খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা : আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ঢাবির ২ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা : আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ঢাবির ২ শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তোফাজ্জল নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর দুই আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত এ আদেশ দেন।

আসামিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা হলেন আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করি। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে এ মামলায় গত ১৫ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিক আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে পালিয়ে যান।

এর আগে গত ১০ মার্চ এ মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে দেয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আসামিরা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, ওই হলের আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।

এদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে আটক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ান। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দাখিল করা হয়। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই‘র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাত জনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

চলনবিলে পাখি শিকার থামছে না, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
চলনবিলে পাখি শিকার থামছে না, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল এলাকায় অভিনব ও নিষ্ঠুর কৌশলে চলছে দেশি ও পরিযায়ী পাখি শিকার। ধানক্ষেত ও জলাশয়ঘেঁষা এলাকায় একটি পাখিকে ফাঁদে আটকে তার ডাকের মাধ্যমে অন্য পাখিদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। পরে জালে আটকে পড়া পাখিগুলো ধরে খাঁচায় রাখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যেই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এভাবে পাখি শিকার চললেও নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান না থাকায় তা বন্ধ হচ্ছে না। এতে শীত মৌসুমে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির অন্যতম বিচরণক্ষেত্র চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও নিরাপদ আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে।

সম্প্রতি তাড়াশ উপজেলার পাটগাড়িপাড়া মৌজার একটি ধানক্ষেতে পাখি শিকার করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। নয়ন হোসেন ও সাগরের হাতে ছিল বড় পাতা দিয়ে তৈরি দুটি ফাঁদ। ফাঁদের সঙ্গে কয়েকটি পাখি বাঁধা ছিল। পাশেই কলাপাতা দিয়ে তৈরি খাঁচায় রাখা হয়েছিল শিকার করা আরও কয়েকটি পাখি। পরে এসব পাখি প্রতিটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।

শিকারিদের ব্যবহৃত কৌশলটি বেশ অভিনব। প্রথমে লতাপাতা দিয়ে ঝোপের মতো কাঠামো তৈরি করে তার ওপর জালের ফাঁদ বসানো হয়। এরপর একটি পাখির পা চিকন সুতা দিয়ে বেঁধে বাঁশের লম্বা কঞ্চির সাহায্যে সেটিকে গাছের মগডালে রাখা হয়। বাঁধা পাখিটি ডাকাডাকি ও ডানা ঝাপটালে আশপাশের পাখিরা তার কাছে আসার চেষ্টা করে। তখনই তারা জালে আটকা পড়ে।

শিকারি মোতালেব শেখ জানান, একই পদ্ধতিতে তিনি গত তিন-চার বছর ধরে শখের বসে বিভিন্ন স্থানে পাখি শিকার করছেন। এ সময়ে তাকে কেউ বাধা দেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিকারি জানান, প্রতিদিন নিজের এলাকা ও আশপাশে ঘুরে ছয় থেকে সাতটি পাখি শিকার করেন তিনি। প্রতিটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করে দিনে প্রায় দেড় হাজার টাকা আয় করেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখি আকৃষ্ট করার জন্য ফাঁদে একটি পাখিকে আটকে রাখা হয়। অনেক সময় শিকার করা পাখির চোখ অন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে ধরা পড়া পাখি স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়।

এক পাখি ক্রেতা জানান, দেশীয় বক ও অতিথি পাখিসহ কয়েকটি পাখি তিনি ২ হাজার টাকায় কিনেছেন। শিকারিরা পাখিগুলো জবাই করে পরিষ্কার করে ব্যাগে করে নিয়ে যেতে বলেন। রাস্তায় তল্লাশির সময় ঝামেলা এড়াতেই এমনটি করা হয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর শীত মৌসুমে চলনবিলে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। বিল, জলাশয় ও গাছপালাকে ঘিরে এসব পাখির বিচরণ। তবে শিকারিদের নানা কৌশলের কারণে পাখিগুলো নিরাপদে বিচরণ করতে পারছে না।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্ষতিকারক পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নির্বিচারে পাখি শিকার চলতে থাকলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে পুরো জীববৈচিত্র্যের ওপর।

চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও উল্লাপাড়া, নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর এবং পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়ায় পাখি শিকার বন্ধে কাজ করছে ‘চলনবিল জীব ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি’। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সাল থেকে তারা পাখি শিকার বন্ধে কাজ করছেন। গত পাঁচ বছরে অন্তত ২ হাজার শিকার করা পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছেন তারা। তবে শিকারিরা ভয় না পাওয়ায় পুরোপুরি শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ জন্য প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন।

সমাজকর্মী ও ‘দি বার্ডস সেফটি হাউজ’-এর চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা পাখি রক্ষায় কাজ করছেন। শিকার করা পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হলেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে স্থায়ীভাবে পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। শিকারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, খাদ্য ও নিরাপত্তার জন্য পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি চলনবিলে আসে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করে। পাখি নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি শিকার বন্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা অপরাধ। এ অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাখি শিকারের তথ্য পেলে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নিয়ামুর রহমান বলেন, ফাঁদ পেতে এভাবে পাখি শিকার করা অন্যায়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি শিকারিদের জরিমানা ও দণ্ডের বিধান রয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অসাধু শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে আইন, অভিযান ও সচেতনতামূলক প্রচারের কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে পাখি শিকার ও প্রকাশ্য বেচাকেনার অভিযোগ বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নজরদারি ও প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

এবার বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিরাপদ নগর ও মানসম্মত বাসস্থান বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরের বছর, ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

খামারের দুর্গন্ধে ব্যাহত মাদরাসার পাঠদান, বাইরে ক্লাস

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
খামারের দুর্গন্ধে ব্যাহত মাদরাসার পাঠদান, বাইরে ক্লাস

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাখিয়া দাখিল মাদরাসার পাশে গড়ে ওঠা পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, বারপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মলিনা বেগম নিজ বাড়িতে পোল্ট্রি মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। মাদরাসার খুব কাছেই খামারটি হওয়ায় সেখান থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, খামারের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করতে খুব কষ্ট হয়। বাতাসে সবসময় দুর্গন্ধ ভেসে আসে। কয়েক দিন নয়, বেশ কিছুদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

মাদরাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। পরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে সেটিও করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামাজিকভাবেও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে খামারের মালিক মলিনা বেগমের দাবি, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না; শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোল্ট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি