খুঁজুন
                               
, ,
           

হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১২ এপ্রিল) আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন এ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে অন্যান্য আন্দোলনকারীর সঙ্গে মিছিল করছিলেন মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার দিন আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আশরাফুল।

কালের আলো/এসএকে

ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ভবন আছে, শয্যা আছে, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য ডরমেটরি এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরও স্থাপন করা হয়েছে। তবু চিকিৎসক সংকটে উদ্বোধনের আট বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ফলে এসব কেন্দ্রে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে ছুটতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালে।

২০১৮ সালে উদ্বোধন, আট বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা নেই
গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঝিনাইদহে চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কেন্দ্রগুলো ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় এখনো সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

কেন্দ্রগুলো রয়েছে শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ও কাঁচেরকোল গ্রামে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকায় এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০টি শয্যা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার এবং শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনবলসংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার সেই লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

ভবন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত, মিলছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
প্রতিটি কেন্দ্রের তিনতলা ভবনে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শয্যা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবহারের জন্য রয়েছে জেনারেটর।

কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে স্থানীয় জনগণ যে ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দূরের হাসপাতালে নেওয়ার ঝুঁকি ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় কাছাকাছি প্রসূতিসেবার ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

হাসপাতাল আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই
দুধসর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল বলেন, এলাকার মা ও শিশুদের চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা বেগম বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। ভবন ও শয্যা থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রটিতে সেবার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। mকাঁচেরকোল গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলে এলাকার হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ
ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার উদ্যোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সম্ভব হবে।

দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি স্থানীয়দের
মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চারটি কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করে সেবা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের জরুরি চিকিৎসা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করা গেলে দূরের হাসপাতালে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগাতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩০০ ফুট বাঁধ ধসে প্লাবনের শঙ্কায় উপকূলবাসী

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
৩০০ ফুট বাঁধ ধসে প্লাবনের শঙ্কায় উপকূলবাসী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া ও নদীর উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বন্যতলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত গ্রামবাসী নিজেদের বসতভিটা ও জনপদ রক্ষায় রাতেই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভাগ-২-এর আওতাধীন ৭/১ পোল্ডারের বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে এ ভাঙন দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।

৩০০ ফুট বাঁধ ধসে, কোথাও অবশিষ্ট মাত্র দেড় ফুট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে খোলপেটুয়া নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতা বেড়ে যায়। নদীর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে বন্যতলা এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশে ফাটল ধরে। পরে বাঁধের ওই অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত অংশের কোথাও কোথাও বাঁধের মাত্র এক থেকে দেড় ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয় এবং বাঁধ রক্ষার কাজে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়।

রাতেই জিও ব্যাগ নিয়ে বাঁধ রক্ষায় গ্রামবাসী
মসজিদের মাইকে ঘোষণা শোনার পর বন্যতলা গ্রাম ও আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতাপনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও বাঁধ রক্ষার কাজে অংশ নেন। নিজেদের ঘরবাড়ি ও এলাকার জনপদ রক্ষায় তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রমে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ভাঙন পয়েন্টে ফেলা শুরু করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় রাতেও এ কার্যক্রম চলে। ভাঙন পয়েন্টের কিছু অংশে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে পুরো ঝুঁকিপূর্ণ অংশের ভাঙন ঠেকাতে আরও কাজ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালি বলেন, ভাঙন পয়েন্টটি পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকায় হলেও এটি প্রতাপনগর ইউনিয়নের লাগোয়া। ওই স্থান দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকলে প্রতাপনগর ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খবর পাওয়ার পর তিনি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বাঁধ রক্ষার কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সময়মতো জিও ব্যাগ না ফেলায় ক্ষোভ
বেড়িবাঁধের ভাঙন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বন্যতলা এলাকায় বাঁধ সংস্কারের জন্য অনেক আগেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবুল এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য বালুভর্তি হাজার হাজার জিও ব্যাগও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ফেলা হয়নি। স্থানীয় ঘেরমালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বাঁধ সংস্কারের কাজে ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হলেও সেগুলো যথাসময়ে ভাঙন পয়েন্টে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতটা নাজুক হতো না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে বন্যতলা গ্রামসহ পদ্মপুকুর ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীর পানিতে প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

পাউবো ও প্রশাসনকে অবহিত, চলছে জরুরি কাজ
ভাঙনের খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও শ্যামনগরের ইউএনওকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর রাতেই সেখানে লোক পাঠানো হয়। আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ স্থানীয়দের সহায়তায় ভাঙন পয়েন্টে ফেলা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলের মধ্যে ভাঙন পয়েন্টে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা গেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

প্রক্রিয়াগত কারণে জিও ব্যাগ ফেলতে দেরি: পাউবো
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, বন্যতলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য আগেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। ঠিকাদার জিও ব্যাগে বালু ভরে সেগুলো প্রস্তুতও রেখেছিলেন। তবে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাগ গণনা ও মার্কিং করার পর সেগুলো ভাঙন পয়েন্টে ফেলার কথা ছিল। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে জিও ব্যাগ ফেলার কাজে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাঁধের ভাঙন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ও কার্যকরভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে উপকূলীয় জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তাই জরুরি মেরামতকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

খাদ্য গুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
খাদ্য গুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ মন্ত্রীর

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে খাদ্যশস্যের মজুত সক্ষমতা বাড়ানো, গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বিবেচনায় গুদাম নির্মাণ
আফরোজা খানম বলেন, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান চাহিদা বিবেচনা করলে চলবে না। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে দেশের খাদ্যশস্য সংরক্ষণের প্রয়োজন কতটা বাড়তে পারে, তা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি গুদামগুলোর স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণব্যবস্থার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উৎপাদন বেশি হয় এমন এলাকায় অগ্রাধিকার
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেশি হয়, সেসব এলাকায় গুদাম নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে উৎপাদিত খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে। নতুন গুদাম নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো গুদামগুলোর সংস্কারেও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর মতে, খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ানোর জন্য নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমান গুদামগুলোর কার্যকারিতা ও মান উন্নয়নও জরুরি।

গুদামের মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বক্তব্য দেন। তাঁরা খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা, গুদামের মান উন্নয়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। খাদ্যশস্যের মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুদাম নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা উপস্থিত
খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বিবেচনায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো গড়ে তোলা, উৎপাদনপ্রবণ এলাকায় গুদাম নির্মাণ এবং পুরোনো গুদাম সংস্কারের মাধ্যমে দেশের খাদ্য মজুতব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি