খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বিএনপির ৩৬টি নারী আসনকে ঘিরে জল্পনা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
বিএনপির ৩৬টি নারী আসনকে ঘিরে জল্পনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভেতরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ও ত্যাগী নেত্রীদের পাশাপাশি পেশাজীবী, সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।

ইসি সূত্র জানায়, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা অনুসারে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি আসন এবং একজন স্বতন্ত্র আসন পাবেন। বিএনপি জোটের জন্য বরাদ্দ ৩৬টি আসনে শেষ পর্যন্ত কারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন— জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানু। এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি, নাদিরা চৌধুরীও আলোচনায় আছেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ এবং বিএনপির এক সময়ের প্রয়াত মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনির নামও তালিকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।পরিবারভিত্তিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সূত্রে আলোচনায় রয়েছেন—সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত আমান উল্লাহ চৌধুরী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী প্রয়াত বেগম রাহিজা খানম ঝুনুর মেয়ে নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী, লন্ডন বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিন আহমেদের মেয়ে সাবরিনা খান এবং মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া বা এই পরিবারের অন্য কোনো সদস্য।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিনা সুলতানা নিশিতা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুন নাহার ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা।

মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, সেলিমুজ্জামান সেলিমের স্ত্রী সাবরিনা শুভ্র, ড. আব্দুল মঈন খানের মেয়ে মাহারীন খান, মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন—তাদের নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।

শিক্ষা ও পেশাজীবী অঙ্গন থেকেও বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক ভিপি অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নাহারিন খান, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা ও ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তারের নামও উঠে এসেছে সম্ভাব্য তালিকায়। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আরও কিছু পরিচিত মুখ চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সৈয়দা আদিবা হোসেন, শাহিনুর নার্গিস, নাসিমা আক্তার কেয়া, ফারজানা রশিদ লাবনী, ফাতেমা বিনতে দোহা, তানজিন চৌধুরী লিলি, খায়রুন নাহার, মহুয়া নূর কচি ও মাহমুদা হাবিবা।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবদান ও সময়োপযোগী ভূমিকা রাখার সক্ষমতা—এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বকেও মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিআরটিএর কর আদায়ে চুক্তির ব্যয় ২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
বিআরটিএর কর আদায়ে চুক্তির ব্যয় ২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা বৃদ্ধি

যানবাহনের কর ও ফি আদায় বৃদ্ধির কারণে সার্ভিস প্রোভাইডারের ব্যয় বাড়ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কর ও ফি আদায়ের চলমান চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত ২১ কোটি ৪২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ ব্যয় বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জুন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে বিআরটিএ’র যাবতীয় যানবাহন কর ও ফি অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদায়ের জন্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে (সিএনএস) সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ট্রানজেকশনে ৪৫.৩৫ টাকা হারে ৫ বছরে আনুমানিক ৪ কোটি ৫০ লাখ লেনদেনের জন্য মোট ২০৪ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৪ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২১৮ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, যানবাহন কর ও ফি আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রক্ষেপণ অনুযায়ী অতিরিক্ত ৪৫ লাখ ট্রানজেকশন যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে ২৪০ কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা।

ফলে, মূল চুক্তির তুলনায় অতিরিক্ত ২১ কোটি ৪২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় বাড়ছে, যা মোট চুক্তিমূল্যের প্রায় ৯.৮ শতাংশ।

ভ্যারিয়েশন প্রস্তাবের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা সহজীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কর ও ফি’র ওপর বিলম্বজনিত জরিমানা ছয় দফা মওকুফ করায় লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এসএকে

বেগম রোকেয়া পদক দিতে শিক্ষা খাতের যোগ্য নারীদের খুঁজছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
বেগম রোকেয়া পদক দিতে শিক্ষা খাতের যোগ্য নারীদের খুঁজছে সরকার

‘বেগম রোকেয়া পদক ২০২৬’-এর জন্য শিক্ষা খাতের যোগ্য নারীদের সন্ধান করছে সরকার। এই লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি নারীদের মধ্য থেকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছে

বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর দেশব্যাপী ‘বেগম রোকেয়া দিবস’ উদযাপন এবং এ পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।

এবারও নারী শিক্ষা, নারী অধিকার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণ, পল্লী উন্নয়ন এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বাংলাদেশি নারীকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক প্রদান করবেন।

বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘বেগম রোকেয়া পদক (সংশোধিত) নীতিমালা-২০২৫’ মোতাবেক পদক প্রাপ্তির ক্ষেত্র উল্লেখ করে সফট কপিসহ হার্ড কপি (ই-মেইল: sas_s4@moedu.gov.bd) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সমন্বয় শাখায় পাঠাতে হবে।

আগ্রহীরা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (www.mowca.gov.bd) অথবা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.dwa.gov.bd) থেকে আবেদনপত্র ও নির্দিষ্ট ছক ডাউনলোড করে পূরণ করতে পারবেন। নির্ধারিত ছক ব্যতিত অন্য কোনো ফরমে আবেদন বা মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নারী শিক্ষা, নারী অধিকার রক্ষা ও সমাজসেবাসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর পাঁচজন নারীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পুশ-ইনের মতো অমানবিক আচরণের নজির পৃথিবীতে বিরল : মজিবুর রহমান মঞ্জু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
পুশ-ইনের মতো অমানবিক আচরণের নজির পৃথিবীতে বিরল : মজিবুর রহমান মঞ্জু

পুশ-ইনের মাধ্যমে ভারত সরকার কূটনৈতিক সৌজন্য, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার চরম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেন, পুশ-ইনের মতো অমানবিক আচরণের নজির পৃথিবীতে বিরল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ না নেয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এবি পার্টির পক্ষ থেকে ‍’সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, কোন রাষ্ট্রীয় বাহিনী তার অভিবাসী নাগরিককে অন‍্যদেশের মানুষ বলে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন‍্য রেখায় দিনের পর দিন খোলা আকাশের নীচে বসিয়ে রেখে, নির্যাতন করে ঠেলে পার্শ্ববর্তী দেশে ঢুকানোর মতো অমানবিক নিষ্ঠুর আচরণ পৃথিবীর কোথাও আছে বলে আমাদের জানা নাই।

এর আগে মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের নাগরিকদের উপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিয়েছে। কয়েকযুগ হতে যাচ্ছে বিশ লক্ষাধিক শরণার্থীর হৃদয় বিদারক জীবন চেয়ে চেয়ে দেখছে বিশ্ববাসী। তাদের পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।

মঞ্জু বলেন, ভারত সরকার বলেছিল নির্বাচিত সরকার আসলে তারা আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে, কিন্তু তাদের সহযোগিতার এই নৃশংস নমুনা অতীতের মতই আমাদের দেখতে হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ভারতের কাঁটাতারের রাজনীতি, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো শত্রুসূলভ কার্যক্রম তুলে ধরার জন‍্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুস্থ ও টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ভারতকে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চায়, তবে তা হতে হবে সম্মান, মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।

ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশ বদলে গেছে। আওয়ামী আমলের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আর চলতে পারে না। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন বাস্তবতায় স্বাধীন ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি গত পাঁচ দশকে সীমান্তে নিহত হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিকে আধুনিকায়ন, সীমান্তবর্তী জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।

ফুয়াদ আরও বলেন, গত ৫৬ বছরে সীমান্তে নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করতে হবে। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করে বিএসএফের অবৈধ ও অমানবিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরারও দাবি জানান তিনি।

সংসদে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে ১৪৭ বিধির আওতায় আলোচনা স্থগিত করাকে তিনি দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ

সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু, প্রবাসী নেতা নুরুন্নবী নয়ন, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, বরিশালের নেতা জাকির হোসেন ও ইমরান সরদার উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি