১১০ কোটি টাকা ভর্তুকি পায়নি আলুচাষিরা
গত বছর আলু দামে ধস নামায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন। এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় আলুচাষিদের জন্য নিয়মিত বরাদ্দের পাশাপাশি ১১০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কৃষক এই ভর্তুকির সুবিধা পায়নি। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।
একই সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছিল ৫০ হাজার টন আলু কিনবে, যা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা ছিল। পরে এই আলু আর কেনা হয়নি। যে কারণে নতুন আলু উঠলেও এখনো কোল্ড স্টোরেজগুলোতে গত বছরের পুরনো আলুও রয়ে গেছে।
এদিকে গত ১৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে কৃষকদের এ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে বৃষ্টিতে যেসব অঞ্চলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের আলু কিনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করার একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সব সমস্যা নিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানে কৃষকের আলুর দাম না পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতি সময়ে হওয়া বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের আলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ত্রাণে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করছি কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে। কার্ড বাস্তবায়ন হয়ে গেলে, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কৃষকের হাতে প্রণোদনা দ্রুত পৌঁছে দিতে পারব। শুধু তাই নয়, কৃষকের যাবতীয় সহযোগিতা ও প্রয়োজন মিটবে এই কার্ড দিয়ে।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়, যা তার আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি ছিল। সে সময় আলু উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ টন। এর মধ্যে দেশে খাবার আলুর চাহিদা রয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকাসহ অতিরিক্ত উৎপাদিত আলুর ব্যবস্থাপনা ঘাটতি থাকায় আলুর দাম পাননি কৃষক। এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও রংপুর অঞ্চলের সাম্প্রতিক বৃষ্টি কিছু আলুর ক্ষতি করেছে, যা মোট উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘আলু উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। তা না হলে কৃষক আলুতে লাভ করতে পারবেন না। এ ছাড়া উৎপাদন ধরে রাখতে সরকারকে আলুচাষিদের ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।’
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array