খুঁজুন
                               
, ,
           

উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত নেই : শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত নেই : শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এখন পর্যন্ত উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সরকার এবং মন্ত্রাণলয়ের সিদ্ধান্তে আমরা প্রশাসক যেগুলোতে দিয়েছি এবং যেগুলোতে ইউএনও ও এসি ল্যান্ড প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে দেব। সেই নির্বাচনে যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে, তারাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের শাহজাহানপুর ইউনিয়নে একটি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বাতিল করে দিয়েছে। সেই বাতিলের সাথে আরেকটি জিনিস বাতিল করেছে যা হলো বিগত ফ্যাসিস্ট সরকাররের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে বা জাতীয় প্রতীকে হতো, এই প্রতীকটাও তারা বাতিল করে দিয়েছে। সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যাপারে তারা অধ্যাদেশে মান্ডেটটি রেখেছে। প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের উপস্থাপিত হয়েছে এবং সেগুলোকে আইন আকারে পাস করার জন্য বিশেষ কমিটি কাজ করছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ অধ্যাদেশ রয়েছে। যেখানে জাতীয় প্রতীক ছাড়া সাধারণ প্রতীকে নির্বাচন হবে। এই পার্লামেন্টে মাননীয় সংসদ সদস্যরা যদি এটি আইন আকারে পাস করেন, তাহলে আইন মন্ত্রণালয় হয়ে আমাদের মন্ত্রাণলয়ে যাবে। তখন নির্বাচনের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করবে।

এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মুসাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগর অতিরিক্ত সচিবকে ( উন্নয়ন অনুবিভাগ) আহ্বায়ক ও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এগিয়ে নিতে বার্ডোর পাশে থাকবে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মোঃ শামসুল আলম খান, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এগিয়ে নিতে বার্ডোর পাশে থাকবে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন ও উন্নয়নে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, এমপি। তিনি বলেছেন, বার্ডোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) “দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন” এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বার্ডোর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “বার্ডোর উন্নয়নে যা যা করণীয়, আমি আমার পক্ষ থেকে তা করব। আমি যেখানে থাকি না কেন, আমি বার্ডোর সঙ্গে আছি।”

বার্ডোর অত্যাধুনিক ডিজিটাল ব্রেইল প্রেস স্থাপনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি স্থাপন করা হলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত মো. সাইদুল হক। এতে বার্ডোর কার্যনির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা এবং বার্ডো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত কর্মশালা ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব (গ্রেড-২) মো. কামরুজ্জামান (দুলাল), সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রম অধিশাখার পরিচালক মোস্তফা মোস্তাকুর রহিম খান এবং সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাসুদুল আলম, শাহিনা আউয়াল, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও লেখিকা নাঈমা সুলতানা, বার্ডোর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, মো. এরশাদ আলী, আবদুল মান্নান, আজমেরী খানম নিশাত, শাহরিয়া শাহাব পিংকীসহ বার্ডোর সাধারণ পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্ডোর সাধারণ পরিষদের সদস্য মো. এরশাদ আলী এবং বার্ডোর উপব্যবস্থাপক ফিরোজা খাতুন। তাঁরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন, নিরাপদ চলাচল এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বার্ডোর কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বার্ডোর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতির বক্তব্যে বার্ডোর সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোশাররফ হোসেন মজুমদার বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে সাদাছড়ির পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে মানবসম্পদকেও কাজে লাগানো হয়।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের মনোবল বৃদ্ধি, সাদাছড়ি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাদাছড়ির ব্যবহার ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের মূল লক্ষ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। দিবসটি উপলক্ষ্যে বার্ডোর এ আয়োজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে 

পে-স্কেলে জট

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
পে-স্কেলে জট

নতুন বেতনকাঠামো ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা ছিল বেতন বাড়বে, বৈষম্য কমবে, আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরালো হবে। কিন্তু বাস্তবায়নের শুরুতেই দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। কোথাও গ্রেডের ক্রমে অসংগতি, কোথাও পদোন্নতির পর বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে জটিলতা, আবার কোথাও উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণে তৈরি হয়েছে নতুন বৈষম্যের আশঙ্কা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস-এর জটিলতা। ফলে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিশ্চয়তা কাটছে না।

  • বেতন নির্ধারণ শেষ হয়নি সবার; বাড়ছে ভোগান্তি
  • অনেকে আপাতত পুরোনো কাঠামোয়ই বেতন পাবেন
  • গ্রেড, পদোন্নতি ও উচ্চতর বেতনের হিসাবে অসংগতি; সমাধান চান চাকরিজীবীরা

আগামী রোববার বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও সবার জন্য সেই সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যাঁদের নতুন বেতন নির্ধারণ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না, তাঁদের আপাতত পুরোনো কাঠামোয় বেতন দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সময়েই একদল চাকরিজীবী বাড়তি অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন, অন্যদের অপেক্ষা করতে হবে হিসাবের জট খুলতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এত বিপুলসংখ্যক সুবিধাভোগীর হিসাব নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই গ্রেড, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও ভাতার নিয়ম নিয়ে অসংগতি দূর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

গ্রেডে পিছিয়ে, বেতনে এগিয়ে জুনিয়র
নতুন বেতন নির্ধারণে গ্রেডের ক্রম অনুযায়ী অসংগতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা, আর ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন দাঁড়াচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা, আর ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। এমন হিসাব কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রেডের অবস্থান অনুযায়ী বেতনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত না হলে একই ধরনের চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে। তবে এই অসংগতি কতটা বিস্তৃত এবং কোন নিয়মের প্রয়োগে তা তৈরি হচ্ছে, তা যাচাই করে সংশোধন করা জরুরি।

পদোন্নতি পেলেই কি কমবে আয়?
নতুন কাঠামোর আরেকটি উদ্বেগ বাড়িভাড়া ভাতা। কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর কারও মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ হাজার টাকা হতে পারে। কিন্তু বাড়িভাড়া ভাতার হার ৫০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশে নেমে এলে এ খাতে অর্থ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতা কমতে পারে ১ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যেতে পারে।

উচ্চতর গ্রেডেও বৈষম্যের শঙ্কা
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময়সীমা নিয়েও আপত্তি রয়েছে। কর্মচারীদের আশঙ্কা, চাকরির মেয়াদ ও জ্যেষ্ঠতার পার্থক্য যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মচারীর বেতন একই পর্যায়ে চলে আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মচারীর বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর বেতনকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দাবি, উচ্চতর গ্রেডের শর্ত, চাকরির মেয়াদ গণনা এবং পদোন্নতির প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। অন্যথায় পুরোনো অসংগতি দূর করতে গিয়ে নতুন বেতনবৈষম্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

আইবাস-এ আটকে বেতন নির্ধারণ
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির পর ৫ অক্টোবর থেকে আইবাস ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণ শুরু হয়। কিন্তু নতুন নিয়ম প্রয়োগে জটিলতা ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতির কারণে অনেকের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত এসব আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জটিলতা ১ নভেম্বরের আগে সমাধান করা কঠিন হতে পারে বলেও জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে সমাধানের উদ্যোগ চললেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবার বেতন হিসাব শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

প্রথম ধাপে মিলবে আংশিক সুবিধা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা ৪০ শতাংশ পাওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে এই সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু বেতন নির্ধারণের জটিলতা দূর না হলে ঘোষিত সুবিধা বাস্তবে পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। পুরোনো কাঠামোয় সাময়িকভাবে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও নতুন কাঠামোর পাওনা কীভাবে ও কখন সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চাকরিজীবীদের উদ্বেগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/আরআই/এমকে

মোটরযান থেকে উচ্চগতির রেল, জাপানি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
মোটরযান থেকে উচ্চগতির রেল, জাপানি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাতগুলো হলো মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকালে টোকিওর জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার (জেট্রো) হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

৩০–৫০ বছরের অংশীদারত্ব গড়ার আহ্বান

তারেক রহমান বলেন, আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানকে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম। ফলে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পকারখানা স্থাপন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপান্তরের সময় এসেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি। এর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণ শ্রমশক্তি ও বড় বাজারে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের বাজার ও শ্রমশক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, গড়ে ২৭ বছর বয়সী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জাপানি কোম্পানিগুলো উৎপাদন, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোটরযান উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ

মোটরযান উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে টয়োটা বাংলাদেশে একটি যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি এ খাতে অন্য জাপানি কোম্পানিগুলোরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জ্বালানি খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনায় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রে জাপানের জ্বালানি কোম্পানি জেরা (জেইআরএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

প্রযুক্তি, মহাকাশ ও স্যাটেলাইটে সহযোগিতা

মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। এসব ক্ষেত্রে জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান করতে চায় বাংলাদেশ।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শিল্প সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ছয় প্রধান শহরকে যুক্ত করে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা

রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তা চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রস্তাবিত রেল নেটওয়ার্কের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়। এসব কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ খাতের সম্ভাবনা যাচাই করতে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। সেখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় জাপানি কোম্পানিগুলোর উদ্বেগের বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ছাড় ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কথা সরকার শুনেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁদের আস্থা অর্জন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং বিনিয়োগের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।

জাপানি ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব

দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের জন্য জাপানে যান। পরে দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।

এ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি লাখ লাখ তরুণকে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা দুই দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যৌথ বিনিয়োগ ও সহযোগিতার প্রত্যাশা

বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের যৌথ অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান পাশে ছিল। এখন শিল্পায়ন ও নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তরের সময় এসেছে।

এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুযোগ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জেট্রো এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা। এ সময় সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজ করতে গৃহীত সংস্কার ও নতুন উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি