খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন ও উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতি করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করা, যাতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। এই লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং বিমান বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, দ্রুত, স্বয়ংসম্পূর্ণ, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। বিমান বাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ, অবসরোত্তর মর্যাদা এবং ‘এক পদ, এক পেনশন’-এর মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিমুখী ও জনআস্থাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়িয়া তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান ও সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলবে।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করতেও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত স্টাফ পর্যায়ে বৈঠক, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হচ্ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান, গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

নেএকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণার  হাওরাঞ্চলে ঈদের আনন্দ ম্লান,  গো- খাদ্যের ও  তীব্র সংকট

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বিএডিসির বি ধান-৮৮ মিশ্রণ বীজের কারণে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। চোখের সামনে   পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার ১০ উপজেলার প্রায় ৭৮ হাজার কৃষক। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকলেও কৃষক পরিবারগুলোতে নেই উৎসবের আমেজ; বরং বিরাজ করছে হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন বোরো ধান। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। শুধু ধান নয়, বন্যার পানিতে সবজি, মাছ ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। কারণ গ্রামের অধিকাংশ কৃষক ধান কাটতে না পারায় গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড়ও সংগ্রহ করতে পারেননি।

কেন্দুয়া উপজেলার পানগাঁও গ্রামের কৃষক নুরু মিয়া জানান, অতিবৃষ্টিতে তার ৩০ থেকে ৩৫ কাটা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ফিশারি পুকুরের মাছেও ভাইরাস ছড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতি বছর কোরবানি দিই। এবারও ইচ্ছা আছে। কিন্তু কীভাবে দেবো, আল্লাহই ভালো জানেন। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে।”

একই উপজেলার বাইগনি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, “ঈদ আসছে, কিন্তু ঘরে কোনো আনন্দ নেই। ছেলেমেয়েদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। ধান বিক্রি করতে না পারায় হাতে টাকাও নেই।”

মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক আবদুল করিম বলেন, “সব জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আল্লাহ নিশ্চয়ই একটা ব্যবস্থা করবেন।”

মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আলম বলেন, “ফসল আল্লাহর দান, তিনি নিয়ে গেছেন। কী আর করার আছে। প্রতি বছর কোরবানি দিই, এবারও দেবো।”

খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষক আবুল কাশেম জানান, ঋণ করে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক কোরবানি তো দিতে হবে।”

মোহনগঞ্জ উপজেলার কৃষক পায়েল মিয়া ও রুকেল মিয়া বলেন, বছরের একমাত্র বোরো ফসলের আয়ে তাদের পুরো বছর চলে। কিন্তু এবার বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। সামান্য কিছু ধান কাটলেও রোদ না থাকায় সেগুলোও নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না নিলে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

ঈদের আনন্দ ম্লান, হতাশা, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তাই যেনো নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলবাসীর  সম্ভল।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

Oplus_131072

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ থেকে শুরু হয়েছে। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পর থেকেই হজযাত্রীরা ‘তাবুর নগরী’ খ্যাত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। সোমবার (২৫ মে) দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়া চলবে।

হজের নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার সারা দিন এবং রাত মিনায় ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পার করবেন হজযাত্রীরা। এরপর মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) হজের প্রধান রোকন বা মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য তারা মিনা থেকে আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। যাকে বলা হয় অকুফে বা আরাফার ময়দানে অবস্থান।

আগামী বুধবার পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং শুরু হবে ঈদুল আজহা। এরপর হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন।

মিনা ও আরাফাতসহ পবিত্র স্থানগুলোতে এখন তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে। সৌদি আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তীব্র গরম থেকে হাজিদের সুরক্ষা দিতে সৌদি সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ছায়া নিশ্চিত করতে বাড়তি শেড নির্মাণ, মিস্ট ফ্যান বা কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির পাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হাজিদের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম ও ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। গরমের কারণে অসুস্থতা এড়াতে হাজিদের ছাতা ব্যবহার ও পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : গালফ নিউজ, আরব নিউজ

কালের আলো/এসএকে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

Oplus_131072

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে