খুঁজুন
                               
, ,
           

সব মতের মানুষ যেন কথা বলতে পারে সে ব্যাপারে চেষ্টা থাকবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
সব মতের মানুষ যেন কথা বলতে পারে সে ব্যাপারে চেষ্টা থাকবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেছেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষ যাতে নিজের জায়গা থেকে কথা বলতে পারে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একটি বিরল বিষয় হলো এখানে অধিকাংশ মানুষই ধার্মিক। এদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যদি তার ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করে, সেটা যদি ধারণ করতে পারে, তাহলে এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরো বৃদ্ধি পাবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন বাংলাদেশে একটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হওয়া দরকার। আর বেগম খালেদা জিয়া ধর্মীয় মূল্যবোধকে অনেক বেশি সম্মান করতেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেয়ার কারণেই বিএনপি এতো বড় মহিরূহে পরিণত হয়েছে, মানুষের মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে।

তাঁকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা নিয়ে একটি সংগঠনের বিবৃতির বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শামীম কায়সার বলেন, একটি নির্বাচনে একটি দলকে শতভাগ মানুষ ভোট দেয় না, পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। কোনো একটি অ্যাপয়নমেন্টকে শতভাগ মানুষ পছন্দ করবে -বিষয়টি এরকম নয়। অনেক সময় একই কথা যদি সরাসরি ক্লিয়ার (পরিষ্কার) করা সম্ভব না হয় কিংবা কোনো খন্ডিত তথ্য যায় সেক্ষেত্রে একই কথা অন্যভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। যোগাযোগ ও কথাবার্তা যতো বেশি হবে, যদি কোথাও কোনো ভুল বুঝাবুঝি থাকে সেগুলো নিরসন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমি গতকালও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা গিয়েছি। জমিয়তে উলাময়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামদের সাথে কথা বলেছি। গতকাল আমি যাদের সাথে বসেছি, তাদের কিছু প্রশ্ন ছিলো। আমার বিশ্বাস আমি তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছি এবং উনারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

শামীম কায়সার বলেন, বাংলাদেশের প্রথিতযশা বিভিন্ন মতের ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন তাদের সকলের সহাবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে। শুধু ইসলাম না, অন্যান্য ধর্মের নেতৃবৃন্দ বা ধর্মীয় গুরু আছেন, তাদের সকলের কাছে আমি যাব। টুকটাক যে বিভ্রান্তি (কনফিউশন) আছে সেগুলো দূর হয়ে যাবে।

এ সময় ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

তিশার সঙ্গে বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন ফারুকী

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
তিশার সঙ্গে বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন ফারুকী

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছে—সম্প্রতি এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এমনকি এই তারকা দম্পতি আলাদা থাকছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব আলোচনাকে মিথ্যা প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন ফারুকী। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা না বাড়িয়ে তাঁর নতুন কাজ নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

‘মিথ্যা নিউজে ঘটনা সত্য হয় না’
দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন প্রসঙ্গে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে। বর্তমানে বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন তিনি।

ফারুকীর ভাষ্য, এসব মিথ্যা সংবাদ নিয়ে কথা বললে সেগুলোকে আরও প্রশ্রয় দেওয়া হয়। তাই এ বিষয়ে তিনি কিংবা তিশা কেউই কোনো মন্তব্য করতে চান না। বরং তাঁরা নিজেদের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান।

নির্মাতার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনায় সাড়া না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে দেশে ফেরেন ফারুকী
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা চললেও কাজের ক্ষেত্রে ব্যস্ত সময় পার করছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। গত ১০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসরের আমন্ত্রণে দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে অংশগ্রহণ শেষে ১৭ অক্টোবর দেশে ফেরেন এই নির্মাতা।

বুসানে যাওয়ার আগে একটি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের কাজ শেষ করেছিলেন ফারুকী। দেশে ফিরে আবারও বিজ্ঞাপন নির্মাণে যুক্ত হন তিনি। বর্তমানে তিনটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। এর মধ্যে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের দৃশ্যধারণ করা হয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। প্রকল্পটির শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন সিনেমার নাম ‘টু হেল, উইথ লাভ’
বিজ্ঞাপনচিত্রের পাশাপাশি নতুন সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়েও কাজ করছেন ফারুকী। আসন্ন সিনেমার গল্প সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, এটি প্রেম ও বন্ধুত্বের পরিচিত ধারণার বাইরের এক অনুভূতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে।

নির্মাতার ভাষায়, গল্পটি নতুন দিনের প্রেমের গল্প হতে পারে। আবার প্রেম ও বন্ধুত্বের মাঝখানে থাকা এমন এক সম্পর্কের কথাও বলা যায়, যার জন্য প্রচলিত কোনো সংজ্ঞা খুঁজে পাওয়া কঠিন। আপাতত সিনেমাটির নাম রাখা হয়েছে ‘টু হেল, উইথ লাভ’। ফারুকী বলেন, এটি প্রেমের বর্ধিত মানচিত্রের গল্প। তাঁর এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সম্পর্কের প্রচলিত সংজ্ঞা ও আবেগের জটিলতা সিনেমাটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনীতি নয়, হৃদয়ভাঙার গল্প
নতুন সিনেমার গল্পের ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফারুকী জানিয়েছেন, ছবিটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক সিনেমা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অতীতে তিনি ব্যঙ্গাত্মক কাজ করায় অনেকে হয়তো নতুন সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়েও তেমন ধারণা করতে পারেন।

তবে নির্মাতার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘টু হেল, উইথ লাভ’ মূলত হৃদয়ভাঙার একটি গল্প। অর্থাৎ রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যঙ্গের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আবেগ ও মানসিক টানাপোড়েন এখানে গুরুত্ব পেতে পারে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। কবে নাগাদ এর শুটিং শুরু হবে কিংবা কারা অভিনয় করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি নির্মাতা।

নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত তিশাও
অন্যদিকে, অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাও নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর রয়েছে ‘ফুলস্ক্রিন’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে আরশ খান ও প্রিয়ন্তী উর্বি অভিনীত একটি নাটক।

ফারুকী ও তিশার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা চললেও দুজনের কাজের ব্যস্ততা থেমে নেই। ফারুকী নতুন সিনেমার চিত্রনাট্য ও বিজ্ঞাপনচিত্র নিয়ে কাজ করছেন, অন্যদিকে তিশা যুক্ত রয়েছেন প্রযোজনাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে।

সব মিলিয়ে, দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরার গুঞ্জনকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের কাজেই মনোযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন ফারুকী। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা না বাড়িয়ে বরং নতুন কাজের খবর সামনে আনা উচিত।

কালের আলো/এসএ/এমএস

 

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্য পরীক্ষায় মার্কিন সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্য পরীক্ষায় মার্কিন সহায়তা

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, আমদানি করা খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে চাল-গম সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে আমদানি করা খাদ্যশস্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে। সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমদানি করা চাল ও গমের গুণগত মান যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্যশস্য পরীক্ষার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। আমদানি করা খাদ্যশস্যের মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে প্রযুক্তির প্রয়োজন
বাংলাদেশের আবহাওয়াগত বাস্তবতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চাল ও গমের গুণগত মান বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কারিগরি জ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পাওয়া গেলে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। বৈঠকে খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি নিয়েও আলোচনা
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে গম আমদানির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম আমদানি সম্পন্ন হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকায় উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গমবাহী জাহাজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আমদানি করা খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

নেত্রকোনায় হারিয়ে যাওয়ার পথে ঐতিহ্যের শীতল পাটি

নেত্রকোনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনায় হারিয়ে যাওয়ার পথে ঐতিহ্যের শীতল পাটি

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দেওয়া শীতল পাটি একসময় ছিল বাংলার ঘরোয়া জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে অবসর কাটানো—সব ক্ষেত্রেই ছিল এর কদর। প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি এই পাটি শুধু দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী নয়, বরং বাংলার লোকশিল্প ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সময়ের পরিবর্তন, সস্তা প্লাস্টিকের পণ্যের বিস্তার, কাঁচামালের সংকট এবং পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি শিল্প এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়া, জৈনপুর, ভাটাপাড়া ও হাতনী গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে একসময় শীতল পাটি তৈরির ব্যাপক প্রচলন ছিল। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকার প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন স্থানীয় কারিগররা। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে কাজ শিখে নতুন প্রজন্মের অনেকেই একসময় এই শিল্পে যুক্ত হতেন। কিন্তু বর্তমানে কাজের পরিমাণ ও আয় কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারই পেশাটি ছেড়ে অন্য কাজের দিকে ঝুঁকছে।

শীতল পাটি তৈরির প্রধান কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে মুক্তা বা মুর্তা গাছ নামে পরিচিত একধরনের উদ্ভিদ। কোথাও কোথাও এটি পাটিবেত নামেও পরিচিত। সাধারণত নদী-খাল ও জলাধারের আশপাশের আর্দ্র জমিতে এসব গাছ জন্মে। কারিগররা মুর্তা গাছ সংগ্রহ করে প্রথমে সেদ্ধ করেন। এরপর দক্ষ হাতে গাছের অংশ ছিলে সরু ও মিহি বেত তৈরি করা হয়। সেই বেত শুকিয়ে ও প্রস্তুত করে ধৈর্য এবং নিপুণতার সঙ্গে বুনে তৈরি করা হয় শীতল পাটি। প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয় অভিজ্ঞতা, সময় ও শ্রম। কারিগরদের হাতের কাজের ওপর নির্ভর করে পাটির নকশা, সৌন্দর্য ও মান।

প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি হওয়ায় শীতল পাটির রয়েছে আলাদা আবেদন। কিন্তু কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ কমে যাওয়ায় আগের মতো উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারিগরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শীতল পাটি তৈরির পর তা বিক্রি করতে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যেতে পারে। তবে দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা কম। ফলে নিশ্চিত ক্রেতা বা অর্ডার না পেলে অনেক কারিগরই শীতল পাটি তৈরি করতে চান না। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দামের জামদানি পাটি তৈরি করে থাকেন তাঁরা। এসব পাটির দাম সাধারণত এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। চাহিদা কিছুটা থাকায় কারিগররা নিয়মিত এই পাটি তৈরির চেষ্টা করেন।

কেন্দুয়া গ্রামের প্রশান্ত কর জানান, তাঁদের পরিবারে বহু প্রজন্ম ধরে শীতল পাটি বোনার কাজ চলে আসছে। একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারই এই পেশায় যুক্ত ছিল। তখন এই কাজ করে ভালো আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে।

তিনি বলেন, আগে শীতল পাটি তৈরি করে তাঁরা লাভবান হতেন। এখন অনেকটা ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই কাজটি করছেন। বাপ-দাদারা এই পেশায় ছিলেন বলে তাঁরাও এখনো এটি আঁকড়ে আছেন। শীতল পাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত নারীরা জানিয়েছেন, একসময় নারী-পুরুষ সবাই মিলে এই কাজ করতেন। বর্তমানে পাটি বোনার কাজে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি। তবে কাঁচামালের অভাব তাঁদের কাজের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দুয়া গ্রামের শুনকা বনিক, প্রমিলা করসহ স্থানীয় কয়েকজন নারী কারিগর জানান, পর্যাপ্ত জমি ও জলাশয়ের অভাবে মুর্তা গাছের চাষ কমে যাচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় বেত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যাঁদের নিজেদের বাড়িতে মুর্তা গাছ রয়েছে, তাঁরা তুলনামূলক বেশি লাভ করতে পারছেন। অন্যদের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে বাড়তি খরচ বহন করতে হয়। তাঁদের মতে, বাজারে সস্তা প্লাস্টিকের পাটি ও চীনে তৈরি ম্যাটের সহজলভ্যতা প্রাকৃতিক শীতল পাটির চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি