খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতির উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হলে এই জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন, যার ফলে প্রশাসনের কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনোদিন কি শুনেছেন মন্ত্রীরা প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে সকাল পৌনে নয়টায় সচিবালয়ে যায়? এখন যেতে বাধ্য, কারণ বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সকাল সকালেই সচিবালয়ে এসে অফিস করেন। তিনি অফিসে এসে প্রতিদিনই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে যান।” এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জাতির মধ্যে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।

সেমিনারে স্বাস্থ্য খাতের জনবল ও বেতন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকা প্রদান কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী গত ৯ মাস ধরে তাদের নির্ধারিত বেতন পাচ্ছেন না, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শক মিলে ২৫ হাজারের বেশি কর্মীর পদোন্নতি আটকে আছে।

এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আজ বা আগামীকালের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে আমরা একটি সন্তোষজনক ফয়সালা করব, যাতে তারা খুশি হন। আমার শুধু অনুরোধ থাকবে, জাতির এই দুর্যোগের সময় তারা যেন আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন।”

চিকিৎসকদের মহান পেশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীতে স্রষ্টার পরেই মানুষ যাদের ওপর ভরসা করে, তারা হলেন চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা মেডিকেল ইথিকসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় ‘বিশ্বাস’-কে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন– স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. একেএম আজিজুল হক, শিশু সংক্রামক রোগ ও কমিউনিটি শিশুস্বাস্থ্য ইউনিটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, আইসিসিডিআরবি এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. তাহমিদ আহমেদ প্রমুখ।

কালের আলো/এসএকে

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩০ মে) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পাশাপাশি সরকার এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের আসা-যাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মীরা মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশ থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে তারা নিজেদের অপমানিত বোধ করে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। পরে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে। এরপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের একটি ভবনে অবৈধ বিস্কুট কারখানা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টাফ নার্সদের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।

একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে টাইমস অফ বাংলাদেশ স্টাফ রির্পোটার কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন আহত, বৈশাখী টিভির ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

তিনি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছকে বাঁধা নয় মোটেও। সবার উর্ধ্বে দায়িত্ব ও মানবিকতাকে স্থান দিয়ে মন্ত্রীত্বের পুরাতন সব রীতি ভেঙে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সব সময় নিজ নির্বাচনী এলাকার ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে মানুষের কাছাকাছি তিনি। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের এই সংসদ সদস্য এলাকার সাধারণ মানুষের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজের কাঁধেই তিনি লাশ বহন করেছেন। দাফন কাজে নিজের সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি কবরে শায়িত করতে নেমে গেছেন। প্রকৃত মনুষ্যত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে ২৯ মে। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দু’মাস। এ সময়ে নিজ কাঁধে খাটিয়া বহন করে দুটি মরদেহ দাফন কাজে অংশ নিয়ে অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রথমটি উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে ২৭ মার্চ। অন্যটি গত ২৯ মে নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায়। প্রটোকলের চিরায়ত প্রথা ভেঙেছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায় মরহুম আব্দুল হামিদের জানাজায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার সময় তিনি নিজ কাঁধে খাটিয়া তুলে নেন এবং অন্যদের সঙ্গে মরদেহ বহন করেন। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে নিজেই কবরে নেমে পড়েন। মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

মৃতের স্বজনদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিকতা ও উদারতা অপার বিস্ময়ে উপভোগ করলেন। মুহুর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়লো সোশ্যাল হ্যাণ্ডেলে। নেটিজেনরা সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অনন্য মানবিকবোধ নিয়ে মেতে উঠলেন প্রশংসায়। কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতোই তার এই প্রতিমন্ত্রীও অতি সাধারণ। যোগ্য ব্যক্তিই ক্যাবিনেটে স্থান পেয়েছে।’

সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে সবাই অভিভূত। অতীতে কোন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে দেখেনি মানুষ। জনতার নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতি তার এই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নান্দাইলবাসীর কাছে এক বিমুগ্ধ বিস্ময়।

স্থানীয়রা বলছেন, এখনও অনেক রাজনীতিকের ভেতরে দয়া-মায়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা আছে। মনুষ্যত্ববোধ যে টিকে আছে তার বড় এক উদাহরণ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এই মানবিকবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

কালের আলো/এমএএএমকে