খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে নীতিমালা করছে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে নীতিমালা করছে ইউজিসি

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেছেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) প্রতিরোধে সার্বজনীন অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) কমিশনের অডিটোরিয়ামে খসড়া অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালার ওপর অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

মাছুমা হাবিব বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিছিন্নভাবে এসব নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে। ইউজিসি’র উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা তৈরি করা হলে তা সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের নীতি-নৈতিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ালে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি হবে না।

তিনি বলেন, এ নীতিমালা বিশেষ করে নবীন গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে সাইটেশন, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের নিয়মসহ গবেষণার নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে গবেষকরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন। এটি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবে। দেরিতে হলেও ইউজিসি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা বিষয়ে কাজ করছে। অংশীজনদের মতামত নীতিমালাটিকে সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগের পরিচালক ড. দুর্গা রানী সরকার।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।

এসপিকিউএ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহর সঞ্চালনায় কর্মশালায় ২১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকসহ ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রেশম গোটা দেশের সম্পদ, আমাদের ঐতিহ্য: পাটপ্রতিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
রেশম গোটা দেশের সম্পদ, আমাদের ঐতিহ্য: পাটপ্রতিমন্ত্রী

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, রেশম শুধু রাজশাহীর সম্পদ নয়, এটি গোটা বাংলাদেশের সম্পদ। রেশম আমাদের ঐতিহ্য। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রেশম বোর্ড স্থাপন করেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী সিল্কের উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজশাহী সিল্ক কীভাবে আরও উন্নত ও আধুনিকায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। গবেষণার মাধ্যমে তুঁতের ফলন বৃদ্ধি, তুঁত গাছের উন্নয়ন, রেশম সুতার উন্নয়ন তথা রাজশাহী সিল্কের সার্বিক ঐতিহ্য বৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

এ জন্য স্টেকহোল্ডারদের মূল্যবান পরামর্শ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, রেশম সুতার উৎপাদন বৃদ্ধিতে কারখানাগুলোতে বন্ধ পড়ে থাকা লুমগুলো চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিদর্শনকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি।

পরে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ‘সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভাটি বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ। তিনি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

কালের আলো/এসএকে

সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হবে ঢাকায়

নীলফামারী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হবে ঢাকায়

দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে আনতে ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার।

তিনি বলেন, দুই দিনের সফরে লালমনিরহাট সফরে আজকে (শনিবার) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি রেস্টরুমে গিয়ে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেন মন্ত্রী। পরে তাকে দ্রুত সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গফুর সরকার আরও বলেন, পরে নেতাকর্মীদের পরামর্শে মন্ত্রীকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিমানে যেতে পারেননি। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে সৈয়দপুর পৌঁছালে সেটিতে মন্ত্রীকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

কালের আলো /এসএকে

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।

কৃষিখাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’। সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে