খুঁজুন
                               
, ,
           

গর্ব আর অহংকারের বিজয় দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গর্ব আর অহংকারের বিজয় দিবস আজ

আব্দুল হামিদ/শফিকুল ইসলাম পলাশ, কালের আলো:

বাঙালি জাতির ইতিহাসে আজ অবিস্মরণীয় দিন। চির অম্লান দিনটি গর্ব আর অহঙ্কারেরও। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের গৌরবের-বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। এবার বিজয় ৫৪ বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় পুরো দেশ। সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেটির উদয় ঘটে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে। বহু শতাব্দীর স্বপ্ন-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাধ্যমে। অবর্ণনীয় দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হওয়া বাংলাদেশের বঞ্চিত ও শোষিত মানুষ রুখে দাঁড়ায় সর্বশক্তি দিয়ে। আত্মবিস্মৃত বাঙালি আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে উৎসর্গ করে নিজ ও স্বজনকে। ছিনিয়ে আনে বিজয়, লাল-সবুজ পতাকাসংবলিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। পূর্বাচলে আজ উদিত যে-সূর্য, প্রতিদিনের হয়েও সে প্রতিদিনের নয়; তার রক্তিমতায় ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আমাদের মনে পড়বে; আকাশ যে-কোমলতায় আজ উদ্ভাসিত, একাত্তরের সম্ভ্রমহারা দশ লাখ মা-বোন-জায়ার ক্রন্দনধোয়া সে-উদ্ভাস। ভোরের যে-রাঙা আলোটি আজ স্পর্শ করেছে ভূমি, স্বদেশের সেই পবিত্র ভূমি ভিজে আছে শহীদের রক্তে।

স্বাধীনতার উত্তাল তরঙ্গে আন্দোলিত এই জাতির ওপর ২৫ মার্চ কালরাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। নিরস্ত্র, নিরপরাধ ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠলে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালিরা। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান, বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বাঙালির জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও বিজয়ের এই দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ উৎসবের রঙে সেজেছে। সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ সর্বত্র লাল-সবুজ আলোকসজ্জা চোখে পড়ছে। সারা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ নয় মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এলো হাজার বছরের চির আরাধ্য স্বাধীনতা। পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি, লাল-সবুজের অহঙ্কৃত পতাকা, বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে নিজেদের গর্বিত পরিচয়। বিজয়ের মুক্তির নিশান ওড়ে বাংলার সর্বত্র। রক্ত লাল পতাকায় সিঞ্জিত হয় বাঙালির চেতনা।

আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা হবে। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নামবে কৃতজ্ঞ জনতার ঢল। বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মহান ত্যাগের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞ জাতি শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এ উপলক্ষ্যে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো ইতোমধ্যেই জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন এবং রঙিন পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।

মহান বিজয় দিবস দেশব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া হবে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী সকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শহরের তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করবে। সেখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হবে। এছাড়াও, ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষ্যে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবে। যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী হবে, যা একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে।

এছাড়া, দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা একই রকম ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শো আয়োজন করবে। সমস্ত অনুষ্ঠান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ওপর আবৃত্তি, প্রবন্ধ রচনা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দিবসটি উদ্যাপনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সকাল ৯টায়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করবে। আজ বিকেল ৩টা থেকে নগরীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ফুটবল ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হাডুডু খেলা আয়োজন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়াও, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এই উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। সারা দেশের সিনেমাহলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং দেশের অডিটোরিয়াম এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো প্রবেশ ফি ছাড়াই সারাদিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, অন্যদিকে দেশের সকল বিনোদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এছাড়াও, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা এবং পায়রা বন্দর, ঢাকা সদরঘাট, পাগলা এবং বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি জেটিতে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি, আহত প্রবীণদের সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এছাড়াও দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র এবং শিশু পরিবার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়ে নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রোমে জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর যুব শাখার এক সমাবেশে এসব প্রস্তাবের কথা জানান মেলোনি। আগামী ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিষয়গুলো ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

মেলোনি বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ইতালির স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে ‘গুরুতর সমস্যা’ রয়েছে, তাদের জন্য ইতালীয় ভাষার ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হবে।

রোমে আয়োজিত ‘জিওভেন্তু নাজিওনালে’ জাতীয় উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি বলেন, যারা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের দেশটির ভাষা শিখতে হবে, সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং স্থানীয় নিয়মকানুনকে সম্মান করতে হবে।

প্রস্তাব কার্যকর করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন

সরকার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো অনুমোদন করলেও সেগুলো আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার। তবে ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

এরই মধ্যে ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) নামে আরও ডানপন্থি একটি দল স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। জুলাইয়ে দলটি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

বোরকা-নিকাব নিয়ে ইতালির বর্তমান আইন

বোরকা এমন একটি পোশাক, যাতে নারীর পুরো শরীর ও মুখ ঢাকা থাকে। সাধারণত চোখের সামনে জালের মতো কাপড় থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকলেও চোখ দেখা যায়।

ইতালিতে বর্তমানে বোরকা বা নিকাব সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের একটি আইনি সিদ্ধান্তে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়। সেখানে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরার সুযোগ রাখা হলেও পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করার বিধান রয়েছে।

এদিকে মেলোনির ক্ষমতাসীন জোটের অংশ লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুতে মুখ ঢাকা পোশাক নিয়ে আরও কঠোর বিধিনিষেধের একটি বিল জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে খেলাধুলার অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করে এমন হেলমেট বা পোশাক নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়েও নতুন প্রস্তাব

বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর আইনি সীমা আরোপের কথাও জানিয়েছেন মেলোনি।

তবে ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। একটি শ্রেণি ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সীমা কীভাবে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে মেলোনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী। ফলে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও একীভূতকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সংসদে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসএ

বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম: রিজভী

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো অনেক কম বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। রিজভী বলেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যেও সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম। মূল্য সমন্বয় করার পরও সরকারকে জ্বালানি খাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জ্বালানি তেলের দাম কীভাবে কম রাখা যায় এবং সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

লংমার্চ নিয়ে বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি

বিরোধী দলের রাজধানীমুখী লংমার্চ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমানো বা জনগণের জন্য কম দামে জ্বালানি সরবরাহের উপায় নিয়ে আলোচনা না করে লংমার্চ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কাম্য নয়।

তিনি বলেন, এক দফার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

নাশকতার অভিযোগ বিএনপির

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন রিজভী।

তার দাবি, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়ানোর ঘোষণা

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে রিজভী জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের কর্মসূচি বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস সৃষ্টি কিংবা অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শিগগিরই মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

কালের আলো/এসএ

জামায়াতের লং মার্চ ঘিরে উত্তপ্ত ইসলামাবাদ, ২৪ স্কুলের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
জামায়াতের লং মার্চ ঘিরে উত্তপ্ত ইসলামাবাদ, ২৪ স্কুলের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের

জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর রাজধানীমুখী লং মার্চ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি সরকারি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসলামাবাদের ২৪টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এসব প্রতিষ্ঠানের ভবন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান ও অন্যান্য নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ আগেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ছুটির বিষয়টি জানিয়ে দেয়। জি-৭ সেক্টর ও সিতারা মার্কেট এলাকার কয়েকটি স্কুল ভবনে পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া এফ-৭/৩ সেক্টরের একটি সরকারি স্কুলেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা থেকে ইসলামাবাদ প্রশাসন ২৪টি সরকারি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসলামাবাদ মডেল স্কুল, বালিকা বিদ্যালয়, মডেল কলেজ এবং ছেলেদের মডেল স্কুল রয়েছে।

রেড জোনে কনটেইনার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় কনটেইনার বসিয়ে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথেও ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

কর প্রত্যাহারের দাবিতে লং মার্চ

জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবিতে এই রাজধানীমুখী কর্মসূচি শুরু করেছে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী।

দলটি রোববার করাচি থেকে ট্রেনযোগে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। দলটির প্রধান হাফিজ নাঈমুর রহমান জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে।

রাজধানীমুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অবস্থায় সম্ভাব্য বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধের আশঙ্কায় আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

সামনে আরও কর্মসূচি

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও কঠোর থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরব নিউজ জানিয়েছে, ইসলামাবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রশাসন আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। রেড জোন সিল করার পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ সাময়িকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহারের জন্য নেওয়ায় রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ, দ্য নিউজ ও ডন

কালের আলো/এসএ