খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপির ৩৬টি নারী আসনকে ঘিরে জল্পনা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
বিএনপির ৩৬টি নারী আসনকে ঘিরে জল্পনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভেতরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ও ত্যাগী নেত্রীদের পাশাপাশি পেশাজীবী, সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।

ইসি সূত্র জানায়, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা অনুসারে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি আসন এবং একজন স্বতন্ত্র আসন পাবেন। বিএনপি জোটের জন্য বরাদ্দ ৩৬টি আসনে শেষ পর্যন্ত কারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন— জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানু। এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি, নাদিরা চৌধুরীও আলোচনায় আছেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ এবং বিএনপির এক সময়ের প্রয়াত মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনির নামও তালিকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।পরিবারভিত্তিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সূত্রে আলোচনায় রয়েছেন—সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত আমান উল্লাহ চৌধুরী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী প্রয়াত বেগম রাহিজা খানম ঝুনুর মেয়ে নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী, লন্ডন বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিন আহমেদের মেয়ে সাবরিনা খান এবং মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া বা এই পরিবারের অন্য কোনো সদস্য।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিনা সুলতানা নিশিতা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুন নাহার ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা।

মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, সেলিমুজ্জামান সেলিমের স্ত্রী সাবরিনা শুভ্র, ড. আব্দুল মঈন খানের মেয়ে মাহারীন খান, মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন—তাদের নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।

শিক্ষা ও পেশাজীবী অঙ্গন থেকেও বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক ভিপি অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নাহারিন খান, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা ও ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তারের নামও উঠে এসেছে সম্ভাব্য তালিকায়। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আরও কিছু পরিচিত মুখ চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সৈয়দা আদিবা হোসেন, শাহিনুর নার্গিস, নাসিমা আক্তার কেয়া, ফারজানা রশিদ লাবনী, ফাতেমা বিনতে দোহা, তানজিন চৌধুরী লিলি, খায়রুন নাহার, মহুয়া নূর কচি ও মাহমুদা হাবিবা।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবদান ও সময়োপযোগী ভূমিকা রাখার সক্ষমতা—এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বকেও মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা: মাহদী আমি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা: মাহদী আমি

বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন।

এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে।

তিনি বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপগুলোকে মার্কিন পক্ষ সাধুবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) থেকে যে ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি করা হয়, তার বর্তমান অবস্থান মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এক্সপ্লোর করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে ও দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় বিজনেস কমিউনিটির প্রথম সারির উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন। বৈঠকে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

বিগত স্বৈরাচারী শাসনের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা কাটিয়ে ওঠার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈঠকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর ও শুল্ক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (যেমন: বেজা ও বিইপিজেডএ) বিনিয়োগের জটিলতা দূর করার তাগিদ দেন।’

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগের সঙ্গে শোনেন এবং একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ পরিবেশ নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।

মাহদী আমিন জানান, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবসায়ী সমাজের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকা বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরে কমার্শিয়াল অ্যাক্টিভিটি সচল রাখতে ২৪/৭ সেবা প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত নির্দেশ দেন।

দেশের বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ সমাজকে দক্ষ ও আত্মকর্মসংস্থানে উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই নীতিকে ধারণ করে জনবান্ধব বাজেট ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।

কালের আলো/এসএকে

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু

রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনা, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় এবং আগামী দিনের কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মানবিক সমাজব্যবস্থা গড়লে থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
মানবিক সমাজব্যবস্থা গড়লে থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: ডা. জুবাইদা রহমান

Oplus_131072

সবাই মিলে মানবিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) আয়োজনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে ‘রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই জানেন না যে এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসার মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিও সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন।

রোগটি মোকাবিলায় সারা দেশে থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্তদের জন্য একটি নির্ভুল ডেটাবেজ (রেজিস্ট্রি) তৈরির প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, দেশজুড়ে এসব রোগীদের একটি কেন্দ্রীয় তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধাদের শতভাগ সুস্থ করা সব সময় সম্ভব না হলেও তাঁদের ও তাঁদের পরিবারকে আন্তরিক সহমর্মিতা ও সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, গর্ভকালীন পরীক্ষা কিংবা যেকোনো বয়সে স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সময় তাদের এই রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জুবাইদা রহমান নিজের কন্যা জাইমা রহমানের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাইমা একজন নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদাতা এবং এ পর্যন্ত তিনি সাতবার রক্তদান করেছেন।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী এম এ মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এ ছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে