এনসিপির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন
কালের আলো রিপোর্ট:
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা বা জোটের পর ভাঙনের ঝাপটার মুখে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির ভবিষ্যত রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। অবশ্য এই জোট নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভালো মন্দ দুটোই দেখছেন।
নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে আর ‘বৃহত্তর ঐক্যের’ প্রয়োজনবোধ এবং বিচার ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে এক থাকাই জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার কারণ বলে জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
জানা যায়, তফসিল ঘোষণার দিন থেকে সাবেকের কাতারে নাম লেখানো উপদেষ্টা মাহফুজ রোববার রাতে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ‘এই এনসিপির’ অংশ হচ্ছেন না। তাঁর এনসিপিতে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা বড় খবর হয়ে আলোচনায় এসেছে। এর আগে একই কারণ দেখিয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা তাসনিম জারা। শনিবার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব জারার সরে দাঁড়ানোর ধাক্কার পরদিনই রোববার যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবিন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। নির্বাচন না করার কথাও বলেন তিনি। আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করবেন বলেও গুঞ্জন আছে।
রাজনীতিতে ‘নতুন বন্দোবস্ত’ আনার অঙ্গীকার নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের দাবি করে আসছিল। শেষমেষ জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট বাধার বিষয়টি তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার ভবিষ্যত নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ মোহাম্মদ সাহান মনে করছেন জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়া এনসিপির জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধার হবে না। তিনি বলেন, ‘এটাতে এনসিপির কোন লাভ হয়নি। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী এর থেকে ভালো নির্বাচনি সহযোগী পাবে না। এবং এনসিপি বড় কিছু হারাবে।’
বিএনপি-জামায়াতের পর এনসিপি ইতোমধ্যে ‘বড় দলের তকমা’ পেয়েছে মন্তব্য করে নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, সেক্ষেত্রে জোট করলেও নিজেদের প্রতীকে ভোট করা উচিত।
তার ভাষ্য, ‘এনসিপি এখন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল বলা যায়- তাদের ক্ষেত্রে যেটা আমার বিশ্লেষণ যে দলটা মাত্র শুরু হয়েছে, মাত্র গঠন করা হয়েছে। এই দলটা যারা গঠন করেছে তারা সবাই জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিল।
তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট পলিটিক্যাল পার্টি মার্জ হয়ে গেল বড় দলের সঙ্গে; তারা মূলত শুধু নির্বাচনে জেতার জন্যই পলিটিক্স করে এবং বড় দলকে ব্যবহার করতে চায় তার প্রমাণটা কিন্তু এবার হয়ে গেল। তারা তাদের প্রতীককে, দলের নিবন্ধন, তাদের আইডিওলজি এটাকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়ে গেছে; যে কারণে তারা এই কাজ করেছে।’
জোট গঠন হলেও এটি এনসিপির আদর্শ হারাবে না বলে তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, জোটে যাওয়াটা আদর্শের বিষয় না, এটা রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধা পাওয়ার বিষয়। আগের যেসব রাজনৈতিক দল জোট করেছে, তাদের আদর্শের কি পরিবর্তন হয়েছে, না হয়নি।’
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array