খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বিজয় দাবি, আসলে জিতলো কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বিজয় দাবি, আসলে জিতলো কে?

এক মাসেরও অধিক সময় পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় পক্ষই এখন দাবি করছে, যুদ্ধে তাদের বিজয় হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে মূলত ইরানই যুদ্ধবিরতির এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে।

এই চুক্তি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই যুদ্ধবিরতিকে তারা ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে দেখছে।

পরিষদ জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, এটি যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।

পুরো প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায়। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অস্থায়ী বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। ইরানের বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

চুক্তি অনুসারে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে ইসলামাবাদে। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে এই বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সেখানে মুখোমুখি বসে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় খুঁজবেন।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত বিজয় হয়েছে।

মঙ্গলবার ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানানোর পর এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এএফপিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এটা আমাদের সম্পূর্ণ এবং সর্বাত্মক বিজয়… একদম শতভাগ। এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন নেই।

এর আগে মার্চের মাঝামাঝি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫ পয়েন্টের একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরে তিনি সেটির একটি সংশোধিত সংস্করণ পাঠান। সেখানে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির উল্লেখ ছিল।

ইরান সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তা মেনে নেন।

তবে এর আগের দিনগুলোতে ইরানকে ব্যাপক হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরান যদি সমঝোতা চুক্তিতে না আসে— তাহলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সেতুসহ সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

নতুন এই ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি যদি ব্যর্থ হয় এবং ইরান যদি সমঝোতা চুক্তিতে না আসে— সেক্ষেত্রে ট্রাম্প তার হুমকি কার্যকর করবেন কি-না— এএফপির এমন এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। চীন এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের দুই সপ্তাহের বিরতিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জয়’ বলল হোয়াইট হাউসও।

সামাজিক মাধ্যমে এক্সে (আগের টুইটার) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট লিখেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী সম্ভব করেছেন।’

তিনি আরো লিখেছেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর সফলতা সর্বোচ্চ কূটনৈতিক সুবিধা তৈরি করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং দলের ‘কঠোর আলোচনার’ মাধ্যমে এখন কূটনৈতিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ খুলেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়।

দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। তারপর থেকে টানা যুদ্ধ চলছে।

আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিস্তারিত সামনে এসেছে।

এই প্রস্তাবগুলোতে ইরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

এ যুদ্ধবিরতির ফলে কারা বিজয়ী হয়েছে- তা নিয়ে ধন্দে আছে গোটা বিশ্ববাসী, তবে এটা নি:সন্দেহে বলা যায়- এতে মানবতার বিজয় হয়েছে।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন 

সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১৭ বছর: পার্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১৭ বছর: পার্থ

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত ১৭ বছর দেশের সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। এ সময়ে সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গত ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ছিল।

তিনি বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আন্দালিভ রহমান পার্থ আরও বলেন, ‘আমাদের দ্বারা যেন কোনো অন্যায় না হয়। টিমওয়ার্ক করে কাজ করতে হবে। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে।’

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সরকারকে জবাবদিহি ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়, স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়, স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, সরকারের কাজ জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা এবং জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রথমবারের মতো অফিসে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মন্ত্রী। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সরকারের ভালো কাজগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে সরকারের যে সম্পর্ক, সেটি আরও শক্তিশালী করতে হবে। দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করাই মন্ত্রণালয়ের কাজ। কোনোভাবেই যেন নিয়ন্ত্রণের পথে যাওয়া না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লড়াই হয়েছে, সেখানে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নানা চাপ ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও সংবাদমাধ্যম সরকারের ব্যর্থতা, অনিয়ম ও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে। বিচার বিভাগ, রাজনীতি, সংসদসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে তৈরি হওয়া নৈতিক অবক্ষয় কাটিয়ে উঠতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চান তিনি। সরকারের সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই সবার মূল দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৭০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৭০

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২১ জন, লালবাগে ৩৮ জন, ওয়ারীতে ৪৯ জন, মতিঝিলে ৬৪ জন, তেজগাঁওয়ে ৫৭ জন, মিরপুরে ১৩৭ জন, গুলশানে ৪৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৮ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজন রয়েছেন।

অভিযানকালে ২৬২ পিস ইয়াবা, ১০ কেজি গাঁজা, তিনটি ফয়েল পেপার, পাঁচটি গ্যাস লাইট, দুটি ইয়াবা সেবনের পাইপ, একটি ইয়াবা সেবনের কর্ক, দুটি ইয়াবা সেবনের কয়েন, পাঁচটি মোবাইল ফোন, ১.৫ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি