খুঁজুন
                               
, ,
           

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

সরকার ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে এই তথ্য দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয়রোধে সারাদেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নেওয়া হবে। শুধু ইসলাম শিক্ষা নয়, সব ধর্মের শিক্ষকই থাকবে।

বিস্তারিত আসছে…
কালের আলো/এসআর/এএএন

ভিন্নমতের প্রতি সম্মানের দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর, সেই শিক্ষককে সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
ভিন্নমতের প্রতি সম্মানের দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর, সেই শিক্ষককে সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দিল পুলিশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একজন শিক্ষকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া অবস্থান সামনে এনেছে ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর একটি স্পষ্ট বার্তা। অভিযোগের মুখে শিক্ষককে আটকের পর বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

  • দৌলতপুরের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
  • মতের অমিল থাকলেও মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করতে হবে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আটক করে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে জানান, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন। পরে ওই শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, ‘মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তাঁর নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তাঁর মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিকে ঘিরে সমালোচনা বা ভিন্নমতের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়ার জায়গায় সহনশীলতার বার্তাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাহ্দী আমিন আরও জানান, ‘ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি।’ দৌলতপুরের ঘটনাটির তাৎপর্য এখানেই যে, অভিযোগটি যে ব্যক্তিকে ঘিরে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতেই ছিল। সেই অবস্থানে থেকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষককে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাঁকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—মাহ্দী আমিনের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বার্তাও তুলে ধরা হয়েছে—’ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।’

রাজনীতিতে মতপার্থক্য, সমালোচনা কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটাই স্বাভাবিক। সেই ভিন্নতাকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। দৌলতপুরের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সেই জায়গায় মতপ্রকাশের অধিকার, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টিকে উচ্চকিত করেছে। নতুন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি স্ক্র্যাপে নতুন নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি স্ক্র্যাপে নতুন নীতি

ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন ধ্বংস (স্ক্র্যাপ) ও রিসাইক্লিংয়ের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মোটরযানের নির্ধারিত অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর সেটি স্ক্র্যাপ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকের নামে নতুন বা পুরোনো কোনো মোটরযানের নিবন্ধন দেওয়া হবে না।

‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নীতিমালাটি জারি করেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ১২৪(১)(থ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

যেসব গাড়ি স্ক্র্যাপের আওতায়

নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করা এবং চলাচলের অনুপযোগী মোটরযান স্ক্র্যাপযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে অকেজো ঘোষিত যানবাহনও এ তালিকায় থাকবে।

এ ছাড়া আগুন, বিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, যা মেরামত করে পুনরায় চালানো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, সেগুলোও স্ক্র্যাপ করা যাবে।

আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশে নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত যানবাহন, মালিকের স্বেচ্ছায় স্ক্র্যাপের জন্য দেওয়া গাড়ি, অননুমোদিতভাবে উৎপাদিত মোটরযান এবং বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া আকৃতি বা প্রকৃতি পরিবর্তন করা যানবাহনও স্ক্র্যাপযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

পাঁচ বছর ফিটনেস না থাকলেও স্ক্র্যাপ

টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেস খেলাপি থাকা মোটরযানও স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে। পাশাপাশি কোনো গাড়ির নিঃসরণ এক মাসে তিনবার ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২’-এ নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করলেও সেটিকে স্ক্র্যাপযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত মোটরযানও এ নীতিমালার আওতায় পড়বে।

নতুন গাড়ি নিবন্ধনে বাধা

নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো—অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রান্ত গাড়ি স্ক্র্যাপ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মালিক নিজের নামে নতুন বা পুরোনো কোনো মোটরযানের নিবন্ধন নিতে পারবেন না।

তবে স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ি ধ্বংসের জন্য মালিকের আবেদন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বা পুরোনো মোটরযান নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

যেভাবে হবে স্ক্র্যাপ

স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ির মালিককে মূল কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট মোটরযান নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। পরিত্যক্ত, ফিটনেসবিহীন বা দূষণকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে আদালত, পুলিশ বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষও বিআরটিএকে স্ক্র্যাপের জন্য অনুরোধ করতে পারবে।

আটক করা কোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ করার আগে মালিককে কমপক্ষে ১৫ দিনের নোটিশ দিতে হবে। এ সময় তাকে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগও দিতে হবে। তবে অননুমোদিতভাবে উৎপাদিত মোটরযানের ক্ষেত্রে এ নোটিশের বিধান প্রযোজ্য হবে না।

বকেয়া কর-ফি পরিশোধের নিয়ম

অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার আগেই কোনো গাড়ি স্ক্র্যাপ করতে চাইলে মালিককে আগের সব কর ও ফি পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করা গাড়ির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের কোনো কর বা ফি পরিশোধ করতে হবে না।

অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালের মধ্যে থাকা গাড়ির বকেয়া কর ও ফি নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে স্ক্র্যাপ বা নিলাম মূল্য থেকে বকেয়া অর্থ কেটে নেওয়া হবে। এরপরও বকেয়া থাকলে ‘পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩’ অনুযায়ী তা আদায় করা হবে।

স্ক্র্যাপ ভেন্ডর নিয়োগে শর্ত

নীতিমালা অনুযায়ী, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক বা একাধিক স্ক্র্যাপ ভেন্ডর নিয়োগ করবে কর্তৃপক্ষ। এসব ভেন্ডরকে বিআরটিএতে নিবন্ধিত হতে হবে।

এ ছাড়া ভেন্ডরের কাছে গ্যাস কাটার, ক্রেন, শ্রেডার মেশিন, রেকার ও হাইড্রোলিক প্রেস মেশিনসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্রও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একজন স্ক্র্যাপ ভেন্ডরের কমপক্ষে ৫০টি মোটরযান রাখার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে।

স্ক্র্যাপ করার সময় গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর এমনভাবে নষ্ট করতে হবে, যাতে সেগুলো অন্য কোনো যানবাহনে পুনরায় ব্যবহার করা না যায়। কার্যাদেশ পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্ক্র্যাপের কাজ শেষ করতে হবে।

মিলবে স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেট

স্ক্র্যাপের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন নম্বর বাতিল করা হবে এবং তা বিআরটিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর সাত দিনের মধ্যে মালিককে ‘ভেহিক্যাল স্ক্র্যাপিং সার্টিফিকেট’ দেওয়া হবে।

এই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে নতুন বাণিজ্যিক মোটরযান নিবন্ধনের সুযোগ এবং আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

থাকছে আর্থিক প্রণোদনা

নীতিমালায় বাণিজ্যিক মোটরযানের মালিকদের জন্য আর্থিক সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে। স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেটের বিপরীতে নতুন বাণিজ্যিক মোটরযান নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মালিক বা বৈধ উত্তরাধিকারীকে সরকার সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ বা আর্থিক প্রণোদনা দিতে পারবে।

সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ

নীতিমালার আওতায় কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আপিল বোর্ড এ আপিল নিষ্পত্তি করবে। আপিল পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া স্ক্র্যাপ করা গাড়ির মূল্য নির্ধারণে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং)-এর নেতৃত্বে ‘স্ক্র্যাপমূল্য নির্ধারণ কমিটি’ এবং নিলামের জন্য পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট)-এর নেতৃত্বে ‘নিলাম কমিটি’ গঠন করা হবে।

নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন নীতিমালা জারির মাধ্যমে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা পূর্বের মোটরযান স্ক্র্যাপিং নীতিমালা রহিত করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটদের সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটদের সংঘর্ষ

দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে আরও শক্তিশালী করতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্স গবেষণায় সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরিতে জোর
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ইউএপি, জাপানের চোয়া জিকেন কর্পোরেশন এবং এআই সামুরাই জাপানের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের গবেষণার গভীরতা, সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সমর্থন দেবে। তবে দেশের কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে এআই প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা সম্ভব, সেই পথনকশা ও বাস্তবসম্মত সমাধান প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরই তৈরি করতে হবে।

কৃষি-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে এআইয়ের সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এ প্রযুক্তি বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।

বিশেষ করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাত এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশের বাস্তব অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিদেশি এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিজস্ব এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জিপিইউ ও বাংলা ডেটাসেটের চ্যালেঞ্জ
দেশে এআই গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, জিপিইউ পরিচালনার সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের ঘাটতির মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

সাধারণ চাহিদার বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়েও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রযুক্তিগত উদ্দীপনার পাশাপাশি তরুণ প্রযুক্তিবিদদের মৌলিক গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি সহযোগিতা
অনুষ্ঠানে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-কে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী।

বাস্তবমুখী এআই প্রকল্প উপস্থাপন
সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউএপি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণ চলাকালে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তৈরি বিভিন্ন বাস্তবমুখী এআই প্রকল্পের ব্যবহারিক প্রয়োগ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, জাপানের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি