পোলট্রি খাতে বার্ড ফ্লুর আক্রমণ
গত এক মাসে পোলট্রি খাতে বার্ড ফ্লুর আক্রমণ বেড়েছে। বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগের কারণে হঠাৎ করেই খামারগুলোতে ব্যাপক হারে মুরগি মারা যাচ্ছে। কোনো কোনো খামারে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মুরগি মারা যাচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা কম হলেও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে সোনালি বা কালার বার্ড হিসেবে পরিচিত মুরগিগুলো।
আর এতেই সরবরাহ কমে গেছে। দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে মুরগির দাম। গত ঈদুল ফিতরের আগে সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগমুহূর্তে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার এই দাম ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় উঠে। তবে ঈদের পর হঠাৎ করেই দাম বৃদ্ধি পেয়ে ঢাকার খুচরা বাজারগুলোতে ৪৪০ থেকে ৪৬০ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সোনালির সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তারও দাম চড়া। এ কারণে বিক্রেতারাও অল্প অল্প করে মুরগি বিক্রি করছেন। এ ছাড়া দাম বৃদ্ধির কারণে সোনালি মুরগির ক্রেতাও কমে গেছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) জানায়, দেশে প্রথমবার ২০০৭ সালের মার্চে বার্ড ফ্লু দেখা দেয় এবং সে বছর ১০ লাখের বেশি মুরগি মেরে ফেলা হয়। ওই সময় বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজার ৩৭০টি খামার বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় খামারিরা আর্থিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হন। ২০০৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশে মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে পোলট্রিশিল্পের জন্য ব্যাপক ক্ষতির পর খামারিরা দীর্ঘ সময় ধরে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
পরে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আবারও বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘটে, তখন তেমন বড় আকারে ক্ষতির মুখে পড়েনি পোলট্রিশিল্প। তবে ২০১৭ সালের শেষের দিকে আবার বেশ কিছু এলাকায় বার্ড ফ্লু দেখা দেয়, যার ফলে বেশ কিছু খামার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এসব প্রাদুর্ভাবে প্রায় ৫০ লাখ মুরগি নিধন করা হয় এবং আরও কিছু খামার বন্ধ হয়ে যায়। বারবার বার্ড ফ্লুর সংক্রমণে ১৫ থেকে ১৬ হাজার প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে যায়।
জানতে চাইলে খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) এর সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গত এক মাস ধরে হঠাৎ করেই খামারগুলোতে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বেড়েছে। ব্যাপক হারে মুরগি মারা যাচ্ছে এই সংক্রমণে। এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে আমাদের পর্যাপ্ত মেডিসিন বা ভ্যাকসিন থাকার পরও এটাকে ঠেকানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘ব্রয়লারে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। তবে সোনালি মুরগির খামারগুলোতে কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত, কোথাও কোথাও আরও বেশি মুরগি মরছে। এ কারণে বাজারে ব্যাপক সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।’
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array