খুঁজুন
                               
, ,
           

স্কুল ভর্তিতে লটারি থেকে পরীক্ষায় ফেরত যেতে চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
স্কুল ভর্তিতে লটারি থেকে পরীক্ষায় ফেরত যেতে চাই

ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবারও লটারি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রীক প্রক্রিয়ায় ফেরত যেতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

আজ (সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর অভিজাত হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে “নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ” শীর্ষক সংলাপে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এমন কথা বলেন।

সংলাপে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংলাপটি সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সংলাপে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।

ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারিকে ব্ল্যাক বক্স উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘অনেক স্কুল জানিয়েছে লটারি তারা পছন্দ করছেন না। ইটস অ্যা ব্ল্যাক বক্স। লটারিতে কারা আবেদন করছেন, কারা সিলেক্ট করছেন। ইতোমধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করেছি যে, লটারি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রীক প্রক্রিয়ায় আবার ফেরত যেতে চাই।’

নতুন বছরের আগে শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, কারিকুলামকে দলীয়করণ করা হয়েছে। আগামী বছরে জানুয়ারির আগে ক্যারিকুলাম কে ডেভলোপ করতে পরি। যেখানে প্রয়োজন কিছুট রিডজাইন করতে পারি, সে চেষ্টা চলছে। যেটা সঠিক ভাবে হওয়া উচিত, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গঠনের জন্য যা যা প্রয়োজন সেরকমভাবে যেনো ক্যারিকুলামকে ডেভেলপ করতে পারি।

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ভ্যালু বেইজড এডুকেশন হওয়া উচিৎ। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী বেকার। শিক্ষার আরও একটা উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ক্যাপাসিটি, টেকনিক্যালিটি, ক্যাপাবিলিটি তৈরি করা যার উপর ভিত্তি করে শিক্ষিতরা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হতে পারেন। দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যোগ্যতা পেতে পারেন। এ দুটি লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

সরকারের তৃতীয় ভাষা শেখানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ভাষাগুলো যেগুলোতে দেশের বাইরে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে সেগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। জাপান, চায়না, কোরিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দূতাবাস থেকে কারিগরি সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছি। উনাদের নিজেদের দেশ থেকে লোক পাঠানো, যেনো তারা শিক্ষক হিসেবে কাজ করে। তৃতীয় ভাষা শেখানো চ্যালেজিং টাস্ক, অনেকগুলো স্কুল রয়েছে। শুরুতে যদি একেকটি জেলাতে নির্দিষ্ট ভাষাকে টার্গেট করি তাহলে এডুকেশন সিস্টেমে ইন্টিগ্রেট করতে পারি।

মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাইলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য থাকা উচিত নয় জানিয়ে মাহদী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ইনহেরিন্টলি বৈষম্য রয়েছে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষার্থী কমছে। এটা নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগরে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সন্ধ্যায় রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাঁদের খোঁজখবর নেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিগত ১৭ বছরে দেশের মানুষ কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উৎসব উদ্‌যাপন করছেন। এটাই বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য ও মাধুর্য।

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের কাছে বিগত সরকারের সময়ের বরাদ্দের সঙ্গে বর্তমান সরকারের বরাদ্দের তুলনা জানতে চান। এ বছর তাঁরা আগের তুলনায় বেশি সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ইতিবাচক সাড়া দেন।

পরিদর্শনকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মিয়াজী, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া নগরকান্দা উপজেলা ও রামনগর ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ছোট উদ্যোগে বড় সাফল্য, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ভোলার সালমা

ভোলা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
ছোট উদ্যোগে বড় সাফল্য, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ভোলার সালমা

সংসারে ছিল অভাব-অনটন, স্বামীর আয়ও ছিল সীমিত। দুই সন্তান নিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সালমা বেগম। মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে সঞ্চয়, পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের খামার। পাশাপাশি করছেন কৃষিকাজও। একসময় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা সালমা এখন স্বাবলম্বী। তাঁর সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে আশপাশের নারীদের।

৩৩ বছর বয়সী সালমা বেগমের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। এসএসসি পাসের পর ২০০৭ সালে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারের টানাপোড়েনের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একসময় চাকরি শুরু করেন সালমা।

মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে পুষ্টি মাঠকর্মী হিসেবে কাজ নেন তিনি। পাশাপাশি বাড়িতে ছোট শিশুদের পড়াতেন। সংসারের খরচ মেটানোর পর নিজের উপার্জনের সামান্য অংশ সঞ্চয় করতেন। সেই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই পরবর্তী সময়ে তাঁর স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি করে।

সালমার জীবনে পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০১২ সালে। জমানো টাকা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে ১০টি হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন তিনি। এ উদ্যোগ থেকে আয় হতে শুরু করলে লাভের টাকা আবার খামারে বিনিয়োগ করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে খামারের পরিসর। হাঁস-মুরগির পাশাপাশি শুরু করেন গরু ও ছাগল পালন। একই সঙ্গে শাকসবজি চাষ ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনেও যুক্ত হন।

বর্তমানে সালমার খামারে রয়েছে প্রায় ৩৫টি হাঁস, ২৫টি মুরগি, সাতটি গরু ও ১১টি ছাগল। হাঁস-মুরগি পালন থেকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকার বিক্রি করেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার ছাগল ও সাত লাখ টাকার গরু বিক্রি করেছেন। গত বছর প্রায় ২৫০টি হাঁস বিক্রি করে আয় করেন ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

খামার পরিচালনার প্রায় সব কাজেই সরাসরি যুক্ত থাকেন সালমা। পশু-পাখির যত্ন নেওয়া, খাবারের ব্যবস্থা, খামার পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাত ও বিক্রি—সবকিছু সামলান নিজেই। তাঁর কাছে খামার এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক।

নিজের ও স্বামীর আয় থেকে নিয়মিত সঞ্চয় করে ইতোমধ্যে ১৬০ শতক জমি কিনেছেন সালমা, যা স্থানীয় হিসাবে প্রায় এক কানি। পাশাপাশি প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছেন নতুন বসতঘর। একসময় যে সংসারে অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এখন এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও স্থিতিশীলতা।

নিজের সাফল্যে থেমে থাকতে চান না সালমা। আশপাশের নারীদেরও আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, নারীরা ঘরের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন।

সালমা বেগম বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলে অল্প পুঁজি দিয়েও কাজ শুরু করা যায়। শুরুটা ছোট হলেও পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে একদিন সেটাই বড় হয়ে ওঠে।’

ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা বাড়িয়ে উদ্যোগটিকে আরও সম্প্রসারণ করতে চান তিনি। তবে নিজের স্বপ্নের কেন্দ্রে রয়েছে দুই সন্তান। তাদের লেখাপড়া করিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সালমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

সালমা বেগমের এই পথচলা দেখিয়ে দেয়, স্বাবলম্বী হতে সব সময় বড় পুঁজির প্রয়োজন হয় না। সামান্য সঞ্চয়, ছোট উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগাতে পারলে প্রতিকূলতা পেরিয়ে বদলে দেওয়া সম্ভব জীবনের গতিপথ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গাছে পেঁপে, কৃষকের চোখে লোকসানের পানি

ঝালকাঠি সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
গাছে পেঁপে, কৃষকের চোখে লোকসানের পানি

ঝালকাঠিতে পেঁপের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও ক্ষেত থেকে পাইকাররা কিনতে চাইছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক। ফলে গাছের পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। গাছে পেকে ও মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে পেঁপে। লোকসান সামলাতে না পেরে কোনো কোনো চাষি গাছ কেটেও ফেলছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ১১৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শাহী জাতসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে চাষ করেছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় এবং একই সময়ে বিপুল পরিমাণ পেঁপে বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে। এ মৌসুমে জেলায় পেঁপে উৎপাদিত হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই বাজারে দাম কমেছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পেঁপের দাম কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক গাছের পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে। গাছে পাকা পেঁপে ঝুলে থাকার পাশাপাশি মাটিতে পড়ে পচে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজার, আড়ত ও পাইকারদের কাছে কম দামে পেঁপে বিক্রি করছেন তাঁরা।

সদর উপজেলার নবগ্রাম গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করতে তাঁর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ক্ষেত থেকে পাইকাররা প্রতি কেজি পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনতে চাইছেন। এ দামে বিক্রি করলে শ্রমিকের মজুরি ও ভ্যানভাড়াও উঠবে না। তাই চোখের সামনে পেঁপে নষ্ট হতে দেখলেও তাঁর কিছু করার নেই।

উত্তর বাউকাঠি গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন ছয় বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, দাম এতটাই কম যে ক্ষেতের পরিচর্যা করতেও আর আগ্রহ পান না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পেঁপেগাছ কেটে ফেলতে বাধ্য হবেন।

কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, প্রতি কেজি পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি করে তাঁকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়ে দুই বিঘা জমির পেঁপেগাছ কেটে ফেলেছেন তিনি। বাকি দেড় বিঘা জমিতে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় সাথি ফসল চাষ করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক, বীজ ও সেচের খরচ। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পেঁপের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

চাষিরা জানান, এলাকায় পেঁপে সংরক্ষণের জন্য হিমাগার বা উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। পচনশীল ফল হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে পেঁপে সংরক্ষণ করাও কঠিন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে বাজারে দাম কম থাকার সময় পেঁপে রেখে পরে বিক্রি করা যেত। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ও লোকসান কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আলম মামুন বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁপে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমেছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে পেঁপে চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকে। তাঁদের দাবি, কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বাম্পার ফলনও কৃষকের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি