরতা তৈরিতে সর্বগ্রাসী চেহারায় হাজির হয়েছেন। তথ্য আর অপতথ্যের ফারাকও ঠাহর করতে পারলেন না আবার নেটিজেনদের অনেকেই। মাইলস্টোনে যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই জীবনবাজি রেখেই সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রাণান্ত লড়াই-দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর চিরায়ত উজ্জ্বল ভাবমূর্তিরই প্রতিচ্ছবি। যখন সেনা কর্মকর্তারা নিজের গর্বের পোশাক খুলে এক মৃত মায়ের সম্মান রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করছেন, উদ্ধার ও চিকিৎসা তৎপরতাও চালিয়েছেন সমান তালে ওই সময় ঘরপোড়ার মাঝে আলু পোড়া খাওয়ার মানসিকতা কার না হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে?

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে অবশ্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ। উপকার স্বীকৃতি না দেওয়ার এই মানসিকতা অনেকের মধ্যে বিদ্যমান থাকলেও এসব না ভেবেই সরকারের নির্দেশের অপেক্ষা না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়েই নেমেছিলেন সেনা সদস্যরা। দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সংকটে অতীতেও সশস্ত্র বাহিনী একইভাবে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সময় প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মযজ্ঞে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।

  • সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করতে তাদের নিয়ে গুজব ছড়ানোর কসরত থামেনি
  • নিত্য নতুন আয়োজনে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিশেষ বিশেষ পক্ষ
  • দেশের সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতেও হীন কায়দায় ঘায়েল করার অপপ্রয়াস
  • সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করলে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিই আখেরে লাভবান হবে

সশস্ত্র বাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী যেকোন কর্মকাণ্ড বরাবরই এড়িয়ে চলে তাঁরা। নিজের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষাসহ বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় তাঁরা প্রস্তুত রাউন্ড দ্য ক্লক। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে স্বার্থক উপসংহারে পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নব অধ্যায়ের সূচনা করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার এ যেন গৌরবময় এক ইতিহাস। অভ্যুত্থান পরবর্তী কঠিন সময়েও নিজেদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কাজ করে চলেছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য। একাধিকবার সেনাপ্রধান নিজের বক্তব্যে পরিস্কার করেছেন-রাজনীতি বা ক্ষমতা নিয়ে তাদের কোন আকাঙ্ক্ষা নেই। ক্ষমতার মোহ তাদের আকর্ষণ করেনি। কয়েক বার বলেছেন, রাজনীতিকদের বিকল্প কেবলই রাজনীতিক।

কিন্তু এরপরেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করতে তাদের নিয়ে গুজব ছড়ানোর কসরত থামেনি। নিত্য নতুন আয়োজনে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিশেষ বিশেষ পক্ষ। একের পর এক গুজবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আকথা-কুকথা ছড়ানোর মচ্ছব চলছে। দেশের সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতেও হীন কায়দায় ঘায়েল করার অপপ্রয়াস দৃশ্যমান হয়েছে একদিন-প্রতিদিন। সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করে জনতার আস্থা-বিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারলে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিই যে আখেরে লাভবান হবে সেই হিসাব-নিকাশ কী কেউ কষেছেন? অন্ধকার তাড়িয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের একটি সুন্দর সোনালী ভোর নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সর্বোচ্চ পেশাদার ও সুশৃঙ্খল এই বাহিনীকে নিয়ে অপরাজনীতির অপপ্রয়াস অতীতেও কখনও সফল হয়নি। হাল সময়ের ডিজিটাল জৌলুসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা অপেশাদারী ও অবিশ্বাসযোগ্য এই প্রবণতায় মেতেছেন তাঁরা ব্যাপক মাত্রায় এই প্ল্যাটফর্মটিকে ‘অসামাজিক’ ও কটুআক্রান্ত করে নিজেদের বিবেকের কাঠগড়ায় আসামি হিসেবে প্রকারান্তরে দাঁড় করিয়েছেন। অবান্তর, অবাস্তব ও আষাঢ়ে গল্প ছড়িয়ে গোলমাল বাধানোর এই নোংরামি দেশের সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষও ঘৃণাভরেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

সরকারি ছুটির দিনে সরকারের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান একজন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, ব্যাংক, ঈদের জামাত ও ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রতিটি হাটে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতির পাশাপাশি সাব-কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন রাখা হয়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাল নোট চক্র, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন রয়েছে। অধিক পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি এসকর্ট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ঢাকার প্রবেশপথ যেমন গাবতলী, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পশুবাহী ট্রাক নির্ধারিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও যেন জোরপূর্বক নামানো না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের আগে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি জানান, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো যানজটমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পশুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যানজট এড়াতে হাটের সীমানার বাইরে রাস্তা বা ফুটপাতে পশু রাখতে না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক টার্মিনালে আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিল্যান্স টিমও মাঠে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের নজরে এলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন