খুঁজুন
                               
, ,
           

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব করেছে সরকারি দল, দাবি জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব করেছে সরকারি দল, দাবি জামায়াতের

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য ক্ষমতাসীন তথা সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদের বিশেষ কমিটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে, এমন দাবি করেছে সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াত।

বিরোধী দলীয় হুইপ ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বিএনপির আপত্তির কারণে বুধবার অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মুলতবি বৈঠক শেষে সংসদ গেটে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

রফিকুল ইসলাম খান জানান, বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ১১৫টি সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছে সরকারি দল ও বিরোধী দল। গণভোট, দুদক কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশসহ ১৮টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনো একমত হওয়া যায়নি।

জামায়াতের দাবি, সার্চ কমিটি বাতিল করে দুদক ও পুলিশ প্রশাসনে সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ‘জুলাই বিপ্লবের’ চেতনার পরিপন্থি।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট বিল রহিত করার যে প্রস্তাব সরকার এনেছে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করেছি। গণভোট অস্বীকার করলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাই আর থাকে না।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগে এতদিন একটি সিস্টেম বা সার্চ কমিটি ছিল। কিন্তু এখনকার প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে সেই সার্চ কমিটি বাদ দিয়ে সরকার যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নিতে চাচ্ছে। একইভাবে পুলিশ কমিশনার এবং আইজিপি নিয়োগেও পেশাদারত্বের চেয়ে সরকারের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা বলেছি, এটি জুলাই চেতনার পরিপন্থি এবং আমরা এতে একমত হইনি।

সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, টু-থার্ড মেজরিটির দোহাই দিয়ে অতীতের সরকার অনেক কিছু করেছে। কিন্তু অহংকার কোনো জাতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। জনগণের স্বার্থ পরিপন্থি কোনো বিষয়ে আমরা একমত হবো না। যে সংস্কার ও বিচারের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার এসেছিল—গুম কমিশন বা মানবাধিকার কমিশনের মতো সেই অর্জনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি জানান, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি, সেগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ আবারও আলোচনা হবে। এরপর ২ অক্টোবর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোনো আইন বেআইনি কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবে। কিন্তু সচল কোনো আইন বা অধ্যাদেশকে একতরফা বাতিল করার প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করিনি

কালের আলো/এসাআর/এএএন 

গ্রিনল্যান্ডে নতুন ২ সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ডে নতুন ২ সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি নতুন চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে স্নায়ুযুদ্ধের আমলের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু এবং পূর্ব উপকূলের একটি ঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হতে যাওয়া দুইটি এলাকা হলো, নার্সারসুয়াক (Narsarsuaq) এবং মেস্টারসভিগ (Mestersvig)। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ব্লু ওয়েস্ট ওয়ান’ (Bluie West One) সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার পর নার্সারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে এসে ঠেকেছে। অন্যদিকে, মেস্টারসভিগ হলো একটি সামরিক আউটপোস্ট, যা বর্তমানে ডেনমার্কের স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড পেট্রোল’ (Sirius Dog Sled Patrol) ব্যবহার করে আসছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত আড়াইটায়) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির মূল পাঠ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত চূড়ান্ত নয়।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডেনমার্ক জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্কের ওপর না ছেড়ে বরং উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটোর (NATO) নজরদারির অধীনে আনা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বায়ত্তশাসিত এই ড্যানিশ ভূখণ্ড অধিগ্রহণের জন্য সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও একসময় উড়িয়ে দেননি তিনি। ট্রাম্পের এই হুমকি গত জানুয়ারিতে চরমে পৌঁছায়, যার ফলে ন্যাটোর ভেতরে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের ওপর থেকে চাপ কমাতে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য, স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল। তবে বর্তমানে সেখানে কেবল ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ (Pituffik Space Base) টিকে আছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ