খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

রাজধানীর ‘পথের কাঁটা’ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর ‘পথের কাঁটা’ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক 

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

রাজধানীর প্রায় সব সড়কে জুড়ে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক। প্রকৃত অর্থেই নগরবাসীর এই যান ‘পথের কাঁটা’। যার নেই কোনো হার্ড ব্রেক কিংবা নির্দিষ্ট গতিসীমা। যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই চালাচ্ছেন। নেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা। মহল্লার ছোট-বড় গলি থেকে শুরু করে, সড়ক থেকে ফ্লাইওভার পর্যন্ত, সকল জায়গায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ব্যাটারি রিকশা।

বেসরকারি একটি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ঢাকার রাস্তায় বেপরোয়া হয়ে ওঠা এই যানের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়কেও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঠামোগত ত্রুটিযুক্ত এই বাহন। বাড়ছে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্ব। অনেকটা অদৃশ্য কারণে প্রশাসনও যেন নীরব ভূমিকায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর গণপরিবহনকে সুব্যবস্থাপনায় আনাই একমাত্র সমাধান।

জানা যায়, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার শিকার। ২০১৪, ২০১৭ ও ২০২১ সালে ৩ দফা হাইকোর্ট ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ ও আমদানি নিষিদ্ধ করলেও এসবের সংখ্যা না কমে বরং বাড়তে থাকে। সবশেষ গত বছর নভেম্বরে হাইকোর্ট আবারও তিন দিনের মধ্যে ব্যাটারি রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে চালকদের বিক্ষোভের মুখে পিছু হটে সরকার। দেশে কতসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্যও সরকারের কাছে নেই। বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যানুযায়ী, এর সংখ্যা ৪৮ থেকে ৫০ লাখ। কোনো নীতিমালা ও নিবন্ধন না থাকায় সহজেই এই বাহন আমদানি, বিক্রি ও চলাচল আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞেদের।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্য বলছে, ঢাকায় বৈধ অনুমোদনের চেয়ে বহু গুণ বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। অতিরিক্ত সংখ্যা ও বেপরোয়া গতি যানজট বাড়াচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে গণপরিবহন ব্যবস্থা। রাস্তাঘাটে এদের দখলদারি পথচারীদের জন্যও চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে। শুধু দুর্ঘটনা নয়, এই যান ছিনতাইকারীদের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে রাজধানীর বুকে এই ত্রি-চক্র যান কার্যত ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যোগাযোগ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘পঙ্গপালের মতো এসব অটোরিকশা রাস্তায় নামছে। এতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিছুদিন পর এগুলো অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ যন্ত্রের সাহায্যে চলে এমন যানবাহনের অনুমোদন দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ, বিআরটিএর। একই সঙ্গে সড়কে নিরাপত্তা ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে সংস্থাটি। তবে কেন ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেনি সংস্থাটি।

পরিবেশ ও বিদ্যুৎ খাতেও এই যান বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোয় ব্যবহৃত নিম্নমানের লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিটি যান ৪ থেকে ৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই প্রতিদিন এই খাতে নষ্ট হচ্ছে অন্তত ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অবৈধ সংযোগ থেকে চার্জ নেয়ার কারণে বাড়ছে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে পড়ছেন বৈধ গ্রাহকরা। এসব যান তৈরির যন্ত্রাংশ আমদানি ও উৎপাদন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা আরও উদ্বেগজনক। ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি যথাযথভাবে রিসাইক্লিং না করেই ফেলে দেওয়ায় মারাত্মক সীসা দূষণ ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, সীসা মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সমন্বিত নীতি প্রণয়ন না করলে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। তাই অবিলম্বে এসব যান নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, নইলে নগরবাসীর নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য এর মাশুল হবে ভয়াবহ।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের জরিপ অনুযায়ী শুধু ২০২৪ সালে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান দুর্ঘটনায় ৪৫৭ জন নিহত এবং ১ হাজার দুইশজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি দুর্ঘটনা ঘটছে ব্যাটারিচালিত বাহনের কারণে।

যোগাযোগ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজি বাইক নিয়ে আসলে সবসময় রাজনীতি হয়েছে। সরকারের উচিত অতি দ্রুত কিছু নীতিমালা তৈরি করা। এগুলোকে কী পরিমাণে নিবন্ধন দেয়া যায় তা সরকারকে ঠিক করতে হবে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যাটারি রিকশার পার্টসগুলোর আমদানি বন্ধ করতে হবে।’

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়

হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র জিলকদ মাসের তারিখ নির্ধারণে আজ সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা টেলিফোন নম্বর: ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল নিহত

খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল নিহত

খুলনার রেলওয়ে পুলিশ লাইনে ডিউটিরত অবস্থায় এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (২য় ফেজ) রেলওয়ে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (বিপি নং: ৯৯১৮২১৪৯২৯)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার পদ্মবিলা এলাকার বাসিন্দা শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে।

জানা গেছে, গত বছরের ৩ নভেম্বর তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। তার স্ত্রী পূজা বিশ্বাস সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত একজন নারী পুলিশ সদস্য।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সম্রাট বিশ্বাসের ডিউটি নির্ধারিত ছিল। দায়িত্ব পালনকালে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ব্যবহৃত চাইনিজ রাইফেল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ডিউটিরত অবস্থায় মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার মাধ্যমে সম্রাট বিশ্বাস আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন পুলিশ সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এর পেছনের কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকে নজর রয়েছে।

কালের আলো/ইএম 

 

৬ ম্যাচেও জয়হীন, লজ্জার নজির কলকাতার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
৬ ম্যাচেও জয়হীন, লজ্জার নজির কলকাতার

চলতি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুঃসময় যেন কাটছেই না। এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। শুক্রবার গুজরাটের কাছে ৫ উইকেটে হারের পর নতুন আরেকটি লজ্জার নজির গড়েছে কলকাতা।

গুজরাটের কাছে হারায় আইপিএলের ইতিহাসে পঞ্চম দল হিসেবে কোনো মৌসুমের প্রথম ৬টি ম্যাচেই জয়হীন থাকল কেকেআর।

প্রথম দল হিসেবে লজ্জার এই নজির গড়েছিল ডেকান চার্জার্স (তৎকালীন নাম)। তারা ২০১২ সালের আইপিএলের প্রথম ৬টি ম্যাচ জিততে পারেনি। দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০১৩ সালে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস (তৎকালীন নাম) মৌসুমের প্রথম ছ’টি ম্যাচে জয় পায়নি।

২০১৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকেও একই লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২২ সালের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স প্রথম ৬টি ম্যাচ জিততে পারেনি। পঞ্চম দল হিসেবে এই তালিকায় নাম উঠল তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কেকেআরের।

ইডেন গার্ডেন্সের পাঞ্জাব কিংস ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ১ পয়েন্ট পান রাহানেরা। বাকি পাঁচটি ম্যাচেই হেরেছেন তারা। ফলে মৌসুমের প্রথম ছ’টি ম্যাচে জয় পেল না নাইট শিবির। বাজে ফর্মে পয়েন্ট তালিকায় ১০ নম্বরে রয়েছে শাহরুখের দল।

কালের আলো/এসএকে