কৃষিজমি রক্ষায় হচ্ছে ভূমি কর্তৃপক্ষ
কালের আলো রিপোর্ট:
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ করে কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে কোনো কৃষিজমি থাকবে না। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর বা ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। ফলে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জমির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসাবে গঠন করা হবে ‘বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ’। এটি কৃষিজমি সুরক্ষা ও জোনভিত্তিক ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায় এ বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খসড়াটির ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট খসড়াটি মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, অধ্যাদেশের খসড়ায় আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। তবে তারা প্রয়োজন মনে করলে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের যেকোনও স্থানে এর কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে। বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন না হওয়া পর্যন্ত ‘ভূমি সংস্কার বোর্ড’ কর্তৃপক্ষের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবে।
নতুন এই কর্তৃপক্ষ গঠন বিষয়ে বলা হয়েছে, একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য নিয়ে কর্তৃপক্ষ গঠন হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হবেন। সরকার অন্যূন অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান এবং অন্যূন যুগ্মসচিব পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে দুই সদস্য নিয়োগ করবে।
কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ কৃষিজমি সুরক্ষা ও জোনভিত্তিক ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এজন্য সারা দেশে একই সঙ্গে বা পর্যায়ক্রমে একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার বা মৌজার ভূমির বিদ্যমান ব্যবহার, বৈশিষ্ট্য ও ভূমিরূপ যথাযথভাবে পরীক্ষা করবে। এরপর মৌজা, দাগ বা অন্য কোনো চিহ্ন বা সীমারেখা দিয়ে সারা দেশের জন্য ‘ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ’ ও স্থানিক পরিকল্পনা তৈরি করবে। ডেটাবেজ সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে। এছাড়া মানুষের কার্যক্রমের কারণে ভূমির উপরিভাগের ক্ষতিকর পরিবর্তন যথাসম্ভব রোধের ব্যবস্থা নেবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন অনুবিভাগ) মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘ভূমির ব্যবহার এবং কৃষিজমি সুরক্ষার উদ্বেগ আছে। এটি দীর্ঘদিনের চিন্তা। সেদিক থেকে সরকারের এটি উদ্যোগ। আমরা একটি খসড়া করেছি। বিভিন্ন মতামত আসবে, চূড়ান্ত করে ক্যাবিনেটে যাবে।’
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array