খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা কিংবা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলতেন– জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবার ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের আত্মত্যাগে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের সাহসী ভূমিকা আজও প্রেরণার উৎস।

ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, হীন দলীয় স্বার্থে জাতীয় নেতাদের শ্রদ্ধায় কার্পণ্য করা হীনম্মন্যতার পরিচায়ক। ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধা থাকা উচিত নয়।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার পাশাপাশি অন্যান্য গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই অবিস্মরণীয় অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্যদিয়ে বর্তমান সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ফেরানোই আমাদের অগ্রাধিকার। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার বিকল্প নেই। সরকার এরইমধ্যে প্রতিটি সেক্টর চিহ্নিত করে জুলাই সনদ ও দলীয় ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করেছে।

বৈশ্বিক সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখছে। জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিলাসিতা ও অমিতব্যয়িতা পরিহার করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের দীর্ঘায়ু ও বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সম্মান আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এসএকে

ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সকল নেতাকর্মীকে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের লক্ষ্য, সামাজিক মূল্যবোধ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, দেশে ফেরার পর মনে হয়েছে পারিবারিক শিক্ষায় কিছুটা অভাব তৈরি হয়েছে, এই বিষয়ে আমাদের নজর দেওয়া উচিত।

সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বাড়াতে বর্তমান সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পিতার স্মৃতি চারণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জিয়াউর রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশকে অনেকে চিনতো, অনেকে বাংলাদেশ মানেই জিয়াউর রহমান ভাবতো। একজন সন্তান হিসেবে এটি আমাকে গভীরভাবে গর্বিত করে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং বর্তমান সরকারও সেই পথনির্দেশিকা মেনেই যাবতীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা আর পূরণ হয়নি। গত ১৭ বছর বাংলাদেশে কী চলেছে, তা দেশের সব মানুষ জানে। এই দীর্ঘ সময়ে বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, জাতি এর সাক্ষী।

তিনি বলেন, একটি অত্যন্ত জটিল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই কঠিন সময়ে যদি আমরা হেসেখেলে চলি, তবে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে যেটি ছিল বিএনপির ইশতেহার, এখন সেটি দেশের জনগণের ইশতেহার। যারা এই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তাদের আশা-ভরসা পূরণ করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন বিএনপি সরকার শহীদ জিয়ার দর্শন থেকেই দেশ পরিচালনা করছে এবং ইশতেহারেও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার তখনই সফল হবে, যখন দলের লোকজন সরকারকে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। যেভাবে নির্বাচনে সার্বিক সহযোগিতা করে জয় এসেছে, ঠিক একইভাবে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সকল নেতাকর্মীকে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ মিটার না থাকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে রাজধানীর মগবাজারে আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল অভিযান চালায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তারা এ জরিমানা করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
নৌপথে নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে দেব না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, নাগরিকরা নৌপথে ভোগান্তির শিকার হবে, এটা আমরা হতে দেব না। রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টার দিকে আকস্মিক সফরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গা থেকে অধিক সংখ্যক মানুষ নৌপথে চলাচল করে প্রত্যেকটি জায়গা চাঁদপুর, বরিশাল, মজুচৌধুরীঘাট ও ইলিশা আমরা গিয়েছি। হাতিয়া থেকে শুরু করে সবগুলো ঘাটেই আমরা গিয়েছি।

আমাদের দায়িত্ব এটা, মানুষগুলোকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। আগামীকাল থেকে যেন নিরাপদে সবাইকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ানো যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা যখন ঘাটগুলোতে যাই তখন ছোটখাটো ভুলগুলো আমাদের চোখে পড়ে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমরা মানুষকে কথা দিয়েছি, তারা নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে যাবে এবং নিরাপদে ফেরত যাবে। সে জায়গাটি আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পারছি।

আমরা প্রত্যেকটি কাজকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছি, মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া, ভোলার ইলিশা নদীবন্দরকে একটি সুন্দর নদীবন্দর হিসেবে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যেসব নৌযান সরকারি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সেগুলোকে শুমারির মাধ্যমে চিহ্নিত করছি। সবগুলো নৌযানের ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতাকে মাথায় রেখে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসছি এবং নৌযান শুমারি শেষ হয়ে গেলে অবৈধ নৌযানের বিষয়টি থাকবে না।

যেসব জায়গায় আরও সংখ্যক জাহাজ দরকার সেসব জায়গায় আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানা জাহাজ যুক্ত করার চেষ্টা করবো।

এ সময় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি