খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনাই বেশি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
‘আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনাই বেশি’

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পুনরায় বিধি-নিষেধ আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনেরই প্রত্যক্ষ ফল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, প্রণালি খুলে দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জারি রাখা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘনের শামিল।

তেহরান থেকে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি বিশ্লেষক অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এই প্রণালিটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমেরিকার অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্তেরই একটি লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, ‘‘আমেরিকানরা আরও সৈন্য এবং সরঞ্জাম নিয়ে আসছে; যা চুক্তির আরেকটি লঙ্ঘন।’’

শুক্রবার রাতে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়ার সীমিত প্রচেষ্টা চালানোর পর ট্রাম্প গণমাধ্যমের সামনে এসে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করেছেন। যার ফলে তেহরান এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, তাদের এই প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

সংকটের সমাধানে কূটনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে খোশচেশম পরিষ্কার করে বলেন, এটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। ট্রাম্প প্রতি ঘণ্টায় তার অবস্থান ও কথা পরিবর্তন করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি এবং একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি পরিত্যাগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন ব্যক্তি নন যার সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব। তিনি জাতিসংঘ কিংবা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি কোনও ধরনের সম্মান প্রদর্শন করেন না।

অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, ‘‘আমি যেকোনও ধরনের আলোচনার চেয়ে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখছি।’’

এদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তেহরান এখনও রাজি হয়নি। এমনকি এই আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি। শনিবার অজ্ঞাত এক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই সূত্র বলেছে, বার্তা আদান-প্রদানের সময় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি উপস্থাপন করেছে বলে মনে করে ইরান। যে কারণে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সেসব দাবি ত্যাগ করাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে বেধে দিয়েছে তেহরান।

পাকিস্তানের এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের শর্তাবলি পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। ওই সূত্র বলেছে, ‘‘আমরা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমেরিকান পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরা দ্বিতীয় দফার আলোচনায় রাজি নই।’’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ বলেছেন, উভয় পক্ষ একটি অভিন্ন কাঠামোতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা হতে পারে না।

তিনি বলেন, যতক্ষণ না আমরা কাঠামোর বিষয়ে একমত হচ্ছি, ততক্ষণ আমরা কোনও তারিখ নির্ধারণ করতে পারি না।

ইরানের এই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় ইরান যা কিছুতেই সম্মত হোক না কেন, তাতে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দেশটির অধিকার সংরক্ষিত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইনের ব্যতিক্রম কিংবা নিজের অধিকার বিসর্জন দেওয়া মেনে নেবে না।

সূত্র: আল জাজিরা।

কালের আলো/এসএকে

নবজাতক বাঁচলেও ফিরলেন না মা, ভুল রক্ত প্রয়োগের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
নবজাতক বাঁচলেও ফিরলেন না মা, ভুল রক্ত প্রয়োগের অভিযোগ

বগুড়ায় সিজারের সময় ভুল রক্ত প্রয়োগ ও চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে অহনা (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।তবে, মায়ের মৃত্যু হলেও নবজাতক বেঁচে আছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত অহনা বগুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা চৌকিরপাড় এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য অহনাকে শহরের খান্দার এলাকার সুস্বাস্থ্য নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। তবে, অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়। বারবার জানতে চাইলেও রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘বি’ পজিটিভ বলে জানানো হয়।

ওই তথ্যের ভিত্তিতেই রক্ত সংগ্রহ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অহনাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে পরীক্ষা করে তার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা আব্দুস সালাম ও মা অভিযোগ করেন, ভুল রক্ত প্রয়োগ এবং চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের স্বামী মৃদুল ইসলাম বলেন, আমার সুস্থ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ক্লিনিকে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখলেও তার মা আর সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না।

ঘটনাটি ঘিরে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পুরোনো রূপে ফিরছে ঢাকা, বেড়েছে গণপরিবহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
পুরোনো রূপে ফিরছে ঢাকা, বেড়েছে গণপরিবহন

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছু টি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ফলে ঢাকার সড়কে বাড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন। আবারও নিজস্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী।

রোববার (৩১ মে) ঢাকার কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, সড়কে যান চলাচল সীমিত। তবে বিগত কয়েকদিনের তুলনায় আজ সড়কে যানবাহনে উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতিও বেড়েছে। তবে কোথাও কোনো যানজট ও সিগনালে গাড়ির দীর্ঘ অপেক্ষা চোখে পড়েনি। বাসের জন্য যাত্রীর অপেক্ষার দৃশ্যও সেভাবে চোখে পড়েনি।

বৈশাখী পরিবহনের চালকের সহকারী রশিদ বলেন, ঈ দের ছু টি শুরুর পর থেকে যাত্রী নেই। আজও যাত্রী কম। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে।

সাভার পরিবহনের চালকের সহকারী সবুজ বলেন, মানুষ ঢাকায় ফেরা শুরু করেছে। আজ অধিকাংশ মানুষ চলে আসবে। আশা করি কাল থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে।

শুভযাত্রা পরিবহনের চালকের সহকারী মারুফ বলেন, যেসব গাড়ি ঈ দের ছু টির কারণে বসেছিল, আজ অধিকাংশ গাড়িই বের হয়েছে। ঢাকার মধ্যে তো আজও যাত্রী নেই। বেশিরভাগ কোম্পানির গাড়ি আজ লোকাল ভাড়া মারবে। ফাঁকা গাড়ি নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে চলে যাবে, সেখান থেকে ফু ল গাড়ি ভর্তি যাত্রী নিয়ে চলে আসবে। সব গাড়ি ঢাকার মধ্যে চললে কি তে ল খরচ উঠবে। কাল থেকে ঢাকার ভেতরে যাত্রীর চাপ বাড়বে।

কালের আলো/এসএকে/এমএসআইপি 

নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

Oplus_131072

সরকার দেশের নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজিব আহসান বলেন, আমরা যদি লঞ্চঘাটের পন্টুনগুলোর আধুনিকায়ন করতে পারি ও সেই সঙ্গে ড্রেজিং করে নদী পথগুলো সচল রাখতে পারি, তাহলে নৌপথের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং এর সুফল জনগণই পাবে।

তিনি আরও বলেন, শতবছরের পুরনো স্টিমারগুলো বারবার মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে একটি সচল থাকলেও বাকিগুলো নৌপথে চলাচলের জন্য উপযোগী নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয়। তবে এসব ঐতিহ্যবাহী স্টিমারকে বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে জনসেবায় কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই নৌপথ তার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে যাক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার বাহন হিসেবে ফিরে আসুক। সে লক্ষ্যে নৌ মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, সদস্য প্রকৌশল রকিবুল ইসলাম তালুকদার, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

কালের আলো/এসএকে