খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ঢাকার পর জেলা পর্যায়ে প্রবাসী সিটি করার প‌রিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
ঢাকার পর জেলা পর্যায়ে প্রবাসী সিটি করার প‌রিকল্পনা সরকারের

নির্বাচ‌নী ইশ‌তেহা‌রে প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ঢাকায় একটি বিশেষ ‘প্রবাসী সিটি’ বা স্মার্ট সিটি তৈরির প্রতিশ্রু‌তি দি‌য়ে‌ছিল বিএন‌পি। সরকার তার প্রতিশ্রু‌তি অনুযায়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর‌বে এবং পরবর্তী‌তে দে‌শের জেলা পর্যা‌য়ে প্রবাসী সিটি করার প‌রিকল্পনার কথা জা‌নি‌য়ে‌ছেন প্রবাসী কল্যা ণ ও বৈ‌দে‌শিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

রোববার (১২ এ‌প্রিল) রাজধানীর এক‌টি হো‌টে‌লে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠা‌নে দেওয়া বক্ত‌ব্যে এ কথা ব‌লেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, প্রায় ২ কো‌টির বেশি প্রবাসী র‌য়ে‌ছে। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলা‌দেশ গড়ার ক্ষে‌ত্রে প্রবা‌সিীদের বড় ভূ‌মিকা নি‌তে হ‌বে। সরকার অ‌ভিবাসন কূটনী‌তি‌তে জোর দি‌চ্ছে, এ‌টি দে‌শের অর্থনী‌তি‌তে বড় অবদান রাখ‌বে। বি‌দে‌শে আমা‌দের যে ডায়াস‌পোরা‌ আছে তা‌দের কা‌জে লাগা‌তে হ‌বে, এ‌টি কর‌তে হ‌বে আমা‌দের মিশনগু‌লো‌কে।

দ্রুত সাড়াদা‌নের ক্ষে‌ত্রে বি‌দেশে অবস্থিত বাংলা‌দেশ মিশনগু‌লোর সমা‌লোচনা ক‌রেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তি‌নি ব‌লেন, দ্রুত দা‌য়িত্ব নেওয়ার ক্ষে‌ত্রে আমা‌দের মিশনগু‌লো‌র রেসপন্স কম দে‌খি। মধ্যপ্রা‌চ্যে আমা‌দের অ‌নেক শ্রমিক, তাদের সহায়তা করার দা‌য়িত্ব নি‌তে হ‌বে।

ল ফা‌র্মের মাধ্যমে প্রবা‌সে বাংলা‌দে‌শি কর্মী‌দের সহায়তার তথ্য তু‌লে ধ‌রে প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, প্রবা‌সে বাংলা‌দে‌শি কর্মীরা বি‌ভিন্ন সমস্যায় প‌ড়ে। তা‌দের সহায়তা করার জন্য ৮-১০ দে‌শে ল ফা‌র্ম কাজ কর‌ছে। এই ফার্মগু‌লো প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানে কাজ কর‌ছে।

বি‌ভিন্ন দে‌শ বাংলা‌দে‌শি‌দের ভিসা দেওয়ার ক্ষে‌ত্রে নি‌জে‌দের দায় দেখ‌ছেন প্রতিমন্ত্রী। তি‌নি ব‌লেন, বি‌ভিন্ন দে‌শে ভিসা না দেওয়ার ক্ষে‌ত্রে আমা‌দের দায় আছে। অ‌বৈধ প‌থে বি‌দে‌শ গমন, এক দে‌শে গি‌য়ে অন্য দে‌শে চ‌লে যাওয়া। বাংলা‌দে‌শি‌দের ভূমধ্যসাগ‌র পা‌ড়ি দেওয়ার বিষয়‌টি দে‌শের ই‌মেজ সংক‌টে ফে‌লে। প্রবাসী‌দের নে‌তিবাচক কাজ দে‌শের ই‌মে‌জে প্রভাব ফে‌লে।

বি‌দেশে বাংলা‌দেশ মিশনগু‌লো নি‌য়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর সমা‌লোচনার জবাব দেন অনুষ্ঠা‌নে উপ‌স্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবা‌য়েদ ইসলাম। তি‌নি ব‌লেন, মিশন ঠিক ম‌তো কাজ কর‌ছে না, এটা ঠিক না। বিগত সম‌য়ের সরকারগু‌লো তা‌দের সেই ক্ষমতায়ন ক‌রেনি। মিশন কাজ কর‌ছে। এই যে মধ্যপ্রা‌চ্যের সংক‌টের ম‌ধ্যে প্রবাসী‌দের সহায়তা কর‌ছে, যুদ্ধ অবস্থায় প্রবাসীর সুর‌ক্ষিত রাখ‌তে কাজ কর‌ছে।

এ সময় শামা ওবা‌য়েদ জানান, মধ্যপ্রা‌চ্যের চলমান যু‌দ্ধে ৮ বাংলা‌দে‌শি প্রাণ হা‌রি‌য়ে‌ছেন।

প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, রো‌হিঙ্গ নিয়ে এত সমস্যা। তা‌দের মান‌বিক সহায়তার মাধ্যমে বাংলা‌দে‌শের ব্র্যান্ডিং হ‌চ্ছে বি‌শ্বে। আমরা অর্থনৈ‌তিক কূটনী‌তি‌কে বে‌শি অগ্রা‌ধিকার দি‌চ্ছি। পাশাপা‌শি আমরা সংস্কৃ‌তি ও স্পোর্টস কূটনী‌তি‌কে কা‌জে লাগা‌নোর উ‌দ্যোগ নি‌য়ে‌ছি; এগু‌লোর মাধ্যমে আমরা বি‌শ্বের বি‌ভিন্ন দে‌শে পা‌য়ের ছাপ রাখ‌তে পা‌রি। সার্ক‌কে গ‌তিশীল করার মাধ্যমে আমরা নি‌জে‌দের ব্র্যান্ডিং কর‌তে পা‌রি, কা‌নে‌কটিভি‌টি বাড়া‌নো যায়। বাংলা‌দে‌শের ব্র্যান্ডিং‌য়ের জন্য আমা‌দের ইয়ুথ‌দের কা‌জে লাগা‌তে হ‌বে।

অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অ‌তি‌থি ছি‌লেন জহির উ‌দ্দিন স্বপন। এনআরবি সেন্টারের চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী অনুষ্ঠা‌নের সভাপতিত্ব ক‌রেন।

কালের আলো/এসএকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি