মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে আইপিএলেও
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে আইপিএল ২০২৬-এর প্রস্তুতিতে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের ফলে দুবাই ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, যা আইপিএলে অংশগ্রহণকারী বিদেশি ক্রিকেটারদের সময়মতো ভারতে পৌঁছানোকে কঠিন করে তুলতে পারে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বুধবার আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম ২০টি ম্যাচের সূচি প্রকাশ করেছে। টুর্নামেন্টটি ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তামিলনাড়ু, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর পুরো সূচি প্রকাশ করা হবে। প্রথম পর্যায়ের ম্যাচগুলো ১০টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, গুয়াহাটি, নয়া চণ্ডীগড়, লখনউ, কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও হায়দরাবাদ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, রাজ্য নির্বাচনের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত বিসিসিআই কর্মকর্তাদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফ ভারতে আটকে ছিলেন। আইসিসির সহায়তায় অবশেষে তারা দেশে ফিরতে পেরেছেন, কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আইপিএলের জন্য নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, “ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের যাত্রায় ব্যাপক বিলম্ব হয়েছে। তাদের সময়মতো ভারতে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। এছাড়া যুদ্ধের কারণে বিমান ভাড়াও অনেক বেড়ে গেছে।”
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে ভারতে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করে গৃহস্থালি গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই সংকট আইপিএলের হোটেল ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তবে চেন্নাই সুপার কিংসের সিইও কাসি বিশ্বনাথন আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আকিল হোসেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস সময়মতো দলে যোগ দেবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি তাদের আসতে কোনো দেরি হবে না।”
বিসিসিআই এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও টুর্নামেন্ট স্থগিত করার কোনো সম্ভাবনা এখনও নেই, তবে যাতায়াত ও লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
কালের আলো/এসআর/এএএন



আপনার মতামত লিখুন
Array