খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

১১০ কোটি টাকা ভর্তুকি পায়নি আলুচাষিরা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
১১০ কোটি টাকা ভর্তুকি পায়নি আলুচাষিরা

গত বছর আলু দামে ধস নামায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন। এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় আলুচাষিদের জন্য নিয়মিত বরাদ্দের পাশাপাশি ১১০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কৃষক এই ভর্তুকির সুবিধা পায়নি। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।

একই সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছিল ৫০ হাজার টন আলু কিনবে, যা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা ছিল। পরে এই আলু আর কেনা হয়নি। যে কারণে নতুন আলু উঠলেও এখনো কোল্ড স্টোরেজগুলোতে গত বছরের পুরনো আলুও রয়ে গেছে।

এদিকে গত ১৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে কৃষকদের এ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে বৃষ্টিতে যেসব অঞ্চলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের আলু কিনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করার একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সব সমস্যা নিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানে কৃষকের আলুর দাম না পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতি সময়ে হওয়া বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের আলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ত্রাণে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করছি কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে। কার্ড বাস্তবায়ন হয়ে গেলে, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কৃষকের হাতে প্রণোদনা দ্রুত পৌঁছে দিতে পারব। শুধু তাই নয়, কৃষকের যাবতীয় সহযোগিতা ও প্রয়োজন মিটবে এই কার্ড দিয়ে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়, যা তার আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি ছিল। সে সময় আলু উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ টন। এর মধ্যে দেশে খাবার আলুর চাহিদা রয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকাসহ অতিরিক্ত উৎপাদিত আলুর ব্যবস্থাপনা ঘাটতি থাকায় আলুর দাম পাননি কৃষক। এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও রংপুর অঞ্চলের সাম্প্রতিক বৃষ্টি কিছু আলুর ক্ষতি করেছে, যা মোট উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘আলু উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। তা না হলে কৃষক আলুতে লাভ করতে পারবেন না। এ ছাড়া উৎপাদন ধরে রাখতে সরকারকে আলুচাষিদের ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।’

কালের আলো/এম/এএইচ

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের সেবা ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে গভীর রাতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মমন্ত্রী হজক্যাম্পে প্রবেশ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানতে চান।

হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী।

হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজক্যাম্প ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসএকে

‘অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছিলেন বলে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল’ জয়নুল আবদিন ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
‘অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছিলেন বলে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল’ জয়নুল আবদিন ফারুক

গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জিয়ার মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের শান্তি, উন্নয়ন ও স্বাধীনভাবে চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফারুক বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সীমান্তে হত্যা, পানির অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি সব সময় জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে দলটি বর্তমান অবস্থানে এসেছে।

কালের আলো/এসএকে