খুঁজুন
                               
, ,
           

শিক্ষকরা জাতির ‘প্র্যাকটিক্যাল ডক্টর’: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষকরা জাতির ‘প্র্যাকটিক্যাল ডক্টর’: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকেরা হচ্ছেন জাতির ‘প্র্যাকটিক্যাল ডক্টর’, যারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

রবিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) আয়োজিত নতুন জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান কোনো ব্যক্তি বা সরকারের একক এজেন্ডা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করে তাদের গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বছরের শেষেই পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করলেও পাবলিক পরীক্ষাগুলো পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে কার্যকর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকে যেন লিখিতভাবে তাঁদের সুপারিশ জমা দেন। এতে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও উন্নত ও সময়োপযোগী করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষা খাতকে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিটি ভালো ফলাফল সাদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষককে দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষকদের সম্মিলিত ও গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নায়েমের মহাপরিচালক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হকসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শামা ওবায়েদ

বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগরে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সন্ধ্যায় রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাঁদের খোঁজখবর নেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিগত ১৭ বছরে দেশের মানুষ কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উৎসব উদ্‌যাপন করছেন। এটাই বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য ও মাধুর্য।

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের কাছে বিগত সরকারের সময়ের বরাদ্দের সঙ্গে বর্তমান সরকারের বরাদ্দের তুলনা জানতে চান। এ বছর তাঁরা আগের তুলনায় বেশি সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ইতিবাচক সাড়া দেন।

পরিদর্শনকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মিয়াজী, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া নগরকান্দা উপজেলা ও রামনগর ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ছোট উদ্যোগে বড় সাফল্য, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ভোলার সালমা

ভোলা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
ছোট উদ্যোগে বড় সাফল্য, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ভোলার সালমা

সংসারে ছিল অভাব-অনটন, স্বামীর আয়ও ছিল সীমিত। দুই সন্তান নিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সালমা বেগম। মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে সঞ্চয়, পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের খামার। পাশাপাশি করছেন কৃষিকাজও। একসময় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা সালমা এখন স্বাবলম্বী। তাঁর সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে আশপাশের নারীদের।

৩৩ বছর বয়সী সালমা বেগমের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। এসএসসি পাসের পর ২০০৭ সালে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারের টানাপোড়েনের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একসময় চাকরি শুরু করেন সালমা।

মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে পুষ্টি মাঠকর্মী হিসেবে কাজ নেন তিনি। পাশাপাশি বাড়িতে ছোট শিশুদের পড়াতেন। সংসারের খরচ মেটানোর পর নিজের উপার্জনের সামান্য অংশ সঞ্চয় করতেন। সেই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই পরবর্তী সময়ে তাঁর স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি করে।

সালমার জীবনে পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০১২ সালে। জমানো টাকা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে ১০টি হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন তিনি। এ উদ্যোগ থেকে আয় হতে শুরু করলে লাভের টাকা আবার খামারে বিনিয়োগ করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে খামারের পরিসর। হাঁস-মুরগির পাশাপাশি শুরু করেন গরু ও ছাগল পালন। একই সঙ্গে শাকসবজি চাষ ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনেও যুক্ত হন।

বর্তমানে সালমার খামারে রয়েছে প্রায় ৩৫টি হাঁস, ২৫টি মুরগি, সাতটি গরু ও ১১টি ছাগল। হাঁস-মুরগি পালন থেকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকার বিক্রি করেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার ছাগল ও সাত লাখ টাকার গরু বিক্রি করেছেন। গত বছর প্রায় ২৫০টি হাঁস বিক্রি করে আয় করেন ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

খামার পরিচালনার প্রায় সব কাজেই সরাসরি যুক্ত থাকেন সালমা। পশু-পাখির যত্ন নেওয়া, খাবারের ব্যবস্থা, খামার পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাত ও বিক্রি—সবকিছু সামলান নিজেই। তাঁর কাছে খামার এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক।

নিজের ও স্বামীর আয় থেকে নিয়মিত সঞ্চয় করে ইতোমধ্যে ১৬০ শতক জমি কিনেছেন সালমা, যা স্থানীয় হিসাবে প্রায় এক কানি। পাশাপাশি প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছেন নতুন বসতঘর। একসময় যে সংসারে অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এখন এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও স্থিতিশীলতা।

নিজের সাফল্যে থেমে থাকতে চান না সালমা। আশপাশের নারীদেরও আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, নারীরা ঘরের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন।

সালমা বেগম বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলে অল্প পুঁজি দিয়েও কাজ শুরু করা যায়। শুরুটা ছোট হলেও পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে একদিন সেটাই বড় হয়ে ওঠে।’

ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা বাড়িয়ে উদ্যোগটিকে আরও সম্প্রসারণ করতে চান তিনি। তবে নিজের স্বপ্নের কেন্দ্রে রয়েছে দুই সন্তান। তাদের লেখাপড়া করিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সালমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

সালমা বেগমের এই পথচলা দেখিয়ে দেয়, স্বাবলম্বী হতে সব সময় বড় পুঁজির প্রয়োজন হয় না। সামান্য সঞ্চয়, ছোট উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগাতে পারলে প্রতিকূলতা পেরিয়ে বদলে দেওয়া সম্ভব জীবনের গতিপথ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গাছে পেঁপে, কৃষকের চোখে লোকসানের পানি

ঝালকাঠি সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
গাছে পেঁপে, কৃষকের চোখে লোকসানের পানি

ঝালকাঠিতে পেঁপের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও ক্ষেত থেকে পাইকাররা কিনতে চাইছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক। ফলে গাছের পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। গাছে পেকে ও মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে পেঁপে। লোকসান সামলাতে না পেরে কোনো কোনো চাষি গাছ কেটেও ফেলছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ১১৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শাহী জাতসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে চাষ করেছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় এবং একই সময়ে বিপুল পরিমাণ পেঁপে বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে। এ মৌসুমে জেলায় পেঁপে উৎপাদিত হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই বাজারে দাম কমেছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পেঁপের দাম কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক গাছের পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে। গাছে পাকা পেঁপে ঝুলে থাকার পাশাপাশি মাটিতে পড়ে পচে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজার, আড়ত ও পাইকারদের কাছে কম দামে পেঁপে বিক্রি করছেন তাঁরা।

সদর উপজেলার নবগ্রাম গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করতে তাঁর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ক্ষেত থেকে পাইকাররা প্রতি কেজি পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনতে চাইছেন। এ দামে বিক্রি করলে শ্রমিকের মজুরি ও ভ্যানভাড়াও উঠবে না। তাই চোখের সামনে পেঁপে নষ্ট হতে দেখলেও তাঁর কিছু করার নেই।

উত্তর বাউকাঠি গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন ছয় বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, দাম এতটাই কম যে ক্ষেতের পরিচর্যা করতেও আর আগ্রহ পান না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পেঁপেগাছ কেটে ফেলতে বাধ্য হবেন।

কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, প্রতি কেজি পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি করে তাঁকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়ে দুই বিঘা জমির পেঁপেগাছ কেটে ফেলেছেন তিনি। বাকি দেড় বিঘা জমিতে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় সাথি ফসল চাষ করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক, বীজ ও সেচের খরচ। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও পেঁপের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

চাষিরা জানান, এলাকায় পেঁপে সংরক্ষণের জন্য হিমাগার বা উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। পচনশীল ফল হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে পেঁপে সংরক্ষণ করাও কঠিন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে বাজারে দাম কম থাকার সময় পেঁপে রেখে পরে বিক্রি করা যেত। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ও লোকসান কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আলম মামুন বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁপে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমেছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে পেঁপে চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকে। তাঁদের দাবি, কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বাম্পার ফলনও কৃষকের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি