খুঁজুন
                               
, ,
           

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত হয়েছেন এক ইসরায়েলি সেনা। ওই একই হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। রোববার (২৯ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

নিহত সেনার নাম সার্জেন্ট মোসে ইয়েজাক হাকোহেন কাৎজ। ২২ বছর বয়সী এ সেনা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের ৮৯০তম ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধ করলেও তার আসল ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের নিউ হ্যাভেনে।

আহত তিন সেনার অবস্থা মাঝারি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাাহিনী। তাদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, একই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিহিত করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর কয়েকদিন পর এ যুদ্ধে যোগ দেয় হিজবুল্লাহ। এরপর লেবানের দক্ষিণাঞ্চল দখলের পরিকল্পনা হাতে নেয় ইসরায়েল। এর অংশ হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের সেনা পাঠাচ্ছে তারা।

আর এসব সেনার ওপর অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালাচ্ছে তারা।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যুদ্ধ চালাবে ততদিন তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা অব্যাহত রাখবে।

এরআগে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল হিজবুল্লাহ। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতি হয়। তা সত্ত্বেও লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে শত শতবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ এসবের জবাব না দিলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার তারা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পুকুর থেকে বঙ্গোপসাগর, মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতার ডাক বিজিবি মহাপরিচালকের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
পুকুর থেকে বঙ্গোপসাগর, মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতার ডাক বিজিবি মহাপরিচালকের

মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্বনির্ভরতার ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানেই মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তাঁর মতে, মাছ চাষের জন্য বড় জলাশয়ের অপেক্ষায় থাকার প্রয়োজন নেই; ছোট পুকুর ও অন্যান্য উপযুক্ত জলাশয়ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় উৎপাদনে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হল সংলগ্ন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজিবি মহাপরিচালক।

উৎপাদন বাড়াতে চাই সর্বস্তরের অংশগ্রহণ
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দেশের মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বস্তরে মাছ চাষ ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—যেখানে মাছ চাষের উপযোগী জলাশয় রয়েছে, সেগুলোকে উৎপাদনমুখী কাজে লাগাতে হবে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত মৎস্য উৎপাদনকে শুধু পেশা বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড হিসেবে নয়, বরং খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় খাত হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

মিঠাপানির মাছে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, সামনে প্রথম হওয়ার সম্ভাবনা
বিজিবি মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে এ খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতকে আরও পরিকল্পিত ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদও যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বড় জলাশয় নয়, পরিকল্পনাই হতে পারে মূল শক্তি
মাছ চাষের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণা—বড় পুকুর বা জলাশয় না থাকলে উৎপাদন সম্ভব নয়—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও এসেছে বিজিবি মহাপরিচালকের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ছোট পুকুরসহ বিভিন্ন উপযুক্ত জলাশয়েও নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা সম্ভব। এর ফলে দেশের অসংখ্য ছোট ও অব্যবহৃত জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বহুমাত্রিক সুফলের কথাও তুলে ধরেন বিজিবি মহাপরিচালক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উৎপাদন বাড়লে একদিকে মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও মৎস্য খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। অর্থাৎ, মাছ চাষকে কেবল খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত না রেখে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অব্যবহৃত বা স্বল্প ব্যবহৃত জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

বিজিবির জলাশয়গুলোও হবে উৎপাদনমুখী
সরকারের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগকে সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক। একই সঙ্গে বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা ও ইউনিটে থাকা পুকুর ও জলাশয়গুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করে মাছ চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিজিবির নিজস্ব জলাশয়গুলোকে একদিকে যেমন উৎপাদনমুখী সম্পদে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যদের মধ্যেও মাছ চাষ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।

দুই সপ্তাহের কর্মসূচিতে পোনা অবমুক্তকরণ ও সচেতনতা
মাছের পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা ও ইউনিটে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধকরণ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ—সমন্বিত উদ্যোগই বড় চ্যালেঞ্জ
বিজিবি মহাপরিচালকের বক্তব্যে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সামনে থাকা সম্ভাবনা ও করণীয়—দুই দিকই স্পষ্ট হয়েছে। দেশের মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে শক্ত অবস্থান থাকলেও ভবিষ্যতে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার, আধুনিক চাষপদ্ধতি, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পোনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় আনার যে আহ্বান এসেছে, তা বাস্তবায়িত হলে মৎস্য উৎপাদনকে আরও বিকেন্দ্রীভূত করা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জলাশয় ব্যবহারের উদ্যোগ সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে। সব মিলিয়ে, ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কেবল পোনা অবমুক্ত করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি অব্যবহৃত জলাশয়কে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো এবং জাতীয় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি কার্যকর বার্তা বহন করছে। মিঠাপানির মাছের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের মৎস্য খাত ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার আরও শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

কোনাক্রিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০, নিখোঁজ আরও অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
কোনাক্রিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০, নিখোঁজ আরও অনেকে

গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ভারী বৃষ্টির পর বিশাল আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টার দিকে দার-এস-সালাম এলাকার একটি বড় বর্জ্য ফেলার স্থানে এ ধসের ঘটনা ঘটে। আবর্জনার বিশাল স্তূপ আশপাশের কয়েকটি বাড়ির ওপর গিয়ে পড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে গিনির সরকার।

নিখোঁজদের উদ্ধারে সামরিক বাহিনীসহ বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। খননযন্ত্র ব্যবহার করে আবর্জনা সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দারাও ভিড় করেছেন।

এক স্থানীয় নারী জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তাঁর পাঁচ সন্তান মারা গেছে। এলাকার নেতা লানসিনে সিল্লার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার অভিযান তদারক করছেন গিনির প্রধানমন্ত্রী মামাদু উরি বাহ।

দার-এস-সালামের এই বর্জ্য ফেলার স্থানটিতে এর আগেও প্রাণঘাতী ধসের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে একই স্থানে আবর্জনার স্তূপ ধসে ১০ জন নিহত হয়েছিলেন।

এবারের দুর্ঘটনা আবারও কোনাক্রির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে জাপানে ধান গবেষণা, বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে জাপানে ধান গবেষণা, বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত, মহামারি ও কৃষিশ্রমিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খাদ্য আমদানিনির্ভর শিল্পোন্নত দেশ জাপানও এর বাইরে নয়। দেশটির অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন ক্যালরির হিসাবে মোট চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ। জনসংখ্যা কমে যাওয়া, কৃষিশ্রমিকদের বার্ধক্য এবং নতুন কর্মীর ঘাটতি দেশটির কৃষি খাতের সংকট আরও বাড়াচ্ছে।

তবে ধান উৎপাদনে জাপানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। দেশটির ধানের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করে। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদনের ভিত্তি ধরে রাখার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছে দেশটি।

সম্প্রতি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বিদেশি সাংবাদিকদের একটি দল দেশটির অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন অঞ্চল তোহোকুর ইয়ামাগাতা জেলা পরিদর্শন করে। সেখানে টেকসই কৃষি, নতুন ধানের জাত ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি নিয়ে চলমান গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

মিদোরি কৌশলে পরিবেশবান্ধব কৃষি

জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় ২০২১ সালে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘মিদোরি কৌশল’ গ্রহণ করে। ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি খাতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানো, রাসায়নিক কীটনাশকের ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানো এবং মোট কৃষিজমির ২৫ শতাংশে জৈব চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে এ কৌশলে।

এ নীতি বাস্তবায়নে ২০২২ সালে ‘মিদোরি আইন’ কার্যকর করা হয়। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জন্য কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও করছাড় দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি উৎপাদক এ সুবিধা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এ ছাড়া কৃষি খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর স্বীকৃতি হিসেবে চালু হয়েছে ‘জে-ক্রেডিট’ ব্যবস্থা। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে খাদ্যপণ্যে পরিবেশগত লেবেলিংও চালু করেছে জাপান।

সোনাই সমভূমিতে ধান গবেষণা

ইয়ামাগাতা জেলার সোনাই সমভূমি জাপানের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন এলাকা। পাহাড় থেকে নেমে আসা খনিজসমৃদ্ধ পানি, পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়া এ অঞ্চলের ধান চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

সুরুওকা শহরের ইয়ামাগাতা সমন্বিত কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ধান প্রজনন ও শস্যবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন ধরে নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রতিষ্ঠানটি ১৩০টির বেশি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে হায়েনুকি, সুইয়াহিমে, ইউকিওয়াকামারু ও ইয়ামাগাতামোচি-১২৮ উল্লেখযোগ্য।

গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক রেইকো নাকাবা জানান, বর্তমানে ধান গবেষণায় চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—স্বাদ ও গুণমান ধরে রাখা, ফলন বাড়ানো, উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নির্বাচন।

গরম সহনশীল নতুন জাত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধান চাষের মৌসুমে তাপমাত্রা বাড়ছে। ২০২৩ সালে ইয়ামাগাতায় ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার সময় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এতে উন্নতমানের ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এর পর থেকে উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘ইউকিমানতেন’ নামে একটি উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাতের উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক চাষ চলছে। ২০২৭ সালে জাতটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ধানখেতে পানি ব্যবস্থাপনায় কমছে মিথেন

ধান উৎপাদনে পরিবেশগত ক্ষতি কমাতেও জাপানে নানা প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ বা AWD পদ্ধতি। এতে ধানখেত সব সময় পানিতে ডুবিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট সময় পর পানি বের করে মাটি শুকানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পরে আবার খেতে পানি দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতিতে পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণও কমানো সম্ভব। গবেষণা অনুযায়ী, ফলন অক্ষুণ্ন রেখে AWD ব্যবহারে মিথেন নিঃসরণ সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

জাপানের সহযোগিতায় ফিলিপাইনসহ কয়েকটি আসিয়ান দেশেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এ প্রযুক্তি প্রয়োগে জাপানের আগ্রহ রয়েছে।

জিনোম প্রযুক্তিতেও গুরুত্ব

ধানের স্বাদ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও অন্যান্য কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য দ্রুত শনাক্ত করতে গবেষকেরা ডিএনএ মার্কার ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন জাতের মধ্যে ক্রস-ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নতুন জাত উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ইয়ামাগাতার গবেষকেরা এমন জাতও উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন, যেগুলো বিদ্যমান জাতগুলোর আগে বা পরে কাটা যাবে। এতে বড় জমিতে সীমিত শ্রমিক দিয়ে ধান চাষ ও ফসল কাটার সময় ভাগ করে নেওয়া সহজ হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে রেইকো নাকাবা জানান, ইয়ামাগাতা গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বর্তমানে কোনো যৌথ প্রকল্প নেই। তবে বিভিন্ন দেশের ধান গবেষণা সম্পর্কে তাঁরা অবগত।

জাপানের ইয়ামাগাতার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা শুধু বেশি ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে না। জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত, স্মার্ট কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং কৃষিশ্রমিকের ঘাটতি মোকাবিলার সমন্বিত উদ্যোগই হয়ে উঠতে পারে টেকসই ধান উৎপাদনের ভিত্তি। বাংলাদেশের মতো ধাননির্ভর দেশগুলোর জন্যও এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

কালের আলো/এসএ