খুঁজুন
                               
, ,
           

হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল করিমের অস্ত্র মামলার রায় ৯ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল করিমের অস্ত্র মামলার রায় ৯ এপ্রিল

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় করা অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ৯ এপ্রিল।

মামলাটির শুনানি শেষে রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার একটি আদালত রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের চতুর্থ তলায় অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছিল। মামলাটির প্রধান আসামি ছিলেন ফয়সাল করিম।

মামলা হওয়ার কিছু দিন পর ৭ নভেম্বর আদাবর এলাকা থেকে ফয়সাল করিমকে গ্রেফতার করেছিল র‍্যাব। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, তিনটি মোবাইল ফোন ও পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল।

ওই মামলায় ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ফয়সাল করিম। জামিনের সময়সীমা বাড়াতে একই বছরের ১২ আগস্ট আবারও আবেদন করলে হাইকোর্ট নতুন করে তার এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামিও ফয়সাল করিম। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান বিন হাদি মারা যান। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণের পর পুলিশি তদন্তে নাম আসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের। যে মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

তবে ফয়সাল ও আলমগীর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস পর ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেফতারের খবর জানায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স বা এসটিএফ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতারের পর পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ২২ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করা হয়েছিল। সেদিন আদালত দুজনকে ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন এবং ২ এপ্রিল আবার তাদের আদালতে হাজির করতে বলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানে জুট ইয়ার্ন-ওষুধ রপ্তানি বাড়াতে চায় বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানে জুট ইয়ার্ন-ওষুধ রপ্তানি বাড়াতে চায় বিজিএমইএ

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে জুট ইয়ার্ন ও জীবন রক্ষাকারী ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাকশিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য পাকিস্তান থেকে আমদানি করলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। এ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানের বাজারে বিশ্বমানের বাংলাদেশি জুট ইয়ার্ন ও আন্তর্জাতিক মানের ফার্মাসিউটিক্যালসের রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন।

বিজিএমইএ সভাপতির প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের রপ্তানিকারকদের নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করলে দেশটির শীর্ষ আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বিটুবি বৈঠক ও ম্যাচ-মেকিং সেশনের আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া দুই দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে কার্যকর দ্বিপাক্ষিক বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

বৈঠকে লজিস্টিকস ও শিপিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বর্তমানে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ বাধা দূর করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া টেক্সটাইল, অ্যাপারেল ও ফ্যাশন খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। পাকিস্তানের শীর্ষ ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময়, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার।

বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চিলমারীতে পশু চিকিৎসার সংকট

চরে নেই পশু চিকিৎসক, চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
চরে নেই পশু চিকিৎসক, চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু

উত্তাল ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন গবাদিপশু পালন। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নদীবেষ্টিত নয়ারহাট, অষ্টমীর চর ও চিলমারী ইউনিয়নের হাজারো পরিবার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে পর্যাপ্ত সরকারি চিকিৎসাসেবা না থাকায় ঝুঁকিতে পড়েছে তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে স্থায়ী ভেটেরিনারি সার্জন বা প্রাণিসম্পদ চিকিৎসক না থাকায় গবাদিপশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় নদী পেরিয়ে উপজেলা সদরে নেওয়ার পথেই মারা যায় অসুস্থ পশু। এতে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেক প্রান্তিক খামারি।

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নয়ারহাট, অষ্টমীর চর ও চিলমারী ইউনিয়নে প্রায় ৯ হাজার ৬২৪টি পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের কাছে রয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ২৬০টি গরু-মহিষ এবং ২৮ হাজার ৯৭০টি ছাগল-ভেড়া। এ ছাড়া রয়েছে এক লাখ ১৪ হাজারের বেশি হাঁস-মুরগি। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতে, চরাঞ্চলে গবাদিপশুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

চরাঞ্চলের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা পশু চিকিৎসার সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পরিবারেই পাঁচ থেকে ১০টি গরু-মহিষ রয়েছে। কোনো পশু অসুস্থ হলে মাইলের পর মাইল নদীপথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। বর্ষাকালে উত্তাল নদী এবং রাতে নৌযান সংকটের কারণে জরুরি চিকিৎসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সময় নৌকাতেই অসুস্থ পশুর মৃত্যু হয়।

কড়াই বরিশাল গ্রামের খামারি জেল হক জোদ্দার বলেন, গরু-ছাগল পালন করেই তাদের সংসার চলে। কোনো পশু অসুস্থ হলে কাছাকাছি চিকিৎসক পাওয়া যায় না। নৌকা ভাড়া করে উপজেলা সদরে নিতে নিতে অনেক সময় পশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। একটি গরু মারা গেলে তাদের সংসারের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ে।

খামারি আব্দুস সালাম জানান, ৯০ হাজার টাকা দামের একটি গরুর পেট ফুলে যাওয়ার পর নৌকা না পাওয়ায় সেটিকে উপজেলা সদরের পশু হাসপাতালে নিতে পারেননি। পরে স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করালেও গরুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার অভিযোগ, চরাঞ্চলে সরকারি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক থাকলে হয়তো এত বড় ক্ষতি হতো না।

স্থানীয়রা জানান, স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান, কৃমিনাশক প্রয়োগ ও রোগ প্রতিরোধমূলক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। ফলে বাধ্য হয়ে অনভিজ্ঞ স্থানীয় ‘হাতুড়ে’ চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ভুল চিকিৎসায় পশুর মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন। গুরুত্বপূর্ণ চারটি পদই শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার জটিলতার কারণে নিয়মিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, চরবাসীর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস গবাদিপশু। তাই পশু অসুস্থ হলে তাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। দ্রুত ইউনিয়ন পর্যায়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পদায়নের পাশাপাশি স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান তিনি। স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নৌ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে চরাঞ্চলে পশুর চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম চালুরও দাবি জানান তিনি।

চিলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও তারা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে চরাঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে স্থায়ী প্রাণিসম্পদ চিকিৎসক নিয়োগ এবং শূন্য পদগুলো পূরণ করা গেলে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বোয়িংয়ের পাশে এয়ারবাস, আকাশে নতুন সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
বোয়িংয়ের পাশে এয়ারবাস, আকাশে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের আকাশপথে নতুন যুগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভর বহরে এবার বড় পরিসরে যুক্ত হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের উড়োজাহাজ। চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও—মোট ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামীকাল বুধবার (০৭ অক্টোবর) সই হওয়ার কথা। এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে থাকবে ৩৫টি উড়োজাহাজ। বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগকে শুধু উড়োজাহাজ কেনার কর্মসূচি হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি বোঝা যাবে না। এটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের নিজস্ব এয়ারলাইনসকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

  • ৭ অক্টোবর ১০ উড়োজাহাজের চুক্তি
  • ৩৫ নতুন উড়োজাহাজে আধুনিক হচ্ছে বিমানের বহর
  • আন্তর্জাতিক রুট ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ

নতুন পরিকল্পনায় বিমানের জন্য নির্ধারিত ৩৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে ২৫টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি। ফলে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের গন্তব্য—বিভিন্ন ধরনের রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ৭৮৭-১০, ৭৮৭-৯ ও ৭৩৭-৮ মডেল। আগে ১৪টি বোয়িং কেনার জন্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ১১টি বোয়িং কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর ফলে বিমানের বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রুট সম্প্রসারণের জন্যও একটি বড় ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।

এয়ারবাসে খুলবে নতুন সম্ভাবনা

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের সংযোজন বিমানের বহরে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার রুটে ব্যবহারের মাধ্যমে দূরবর্তী আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। আর এ৩২১নিও তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের সুযোগ দেবে। এর ফলে যাত্রী চাহিদা ও রুটের দূরত্ব অনুযায়ী উড়োজাহাজ নির্বাচন করা সহজ হবে। বড় উড়োজাহাজের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত ছোট উড়োজাহাজ থাকায় নতুন গন্তব্যে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট চালু এবং চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ আগামী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হবে নতুন উড়োজাহাজ। এতে পরিকল্পিতভাবে পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন এবং নতুন সক্ষমতা যোগ করার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশের বড় বাজার, বিমানের বড় সুযোগ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার, পর্যটন ও শিক্ষার জন্য বিদেশগামী যাত্রী—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের বাজারের সম্ভাবনা বড়। এই বাজারে দেশের নিজস্ব পতাকাবাহী সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগও তাই যথেষ্ট। নতুন উড়োজাহাজ সেই সুযোগ কাজে লাগানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার আধুনিক ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ বিমানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে যেসব গন্তব্যে কানেক্টিং ফ্লাইটের ওপর নির্ভর করতে হয়, ভবিষ্যতে সেসব রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে নতুন সক্ষমতার সমন্বয়

বিমানের বহর সম্প্রসারণের সময়েই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে বিমানবন্দর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এগোচ্ছে। ফলে নতুন উড়োজাহাজ ও উন্নত বিমানবন্দর অবকাঠামো একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়লে ফ্লাইট পরিচালনার পরিসরও বাড়বে। নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে সেই অতিরিক্ত সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে ঢাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিমানের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো ঢাকাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী কানেক্টিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও এ সম্ভাবনাকে সমর্থন করে।

বহরে বৈচিত্র্য, রুটে নমনীয়তা

বিমানের বহরে এয়ারবাস যুক্ত হওয়ার ফলে বোয়িংয়ের পাশাপাশি আরেকটি নির্মাতার আধুনিক উড়োজাহাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। এতে বহরের বৈচিত্র্য বাড়বে এবং বিভিন্ন রুটের জন্য ভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। অবশ্যই এর জন্য পাইলট ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনায় নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রস্তুতি বিমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াতে পারে। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ বহর পরিকল্পনায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাড়বে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা

আধুনিক উড়োজাহাজের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো জ্বালানি দক্ষতা। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ দীর্ঘপথে তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা যায়। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য উন্নত কেবিন, বেশি আরাম এবং দীর্ঘপথের ফ্লাইটে উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার সুযোগ থাকে।

ফলে নতুন বহর বিমানের পণ্য ও সেবার মান উন্নয়নেরও সুযোগ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শুধু টিকিটের দাম নয়, উড়োজাহাজের মান, সময়ানুবর্তিতা, কানেক্টিভিটি ও যাত্রীসেবাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বহর এসব ক্ষেত্রে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

সামনে বড় সম্ভাবনার দশক

বিমানের ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী দশকে বাংলাদেশের আকাশপথে একটি বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পুরোনো উড়োজাহাজের জায়গায় আধুনিক বহর, নতুন আন্তর্জাতিক রুট, বাড়তি আসন সক্ষমতা এবং উন্নত যাত্রীসেবা—সব মিলিয়ে বিমান নতুন পর্যায়ে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বহরের সঙ্গে সমানতালে বাড়াতে হবে রুট পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, বিপণন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার সক্ষমতা। নতুন উড়োজাহাজের প্রতিটি আসনকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোই হবে মূল লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ এবং বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ শুধু বিমানের বহর বড় করার পরিকল্পনা নয়; এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে নিজের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ। পরিকল্পনাটি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হলে আগামী দশকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য নতুন রুট, নতুন বাজার এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে