খুঁজুন
                               
, ,
           

চলতি বছরের শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৬ হাজার পয়েন্টে উঠতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
চলতি বছরের শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৬ হাজার পয়েন্টে উঠতে পারে

দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর আস্থা ফিরলে চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার পয়েন্টে উঠে আসতে পারে। তবে দৈনিক গড় লেনদেন ৪০০-৬০০ কোটি টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট সেন্টিমেন্ট সার্ভে ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের মতামতে বিষয়টি উঠে এসেছে। সম্প্রতি লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ এ সার্ভে পরিচালনা করেছে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, পেশাজীবী, শেয়ার লেনদেনে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, স্বতন্ত্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রসহ অন্যান্য শ্রেণীর মানুষ মতামত দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট সেন্টিমেন্ট সার্ভে ২০২৬-এ দেশের অর্থনীতি, পুঁজিবাজার ও আর্থিক বাজারের বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। এতে দেশের অর্থনীতি নিয়ে একধরনের মিশ্র ও সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ নিয়ে তারা ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন। ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে এবং ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।

৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা হলো অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক অস্থিরতাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন ব্যাংক খাতের সংস্কার কিছুটা উন্নতি ঘটিয়েছে। যুবকদের কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতি দমনকে ২০২৬ সালের প্রধান সংস্কারের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উত্তরদাতাদের বড় একটি অংশ ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ আশা করছেন, ডিএসইএক্স সূচক ২০২৬ সাল শেষে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়াবে। দৈনিক গড় লেনদেন ৪০০-৬০০ কোটি টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা বেশি। পুঁজিবাজারে প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংক খাত সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা। এর পরেই রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত। ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা সাধারণ শেয়ার বা ইকুইটিকে সেরা সম্পদ হিসেবে মনে করছেন। এছাড়া ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা স্বর্ণে বিনিয়োগকে লাভজনক মনে করছেন। রাজনৈতিক ঝুঁকি (৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং সুশাসনের অভাবকে (২৩ দশমিক ৮ শতাংশ) পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ আসার পথে প্রধান বাধা হিসেবে মনে করছেন উত্তরদাতারা।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও সততা বাড়বে। ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, বাজার কারসাজি ও জালিয়াতি হলো বর্তমান বাজারের সবচেয়ে বড় নৈতিক সমস্যা।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা (৩১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের (২৮ দশমিক ৭ শতাংশ) ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন উত্তরদাতারা। প্রায় ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইটিএফ, গ্রিন বন্ড ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের মতো নতুন পণ্য বাজারে আসা অত্যন্ত জরুরি।

কালের আলো/এসএকে

ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

আদালত প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করার অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। আটক তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার মিরপুর-১০ এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন তানভীর। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ারও চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি একটি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে শনাক্ত করতে তৎপর হয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভিডিওতে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে তাঁকে আটকের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নিজেদের মাঠে বরিশালকে উড়িয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ রাজশাহীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
নিজেদের মাঠে বরিশালকে উড়িয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ রাজশাহীর

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডে নিজেদের মাঠে বরিশাল বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে মধ্যাহ্নভোজের আগেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

এর আগে প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম ও দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ড্র করেছিল রাজশাহী। তৃতীয় রাউন্ডে জয়ের পর ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি। ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে খুলনা বিভাগ।

ম্যাচের চতুর্থ দিন আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বরিশাল। তবে রাজশাহীর বোলার শফিকুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৫ রান যোগ করতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় বরিশাল। তাদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৭৪ রানে। ফলে জয়ের জন্য রাজশাহীর লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ রান।

বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন জাওয়াদ আবরার। এ ছাড়া হাফিজুর রহমান ৩৯ ও আব্দুল্লাহ ৩৪ রান করেন। রাজশাহীর হয়ে শফিকুল ৭৩ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। সানজামুল ইসলাম নেন ২ উইকেট, খরচ করেন ১০২ রান।

৪৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। দলীয় ১ রানে ব্যক্তিগত ১ রান করে আউট হন উদ্বোধনী ব্যাটার সোহান। এরপর প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা নাঈম আহমেদও ব্যক্তিগত ৮ রানে ফিরে যান।

তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক প্রীতম কুমার ও সাব্বির হোসেন। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজশাহী। সাব্বির ২৩ এবং অধিনায়ক প্রীতম ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২০২ রান করে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় রাজশাহীর নাঈম আহমেদ নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা। আগামী ২৪ অক্টোবর একই মাঠে ঢাকা বিভাগের মুখোমুখি হবে রাজশাহী বিভাগ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

তিনশ’ ফিটের বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি, নিবন্ধন ফি ৬০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
তিনশ’ ফিটের বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি, নিবন্ধন ফি ৬০০ টাকা

রাজধানীর তিনশ’ ফিট এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। ২০২৫ সাল থেকে বাড়িটিতে এসব আয়োজন চলছিল। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাড়িটিতে ডিজে পার্টির আগে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হতো। নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত ফি দিয়ে এসব আয়োজনে অংশ নেওয়া যেত। প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে পার্টির আয়োজন চলছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, পার্টিতে অংশ নিতে অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসতেন। ঘটনার দিন বাড়িটির নিচে ২২টি গাড়ি রাখা ছিল। পুলিশ অভিযান চালানোর সময় বাড়িটির ভেতর সিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ ছিল বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং ব্যাংকার ছিলেন। অভিযানকালে বাড়িটি থেকে পাঁচ বোতল মদ, কুশ ও ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

ডিসি ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এয়ারবিএনবি’ ও ‘ট্রাভেলা’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন করা হতো। নিবন্ধনের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো।

আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি