খুঁজুন
                               
, ,
           

৬০ শতাংশের বেশি মানুষের ভিটামিন ডির ঘাটতি 

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ
৬০ শতাংশের বেশি মানুষের ভিটামিন ডির ঘাটতি 

দেশের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের ভিটামিন ডির ঘাটতি আছে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। দেশে ভিটামিন ডি-স্বল্পতায় ভুগছে এমন শিশুর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অন্য বয়সী মানুষ বিশেষ করে নারী ও বয়স্করাও ভিটামিন ডি-স্বল্পতায় ভুগছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ডি এক ধরনের অণুপুষ্টি কণা বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এ কণা মানুষের সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, কিন্তু প্রতিদিনই তা দরকার। মানুষের চাহিদার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ভিটামিন ডি আসে খাদ্য থেকে; বাকি ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের উত্স সূর্যের আলো। ভিটামিন ডির ঘাটতির কারণে শিশুদের রিকেট রোগ হয়; এতে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে, শিশুর পায়ের হার বেঁকে যায়। বয়স্করা ‘অস্টিওম্যালাসিয়া’ রোগে আক্রান্ত হন। যার কারণে হাড়ে ব্যথা হয় ও মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি-এর অভাবে বয়স্ক নারী-পুরুষ ‘অস্টিওপোরোসিসে’ আক্রান্ত হন। এতে হাড় পাতলা হয়, হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এসব মানুষের উদ্বেগ ও বিষণ্নতা বেশি দেখা দেয়। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

দেশের এই বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সুষম খাবারের ঘাটতি রয়েছে। মানুষ খাবার খাচ্ছে, কিন্তু আমরা যেটাকে সুষম খাবার বলি, যেখানে— ক্যালোরি, নিউট্রিশন, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ—সবমিলিয়ে থাকবে, খাবারের সেই জায়গাটায় ঘাটতি রয়েছে। কেউ কেউ কার্বোহাইডেড বেশি খাচ্ছে, কেউ আবার প্রয়োজন মতো খাচ্ছেও না। পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে যেসব খাবার, সেখানেও ঘাটতি আছে—এটা একটা কারণ। আর একটা কারণ হচ্ছে, শরীরে খাবার ঠিকমতো শোষণ না হওয়া—একটাও একটা কারণ। তিনি বলেন, আমাদের দেশে রোদ যথেষ্ট এবং মানুষ সেই রোদের সংস্পর্শেও আসে। তবে যেসব খাবারে ভিটামিন ডি আছে সেগুলো পরিমাণ মতো না খাওয়ার কারণে ডি এর ঘাটতি বাড়ছে।

বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও এই দিকটি উপেক্ষিত রয়ে গিয়েছে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত বলে বাংলাদেশ প্রচুর রৌদ্রালোক পায়। কিন্তু তারপরেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকার পেছনে অন্যান্য ফ্যাক্টর নিশ্চয় রয়েছে। দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছে। আরেক গবেষণায় দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী এক-ছয় মাস বয়সি শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছে। শূন্য থেকে এক বছর বয়সি ৩১.৯ শতাংশ শিশুদের রক্তে ২৫ হাইড্রক্সি ভিটামিনের মাত্রা ডেফিশিয়েন্ট অর্থাৎ ২০ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটারের নিচে এবং ৫২.২ শতাংশ শিশুদের মাঝে ইনসাফিশিয়েন্ট অর্থাৎ ২০-৩০ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটার।

দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মাঝে ডেফিশিয়েন্ট এবং ইনসাফিশিয়েন্ট এর হার যথাক্রমে ৩৮.২ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ। উপরন্তু দেখা গিয়েছে, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের মাঝে এই ডেফিশিয়েন্সি ৪৬.৮ শতাংশ এবং ইনসাফিশিয়েন্সি ৫১.৯ শতাংশ। ‘বাংলাদেশি জনগণের মাঝে ভিটামিন ডি-এর অবস্থা’—নামক একটি গবেষণা বলছে, ৮৬ শতাংশ মানুষের হাইপোভিটামিনোসিস ডি রয়েছে।

কোনো অঞ্চলে জনসংখ্যার ২.৫-এর বেশি মানুষের সিরাম ২৫-এর ঘনত্ব ২৫-৩০-এর নিচে থাকলে জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম বিবেচনা করা প্রয়োজন হয় বলে পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। আর যদি সমগ্র জনগোষ্ঠী বা জনসংখ্যার উপগোষ্ঠীতে প্রকোপতা ২০ শতাংশ বা তার বেশি হয় তখন জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম গ্রহণ অপরিহার্য বলে মত দেয় সংস্থাটি। তা ছাড়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান এবং ফিনল্যান্ডে খাদ্যে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

ভারত ২০১৮ সাল থেকে ভোজ্যতেলসহ ৫টি খাদ্যপণ্যে ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ করেছে। ফিনল্যান্ড ২০০৩ সালে তা শুরু করে। আর বাংলাদেশে ২০১৩ সালে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন ও ২০১৫ সালে বিধিমালা তৈরি করে। সেখানে সয়াবিন, পামতেল ও সকল ধরনের উদ্ভিজ্জ ভোজ্যতেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজন ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ।

কালের আলো/এম/এএইচ

অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি মানবিক বাংলাদেশ। অর্থের অভাবে কোনো মানুষ চিকিৎসাবঞ্চিত হবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নেই নয়, সার্বিক উন্নয়নেও বদ্ধপরিকর। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, সমাজে বসবাসরত মূক ও বধির ব্যক্তিদেরও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে মন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত অডিটরি ভারবাল থেরাপি (এভিটি) সেন্টারের উদ্বোধন করেন। জন্মগতভাবে বা পরবর্তী সময়ে শ্রবণশক্তি হারানো এবং অন্য কোনো উপায়ে যাদের শ্রবণক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তাদের ব্যয়বহুল কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেশন করা হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এভিটি সেন্টারে থেরাপির মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ধরনের সেবা বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হেড অ্যান্ড নেক–সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনুদানের চেক ও চিকিৎসাসহায়ক বিভিন্ন ডিভাইস বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হেড অ্যান্ড নেক সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ সুপারিশ বাপার

সরকারের কাছে সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারসহ ১৪ দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কাছে স্মারকলিপিটি পেশ করেন বাপার নেতারা। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও উপস্থিত ছিলেন। বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সহসভাপতি খুশি কবির, মহিদুল হক খান ও অধ্যাপক ড. এম. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক ড. হালিম দাদ খান, এস এম মিজানুর রহমান এবং খন্দকার আজিজুল হক মনিও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাপার নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাপার পক্ষ থেকে দেশের নদ-নদীতে মেগা প্রকল্পের ফলে নদীর আকার-প্রকৃতির পরিবর্তন, স্লুইসগেটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা, ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর বর্তমান বাস্তব চিত্র, বুড়িগঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ, বড়াল নদী ও চলনবিলের মাছ, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের সমস্যা, বিল হরিণা ও ভবদহের দুর্ভোগ, নদ-নদীতে বাঁধ বা পোল্ডারের অপ্রয়োজনীয়তা, দেশের হাওরগুলোর সমস্যা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন বাপার নেতারা।

মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, সরকারের একার পক্ষে কোনোভাবেই পরিবেশ ও নদী রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজ বিষয়ে সরকারের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাপার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় চলনবিলের পদ্মা-যমুনা ও অভ্যন্তরীণ নদীপথের একমাত্র পতিতমুখ বন্ধ করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিবর্তে অন্যত্র করার বিষয়ে চিন্তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা স্মারকলিপিতে যেসব সুপারিশ করা হয়—

১) নদ-নদীর প্রতি উন্মুক্ত নীতিকে সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করবেন; প্লাবনভূমিতে নদ-নদীর আসা-যাওয়ার পথে ইতিমধ্যে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেবেন; এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের নতুন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবেন।

২) উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) অধীনে উপকূলের পোল্ডারগুলোর বাঁধ আরও নিশ্ছিদ্র করার পরিবর্তে সেগুলোকে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে পোল্ডারের মধ্যে বর্ষাকালে পলিযুক্ত পানি প্রবেশ করতে পারে এবং পলিপতনের মাধ্যমে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত নিমজ্জনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৩) দেশের অভ্যন্তরে যেসব পোল্ডার নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর বাঁধও ক্রমান্বয়ে অষ্টমাসী বাঁধে রূপান্তরের নির্দেশ দেবেন, যাতে বর্ষাকালে নদীর পানি পোল্ডারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং বর্ষা শেষে আবার নদীতে ফিরে যেতে পারে। এর ফলে পোল্ডারের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। এ ধারায় অগ্রসর হয়ে ভবদহসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা কার্যকরভাবে নিরসন করবেন।

৪) পোল্ডারের সঙ্গে সম্পর্কহীনভাবে দেশের নদ-নদীর ওপর যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমন—স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট, রেগুলেটর, প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সংকীর্ণ সেতু ও কালভার্ট—সেগুলো অপসারণ করে নদ-নদীর প্রবাহ বাধাহীন করার নির্দেশ দেবেন।

৫) সিএস মানচিত্র অনুযায়ী দেশের সব নদ-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার করবেন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

৬) গঙ্গা ও যমুনার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী চলনবিলের প্রধান নদী বড়ালকে অবমুক্ত করার অর্ধসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আশু পদক্ষেপ নেবেন।

৭) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যেসব নদী ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে মহেশখালীর কোহেলিয়া অন্যতম, সেগুলো পুনরুদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

৮) নদ-নদী ও জলাশয়কে আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত করার বর্তমান প্রবণতা রোধ করবেন এবং হবিগঞ্জের সুতাং, ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ, কক্সবাজারের বাঁকখালী, খুলনার ময়ূরসহ দেশের সব নদ-নদীকে দূষণমুক্ত করবেন।

৯) নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে নদ-নদীর পাড়ভাঙন রোধ এবং পাড় স্থিতিশীল করাকে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হিসেবে গ্রহণ করবেন। সে লক্ষ্যে জিওব্যাগ পদ্ধতিসহ দেশীয় বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহারের ভিত্তিতে অগ্রসর হবেন।

১০) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে শক্তিশালী করবেন এবং নদ-নদীকে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

১১) আন্তর্জাতিক নদ-নদীর ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও অধিকার আদায়ে জোরালো পদক্ষেপ নেবেন এবং গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে ৫ ও ৬ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত যথাক্রমে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কীভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং সফল চুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে যা করতে হবে শীর্ষক নিবন্ধে উপস্থাপিত বিভিন্ন পরামর্শ বিবেচনায় নিতে পারেন।

১২) তিস্তা নদীর সংকট সমাধানে বিদেশি কোম্পানির প্রস্তুত করা প্রকল্পের পরিবর্তে দেশীয় পারদর্শিতা, দেশীয় প্রযুক্তি, দেশীয় অর্থায়ন ও উন্মুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষ ও দেশবাসীর সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করবেন।

১৩) গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে জাতীয় পর্যায়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেবেন এবং বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচে ১২ থেকে ১৪ মিটার উচ্চতায় পৌঁছানো সত্ত্বেও কেন তা গড়াই-মধুমতি, বড়াল ও অন্যান্য শাখানদীতে প্রবেশ করছে না, তা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা বাধা হিসেবে কাজ করছে, সেগুলো অপসারণে পাউবোকে নির্দেশ দেবেন। কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে গঙ্গার পানি শাখানদীগুলোতে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়ার অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হলে প্রস্তাবিত গঙ্গা/পদ্মা ব্যারাজ সম্পর্কে আরও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

১৪) উপর্যুক্ত ধারায় আপনার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি বাপার সমর্থন থাকবে এবং বাপা সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশ-মালদ্বীপের সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-মালদ্বীপের সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার

মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে মালদ্বীপ সফর শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এটি ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রথম সরকারি মালদ্বীপ সফর। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া তিনি মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরুথিশাম আদমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ, পর্যটন, শ্রম, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও তারা আলোচনা করেন। পাশাপাশি বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সফরের অংশ হিসেবে ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরুথিশাম আদমের আয়োজিত ডিপ্লোম্যাটিক আউটরিচ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং রাজধানী মালের রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজেও অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু কার্যক্রমে দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরুথিশাম আদম এবং পরিবেশমন্ত্রী আলী শরীফের সঙ্গে লোনুজিয়ারাই পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর উদ্যোগে গৃহীত ‘পাঁচ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-এর অংশ। অনুষ্ঠানে পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের অভিন্ন অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

মালদ্বীপ সফর শেষে ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে বিদায় জানান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ ফাহমি হাসান এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি