খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজ উন্মুক্ত না করেই যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ উন্মুক্ত না করেই যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত কৌশল গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না করে হলেও তিনি সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা গত কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মূল্যায়ন বলছে, শক্তি প্রয়োগ করে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথটি পুনরায় সচল করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সামরিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই যুদ্ধের জন্য চার থেকে ছয় সপ্তাহের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। হরমুজ প্রণালি খোলার অভিযানে নামলে সেই সময়সীমা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলো-বিশেষ করে ইরানের নৌবাহিনীকে পঙ্গু করা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে বড় ধরনের আঘাত হানা-ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। তাই এখন সামরিক লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে এসে তেহরানকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে আলোচনার টেবিলে আনার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।

যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বা চাপের মুখে ইরান এই জলপথটি মুক্ত না করে, তবে ওয়াশিংটন তার ইউরোপীয় ও পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে এই সংকটের সমাধান করতে বলবে।

ট্রাম্পের স্পষ্ট মত, এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সামরিক বিকল্পগুলো এখনো প্রেসিডেন্টের টেবিলে রয়েছে, কিন্তু সেগুলো এই মুহূর্তে তার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।

ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করছেন। গত সপ্তাহে এই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে নৌবাহিনীর বিশেষ জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি এবং ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট। এ ছাড়া ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্যদের মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন। একই সঙ্গে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার মতো একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল মিশনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন।

ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইরান বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পিছুহটাকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও ইসরায়েল একসঙ্গে এই যুদ্ধ শুরু করেছে, এখন এর নেতিবাচক ফলাফল ফেলে তারা সরে যেতে পারে না।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি বাজার বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত, তাই এই প্রণালি বন্ধ থাকলে আমেরিকা কোনোভাবেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না।

ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে সারের সংকট দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া কম্পিউটার চিপস তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রযুক্তি শিল্পও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালির এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে এবং মার্কিন ক্রুড ফিউচার ২০২০ সালের পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী মাসিক বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। পূর্ববর্তী সেশনে ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর, মে মাসের ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৬ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ১১৫ দশমিক ০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কিছু আর্থিক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন ইরান সরকার শিগগিরই একটি সমঝোতায় আসবে। তবে গতকাল সোমবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প আবারও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তাদের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ আইল্যান্ডে সরাসরি হামলা চালাবেন।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনের কাজ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতি কীভাবে এই ধাক্কা সামলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে জাপানে ধান গবেষণা, বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে জাপানে ধান গবেষণা, বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত, মহামারি ও কৃষিশ্রমিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খাদ্য আমদানিনির্ভর শিল্পোন্নত দেশ জাপানও এর বাইরে নয়। দেশটির অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন ক্যালরির হিসাবে মোট চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ। জনসংখ্যা কমে যাওয়া, কৃষিশ্রমিকদের বার্ধক্য এবং নতুন কর্মীর ঘাটতি দেশটির কৃষি খাতের সংকট আরও বাড়াচ্ছে।

তবে ধান উৎপাদনে জাপানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। দেশটির ধানের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করে। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদনের ভিত্তি ধরে রাখার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছে দেশটি।

সম্প্রতি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বিদেশি সাংবাদিকদের একটি দল দেশটির অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন অঞ্চল তোহোকুর ইয়ামাগাতা জেলা পরিদর্শন করে। সেখানে টেকসই কৃষি, নতুন ধানের জাত ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি নিয়ে চলমান গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

মিদোরি কৌশলে পরিবেশবান্ধব কৃষি

জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় ২০২১ সালে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘মিদোরি কৌশল’ গ্রহণ করে। ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি খাতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানো, রাসায়নিক কীটনাশকের ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানো এবং মোট কৃষিজমির ২৫ শতাংশে জৈব চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে এ কৌশলে।

এ নীতি বাস্তবায়নে ২০২২ সালে ‘মিদোরি আইন’ কার্যকর করা হয়। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জন্য কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও করছাড় দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি উৎপাদক এ সুবিধা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এ ছাড়া কৃষি খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর স্বীকৃতি হিসেবে চালু হয়েছে ‘জে-ক্রেডিট’ ব্যবস্থা। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে খাদ্যপণ্যে পরিবেশগত লেবেলিংও চালু করেছে জাপান।

সোনাই সমভূমিতে ধান গবেষণা

ইয়ামাগাতা জেলার সোনাই সমভূমি জাপানের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন এলাকা। পাহাড় থেকে নেমে আসা খনিজসমৃদ্ধ পানি, পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়া এ অঞ্চলের ধান চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

সুরুওকা শহরের ইয়ামাগাতা সমন্বিত কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ধান প্রজনন ও শস্যবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন ধরে নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রতিষ্ঠানটি ১৩০টির বেশি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে হায়েনুকি, সুইয়াহিমে, ইউকিওয়াকামারু ও ইয়ামাগাতামোচি-১২৮ উল্লেখযোগ্য।

গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক রেইকো নাকাবা জানান, বর্তমানে ধান গবেষণায় চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—স্বাদ ও গুণমান ধরে রাখা, ফলন বাড়ানো, উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নির্বাচন।

গরম সহনশীল নতুন জাত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধান চাষের মৌসুমে তাপমাত্রা বাড়ছে। ২০২৩ সালে ইয়ামাগাতায় ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার সময় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এতে উন্নতমানের ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এর পর থেকে উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘ইউকিমানতেন’ নামে একটি উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাতের উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক চাষ চলছে। ২০২৭ সালে জাতটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ধানখেতে পানি ব্যবস্থাপনায় কমছে মিথেন

ধান উৎপাদনে পরিবেশগত ক্ষতি কমাতেও জাপানে নানা প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ বা AWD পদ্ধতি। এতে ধানখেত সব সময় পানিতে ডুবিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট সময় পর পানি বের করে মাটি শুকানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পরে আবার খেতে পানি দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতিতে পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণও কমানো সম্ভব। গবেষণা অনুযায়ী, ফলন অক্ষুণ্ন রেখে AWD ব্যবহারে মিথেন নিঃসরণ সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

জাপানের সহযোগিতায় ফিলিপাইনসহ কয়েকটি আসিয়ান দেশেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এ প্রযুক্তি প্রয়োগে জাপানের আগ্রহ রয়েছে।

জিনোম প্রযুক্তিতেও গুরুত্ব

ধানের স্বাদ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও অন্যান্য কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য দ্রুত শনাক্ত করতে গবেষকেরা ডিএনএ মার্কার ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন জাতের মধ্যে ক্রস-ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নতুন জাত উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ইয়ামাগাতার গবেষকেরা এমন জাতও উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন, যেগুলো বিদ্যমান জাতগুলোর আগে বা পরে কাটা যাবে। এতে বড় জমিতে সীমিত শ্রমিক দিয়ে ধান চাষ ও ফসল কাটার সময় ভাগ করে নেওয়া সহজ হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে রেইকো নাকাবা জানান, ইয়ামাগাতা গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বর্তমানে কোনো যৌথ প্রকল্প নেই। তবে বিভিন্ন দেশের ধান গবেষণা সম্পর্কে তাঁরা অবগত।

জাপানের ইয়ামাগাতার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা শুধু বেশি ধান উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে না। জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত, স্মার্ট কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং কৃষিশ্রমিকের ঘাটতি মোকাবিলার সমন্বিত উদ্যোগই হয়ে উঠতে পারে টেকসই ধান উৎপাদনের ভিত্তি। বাংলাদেশের মতো ধাননির্ভর দেশগুলোর জন্যও এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে: জেলেনস্কি

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা দেশকে বিভক্ত করে ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

রোববার যুদ্ধকালীন নির্বাচন নিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধ চলার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জেলেনস্কি বলেন, “যদি আমরা দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।” তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন ইউক্রেনীয়দের মধ্যে বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইউক্রেনের আইনে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে দেশটির লাখ লাখ নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন, অনেকে রুশ-অধিকৃত এলাকায় রয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ সম্মুখযুদ্ধে নিয়োজিত। ফলে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে ভোট আয়োজন করা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।

জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্ররা যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো বাস্তব পরিকল্পনা তাঁর কাছে আসেনি।

কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের জরিপ অনুযায়ী, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। জরিপকারীদের মতে, ইউক্রেনীয়দের একটি অংশ রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চাইলেও বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এখনই ভোট দেওয়ার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম।

জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থনও বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ দীর্ঘদিন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানালে বিষয়টি ইউক্রেনের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

ফেদোরভকে এখন জেলেনস্কির সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেননি।

জেলেনস্কির বক্তব্য, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য নির্বাচন নয়; বরং যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।

কালের আলো/এসএ

ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) অনুষ্ঠান মঙ্গলবার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) অনুষ্ঠান মঙ্গলবার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী ‘সিরাতুন্নবী (স.) অনুষ্ঠানমালা’ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)। এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাদ মাগরিব সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালিত হবে।

মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি, সাম্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষা সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার, বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক প্রচারিত রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা।

এছাড়া মঙ্গলবার থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা ওয়াজ করবেন।

এসব আয়োজনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও শান্তির চেতনা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণ ও অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ