খুঁজুন
                               
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২
           

প্রথম ধাপে পাবেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী

তারেক রহমানের যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন আজ

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানের যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন আজ

নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু হচ্ছে যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই প্রকল্পের আওতায় পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী প্রধান প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করছেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই উপকারভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত দুস্থরা এ সুযোগ পান তা নিশ্চিত করা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড একটি বড় সাহসী পদক্ষেপ। মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ও সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরির লক্ষেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মামুন তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ কমিটির অন্যান্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া
পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, উপকারভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়নি। ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT)’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে পরিবারগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ডাবল ডিপিং (সরকারি চাকরি, পেনশন বা একাধিক ভাতা গ্রহণ) বাতিল করে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে এ ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

  • স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাছাই প্রক্রিয়া
  • প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার পাবেন একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড
  • সরাসরি অ্যাকাউন্টে যাবে টাকা
  • বাজেট বরাদ্দ ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা
  • একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড ‘ হিসেবে রূপান্তর

পরবর্তীতে প্রতি ধাপে ১০,০০০ করে বৃদ্ধি করে জুন ২০২৬ এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটে ৪০,০০০ দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে এই ভাতাভোগীগণের ভাতা প্রদান অব্যাহত থাকবে । সকল নগদ অর্থ সহায়তা ও টিসিবি সহায়তাকে একক কার্ডের অধীনে নিয়ে আসা হবে , প্রতিবন্ধী ভাতা ও বয়স্ক ভাতা অব্যাহত থাকবে। ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট জিডিপি’র ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পাইলটিং কর্মসূচির জন্য ০৪ মাসে (মার্চ-জুন, ২০২৬) মোট ৩৮ কোটি ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যার মধ্যে ২৫.১৫ কোটি টাকা( ৬৬.০৬ শতাংশ) অর্থ সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে। এটি বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির একটি ঐতিহাসিক সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করবে।

প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার পাবেন একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। স্পর্শবিহীন (Contactless) চিপ সম্বলিত এই কার্ডে কিউআর কোড (QR Code) এবং এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী। সাধারণত প্রতি পরিবারের ৫ জন সদস্যের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে।

যারা এই কার্ডের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন
পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী হলে এ কার্ড পাবেন না। এছাড়া পরিবারের বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে তারা এ ভাতার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। নির্বাচিত নারী যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তবে ফ্যামিলি কার্ড নিলে আগের সুবিধা বাতিল হবে।

সরাসরি অ্যাকাউন্টে যাবে টাকা
অতীতে বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এবার তা দূর করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে। ফলে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই নারীরা ঘরে বসে সরাসরি সরকারের সহায়তা পাবেন। পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

বাজেট বরাদ্দ ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে উপকারভোগীদের দেওয়া হবে এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন ও কার্ড প্রস্তুতসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে। এরই মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ প্রকল্পের গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড ‘ হিসেবে রূপান্তর
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড ‘ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। পাঁচজন সদস্য সম্বলিত একজন নারী প্রধান পরিবারের মা বা জ্যৈষ্ঠ নারী সদস্য যার নামে এ কার্ড ইস্যু করা হবে। নাগরিকের জন্য একটি সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড হিসেবে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করন, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেয়া হবে।

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং উল্লেখযোগ্য শতাংশ প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো ত্রুটিগুলো দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা।

সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ স্কোরিং ব্যবহার করা হবে। পাইলটিং পর্যায়ে ০-১০০০ স্কোরের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলের অন্তর্ভুক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে দারিদ্র্েযর এ ধাপ পুন:নির্ধারণ করা যাবে। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।

প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা
মন্ত্রী বলেন, পাইলট কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ ‘জিটুপি’ পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’-তে স্থানান্তর করা হবে। ভবিষ্যতে এ ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে ওটিপিভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তা এবং শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকি ইত্যাদি সকল সরকারি সহায়তা ধারাবাহিকভাবে এ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আনুসঙ্গিক খরচ বহন করবে, তবে ডাটা সংরক্ষণের মূল দায়িত্ব পালন করবে সমাজসেবা অধিদফতর। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার একটি লক্ষ্যমাত্রা এই গাইডলাইনে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞটি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সার্বিক তত্ত্বাবধান সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি নীতি নির্ধারণ করবে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কারিগরি ও ডাটা ম্যানেজমেন্ট কমিটি সার্বিক তত্ত্বাবধান-করবে। উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে পৃথক বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

একটি নতুন নিবেদিত ‘হটলাইন’ চালু করা হবে
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য শীঘ্রই একটি নতুন নিবেদিত ‘হটলাইন’ চালু করা হবে। এই হটলাইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান ‘চাইল্ড হেল্প লাইন ১০৯৮’এ কল করে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম বা সমস্যার অভিযোগ প্রদান করা যাবে। এছাড়াও নাগরিকগণ সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং ৩৩৩ হেল্পলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়াও সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা/শহর সমাজসেবা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগে ধরন অনুযায়ী যোগ্য পরিবার বাদ পড়া, সচ্ছল পরিবারের অন্তর্ভুক্তি, অনিয়ম, দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে বা অর্থ প্রাপ্তিতে কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে প্রতিকার চাওয়া যাবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতি মাসে অন্তত একবার উপজেলার ইউনিয়ন এবং সিটি কর্পোরেশনে ওয়ার্ড পর্যায়ে গনশুণানি বা সামাজিক নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক, তথ্যনির্ভর ও জবাবদিহিতামূলক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারাও সচেতন থাকবেন, আমাদের জানাবেন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

কালের আলো/এম/এএইচ

ফেনীর শহীদ হারুনের পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
ফেনীর শহীদ হারুনের পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর ট্রাঙ্ক রোডে হরতালের পক্ষে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত ফেনীর যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারকে নতুন বাড়ি উপহার দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ এপ্রিল) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল নতুন বাড়ি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। আমরা বিএনপি পরিবার সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

ফেনী সদর উপজেলার ১৩ নম্বর ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজারের যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর হরতালের পক্ষে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। তারেক রহমানের নির্দেশে হারুনুর রশিদকে নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এই বাড়ি নির্মাণের কাজটা তদারকি করবে। এই সংগঠন সারাদেশে বিএনপির বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষদের সহায়তা দিয়ে আসছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, আপনারা জানেন যে লেবাননে এখন একটি যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের ফ্লাইট এখন সুবিধাজনক নয় যে আমরা এই মুহূর্তেই আমাদের এই মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব। আমরা সচেষ্ট আছি, খুব শিগগিরই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লেবাননে আমাদের যে মিশন আছে, তারা কাজ করছে—কীভাবে নিরাপদভাবে মেয়েটিকে (মরদেহ) আমরা শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, গত দুই দিন আগে লেবাননে যে হামলাটা হয়েছে, সেই হামলায় ৩০০ জনের মতো ক্যাজুয়ালটি (যুদ্ধে হতাহত) হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের একজন বাংলাদেশি মেয়ে, সে লেবাননে কাজ করতো, সে নিহত হয়েছে একটি পরিবারের সাথে। সেই পরিবারটিও নিহত হয়েছে। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায়। ইতিমধ্যে তার পরিবারের সাথে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। কথা বলা হয়েছে। এখানে তার যে বোন থাকে, সেই বোনের সাথেও আমরা যোগাযোগ করেছি। আমাদের জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,আমি শুধু আমার জেলার মেয়ে হিসেবে বলতে পারি যে, আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা তার পরিবারকে সেই শোক সহ্য করার শক্তি দিন এবং আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সচেষ্ট আছে, যাতে আমাদের বাংলাদেশিরা যারা এসব দেশে আছে তারা যেন নিরাপদে থাকে। যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করতে। মিশনগুলো কাজ করছে। যেমন- লেবাননে আমাদের যে বাংলাদেশিরা আছে, তাদেরকে আমরা একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করেছি এবং তারা যেন নিরাপদে থাকে, সে চেষ্টা করছি। ওই দেশগুলোতে যারা বাংলাদেশি দেশে আসতে চায়, নিরাপত্তার অভাবে—তারা যেন নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারে, সে ব্যবস্থাও আমরা করছি।

তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু বাংলাদেশিকে বিমানের একটি চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফেরত এনেছি এবং যারা আসতে চায় তাদেরও আসার ব্যবস্থা করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের আটজন বাংলাদেশি এই যুদ্ধে নিহত হয়েছে বিভিন্ন দেশে এবং এই প্রথম একজন নারী নিহত হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করছি এবং সরকার সচেষ্ট আছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের যেসব রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছে, তারা যেন আবার কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে—সেটার জন্য বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই দেখবে এবং আমরা সচেষ্ট আছি। এটা আমাদের ম্যানিফেস্টোর একটি অংশ এবং আমরা অবশ্যই দেখব, যাতে আমাদের ভাইয়েরা যারা এতদিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে বিদেশে ছিলেন, দেশের রেমিট্যান্স ও অর্থনীতিতে সহযোগিতা করেছেন, তারা যেন আবার একটি কর্মে যুক্ত হতে পারেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয় ৷

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাগেরহাটের ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও তিনি মর্মাহত।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশে মানুষ এবং সব প্রাণের বসবাসের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম শরীফ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. পলাশ কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ-উল-হাসান।

কালের আলো/এসআর/এএএন