খুঁজুন
                               
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত শিক্ষামন্ত্রীর
মহানগরে মাধ্যমিক স্তরের কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনদিন অনলাইন ও বাকি তিনদিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস হবে। অন্যদিকে, শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে অফলাইন ক্লাসে অংশ নেবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, শনিবার স্কুলে ক্লাস হবে, এদিন ট্রাফিক কম। রোববার অনলাইনে ক্লাস করতে চাই, শিক্ষকরা স্কুলে এসে ক্লাস করবেন। সোমবার স্কুলে আনতে চাই। মঙ্গলবার স্কুলে আসব না, অনলাইনে ক্লাস। বুধবার আনতে চাই। বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস। শুক্রবার অনলাইনে ক্লাস করালে বাবা-মায়েদের সমস্যা হবে। আমরা পাইলট হিসেবে চালু করব। কিন্তু শিক্ষকদের স্কুলে এসে ক্লাসে অংশ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা তিন দিন অনলাইনে ও তিন দিন স্কুলে এনে ক্লাস করব। আমরা কাউকে ফোর্স করছি না, বৃহৎ স্কুলগুলো, ভালো স্কুলগুলোকে ব্লেন্ডিং এডুকেশনে যাওয়ার জন্য আমরা এই কাজগুলো হাতে নিয়েছি। স্কুলগুলোকে প্রিভিলেজ দিচ্ছি যে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি কিনতে। আর ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে বসে কথা বলব।

অনলাইন ক্লাস কি সারা দেশে শুরু হবে– জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মহানগরে যেখানে যানজট হয়। মহানগর বলতে বরিশালের বা ময়মনসিংহের কথা বলিনি। আমাদের শহরের রিনাউন স্কুলগুলো, যেটাতে গাড়ি নিয়ে আসে যায়, যানজট তৈরি করে। আমরা সারা বাংলাদেশ না, সারা মেট্রোপলিটন না। আমরা যদি প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে সারা দেশে যাব। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমরা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেব।

নতুন এই পদ্ধতিতে কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে– জানতে চাইলে এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে এই পদ্ধতিতে ক্লাস হবে।

কোন কোন স্কুলে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস হবে, তার কোনো তালিকা করা হয়েছে কি না– জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, শুনুন, এটা করোনা না যে আমরা জোর করে শুরু করব। এটা ব্লেন্ডিং এডুকেশন। যারা অ্যাফোর্ড করতে পারবে, যাদের অনেক বাচ্চা গাড়িতে করে আসে তারা করবে। আমি কাউকে জোর করে করতে বলিনি।

শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক বলেন, ঢাকা শহরের কিছু নির্দিষ্ট স্কুল, মহানগরীর কিছু নামকরা স্কুলে, যেখানে বাচ্চারা গাড়িতে করে যায়। সেসব স্কুলে অনলাইনে ক্লাস চালু করা হবে।

পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডের নাজিরাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রোজিনা আক্তার শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমার স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তৃণমূল পর্যায়ের। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সবজি বিক্রেতার সন্তানেরা পড়ে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বাসায় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল– প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন পাব কি না? সেক্ষেত্রে আমি কী করতে যাব?

এসব শ্রেণির স্কুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, না। আপনাকে আমরা ইনক্লুড করিনি। আমরা বলছি নামিদামি স্কুলগুলো, যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি গাড়ি নিয়ে আসে, সেই স্কুলগুলোর জন্য। আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে ইনসিস্ট করছি না। যেগুলো ভালো স্কুল, সেগুলো আস্তে আস্তে শুরু করুক। তালিকাগুলো আমরা দেব।

অন্য স্কুলগুলো সপ্তাহে ৫ দিন না ৬ দিন স্কুল করবে– এমন প্রশ্নে এহছানুল হক মিলন বলেন, তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের মতো করে ক্লাস করবে। অর্থাৎ আগের মতো পাঁচদিন ক্লাস করবে বলে জানান মন্ত্রী।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর আগামী জুলাই থেকে ও লেভেল, এ লেভেল পরীক্ষা, তারা অনলাইনে যেতে চাইছে না– এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য কী সিদ্ধান্ত– জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সেগুলো আরেকটি বিষয়। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে তাদের মতামত নেওয়া হয়। এসময় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইন ক্লাস চালুর জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় চান।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৩০

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুইবার আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। এ ছাড়া অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, গত বুধবারের এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে দেশের প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে শুধু রাজধানী কারাকাসেরই প্রায় ২০ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় মানবিক সংকটের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানায়, উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মার-এর প্রায় ৩১.৫ শতাংশ ভবন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

এর মধ্যে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যের ইউমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি একই রাজ্যের সান ফেলিপে থেকে ২৩.৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আঘাত হানে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সব মাধ্যমিক স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সোমবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সব মাধ্যমিক স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সোমবার

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুলে আগামী সোমবার একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালনের নির্দেশে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সম্প্রতি মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন-লেইস প্রজেক্ট থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলবায়ু অনুদান বাবদ দেওয়া পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এদিন একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি বৃক্ষরোপণ, ব্যানার ফেস্টুন তৈরি এবং সেমিনার ও র‍্যালি আয়োজন করতে হবে।

এদিন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্যদের উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জনানো হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বুয়েটের যেমন সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে সৃজনশীলতা, মেধা, বুদ্ধি এবং দেশ বিনির্মাণের ভূমিকা রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অনেক অবদান। শনিবার (২৭ জুন) বিকালে বুয়েট অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাহদী আমিন বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে আমরা চিন্তা করতে পারি, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু বুয়েটের ফ্যাকাল্টি মেম্বার্সদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের যত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না কেন, দেখবেন সেখানে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রয়েছেন তারা সেখানে হয় পড়াশোনা করছেন অথবা কেউ না কেউ শিক্ষকতা করছেন। অর্থাৎ আজকে বুয়েটে ভর্তির মাধ্যমে আপনারা খুব রিয়েল একটা লেগেসি পাচ্ছেন, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেই ঐতিহ্য বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, নতুন সরকার মাত্র চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করবে না, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য থেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একজন মানুষ যার ন্যায়, নীতি, সততা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম থাকবে। এবং একই সঙ্গে সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে তিনি গড়ে উঠবেন। যেখানে আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা চাকরির জন্য, ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সে প্লাটফর্মগুলোতে সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে বুয়েটকে অবশ্য বড় একটা ভূমিকা রাখতে হবে। যেহেতু আপনারা দেশের শীর্ষ মেধাবী, সবচেয়ে বেশি সৃজনশীলতা নিয়ে আপনারাই তো আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

আপনারা যারা রয়েছেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত।স্পোর্টস কালচারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুথিগত বিদ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনাদের ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস, ট্রান্সফারেবল স্কিলস, টিম স্কিল, লিডারশিপ এই প্রত্যেকটা তৈরি করতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা যেমন বলি- ‘গ্রেট পাওয়ার কামস গ্রেট রেসপন্সিবিলিটি’ আপনাদের ক্ষেত্রেও একই। আপনাদের অনেক স্বীকৃতি আছে। এর মানে, আমাদের এটাকে আরও এক হাত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে কীভাবে একটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারি, সেখানে আপনারা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন- তিনি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন, কীভাবে বুয়েটে গবেষণার জন্য আরও বেশি ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। এত বড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসি স্যারকে বলছিলাম অডিটোরিয়ামের এ অবস্থা কেন? আমাদের মনে হয় সরকারের দিক থেকেও আরও বেশি সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা করব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আমি আজকে যখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি এটা শুধু ওরিয়েন্টেশনের শিক্ষার্থীর সামনে না, দাঁড়িয়ে রয়েছি আগামী বাংলাদেশ যারা বিনির্মাণ করবে, আগামীর বাংলাদেশের যারা কান্ডারি, সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে। আগামীর ভবিষ্যৎ ইনশাআল্লাহ আপনারা নির্মাণ করবেন। সরকারের দিক থেকে যা করণীয়, যা সহযোগিতার প্রয়োজন হবে, আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াব।

এ সময় শহীদ আবরার ফাহাদের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ সেই মানুষটা কিন্তু আপনাদেরই পূর্বে ছিলেন এ বুয়েটের। আমরা চাই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সুনাগরিক হয়ে ওঠার যে আকাঙ্ক্ষা সেটাকে ধারণ করে, আগামী বাংলাদেশের বুয়েট এবং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরকে মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্লাটফর্মটা তৈরি করে দিতেন।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যখন সেই কাজটা করতে যাব, অবশ্যই মূল গড়ে উঠার ভিত্তি হবেন আপনারা। আপনারা যারা ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশে যখন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন, ভালো ভালো জায়গায় নিজেদের কর্মসংস্থান হবে, হাজারো, লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান আপনারা তৈরি করবেন। আগামীর বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ আপনারা সেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাসিব চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এন এম গোলাম জাকারিয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ