খুঁজুন
                               
, ,
           

রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায় যুক্তরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায় যুক্তরাজ্য

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্য তার সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায় বলে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এসময় ম্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে চারটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো- ক্যাম্পের নিরাপত্তা, শরণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রত্যাবাসন ও ক্যাম্পে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি।’

যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে একমত উল্লেখ করে হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিয়মিত বিতর্ক বা আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পটলাইটে রাখতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আমরাও বিশ্বাসী, তবে তা নিরাপদ হতে হবে।’

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, রোহিঙ্গা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার, অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং হাইকমিশনার মন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার।’

তিনি বলেন, ‘ভিসা প্রতারণা বন্ধ করতে দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি সই করা হবে। যুক্তরাজ্য চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করে পাঠিয়েছে। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে চাই।’

এসময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মিটিং আয়োজন করা হবে ‘

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সংস্কারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন। তাছাড়া দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও বন্দি প্রত্যর্পণ বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত পোষণ করেন। পাশাপাশি দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় বিট্রিশ হাইকমিশনার আগামী ১৬-১৭ মার্চ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্রাউড সামিট’-এর সাইডলাইনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার পলিটিক্যাল কাউন্সিলর টিম ডাকেট, জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স বিষয় কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন, ইন্টারন্যাশনাল লিঁয়াজো অ্যান্ড মাইগ্রেশন অফিসার আবদুল ওয়াহিদ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআই/এএএন

জবিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে রিকশাচালক আটক

ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
জবিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে রিকশাচালক আটক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক রিকশাচালককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রিকশাচালকটি ফটকের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় স্লোগান দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক ব্যক্তি নিজের নাম মনির বলে জানিয়েছেন। তিনি বরগুনার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। আটকের পর তাকে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ বা অন্য কোনো সূত্র থেকে ওই রিকশাচালকের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কালের আলো/এসএ

জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও ১৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের একটি চায়ের দোকানের পাশে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তা ক্যাম্পাসের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে হামলা করতে দেখা যায়।

আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের মাদুদ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের ইমনের নাম জানা গেছে। তবে আহতের সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, দুই গ্রুপের নাম তিনি জানেন না। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি; কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন।

কালের আলো/এসএ

‘আপা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাটা আরেকটু বাড়ান’, হাসিনাকে বলেছিলেন ভিসি কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
‘আপা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাটা আরেকটু বাড়ান’, হাসিনাকে বলেছিলেন ভিসি কামাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথোপকথনের একটি লিখিত অনুলিপি আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মাকসুদ কামালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই মামলায় পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১১টা ২৮ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামাল শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। প্রায় তিন মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনে তিনি ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

অভিযোগে থাকা ফোনালাপের অনুলিপি অনুযায়ী, মাকসুদ কামাল বলেন, বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বের হয়ে রাজু ভাস্কর্য ও মল চত্বরে জড়ো হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যেকোনো সময় তাঁর বাসায়ও হামলা হতে পারে।

জবাবে শেখ হাসিনা তাঁর বাসার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা জানান। কথোপকথনের একপর্যায়ে মাকসুদ কামাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন শেখ হাসিনা ক্যাম্পাসে বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান—এমনটাই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফোনালাপে মাকসুদ কামাল আরও বলেন, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে তিনি নিজের বাসায় ডেকে এনেছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে হলগুলোতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখার কথা বলেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হওয়ার কথাও জানান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে মাকসুদ কামালের আলোচনা হয়। মাকসুদ কামাল আন্দোলন শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কারের কথা বলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলায় মাকসুদ কামাল ছাড়াও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত আসামি।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে ফোনালাপের বিষয়বস্তু ও এতে উত্থাপিত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি এখনো বাকি।

কালের আলো/এমএসআইপি